ভণ্ডামি ছাড়ুন

উটপাখির মত মুখ গুজে রেখেছিলাম কয়েকদিন।সব কিছু কেন জানি মনে হচ্ছিল খুব অসংলগ্ন।খবরের কাগজেও চোখ বুলাই নি।আজ হঠাট চোখ আটকে গেল একটি সংবাদে।কুড়িগ্রাম এ প্রকৌশলী তৌহিদুল হকের মৃত্যু।মৃত্যুর আগে তিনি তার স্ত্রী কে জানাচ্ছেন “ওরা আমাকে ঘিরে ফেলেছে,মেরে ফেলবে” তারপর কেটে যায় লাইন টি।ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে আক্রমনকারীরা।কী মর্মান্তিক!! হরর ছবিতেই শুধু দেখেছি এমনটা।একবার ভেবে দেখেছেন নিজের সাথে এমন ঘটনার কথা??? প্রকৌশলীর দোষ ছিল তিনি জামাত-শিবিরের নিষেধ না শুনে সরকারি নির্দেশে নির্মান করছিলেন মোটেল।কতটা উন্মাদনা থেকে এমন কাজ করতে পারে একদল মানুষ!এদের মানুষ না বলে জানোয়ার বললে জানোয়ারদের ও অপমান করা হয়।
বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ডের সময় আকাশ বাতাস কাপিয়ে শোকের মাতম তুলেছিলেন দেশ জুড়ে। আপনাদের নাকি কান্নার প্রতিটি অশ্রু ছাত্রলীগ নামধারী কিছু জানোয়ার এর বিষেদাগার করেছিল।আমিও প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছিলাম বিশ্বজিৎ এর মৃত্যুতে।কিন্তু আজ যখন বিশ্বজিৎ দের মন্দির পোড়ানো হচ্ছে কিংবা বিশ্বজিৎ দের পরিবার গুলো আটকে রেখে জীবন্ত দগ্ধ করার চেষ্টা চলছে তখন আপনাদের মাতম কোথায় থাকে? আপনাদের মাতম এখন আটকে আছে আফ্রিকার কোন দেশে পুলিশ কিভাবে গনতন্ত্র রক্ষা করছে আর বাংলাদেশ এর পুলিশ কিভাবে মৃত্যুর সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে গনতন্ত্র ভক্ষন করছে তা নিয়ে??? আপনাদের চোখে আজ প্রতিবেশি দেশের রাষ্ট্রপতি কে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেখাতে গিয়ে কেন তাদের জাতীয় সঙ্গীত আগে বাজান হচ্ছে তাতে আটকে আছে। কিন্তু এভাবে মিথ্যা বুঝিয়ে আর কতদিন??? আর কতদিন স্বার্থ হাসিলের জন্য বলি দেবার চেষ্টা করবেন বাঙ্গালীর বিবেক কে???? আর কতদিন ফটোশপের কারিশমায় মানুষের ধর্ম বিশ্বাস কে নিয়ে ব্যাবসা করবেন???? ভণ্ডামি ছাড়েন। হয় এসপার নয় উসপার।আমি আন্দোলনকারী দের মত বীর নই কিন্তু গর্ব করে বলতে পারি আমি আপনাদের মত ভণ্ড ও নই। জয় বাংলা।

২ thoughts on “ভণ্ডামি ছাড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *