“চিকিতসক ইনজেকশন টি দেয়ার কিছুক্ষণ পরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন!” – এটি একটি বড়ো লেখার ভূমিকা মাত্র !

আমি তখন এক মাসের অভিজ্ঞ ডাক্তার। মানে মাত্র পাস করে মেডিসিন ওয়ার্ড দিয়ে শুরু করেছি আমার চিকিতসক জীবন। ইন্টার্ন চিকিতসকদের জন্যে “এডমিশন ডে” এক ধরনের উত্তেজনাকর দিবস, বিশেষ করে প্রশিক্ষনের প্রথম দিক কার দিন গুলো তে। এডমিশন ডে মানেই হচ্ছে অসংখ্য রোগী আসবে, নানান ধরনের সমস্যা নিয়ে, বেশীর ভাগই জরুরী এবং জটিল সমস্যা। সুতরাং শেখার অবারিত সুযোগ। আমাদের মেডিক্যাল কলেজে সকল রোগী আসতো মেডিসিন ওয়ার্ড এ তাঁর পর সেখান থেকে ভাগ হয়ে যেত কারডিওলজি, নিউরলজি, গ্যাস্ট্রো-এন্টেরলজি ইত্যাদি উপ শাখার ওয়ার্ড এ। এই রকমের এক টি এক্সাইটিং দিনে আমার ভাগ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাত টার দিকে (লং ইভেনিং) পড়ল একটি ওপিসি পয়জনিং এর কেস। বেচারা বালিকা এস এস সি পাস করতে না পেরে বাড়ীতে রাখা কীট নাশক পান করে নিজের বাবা – মা ‘ র গালিগালাজের জবাব দিতে চেয়েছিলো। গালিগালাজ এর জবাব হয়ত হোল খানিক টা কিন্তু বেচারা পুরো দমে জবাব দেবার আগেই হাসপাতালে এসে হাজির …………… ! তা ও আবার আমার মতো এক মাসের অভিজ্ঞ এক ডাক্তার এর হাতে। আমার এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার এসে বেশ রাজকিয় ভাবে বললেন, হুম ম তোমারেই কেইস টা দিলাম, এইটা কিন্তু একটা লাইফ টাইম এক্সপেরিএন্স জীবনে কখনও ভুলবানা …… ফ্লুইড দিয়া স্টার্ট করো, শ্বাসটা ঠিক মতো খেয়াল কইরো, অক্সিজেন এর একটা সিলিন্ডার কাছে রাইখো আর এট্রপিন টা নিজে হাতে দিবা, সিস্টার দের উপরে দিও না।

ওপিসি বা অরগানো ফসফরাস কম্পাউন্ড বা সোজা বাংলায় ফসলের কীটনাশক, যা আমাদের দুখী মানুষদের অনেকেই পান (বা খেয়ে থাকেন) করেন ভব লীলা সাঙ্গ করার জন্যে। যাই হোক, এই ওপিসি পয়জনিং এর ম্যানেজমেন্ট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও হচ্ছে এট্রপিন (Atropine) নামের একটি কমদামি নিরীহ ইনজেকশন কিছু সময় পর পর শিরায় দিতে হয় এবং চোখের মণির চলাচল ও হৃৎপিণ্ডের গতি পরিমাপ করতে হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাত টা থেকে প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর একটা করে ইনজেকশন তাঁর পর প্রতি দশ মিনিট পর পর তাঁর পরে আধা ঘন্টা পর পর তাঁর পর এক ঘন্টা পর পর শরীরে যথেষ্ট পরিমানে এট্রপিন না যাওয়া পর্যন্ত দিতেই থাকতে হবে। সব মিলিয়ে আশি নব্বই টি ইনজেকশন দিতে দিতে আমি প্রায় ভোর বেলায় লক্ষ করলাম মেয়ে টি নড়ে চড়ে উঠছে, হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে, পরিবারের লোকজন কে খুজছে, আমার বিদ্যা আমাকে বলে দিলো যাও বাছা ইন্টার্ন ডাক্তার এখন ঘুমাতে যাও। আমাদের ইন চার্জ সিস্টার এর হাতে বুঝিয়ে দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।

সকালে রাউন্ড এ গিয়ে দেখি মেয়েটি কাপড় দিয়ে তাঁর মুখ ঢেকে রেখেছেন, এ মুখ আর কাউকে দেখাতে চান না। রোগী টি মারা যায় নি। রোগী টি বেঁচে যাবার কৃতিত্ব আমার মতো একজন এক মাসের অভিজ্ঞ ডাক্তারের নয়, এট্রপিন ইনজেকশন আর ভিন্ন কিছু ব্যবস্থার। জীবনে একসাথে এতো গুলো ইনজেকশন একই রোগীকে আর কোনদিনও দেয়া হয় নি।

কিন্তু ওপিসি পয়জনিং এ ১০% – ১৫% রোগী মারা যান। অর্থাৎ প্রতি ৮ বা ১০ জনে একজন মারা যান। একবার ভেবে দেখুন, যে রোগী কে এক রাতে ৮০ – ৯০ টি ইনজেকশন দেয়া হয়, এবং তিনি যদি দুর্ভাগ্য ক্রমে মারা যান তাহলে তিনি কোনও একটি ইনজেকশন দেবার পরেই মারা যাবেন। হয়ত শেষ এট্রপিন টি ও তাঁকে বাচাতে পারবে না। তখনই হয়ত এরকমের একটি শিরোনামের সৃষ্টি হবে – “চিকিতসক ইনজেকশন টি দেয়ার কিছুখন পরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন”।, অথবা ভেবে দেখুন যে রোগী টি হাসপাতালেই আসলো দেরী করে এবং হয়ত প্রথম এট্রপিন ইনজেকশন টি দেবার পরেই রোগী টির মৃত্যু হোল এবং এই মৃত্যু টির সংবাদ শিরনামের সাথে সেই শেষ দেয়া ইনজেকশন টি যুক্ত হয়ে গেলো। এই বিষয় টি আগ্রহ উদ্দীপক এই জন্যে যে, সারা পৃথিবীতেই প্রায় প্রতিটি রোগীর ই মৃত্যু হয় কোন না কোন ও ইনজেকশন পাবার খানিক ক্ষণ পর কারন জীবন রক্ষা কারী ঔষধ গুলোর প্রায় সব কটিই ইনজেকশন ফর্ম এ পাওয়া যায় এবং ডাক্তার রা সেগুলো ব্যবহার করেন শেষ অস্ত্র হিসাবে। সুতরাং –“চিকিতসক ইঞ্জেকশন টি দেয়ার কিছুখন পরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন” এই রকমের একটি শিরোনাম চিকিতসা বিজ্ঞানে কোনও বিশেষ অর্থ ব্যাখ্যা (Clinical Meaning) করে কি না সেটা অস্পস্ট।

এতক্ষণ যা কিছু লিখলাম, তাঁর পুরোটাই একজন ডাক্তার এর জবানি তে লেখা। পড়েই বোঝা যাচ্ছে তা। আসুন এবার রোগীর পরিবার ও সংবাদ কর্মী দের দিক থেকে এই শিরোনাম কে ব্যবচ্ছেদ করলে কি দাঁড়ায় দেখা যাক।

সংবাদপত্রে যখন এই রকমের একটি শিরোনাম আমাদের চোখে পড়ে, তখন সন্দেহাতীত ভাবে সাধারন পাঠকেরা খবরটির সামান্য হলেও বিস্তারিত জানতে চান। পাঠক মূল খবর টি পড়তে শুরু করেন। রিপোর্টার বা সংশ্লিস্ট সংবাদপত্রের প্রাথমিক সাফল্য সেখানেই যে একটি বিশেষ শিরোনাম পাঠক কে বাধ্য করছে মূল সংবাদ টি পড়ার জন্যে। এ ধরনের একটি সংবাদের শিরোনাম এবং কন্টেন্ট থেকে পাঠক খুব সাধারন ভাবে যে ধারণা টি লাভ করে থাকেন তা এই রকমের –

১ রোগীটি খুব সিরিয়াস ছিলো কিন্তু ডাক্তার রা খুব আন্তরিক ছিলেন না, তাই যথাযথ চিকিতসা না পেয়ে রোগী টি মারা গেলেন
২ ডাক্তার একটি ভুল ঔষধ দিয়েছেন, যে কারনে ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় রোগী টি মারা গেছেন
৩ ডাক্তার এই ইনজেকশন টি যদি না দিতেন তাহলে রোগী টি হয়ত মারা যেত না
৪ ডাক্তার এই ইনজেকশন টির স্থানে যদি অন্য একটি সঠিক ইনজেকশন দিতেন, তাহলে হয়ত রোগী টি মারা যেত না, হয়ত বা আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতো
৫ অর্থাৎ রোগীর মৃত্যুর জন্যে ডাক্তার ই দায়ী, এই ডাক্তার এর স্থানে যদি অন্য ভালো ডাক্তার হতো তাহলে রোগী টি বেঁচে থাকতো
৬ প্রায় সকল ডাক্তার ই একই রকম, এই রকমের নিষ্ঠুর

উপরে বর্ণিত প্রতি টি বাক্যই সঠিক হতে পারে। ডাক্তার এর সিদ্ধান্তের ভুল, চিকিতসা প্রদানের ভুল, ঔষধ প্রয়গের ভুল এমন কি রোগ টির ডায়াগনোসিস ও ভুল হতে পারে এবং রোগী মারা যেতে পারে। এটা দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা। শুধু বাংলাদেশের নয়, শুধু উন্নয়নশীল দরিদ্র দেশ গুলোর নয়, এটা একটি দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা সারা পৃথিবীর ডাক্তার দের জন্যে (পরবর্তী কোনও পোস্ট এ তথ্য ও পরিসংখ্যান সহ লেখার ইচ্ছা রইলো)।

এতো গেলো ডাক্তার আর রোগীর দিক থেকে কথা। এই লেখার পাঠকের কাছে আমার কয়েকটি পয়েন্ট – আগামি তে যখন আমরা এই ধরনের শিরোনামের সংবাদ পড়বো, আসুন আমরা কয়েকটি প্রশ্ন মনে রাখি যা আমরা খুজে দেখবো সেই সংশ্লিস্ট সংবাদ টির মূল ভাগে (নিউজ বডি) তার বিস্তারিত আছে কিনা। যেমন ধরুন –

১ রোগীটির আসলে ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস কি ছিলো ?
২ রোগী টি আসলে ঠিক কি অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন ?
৩ হাসপাতালে আসার পরে রোগী আসলে ঠিক কি চিকিতসা পেয়েছিলেন ?
৪ যে ইনজেকশন টি দেয়ার কিছুক্ষণ পরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, সেই ইনজেকশন টির সঠিক নাম টি কি ? কতো মিগ্রা শক্তির ? কোন পথে দেয়া হয়েছিলো ইনজেকশন টি ?
৫ রোগীর যে ডায়াগনোসিস করা হয়েছিলো, তাতে কি এই ইনজেকশন টির ব্যবহারে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা Contra-Indication আছে কিনা ?
৬ রোগীর কি কোনও পূর্ব ড্রাগ হাইপার সেন্সিটিভিটি ছিলো কিনা ? থাকলে তা চিকিতসক দের কে আগেই জানানো হয়েছিলো কি না ?
৭ ইনজেকশন টি দেয়ার পরে কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো কি না ?

যদি এই ধরনের সংবাদ উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে না পারে এই প্রবণতা কে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হবে কিনা জানি না, তবে এই ধরনের সংবাদ বিপদজনক। শুধু ডাক্তার দের জন্যেই নয়, রোগী এবং প্রতিষ্ঠানের জন্যে ও বিপদজনক। ডাক্তার দের নানান আচরণগত সমস্যা যেমন ডাক্তার – রোগীর সম্পর্ক কে নষ্ট করে দেয়, আস্থাহীনতায় আক্রান্ত করে, এই ধরনের বিপদজনক সংবাদ ও একই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে।

সারা পৃথিবীতেই “Breaking the bad news” এর সাথে অতিরিক্ত সাবধানতা, দায়িত্বশীলতা পালনের কথা বলা হয়ে থাকে, সে আপনি ডাক্তার বা নার্স, রোগী বা সাংবাদিক যেই হোন না কেনও।

প্রতিটি রোগীর অকাল বা অস্বাভাবিক মৃত্যু চিকিতসা ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকলের জন্যেই এক ধরনের ব্যর্থতা। তা কখনও ব্যক্তি মানুষের আবার কখনও বা ব্যবস্থা ও পদ্ধতির (System and Process)। তিনটি প্রশ্ন জরুরী,

১ কিভাবে আমরা এই সকল অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক কারন জানতে পারি ?
২ এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু আসলে সংখ্যায় কতো টি ? শতকরা কতো ভাগ ?
৩ ডাক্তার কিম্বা চিকিতসা ব্যবস্থার কোন স্থান গুলোতে উন্নয়ন ঘটালে এই ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনা যাবে ?
আসুন প্রশ্ন গুলো নিয়ে ভাবি ও ছড়িয়ে দেই।

১১ thoughts on ““চিকিতসক ইনজেকশন টি দেয়ার কিছুক্ষণ পরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন!” – এটি একটি বড়ো লেখার ভূমিকা মাত্র !

  1. চমৎকার ভাবে গুছিয়ে লিখেছেন।
    চমৎকার ভাবে গুছিয়ে লিখেছেন। এই বিষয়ে আরও লেখা চাই সারওয়ার ভাই। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. অনেক ধন্যবাদ। সুন্দর করে কিছু
    অনেক ধন্যবাদ। সুন্দর করে কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরার জন্য। চমৎকার ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন পুরো ব্যাপারটার। ধন্যবাদ। আমাদের সমস্যা আমরা জানার ও বুঝার চেষ্টা কখনোই করি না। ভুল সঠিক আলাদা করার কিংবা প্রতিকারের দিকেও পা মারাই না। আমাদের আছে হুজুগে আবেগ…
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. চমৎকারভাবে যুক্তি ও উদাহরণ
    চমৎকারভাবে যুক্তি ও উদাহরণ সহকারে বুঝিয়েছেন ।ধন্যবাদ আপনাকে ।

    কোন ডাক্তারই রোগীর ক্ষতি হয় এমন কিছু কখনো করেন না বা করতে পারেন না ।সমস্যা দেখা দেয় দালাল, অনভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সদের কারণে ।এক্ষেত্রে আমার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি…
    আমার এক কাজিনকে নিয়ে SOMCH এ গেছি ।ডেলিভারী কেইস ।প্রথম চেষ্টার পর ডাক্তার জানালেন সিজার করতে হবে ।কিছু ঔষধ ও যন্ত্রপাতির একটি স্লিপ আমাদের দিয়ে তাড়াতাড়ি আনতে বলেন ।আমি স্লিপ নিয়ে বাহির থেকে ঔষধ নিয়ে এসে জানতে পারি আমার চাচা এবং ফুফুকে বুঝিয়ে এক নার্স ৩০০টাকা নিছে এবং বলেছে সে সিজার ছাড়াই কাজটি করে দেবে ।কাজ শেষ হলে তাকে আরো ৭০০টাকা দিতে হবে ।তাদেরকে এও বলেছে ডাক্তারকে যেন না জানায় ।গ্রামের সহজ সরল মানুষ তাই এতকিছু না ভেবে অপারেশনের ভয়ে রোগীকে নার্সের হাওলা করে দেন ।আমি কি করবো কিছু ভেবে না পেয়ে বাহিরে বসে পড়ি ।প্রায় ঘন্টাখানেক পর সেই নার্স এসে ১০০টাকা ফেরত দেয় আর বলে যে, ২০০টাকার ঔষধ লাগিয়েও নরমাল ডেলিভারী সম্ভব হয়নি ।আপনারা ঔষধ নিয়ে আসুন সিজার হবে ।পরে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকিয়ে আধাঘন্টা পর আমাদের জানানো হল ডেলিভারী নরমালই হয়েছে! আশ্চর্য্যের বিষয় হল, ঐ নার্সের কারসাজি কোন ডাক্তার ধরতে পারেননি ।পরে বুঝতে পারলাম ডাক্তারদের আড়ালে ঐ নার্স রিস্ক নিয়ে ওভার ডোজ অক্সিটোসিন ব্যবহার করেছে এবং এর প্রভাবে সিজার ছাড়াই ডেলিভারী সম্ভব হয়েছে ।যদি ডাক্তাররা সিজারের জন্য তাড়াহুড়া না করতেন তবে ওয়ার্ডের বেডেই ডেলিভারী হয়ে যেত ।
    যদিও আমাদের উচিৎ ছিলো পুরো বিষয়টা ডাক্তারকে জানানো কিন্তু আমাদের কাজ হয়ে যাওয়ায় এবং অযথা ঝামেলার ভয়ে আমরা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গোপনই রাখি ।

    সম্মানজনক একটি পেশার নাম ডাক্তারি ।আমাদের দেশের মানুষরা আজো ডাক্তারদের দেবতা মনে করে ।কিছু দালাল, অনভিজ্ঞ নার্স, কিছু অর্থলোভী ডাক্তারদের কারণে এই পেশাটাও আজ প্রশ্নের সম্মুখীন ।
    বারডেমে যে হামলা হয়েছে তার জন্য হয়তো ঐ ডাক্তার দায়ী নন ।কিন্তু দায়ী না হলেও ডাক্তার সমাজ এর দায় এড়াতে পারেন না ।জনতা কেন ডাক্তারদের উপর হামলা করে? কারণ কিছু অসৎ ডাক্তারদের দুর্ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, পাবলিক ভাল ও দায়িত্বশীল ডাক্তারদের ও বিশ্বাস করতে পারছে না ।
    এই সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন ।

    1. ধন্যবাদ এস জি এস শাহিন। একটু
      ধন্যবাদ এস জি এস শাহিন। একটু লজ্জা পেলাম, কারন আমি SOMCH গ্র্যাড। তবে আপনার অভিজ্ঞতার মতো অন্তত ১০০ টি ঘটনা আমি নিজেই জানি, আমি একটি সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করেছি। কিছু ম্যাটেরিয়ালস ও জোগাড় করেছি। আপনার এই উদাহরন / অভিজ্ঞতা টি শেষ পর্বে কাজে লাগবে। ধন্যবাদ আবারও।

  4. লেখককে ধন্যবাদ, ভেতরের
    লেখককে ধন্যবাদ, ভেতরের ব্যাপার পরিষ্কার করে লেখার জন্য। আমরা যারা চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত ব্যাপারে জড়িত নই তাদের কাছে এই ধারার লেখার গুরুত্ব বেশ। যাহোক, এর পূর্বে এমন ধারার একটা লেখা পড়েছিলাম যেখানে চিকিৎসকদের ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তি সমন্ধে বলা হয়েছিল। আপনি সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করছেন, আশায় রইলাম বেশ শীঘ্রই পেয়ে যাব।

  5. সবখানেই আমরা বনাম আমরা একটা
    সবখানেই আমরা বনাম আমরা একটা যুদ্ধ চলছে।গাড়ি ভাড়া বাড়লে যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক যুদ্ধ,বর্ধিত ফি-বাণিজ্যিক কোর্স এই নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী যুদ্ধ,রোগী মরলে ডাক্তার-রোগীর স্বজন যুদ্ধ।অথচ মূল শত্রু আড়ালে থেকে যাচ্ছে সব সময়।

  6. চমৎকার একটি পোস্ট। আগে পড়া
    চমৎকার একটি পোস্ট। আগে পড়া হলেও মন্তব্য করা হয়নি। হঠাৎ পোস্ট জংশনে চলে আসায় আবার চোখে পড়ল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *