পাপিয়া আপা সমিপেষু

বাঁশেরকেল্লা নামক মহান একটি দূর্গ থেকে পাপিয়া আপার একটি ভিডিও ছাড়া হয়েছে। মহান পাপিয়া আপা যেই ভিডিওতে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহানারা ইমাম, শাহরিয়ার কবির, শামসুর রাহমান এদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এবং শাহবাগগামী তরুনদের বলেছেন আগে প্রকৃত ইতিহাস জেনে নিয়ে আন্দোলনে যেতে। চমৎকার।

তো ভিডিও দেখে যথারীতি আন্ধাচোদা বগির দল যারা চান্দের বুকে সাঈদীকে খুঁজে পান তারা যথারীতি তার বক্তব্য শুনে ‘সাবাশ পাপিয়া আপা’ ‘এক্সিলেন্ট (ভুল বানানে) পাপিয়া আপা’ ‘সবাই দুমায় শেয়ার করেন’ লিখতে শুরু করেছে।


বাঁশেরকেল্লা নামক মহান একটি দূর্গ থেকে পাপিয়া আপার একটি ভিডিও ছাড়া হয়েছে। মহান পাপিয়া আপা যেই ভিডিওতে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহানারা ইমাম, শাহরিয়ার কবির, শামসুর রাহমান এদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এবং শাহবাগগামী তরুনদের বলেছেন আগে প্রকৃত ইতিহাস জেনে নিয়ে আন্দোলনে যেতে। চমৎকার।

তো ভিডিও দেখে যথারীতি আন্ধাচোদা বগির দল যারা চান্দের বুকে সাঈদীকে খুঁজে পান তারা যথারীতি তার বক্তব্য শুনে ‘সাবাশ পাপিয়া আপা’ ‘এক্সিলেন্ট (ভুল বানানে) পাপিয়া আপা’ ‘সবাই দুমায় শেয়ার করেন’ লিখতে শুরু করেছে।

তো এই মহান ইতিহাসবিদ পাপাই স্যরি পাপিয়া আপা দাবী করেছেন, “৭১ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহানারা ইমাম ছিলেন রেড্যু ফাকিস্তানের একজন আরজে। এবং ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের একজন অনুগত কর্মচারী ছিলেন। বেতন নিয়েছেন ভাতা নিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষে উনি ৯ মাস গুণগাণ করেছেন।”

তো মহান পাপিয়া ম্যাডাম আমাদের এইটা জানায় কৃতার্থ করেন নাই যে তিনি কোন জায়গায় ফাকিদের গুণগাণ করেছেন।

আর একজন ইউনিভার্সিটির লেকচারার রেড্যুর আরজে ছিলেন এইটা বলার ভঙ্গি দেখে বিরাট খটকা লাগলো। জাহানারা ইমাম ৬৬-৬৮ টিচার্স ট্রেইনিং কলেজে লেকচারার ছিলেন। ৭০ সাল থেকে ডিইউ তে লেকচারার ছিলেন। কেউ যদি চেক কইরা দেখতে চায় – গুগল আছে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি, সরকারী বলা যায়। তার মানে এই না ঢাকা ইউনিভার্সিটি পাকিদের ঘাঁটি আছিলো। বরং পাকিরা শত্রু মনে করতো এই ইউনিভার্সিটিটারে। এইটার প্রমান পাওয়া যায় ২৬ এ মার্চে, ডিইউ এর ষ্টুডেন্ট-টিচারদের গণহত্যায় এদের অনেক আগ্রহ দেখা যায়। এইটার প্রমান পাওয়া যায় ১৪ই ডিসেম্বর। ডিইউ এর মাথা সাফ করায় আগ্রহ ছিলো এদের সীমাহীন।

এইটা যদিও সত্যি যে তিনি ফাকিস্তান রেড্যুর ঢাকা শাখায় সঞ্চালক হিসেবে কাজ করসেন। আসলেই সেটা করসেন। রাইফেল মাথায় ধইরা তাঁকে দিয়া সেইটা করানো হইসে। তার উপর ৭১ এ ইয়াহিয়া খানের ডিক্রী ছিলো যে একজন সরকারী কর্মচারীও বিনা কারনে একদিন অফিস কামাই দিতে পারবে না। বিনা কারনে ৫ দিনের বেশী অফিস কামাই দিলে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষনা দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে তাঁকে রেড্যু অফিসে যাইতে হইতো দ্যাট দাজন’ট মিন তিনি পাকিদের গুনগান করতেন বসে বসে। এমন কেউ কইতে পারবে না। রাইফেল মাথায় ধইরা জোর করায়া কিছু বলাইলে সেটা গুনগান হয় না।

বেতন তিনি পাইতেন। কি করতেন বেতন দিয়া ??? ক্র্যাক প্লাটুনকে সোয়েটার কিনে দিতেন। খাবার কিনে দিতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়া দিতেন।

তো মহামান্যা পাপিয়া আপামনি কই থেইকা জাইনা বসলেন তিনি পাকি গুনকীর্তন করতেন – আমি বুঝতেসি না। আফামনি – রেফারেন্স দিবেন প্লিজ ??? রেফারেন্স ??? ঘাড় ত্যাড়া কইরা একটা কিছু কয়াললেই সেইটা সত্যি হইয়া গেলো ??? হে মহান ইতিহাসবিদ। তরুন সমাজকে ইতিহাস শিখতে বলার পরামর্শ দেবার আগে, নিজে ইতিহাস ‘বানানো’ বন্ধ করুন। ইতিহাস ‘বানানো’ যায় না।

এরপরের পোর্শনে তিনি আসেন শাহরিয়ার কবিরের ব্যাপারে। আমি সেই ভিডিও দেখতে আর আগ্রহ বোধ করি নাই। যার শুরু হয় মিথ্যা দিয়া। তার সবটাই মিথ্যা। তার জন্ম মিথ্যা। তার মৃত্যুও হবে মিথ্যা। ওয়ানডে ইয়ু উইল অল ফাকিং ডিসঅ্যাপেয়ার ইন্টু দি অ্যাশেজ অফ হিষ্টোরি।

আহমেদ রিয়াদ

৩ thoughts on “পাপিয়া আপা সমিপেষু

  1. এই বিশ্ব খ্যাত (স্বঘোষিত)
    এই বিশ্ব খ্যাত (স্বঘোষিত) ইতিহাসবিদকে বহু টক শো তে প্রশ্ন করার জন্য শত শত বার ফোনে ডায়াল করেছি। দুঃখের বিষয় একবারও ফোনে সংযোগ না পেয়ে অনেকবার ভেবেছি প্রিয় ইস্টিশনে এই ইতিহাসবিদকে উদ্দেশ্য করে কিছু লিখব।কিন্তু পেশাগত ব্যবস্ততার কারণে সময় হয়ে উঠছিলনা। আজ আপনার লেখায় আমার অশান্ত মনে কিছুটা শান্তি পেলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ……………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *