মিথ্যে ইতিহাসের জালে দূর্নীতিগ্রস্ত বিবেক

দেশের রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা একেবারে লোপ পেতে বসেছে। তাকে উদ্ধার করবে তেমন প্রচেষ্টা নেই।

ভাবছিলাম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল যখন তারেক রহমানের ইতিহাস বিকৃতিকে এমন আয়োজন করে সঠিক বলে ঘোষনা করলেন তখন আমার সেই নগ্ন রাজার গল্পটি মনে পড়ে যায়। একটি কুৎসিত রাজনৈতিক অঙ্গন। সরে গেছে পরনের কাপড়। সেই নগ্নতা এমন একটি অশ্লীতায় পরিনত হয়েছে তাকে দুর্বৃত্তের বলাৎকার ছাড়া কিছুই বলা যায়না। তবু কেউ নাই, যাঁরা বলবেন এমন একটি প্রচেষ্টা অপরাধ। তাকে বন্ধ করতে হবে দেশেরই স্বার্থে। দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যার স্বার্থে। রাজনৈতিক সুস্বাস্থ্যের কারনেই।


দেশের রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা একেবারে লোপ পেতে বসেছে। তাকে উদ্ধার করবে তেমন প্রচেষ্টা নেই।

ভাবছিলাম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল যখন তারেক রহমানের ইতিহাস বিকৃতিকে এমন আয়োজন করে সঠিক বলে ঘোষনা করলেন তখন আমার সেই নগ্ন রাজার গল্পটি মনে পড়ে যায়। একটি কুৎসিত রাজনৈতিক অঙ্গন। সরে গেছে পরনের কাপড়। সেই নগ্নতা এমন একটি অশ্লীতায় পরিনত হয়েছে তাকে দুর্বৃত্তের বলাৎকার ছাড়া কিছুই বলা যায়না। তবু কেউ নাই, যাঁরা বলবেন এমন একটি প্রচেষ্টা অপরাধ। তাকে বন্ধ করতে হবে দেশেরই স্বার্থে। দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যার স্বার্থে। রাজনৈতিক সুস্বাস্থ্যের কারনেই।

আওয়ামিলীগের কেউ কেউ কাউন্টার উত্তর দিচ্ছেন রাজনৈতিক ম্যানারে। অনেকটা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ম্যানারে। কিন্তু এটা কেবল উত্তর প্রতিউত্তরের বিষয়বস্তু নয়, এটি আমাদের দেশ এবং তার ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীলতার কারনেই বন্ধ করতে এমন কি অরাজনৈতিক দায়িত্বশীল মানুষদেরই এগিয়ে আসতে হবে, নইলে এ সংস্কৃতি পরিবর্তন হবেনা।

আওয়ামিলীগের দেশপ্রেমে থেকে তাদের কৃতিত্ব প্রেম বেশী। সেজন্য তারা সেটুকুন প্রতিবাদ করেন যেটুকুন তাদের কৃতিত্ব সংক্রান্ত। তারপর তাদের আর কোন দায়িত্ব আছে বলে তাঁরা মনে করেননা।

গতবার ক্ষমতায় আসতে আওয়ামিলীগের বেশ কষ্ট করতে হয়, আর সেজন্য তারা যখন বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসে তাদের বক্তব্যে যতটুকুন বিনয় প্রকাশ পেয়েছে এবার ২৫% ভোটার অংশগ্রহনে ক্ষমতায় এসে তাদের অবস্থান ঠিক পরিষ্কার বুঝতে পারছিনা। তাদের ভেতর বেশ গা ছাড়া ভাব এসে গেছে। সমন্বয়েরও অভাব। যে যার মত টিভিতে বসে যা খুশি বলে যাচ্ছেন। আশা, নেত্রীর কানে আসা তাতে তাদের পরকাল সোনায় বাঁধানো সুনিশ্চিত হবে।

দেশে সুধী গোস্ঠী বলে কিছু নেই। ইতিহাসের ট্রাজেডি এই যে, ১৯৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর, দেশে প্রচুর পরিমানে অসার বুদ্ধিজীবিদের সমাগম হয়। ক্ষমতার কেকের স্লাইসে ভাগ বসাতে তারা কখনও সামরিক জান্তা কখনও সামরিক-জামাত- জায়েজ সামরিক সরকারের কাছে নিজেদের বিক্রয় করে দিয়েছে। যার বিনিময়েই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জাতীয় অধ্যাপক, একুশে পদকপ্রাপ্ত, ভাইসচ্যান্সেলর, বিশাল টিভি মালিক, সংবাদপত্র মালিক, এনজিও মালিক বা প্রধান বিচারক। এগুলো পেতে এবং ধরে রাখতে প্রত্যেককে দলীয় লেজুড়িবৃত্তি করতে হয়েছে এবং হচ্ছে। তারা কোন না কোনভাবে এসব দলের কাছে লয়্যাল।

মিথ্যের উপর যখন কিছু দাঁড় করানো হয় রাস্ট্রিয় ক্ষমতাকে ব্যাবহার করে, তখন সংশ্লিস্ট জনদের মুখ সহজে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়। এবং ক্ষমতার উপর দাঁড়িয়ে, রাস্ট্রিয় সকল পিলারগুলো ব্যবহার করে মিথ্যেকে উপুর্যপোরি ব্যবহার করতে করতে তা যেমন সত্য করে তোলা যায় আবার সেটাকে সংস্কৃতি করে গড়ে তোলা যায়। সে অপসংস্কৃতিকে জনগনকে মেনে নেওয়ানো এবং মান্য করতে বাধ্য করা যায় আবার অভ্যেস করে তুলতেও বাধ্য করানো যায়। এমন কি স্কুলের ছেলেমেয়েরাও একটি পথ করে নেয় কিভাবে তারা এ মিথ্যেগুলো পড়বে বিনা প্রশ্নে এবং পরীক্ষার মার্ক বাড়াবে।

আমাদের জাতীয় জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে এটা এমন একটি স্থায়ী রূপ লাভ করেছে যে এটাকে ভেঙে সত্যকে মুক্তি দেবে, এগিয়ে আসবে সত্য ভাষনে তেমন ফোর্স দেশে আছে বলেই মনে হয়না। সবার পিঠে কোন কোন পুতুল নাচের দড়ি। সে দড়ি ছেঁড়ার সাধ্য তাদের নাই। অনেক খাওয়া হয়ে গেছে। সে ঋণ একদিনে শোধ করাও সম্ভব নয়, সে নিমকের নিমকহারামী করাও সম্ভব নয়।

মিথ্যে এবং বিকৃত ইতিহাস বাড়ছে। পাহাড় হচ্ছে। সেটা ভাঙার জন্য আমাদের মিডলএইজ জেনারেশনের ইচ্ছে ক্ষমতা কিছুই নেই।

তারেকরা তাই এমন দু্সাহস নিয়ে নোংরা কাঁচি চালায় আমাদের দেশের রক্তস্নাত ইতিহাসে। আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদের পবিত্র আত্মায়, এ পবিত্র মানচিত্রে, পতাকায়। আর আমরা_ আমরা তাকে সমর্থন করে টিভিতে বসে বক্তব্য দিতে বাধ্য হই। নইলে কিছুই হয়নি এভাবে চুপ করে থাকি।

১২ thoughts on “মিথ্যে ইতিহাসের জালে দূর্নীতিগ্রস্ত বিবেক

  1. ফখা বলেছে তারেক চুরা নাকি
    ফখা বলেছে তারেক চুরা নাকি বর্তমানের ফিদেল কাস্ত্রো!
    ফিদেল কাস্ত্রো চুরি করে বিদেশে পলাতক ছিলেন এই প্রথম জানলাম!

    চামচামিরও একটা সীমা থাকা প্রয়োজন ।শালার চামচাদের কারণে দেশের মান-সম্মানটাই বিনাশ ।

    1. ফখা বলেছে তারেক চুরা নাকি

      ফখা বলেছে তারেক চুরা নাকি বর্তমানের ফিদেল কাস্ত্রো!
      ফিদেল কাস্ত্রো চুরি করে বিদেশে পলাতক ছিলেন এই প্রথম জানলাম!

      পাগলে কি না বলে;
      ছাগলে কি না খায়!

      উনাদের দুজনের জন্য হেমায়েতপুরে ২খানা সিট বুকিং দেওয়া প্রয়োজন।

  2. বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মের
    বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মের পর থেকেই আমাদের রাজনীতিবিদরা তাদের দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ইতিহাস বিকৃতি অব্যাহত রেখেছে। এই ধরনের ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে হলে গণজাগরণের মত তরুণ্যের শক্তি দিয়ে মোকাবেলা ও প্রতিহত করতে হবে। তারুণ্যের এই শক্তিকে যেমন প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নষ্ট করে দিতে চায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র চেতনার লীজ নেওয়া আওয়ামীগও চায়।

    আবার একটা তারুণ্যের অগ্নিস্ফুলিংগ দরকার আছে রাষ্ট্রের ভিতকে নাড়িয়ে দিতে, রাজনীতিবিদদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

    ভাল লাগল আপা আপনার লেখাটা। শেয়ার দিলাম।

    1. এই ধরনের ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে

      এই ধরনের ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে হলে গণজাগরণের মত তরুণ্যের শক্তি দিয়ে মোকাবেলা ও প্রতিহত করতে হবে। তারুণ্যের এই শক্তিকে যেমন প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নষ্ট করে দিতে চায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র চেতনার লীজ নেওয়া আওয়ামীগও চায়।

      আবার একটা তারুণ্যের অগ্নিস্ফুলিংগ দরকার আছে রাষ্ট্রের ভিতকে নাড়িয়ে দিতে, রাজনীতিবিদদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

      সহমত দুলাল ভাইয়ের সাথে…।

  3. আওয়ামিলীগের কেউ কেউ কাউন্টার

    আওয়ামিলীগের কেউ কেউ কাউন্টার উত্তর দিচ্ছেন রাজনৈতিক ম্যানারে। অনেকটা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ম্যানারে। কিন্তু এটা কেবল উত্তর প্রতিউত্তরের বিষয়বস্তু নয়, এটি আমাদের দেশ এবং তার ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীলতার কারনেই বন্ধ করতে এমন কি অরাজনৈতিক দায়িত্বশীল মানুষদেরই এগিয়ে আসতে হবে, নইলে এ সংস্কৃতি পরিবর্তন হবেনা।

    আওয়ামিলীগের দেশপ্রেমে থেকে তাদের কৃতিত্ব প্রেম বেশী। সেজন্য তারা সেটুকুন প্রতিবাদ করেন যেটুকুন তাদের কৃতিত্ব সংক্রান্ত। তারপর তাদের আর কোন দায়িত্ব আছে বলে তাঁরা মনে করেননা

    চরম সত্য কথা বলেছেন। দেশপ্রেম আজ শুধুমাত্র এই দেশের সাধারণ নাগরিকের মাঝেই দেখা যায়। দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, সবাই নিজ নিজ স্বার্থে যতটুকু কাভার করে শুধু ততটুকু নিয়েই কথা বলে। যাও বলে তাও নিজ নিজ দল আর মতের স্বার্থ রক্ষা করেই। দেশের কথা কেউ ভাবে না।

    1. রাষ্ট্রের জনগণের আবেগ ও
      রাষ্ট্রের জনগণের আবেগ ও দেশপ্রেম নিয়ে আওয়ামীলীগ ভালই খেলছে। এর ফলাফল কোনভাবেই ভাল হবেনা। এই দলটা তাদের এই নীতির নামে চরম নীতিহীনতার কারণে আবার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ফিরে আসতে আবার ৫০ বছর লাগবে।

  4. একজন মনীষীর লেখায় পড়েছিলাম
    একজন মনীষীর লেখায় পড়েছিলাম রাজনীতি মানে উচ্চ হৃদয়বৃত্তির চর্চা। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি মানে কিছু ক্ষমতালোভী ব্যক্তি ও গোষ্টির ক্ষমতা দখলের কূটকৌশল মাত্র।এখানে রাজনীতি হলো মানুষ ফাকি দিয়ে ভোটে জেতা আর জেতার পর তাদের শোষণ করবার যাবতীয় আয়োজনের ব্যবস্থা করা।
    এক্ষেত্রে নিজের দায়টাকেই আমি বড় করে দেখি।মানুষকে জাগানোর দায়িত্ব কে নিবে?নিচ্ছি কি আমি?আমরা?বুদ্ধিজীবি-পেশাজীবি-কবি-সাহিত্যিক সবাই যখন নিজেদের বিকিয়েছে তখন একদল ক্রিয়াশীল মানুষের বড়ই প্রয়োজন।কিন্তু পারছি কি আমরা?পিছুটান আর সংকীর্ণতার সুতোর টানে বৃত্তের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছি,বৃত্ত ভাঙ্গার স্বপ্ন তাই অধরা।

    1. বুদ্ধিজীবি-পেশাজীবি-কবি-সাহিত

      বুদ্ধিজীবি-পেশাজীবি-কবি-সাহিত্যিক সবাই যখন নিজেদের বিকিয়েছে তখন একদল ক্রিয়াশীল মানুষের বড়ই প্রয়োজন।কিন্তু পারছি কি আমরা?পিছুটান আর সংকীর্ণতার সুতোর টানে বৃত্তের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছি,বৃত্ত ভাঙ্গার স্বপ্ন তাই অধরা।

      একটা বিরাট জাতীয় ঐক্য দরকার সেটার জন্য, যেটার নেতৃত্ব দিবে তরুণেরা। তাহলেই কিছু একটা সম্ভব।

  5. আওয়ামিলীগের দেশপ্রেমে থেকে

    আওয়ামিলীগের দেশপ্রেমে থেকে তাদের কৃতিত্ব প্রেম বেশী। সেজন্য তারা সেটুকুন প্রতিবাদ করেন যেটুকুন তাদের কৃতিত্ব সংক্রান্ত। তারপর তাদের আর কোন দায়িত্ব আছে বলে তাঁরা মনে করেননা।

    সহমত।

    ইদারনিং তাদের কৃতিত্বের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমগুলো একেবারে নগ্ন অবস্থায় পৌঁছেছে।

  6. রাজনৈতিক ভাবে নয়,নির্দলীয়
    রাজনৈতিক ভাবে নয়,নির্দলীয় জনশক্তির প্রভাবেই এই অনীতি নীতিতে পরিবর্তন করতে হবে।আর আমি নিশ্চিত পরিপূর্ণ শুদ্ধ বিপ্লব খুব দূরে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *