সংকটের রাজনীতি ও গণজাগরণ মঞ্চ

মাঠে যেমন, ফলাফলেও তেমন। উপজেলা নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামীলীগের শক্ত আঁতাত না হলেও অলিখিত সমঝোতার বিষয়টি চাপা থাকেনি। লক্ষীপুর সদরে নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করেতে গিয়ে আমি দেখেছি, অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের সহকর্মীরাও দেখেছেন, আওয়ামীলীগ এবং জামায়াত-শিকির কর্মীরা দি দারুন সখ্যতায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারছেন! পরের দিন সমকাল(আমার কর্মস্থল) এবং প্রথম আলো’র খবরে নির্বাচনের মাঠে ভোট জালিয়াতিতে আওয়ামীলী-জামায়াতের এই ঐক্য ছবিতেও দেখানো হয়েছে। পুলিশ আর আওয়ামীলীগ কর্মীদের হুমকি-হামলার মুখে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ভোট কেন্দ্রের আশে পাশে দূরের কথা, নিজেদের বড়ি ঘরের আশে পাশে পর্যন্ত আসতে পারছেন না। আর প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জামায়াত-শিবির কর্মীরা। বুক ফুলিয়ে

এক.
মাঠে যেমন, ফলাফলেও তেমন। উপজেলা নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামীলীগের শক্ত আঁতাত না হলেও অলিখিত সমঝোতার বিষয়টি চাপা থাকেনি। লক্ষীপুর সদরে নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করেতে গিয়ে আমি দেখেছি, অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের সহকর্মীরাও দেখেছেন, আওয়ামীলীগ এবং জামায়াত-শিকির কর্মীরা দি দারুন সখ্যতায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারছেন! পরের দিন সমকাল(আমার কর্মস্থল) এবং প্রথম আলো’র খবরে নির্বাচনের মাঠে ভোট জালিয়াতিতে আওয়ামীলী-জামায়াতের এই ঐক্য ছবিতেও দেখানো হয়েছে। পুলিশ আর আওয়ামীলীগ কর্মীদের হুমকি-হামলার মুখে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ভোট কেন্দ্রের আশে পাশে দূরের কথা, নিজেদের বড়ি ঘরের আশে পাশে পর্যন্ত আসতে পারছেন না। আর প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জামায়াত-শিবির কর্মীরা। বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো এক শিবির কর্মীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। সে শিবিরের সাথী, নাম মাহমুদুর রহমান ফাহাদ। সে সোজা জানাল, সকাল থেকে শাকচর ইউনিয়নের পন্ডিতবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে থেকে জাল ভোট দিয়েছে। সে একই দিয়েছে প্রায় দুইশ’ ভোট। আওয়ামলীগ সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী এলাকার এ কে এম সালাহউদ্দিন টিপু’র দোয়াত কলম এবং (এলাকার বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী তাহেরপুত্র) এবং জামায়াতের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসিরউদ্দিনের চশমা প্রতীকে। ফাহাদের ভাষায়, ‘সিল মাইরতে মাইরতে হাত বিষ হয়ে গেছে ভাই।’ ভোটের ফলে দেখা গেল যেখানে চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহমুদুল করীম দীপু যেখানে পান ১৭ হাজার ২৫৪ ভোট, সেখানে জামায়াত সমর্থক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৩ ভোট। শুধু লক্ষীপুর নয়,সামগ্রিকভাবে এবারের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের উল্লম্ফন দেখা গেছে। ৩৬টি চেয়ারম্যান পদে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭৭ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন জামায়াত সমর্থক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ২০০৯ সালের উপজেলঅ নির্বাচনের ফলে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান আর মজিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের বিজয়ীদের সংখ্যা ছিল ২৪, ১৬ এবং ১৩। জামায়াতের এই ফলাফল তাদের দলের অগ্রযাত্রা নয়, আওয়ামীলীগের সঙ্গে সমঝোতার উপহার। গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের সমাবেশে আহমদ শফি’র ঘোষণায় স্পষ্ট হল হেফাজতের সঙ্গেও আওয়ামীলীগের একটা সমঝোতা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং গ্রামবাংলার আবহমান চিত্রকল্পে ধর্মীয় লেবাস পরানো, জর্জ হ্যারিসনের ছবি মুছে দেওয়ার প্রস্তাব আসে, তার নেপথ্য কারনটাও স্পষ্ট করে দিলেন হেফাজত। জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতা মানে এই নয়, আওয়ামীলীগ জামায়াতকে রাজনৈতিক মিত্রের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছে। এর একটাই কারন বিএনপিকে কোনঠাসা করা। এখন আওয়ামীলীগ যে কোন মূল্যে বিএনপিকে ছিন্ন-ভিন্ন কিংবা নিশ্চিহ্ন করতে চায়। কারন জাতীয় নির্বাচনে বিজয়রে পথে আওয়ামীলীগ এখন পর্যন্ত বিএনপিকেই সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে। উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমে একটা এসিড টেস্ট সেরে ফেলল আওয়ামীলীগ। ভবিষ্যতে বিএনপিকে ঘায়েল করার কৌশলে এই টেস্ট খুব ভাল অনুঘটকের কাজ করবে, সন্দেহ নেই। একইভাবে হেফাজতকেও বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখারর জন্য আওয়ামীলীগের কৌশল, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য পাঠ্যপুস্তকে হেফাজতি মতামতের প্রতিফল ঘটানো । এসব অপকৌশল জাতির জন্য ভয়ংকর দু:সংবাদ। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর গ্রাম বাংলার প্রকৃত চিত্র বদলে দিয়ে ‘হেফাজতি’ চিত্রকল্প উপস্থাপন পুরোর জাতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ভয়ংকর সংঘাত আর বিভক্তির বীজ বপন করবে। যেখানে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচিত মহাজোট সরকারের নীতি ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলামকে আধুনিক সময়পযোগী করা, সেখানে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামীলীগ সরকারের নীতি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও মাদ্রাসার উপযোগী করে লেখা? ক্ষমতার রাজনীতির নোংরা কূটচাল একটা দলের মূল চেতনাকে কিভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারে তারও ভবিষ্যত উদাহরন কি আওয়ামীলীগই হবে? তবে আওয়ামীলীগের বিচিত্র সব কৌশলে দলের ক্রমগাত অস্তিত্ব সংকটের দিকে যাওয়ার আলামত স্পষ্ট হতে দেখেই হোক, কিংবা পাল্টা নোংরা রাজনৈতিক খেলার অশুভ চিন্তা থেকেই হোক, তারেক রহমান বেসামাল হয়ে পড়েছেন। বাকী জীবনটা ‘লন্ডনে প্রবাস জীবন কিংবা দেশে আসলে জেলের ভেতরে’-নিজের নিকট অতীতের নানা অপকর্মের স্মৃতিচারণ করে এই দুশ্চিন্তাও তাকে নিশ্চিতভাবে তাড়া ফিরছে সব সময়! দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ প্রলাপ বকে, তারেক রহমানও বকছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে আক্রমণ করছেন যেটা বাঙালীর দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামমের ইতিহাসের উপরই বড় ধরনের আঘাত। দল ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবনের নামে রঙবাজি, চাঁদাবাজিতে অভ্যস্ত তারেক রহমানের বস্তাপচা মস্তিস্কে এর চেয়ে ভাল চিন্তা আসা কি সম্ভব? বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামীলীগ যতই দলের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করুক না কেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালীর চিরন্তন অহংকার, অনন্ত-অমূল্য সম্পদ, যার ঔজ্জ্বল্য কোনদিন এতটুকু ম্লান হওয়ার নয়। আওয়ামীলীগকে আক্রমণ করলে একটা দল কে আক্রমণ করা হয়, আর বঙ্গবন্ধুকে আক্রমণ করলে বাংলাদেশ, বাঙালী জাতিকেই সামগ্রিক অর্থে আঘাত করা হয়- এই সত্যগুলো তারেক রহমানের মত অর্ধ শিক্ষিত মস্তানদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। অল্পবিদ্যা যেমন ভয়ংকরী, অর্ধ শিক্ষিতরাও তেমনি যুগে যুগে সব সময়, সব জাতিরর জন্য ভয়ংকর। অর্ধ শিক্ষিতদের আক্রমণের ধরন, ভাষার ব্যবহার, অপপ্রচারের কৌশল সব প্রায় একই রকম হয়। জামায়াত- হেফাজতের সঙ্গে সুসম্পর্কের এই সময়ে গণজাগরণ মঞ্চকে দূরে রাখার সমীকরণে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অপপ্রচারের ভাষার ব্যবহারেও তাই তারেক রহমানের ভাষার সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না!

দুই.
অনেকেই বলছেন, গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ভুল বোঝাবুঝিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত-শিবির কিংবা অন্ধ মৌলবাদী শক্তি হেফাজত লাভবান হচ্ছে । খুবই সত্যি কথা। কিন্তু এর বিপরীতে আরও দু’টি সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি সত্য হচ্ছে, গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে ছাত্রলী-যুবলীগ তথা সরকারের এই অপপ্রচার আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, গণজাগরন মঞ্চ সরকারের ইচ্ছায় রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে ওঠেনি। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তঋণে কৃতজ্ঞ জাতি একাত্তরের কুলাঙ্গার ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি নিশ্চিত করতেই স্বত:স্ফূর্তভাবে আন্দোলনের মঞ্চে একত্রিত হয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে একই দাবিতে আন্দোলন করে আসলেও এই সংগঠনগুলোর সঙ্গে আওয়ামীলীগের স্বার্থের রাজনীতির প্রয়োজনটা প্রকটভাবে দৃষ্টিকটু হয়ে উঠছিল, বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শহীদ জননী জাহানারা ইমামের হাতে গড়া একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আওয়ামীলীগের দলীয় প্রয়োজনে ব্যবহার হতে হতে দূর্বল হয়ে যাওয়ার কারনেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত তরুন সমাজের সামনে নতুন একটি ব্যানার খুব বেশী প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজনটা ভেতরে ভেতরে সবাইকে বছরে পর বছর ধরে তাড়িত করে রেখেছিল বলেই ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একাত্তরের কুখ্যাত কসাই কাদের মোল্লার যাব্বজীবনের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তরুন সমাজের একটা অংশ যখন সাহস করে রাস্তায় দাঁড়াল, তখন সেখানে লাখো মানুষের সমাগম হতে খুব বেশী সময় লাগেনি। কিন্তু একটা অসংগঠিত জনতাকে এক-দুই দিন, বড় জোর এক সপ্তাহের বেশী রাজপথে ধরে রাখা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন হয় সাংগঠনিক কাঠামোর। সেই সাংগঠনিক কাঠামো সব সময় ব্যকরণ মেনে চিরায়ত নিয়মে হতে হবে, তা নয়। সেই সত্যটাই প্রমাণ হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ এবং এর মুখপত্র হিসেবে ডা.ইমরান এইচ সরকারের সামনে আসার মধ্য দিয়ে। গণজাগরণ মঞ্চ কোন ফোরাম কিংবা সংগঠন নয়। এটি একটি ব্যানার, যার সামনে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ সমবেত হন ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তঋন শোধ শুধু নয় অসাম্প্রদায়িক ও সভ্য গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে। ইমরান এইচ সরকার সেই জনতার দাবিটাই তুলে ধরেন, তার কন্ঠটি তার একার নেই, উপস্থিত জনতার সবার। এ জন্যই ইমরান এইচ সরকারের পরিচয় নেতা নয়, মুখপত্র। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, পেশাজীবী-কর্মজীবী মানুষ দিনের পর দিন রাজপথে বসে থাকতে পারেন না। তারা সমবেত হয়ে লাখো কন্ঠে দাবি তুলেছেন, স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। এখন সেই দাবি আর স্বপ্নের শ্লোগানকে এগিয়ে নিতে হবে সেই অগ্রসর তরুনদেরই। সেই স্বপ্ন ধারন করতে পেরেছেন বলেই ইমরান এইচ সরকার, মারুফ রসুল, লাকী আক্তার, মাহমুদুল হক মুন্সী’র অগ্রসর তরুনরা কাদেরে মোল্লার ফাঁসীর রায় কার্যকর হওয়ার পরও রাজপথ ছাড়েন না। তারা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় নির্যাতিত মানুষের কাছে ছুটে যান, পাকিস্তানী সংসদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবমাননাকর প্রস্তাব গ্রহন করা হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, একাত্তরের ঘাতক-দালালদের দ্বারা পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক থেকে মহান স্বাধীনতা দিবসরে কর্মসূচীর জন্য টাকা নেওয়া হলে তার প্রতিবাদ করেন, জালিয়াতির নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও সমালোচনা করেন।

দ্বিতীয় সত্যটা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগের সঙ্গে আজকের আওয়ামীলীগের বিস্তর ফারাকটাও গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ছাত্ররীগ-যুবলীগের অপপ্রচারের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজকের আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতায় থাকার কিংবা যাওয়ার রাজনীতির হিসেব নিকেষের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলাদা কোন গুরুত্ব নেই। বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছরে দেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান, চিহ্নিত মিথ্যাচার, (যেমন মুজাহিদ বলেছিল, ৭১ এ রাজাকার বলে কিছু ছিল না), মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে বিএনপি’র মরিয়া প্রচেষ্টা সবকিছু’র জবাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৭২ সংবিধান প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধানতম শিরোনাম হতে খুবই আকর্ষণীয় হয়েছিল। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি’র দূরত্ব সৃস্টি এবং ধীরে ধীরে বিএনপি’র রাজনীতির ভীতকে দূর্বল করাও নেপথ্যের লক্ষ্য ছিল আওয়ামীলীগের। এ লক্ষ্যকে নেতিবাচক দৃষ্টিতেও দেখা যায় না, বিএনপি যখন ইতিহাস বিকৃত করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ কে বার বার আঘাত করছে,,বাঙালীর আবহমান ঐতিহ্যের ধারা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে একাত্তরের চিহ্নিত ঘাতকদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠায় উন্মত্ত হয়ে উঠছে, তখন তাদেরএই নোংরা রাজনৈতিক খেলা থামিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল দোষের কিছু নয়। কিন্তু আওয়ামীলীগ চেতনার দায়ের চেয়ে ক্ষমতার বলয় সর্বগ্রাসী করাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারনেই নতুন সংকটের জন্ম। যে ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে নিজেদের ভেতরেই সন্দেহ অনেক বেশী, সেই ক্ষমতা পোক্ত করতে অনেক রকম অপরিণামদর্শী, ভুল সিদ্ধান্ত না নিলে কি চলে?

তিন.
জনপ্রিয় নেতৃত্বকে খলনায়কে পরিণত করার জন্য তিনটি হাতিয়ার সব সময় ব্যবহার করা হয়। অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারী, যৌন কেলেঙ্কারী এবং তাকে ধর্ম বা সমাজ বিরোধী প্রমাণ করা। গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এর দু’টি অভিাযোগ তুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজির বায়বীয় এক তালিকা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জান-প্রাণ দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এটা অপপ্রচার তার বড় প্রমাণ জনপ্রিয় উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষার তার ফেসবুক টাইম লাইনে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন । গত ৯ এপ্রিল তিনি লিখেছেন, [“গণজাগরণ মঞ্চ নাকি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ? ফরিদুর রেজা সাগর দিয়েছেন ৬০,০০০ আর আমি নাকি ৭৫,০০০ ! মেধাহীন লোকজন মিথ্যা কথাও ঠিক মত বলতে পারে না!

সাগর ভাই কোথাও মোয়া বাতাসা দিলেও একলাখ টাকার নিচে দেয় না।
তার নামের পাশে মাত্র ৬০,০০০ টাকা তাকে অপমান করার মতো মিথ্যা।
প্রতিদিন যে ওখানে ইমেপ্রেস প্রজেক্টর লাগিয়ে ছায়াছবি দেখাতো তার খরচও এর চেয়ে ঢের বেশী।

আর ইলিয়াস কাঞ্চন নাকি ১০ লাখ বহন করে দিয়েছেন । তিনি গণজাগরনকে সরকারী দালাল বলে গালি দিয়েছিলেন। তার সাথে আমি ইন্ডিপেন্ন্টডেন্ট টিভিতে তর্ক করেছি।

সাগর ভাই , আনিসুল হক , আবেদ খান সহ বিরাট বিরাট লোকদের পাশে এই তালিকায় আমার নাম টা দেখে বেশ পুলকিত হলাম . আমি দিনমজুর , সে উপস্থাপনায় হোক আর চিকিত্সা ! দিন আনি দিন খাই ! আমি দ্যার্থহীন কন্ঠে জানাতে চাই , আমি গণজাগরণ মঞ্চে কোনো টাকা দেই নাই এবং ইমরান সরকার এর সাথে আমার কোনো একদিন দেখা সাক্ষাত ও হয় নাই !
তবে লিস্ট এ আমার নাম টা এত সব হেভিওয়েট মানুষ দের পাশে দেখে ভালো লেগেছে ! মিথ্যাবাদীদের ধন্যবাদ !

আসল খেলা অন্যখানে ! এইসব কুতর্ক তৈরী করে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঘোলা করা হচ্ছে !

আমার মত লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা বলা কত যে হাস্যকর , সেটার চাইতে বেশি হাস্যকর নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল করা ! আমাকে যত গালি দিয়েছ দিচ্ছ, দাও , কিন্তু নিজেরা গন্ডগোল করে , মুক্তিযুদ্ধের শত্রু দের বগল বাজিয়ে আনন্দ করার সুযোগ দিও না !”]

আমার মনে হয়, গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আর্থিক কেলেঙ্কারী বিষয়ে যে অভিযোগ তা হাস্যকর এবং ভুয়া প্রমাণের জন্য আর কোন শব্দ ব্যহারের প্রয়োজন নেই। গণজাগরণ মঞ্চকে আঘাত করার প্রথম অস্ত্রটি ছিল নাস্তিকতার অভিযোগ তুলে পুরো দেশে আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ সৃষ্টি করা। আঘাতটি করেছিল বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত যৌথভাবে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মাহমুদুর রহমানের মত সাংবাদিক নামধারী ফটকাবাজ এবং ফরহাদ মজহার, আসিফ নজরুল, পিয়াস করিমের মত বুদ্ধিজীবী নামধারী জ্ঞানপাপীরা। পাকিস্তানী হানাদারদের প্রেতাত্মাদের সেই আঘাতও গণজাগরণ মঞ্চকে শেষ পর্যন্ত কাবু করতে পারেনি। এবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার ছাত্রলীগ যখন আর্থিক বিষয় নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে তখন আসিফ নজরুলরাও গলা উঁচু করা শুরু করেছেন। টেলিভিশন টক শো’তে আসিফ নজরুল প্রশ্ন তুলছেন, ইমরান কেন প্রতিদিন পৃথক রঙের পাঞ্জাবি পড়েন, পাঞ্জাবি কেনার এত টাকা তিনি কোথায় পান? এ রকম একজন আহম্মক দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক, টেলিভিশনে টক শো তারকা, সবচেয়ে বেশী প্রচার সংখ্যার দাবিদার পত্রিকার নিয়মিত কলামিস্ট, ভাবতে খুব লজ্জা লাগে। আসিফ নজরুল টক শো’তে বলছিলেন, ‘লাকী আক্তার তো ইম্যাচিউরড’। আমার সরল বিশ্বাস, লাকী আক্তারের যতটুকু ম্যাচিউরিটি এখন আছে, তার সমান ম্যাচিউরড আসিফ নজরুল এই মস্তিস্ক নিয়ে শতবর্ষী হয়েও হতে পারবেন না।

মাহমুদুর রহমান আর জামায়াত-শিবির চক্র মিলে শাহাবাগে যৌন কেলেঙ্কারীর অভিযোগ চাউর করার জন্যও কম চেষ্টা করেননি। হাসনাত আব্দুল হাই এর মত লেখকরাও জামায়াত-শিবিরের সমর্থনে ফ্যান্টাসী গল্পও লিখে ফেলেছেন, প্রথম আলো ছেপেছেও। কিন্তু তারপরও গনজাগরণ মঞ্চের তরুনদের দমানো যায়নি, শ্লোগান কন্যাদের দূরে রাখা যায়নি, শুধুমাত্র মধ্যবিত্তের অস্থির চিন্তায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃস্টি করা গেছে। অতএব তিন ধরনের অপপ্রচার মোকাবেলা করে গনজাগরণের তরুন নেতৃত্ব এখনও সরব আছে সগৌরবেই। ছাত্রলীগের অপপ্রচারের মধ্য দিয়ে সেই সত্যটা প্রমাণ হয়ে গেল, গণজাগরণ মঞ্চের তরুনদের অপরাধ নেই, রাজনীতির বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রকদের যার স্বার্থে যখনই গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন হুমকি হয়ে উঠেঠে, তখনই সেইসব পক্ষ থেকেএকটার পর একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এত অপপ্রচারের পরও যে তরুন নেতৃত্ব বুক ফুলিয়ে প্রজন্ম চত্বরে দাঁড়িয়ে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করতে পারে, সেই নেতৃত্ব অসৎ, অস্বচ্ছ হতে পারে না। সৎ সাহস আর শুভচিন্তা আছে বলেই এই তরুনরা রাজপথে স্বপ্নের মশাল জ্বালিয়ে রাখার প্রত্যয় ছড়িয়ে দিতে পারে। ইমরান এইচ সরকার, মাহমুদুল হক মুন্সীরা ধান্দাবাজ হলে এখন রাজপথে থেকে মার খেতেন না, ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিশাল ব্যয়ে অবকাশ যাপনে যেতেন।

চার.
ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু সংবাদ সম্মেলনে নতুন ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। ইমরান এইচ সরকার গণজাগরণ মঞ্চ ব্যবহার করে রাজনৈতিক উচ্চভিলাসী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বাপ্পাদিত্য বসু একটা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে যুক্ত থাকবেন আশা করা যায়, নিশ্চয় রাজনীতির আরও উপড়েরর সিঁড়িতে যাওয়ার আকাঙ্খা তারও আছে । ইমরান এইচ সরকারও ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন, সেটা রাজনৈতিকভাবেও হতে পারে, এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সেটা যদি হয় গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে, কোন রাজনৈদিক দলের সংকীর্ণ স্বার্থের পক্ষে, তাহলে সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু সে ধরনের প্রবণতা কিংবা তৎপরতা ইমরান এইচ সরকারের কথায়, আচরণে কিংবা তৎপরতায় এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি, শোনাও যায়নি। তিনি বার বারই বলেছেন, ব্যক্তি ইমরান এইচ সরকার কখনও কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চ অরাজনৈতিক প্লাটফরম এবং এই মঞ্চেেক ব্যবহার করে রাজনীতির প্রশ্নই ওঠে না। ব্যক্তি ইমরান এইচ সরকার কখণও কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে-এই বক্তব্যটিই খানিকটা বিকৃত করে ইমরান এইচ সরকারের উচ্চাভিলাষ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, গণজাগরণ মঞ্চ অরাজনৈতিক প্লাটফরম হলেও কোন অরাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলন করছে না। যুদ্ধাপারাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরের রাজরনীতি নিষিদ্ধ সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি, স্বপ্ন জাতীয় রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অতএব রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলন করতে গিয়ে গণজাগরণ মঞ্চকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতি সচেতন তরুনদের দ্বারা পরিচিালিত মঞ্চটি যদি কখণও ‘রাজনৈতিকও’ হয়ে ওঠে, তাহলে দোষের কি? আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামায়াত আর তাদের সহযোগী কিছু সংগঠন ছাড়া কি আর কারও রাজৗনৈতিক হওয়ার অধিকার নাই? মুখে না বললেও আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামায়অত কেউই কখণই চায় না তাদের অশুভ রাজনৈতিক চর্চার বৃত্তের বাইরে নতুন করে কোন শুভ রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটুক। বদিউজ্জামান সোহাগ, বাপ্পাদিত্য বসুর মত লেজুড় মানসিকতার ছাত্রনেতারাও সেটা চান না।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতি চর্চার যে নেতিবাচক চিত্র, তার বিপরীতে একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ধারার রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা আরও অনেক আগে থেকেই অনুভূত হয়েছে। এর আগে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র অপরিচ্ছন্ন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দল থেকে বের হয়ে রাজনীতির স্বঘোষিত পরিচ্ছন্ন পুরুষ হওয়ার অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি। মানুষ তাদের ভাওতাবাজি বুঝে ফেলেছে। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সংকট থেকেই দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটা সুস্থ রাজনৈতিক প্লাটফরমের তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই প্রয়োজনীয়তা গণজাগরণ মঞ্চই পূরণ করবে, এমন কোন কথা নেই। বরং গণজাগরণ মঞ্চ মানুষের চেতনায় যে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে, তার ঢেউএ যে কোন সময় অশুভ রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে খান খান হয়ে নতুন কোন রাজনৈতিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করতেই পারে। গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে এই ভয়টা তাই আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামায়াত এর সমানে সমান।

পাঁচ.
গণজাগরণ মঞ্চ কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসীর দাবিতে গড়ে উঠলেও এর আবেদন আরও অনেক বিস্তৃত। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির উত্তাল শাহবাগ টগবগে একাত্তরকেই ফিরিয়ে এনেছিল নতুন করে। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, জয়বাংলা শ্লোগান সহ বাঙালীর দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তুলেছিল। স্পর্ধিত তারুণ্য চিৎকার করে বলে উঠেছিল, ‘ক্ষমতার রাজনীতির প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে ‘ট্রাম কার্ড’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি আর ঘাতকদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠার সুযোগও আর কাউকে দেওয়া হবে না। সেই চিৎকারে প্রথম থেকেই আওয়ামীলী-বিএনপি ভীত ছিল। যে কারনে গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ শক্তিকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল সম্মিলিতভাবেই। হেফাজতের উত্থানের পেছনে শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামীলীগেরও ইন্ধন ছিল। সেটা তখনকার একাধিক মন্ত্রী আহমদ শফির কাছে বার বার ছুটে গিয়ে প্রমাণও করেছেন। আলোকিত তারুণ্য আড়াই মাস ধরে রাজপথে থাকলে সেখানে লাখো মোমবাতি চেতনার মশাল হয়ে জ্বলে ওঠে। আর ধর্মান্ধ শক্তি বিভ্রান্ত তরুন-কিশোরদের নিয়ে মাঠে নামলে তার পরিণতি হয় মতিঝিলের ধ্বংসস্তূপ। সেটা প্রমাণ হওয়ার পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক মুরুব্বিরা আওয়ামীলীগের মৌলবাদীকরণ নীতিকে সাদা চোখে দেখছেন, এটাই দুর্ভাগ্য। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্নের বাইরে বাংলাদেশ যেতে পারে না, যদি যায় সেটা হতে শহীদদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামীলী যখন মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ত্রিশলাখ শহীদের স্বপ্ন কে ক্ষমতার রাজনীতির পাশা খেলার বাইরে জাতির মূলমন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে না, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি বড় রাজনৈতিক প্লাটফরম সত্যিই খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে। গনজাগরণ মঞ্চ সেদিকে যাবে কি’না জানি না। অনেকে বলবেন, গণজাগরণ মঞ্চের রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়, সুযোগও নেই। কিন্তু আওয়ামীলী-বিএনপি-জামায়াত-হেফঅজতের সম্মিলিত রাজনৈতিক আঘাতে ক্রমাগত জর্জরিত হতে থাকলে গণজাগরণ মঞ্চের তরুনদেরও কি অরাজনৈতিক চরিত্র ধরে রাখা সহজ হবে, না যৌক্তিক হবে? রাজনীতি করার ঠিকাদার কেন অশুভ চিন্তার মুরুব্বিরা হবেন? শুভ চিন্তার তরুনরা হলে ক্ষতিটা কোথায়? এসব প্রশ্নের উত্তর সবাই জানেন, এর সহজ উত্তর যে অশুভ রাজনৈতিক বলয় শক্ত জাল বিছিয়ে আছে, তার বিপরীতে শুভ, সুন্দর একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম সত্যিই দু:স্বপ্ন, দূরহ। এটাই জাতির জন্য চরম রাজনৈতিক সংকট, সংকটের এই রাজনীতি থেকে মুক্তির পথ কবে মিলবে, কে জানে?

রাশেদ মেহেদী
সাংবাদিক
ঢাকা, ১২.০৪.২০১৪

১১ thoughts on “সংকটের রাজনীতি ও গণজাগরণ মঞ্চ

  1. আসিফ নজরুলরাও গলা উঁচু করা

    আসিফ নজরুলরাও গলা উঁচু করা শুরু করেছেন। টেলিভিশন টক শো’তে আসিফ নজরুল প্রশ্ন তুলছেন, ইমরান কেন প্রতিদিন পৃথক রঙের পাঞ্জাবি পড়েন, পাঞ্জাবি কেনার এত টাকা তিনি কোথায় পান?

    বিষয়টা কিন্তু ফেলে দেয়ার মত না। যে লোক মেসে থাকে, তার এত চাকচিক্য দেখলে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।

    কিন্তু আওয়ামীলী-বিএনপি-জামায়াত-হেফঅজতের সম্মিলিত রাজনৈতিক আঘাতে ক্রমাগত জর্জরিত হতে থাকলে গণজাগরণ মঞ্চের তরুনদেরও কি অরাজনৈতিক চরিত্র ধরে রাখা সহজ হবে, না যৌক্তিক হবে? রাজনীতি করার ঠিকাদার কেন অশুভ চিন্তার মুরুব্বিরা হবেন? শুভ চিন্তার তরুনরা হলে ক্ষতিটা কোথায়? এসব প্রশ্নের উত্তর সবাই জানেন, এর সহজ উত্তর যে অশুভ রাজনৈতিক বলয় শক্ত জাল বিছিয়ে আছে, তার বিপরীতে শুভ, সুন্দর একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম সত্যিই দু:স্বপ্ন, দূরহ। এটাই জাতির জন্য চরম রাজনৈতিক সংকট, সংকটের এই রাজনীতি থেকে মুক্তির পথ কবে মিলবে, কে জানে?

    বিশ্বাস রাখুন মনে, মুক্তি আসবেই।
    ন্যায়ের শক্তিকে বিজয়ী হতেই হবে!

  2. বেশ দীর্ঘ একটি লিখা, তবুও
    বেশ দীর্ঘ একটি লিখা, তবুও ধৈর্য্য ধরে পড়লাম ।
    গতবারও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার আঁতাতের অভিযোগ উঠেছিল ।পরে দেখা গেল আসলে সেসব সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছু ছিল না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগ বার বার কৌশল পাল্টানোর চেষ্টা করেছিল এবং এখনো করছে ।
    এবারও লীগের বিরুদ্ধে গতবারের মত অসংখ্য আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে ।কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে ।সে হিসেবে আপনার ধারণা কতটুকু সত্যি আর কতটুকু মিথ্যে তা যাচাইয়ের ভার আপনার হাতেই থাক ।তবে আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে মনে প্রাণে কামনা করি আপনার ধারণা যেন মিথ্যে প্রমাণিত হয় ।

  3. জালিয়াতির নির্বাচন

    জালিয়াতির নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও সমালোচনা করেন।

    তথ্যটা ভুল। গণজাগরণ মঞ্চ বা এর সক্রিয় করমিরা আমার জানামতে ৫ই জানুয়ারীর নিরবাচনের সমালোচনা করে নাই।

  4. শেহজাদ আমান কে বলছি, আমি
    শেহজাদ আমান কে বলছি, আমি নগণ্য বেতনের পেশাজীবী, আমার শার্ট আছে এক ডজনের বেশী..আজ যে শাার্ট পড়ি সেটা ১২ দিন পর আবার পড়ার সুযোগ পাই…বাংলাদেশে শার্ট, প্যান্ট,জিন্সের দামও বেশ সহনীয়, একবার কিনলে বছর খানেক তো বটেই দু’বছরই ভালভাবে পড়া যায়…ইমরান এইচ সরকার একজন চিকিৎসক, তার পরিবার সম্পর্কে যতটা জানি, বেশ স্বচ্ছল, তার পক্ষে সপ্তাহে সাত দিনে সাতটা পাঞ্জাবি পড়া খুব আহামরি চাকচিক্যের কিছু নয়..দু:খের সঙ্গে বলতে হচ্ছে,এসব বিষয় নিয়ে হাস্যকর অভিযোগ যারা তোলেন তাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে সত্যিই প্রশ্ন তুলতে ইচ্ছে হয়..আমি সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনের কথা বলেছি,৫ জানুয়ারির নির্বাচন নয়….
    ৫জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে বৈধ হলেও ছিল এক তরফা, ভোট জালিয়াতির দরকারই ছিল না..উপজেলা র্নিবাচনে জামায়াত-আওয়ামীলীগ আতাতের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ দেখা গেছে ভোচকেন্দ্রে, সেটার সমালোচনা হয়েছে….শাহিন ভাই, আমি আওয়ামীলীগ কর্মী নই, তবে আমিও খুশী হব যদি আওয়ামীলীগের আতাতের রাজনীতির তথ্যটা ভুল প্রমাণিত হয়….

    1. সাত দিনে সাতটা তো নয়রে ভাই,
      সাত দিনে সাতটা তো নয়রে ভাই, উনি তো ৩০ দিনে তিরিশটা পাঞ্জাবী পরেন!

      আর সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নিরবাচনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে যদি ইমরান ভাই বা তার সহকরমীদের কেউ প্রতিবাদ করে থাকেন, তার একটা রেফারেন্স দিয়েন আমাকে। কারণ এই বিষয়টা অন্তত আমার চোখে পড়ে নাই।

  5. শেহজাদ আমান..যে বিষয় নিয়ে
    শেহজাদ আমান..যে বিষয় নিয়ে আপনি শ্রমসাধ্য গবেষণা করেছেন, অর্থাৎ তিরিশ দিন ধরে ইমরান এইচ সরকারের পরিধেয় বস্ত্রের দিকে নিবিড়ভাবে খেয়াল রাখা, তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই…আপনাকে অনুরোধ করব, ত্রিশ দিনে ইমরান কোন রঙের পাঞ্জাবী বেশী পড়েছেন, বেশীরভাগ পাঞ্জাবী সূতি না সিল্ক, কোন ব্র্যান্ডেরটা বেশী পড়েন, আমাদের পরিচিত ব্র্যান্ড না’কি আমাদের ধারনার বাইরে অন্য কোন দামী ব্র্যান্ড,তার পাঞ্জাবীর পকেটের সংখ্যা কত, না’কি হিমুর মত পকেট ছাড়া পাঞ্জাবী, সব কিছুর একটা বিস্তারিত তথ্যও আশাকরি আপনার সংগ্রহে আছে…!! তবে একটা বিষয় পরিস্কার বোঝা গেছে, পাঞ্জাবীর দিকে গভীর মনযোগ দিতে গিয়েে আপনি ইমরানের বক্তব্যের দিকে ভাল করে খেয়াল রাখতে পারেন না…

    1. আমার চোখে উনার বকব্য চোখে নাই
      আমার চোখে উনার বকব্য চোখে নাই পড়তে পারে। আপনি যখন দাবি করেছে যে, উনারা উপজেলা নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদ করেছেন, তখন রেফারেন্স চাইলে সেটা দেয়া আপনার দায়িত্বরে ভাই…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *