জেগে থাকবে শাহবাগ; জেগে থাকবে দেশ

আশঙ্কা করছি যুদ্ধাপরাধের মামলা নিয়ে, আশঙ্কা করছি মামলার রায় কার্যকর হবে কীনা তা নিয়ে। গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সরকার এবং সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক সময়ে যে ভূমিকা নিয়েছে সেটা মুল কারণ। গণজাগরণ মঞ্চ দূর্বল এবং বিভক্ত হলে কার লাভ, কার ক্ষতি? এক বছর আগে এই প্রশ্নটি কেউ করলে নির্দ্বিধায় বলা যেতো জামায়াতে ইসলামীর সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু গত এক বছরে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। এখন দাবার ঘুঁটি কিংবা চালের দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেকটা তাই আশঙ্কা!


আশঙ্কা করছি যুদ্ধাপরাধের মামলা নিয়ে, আশঙ্কা করছি মামলার রায় কার্যকর হবে কীনা তা নিয়ে। গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সরকার এবং সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক সময়ে যে ভূমিকা নিয়েছে সেটা মুল কারণ। গণজাগরণ মঞ্চ দূর্বল এবং বিভক্ত হলে কার লাভ, কার ক্ষতি? এক বছর আগে এই প্রশ্নটি কেউ করলে নির্দ্বিধায় বলা যেতো জামায়াতে ইসলামীর সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু গত এক বছরে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। এখন দাবার ঘুঁটি কিংবা চালের দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেকটা তাই আশঙ্কা!

এ পর্যন্ত একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যে ক’টি রায় হয়েছে তার মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে মাত্র একটি মামলার। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায়ের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের তারুণ্য প্রতিবাদে গর্জে ওঠেছিল। রাস্তায় নেমে আসা মানুষের প্রাণের দাবিতে সরকার বাধ্য হয় আইনের সংশোধনী আনতে। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রায়ে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায়ের পরিবর্তে ফাঁসির আদেশ আসে এবং অনেক জল ঘোলা করে কার্যকর হয় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে আরও কয়েকটি মামলার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় আসে কিন্তু সবগুলো মামলা থমকে আছে উচ্চ আদালতে। মামলার রায়ের ১৪ মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও রাজাকার সাঈদির রায় ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে। এ সপ্তাহে এই মামলার চুড়ান্ত শুনানি শেষ হবে কিন্তু ফলাফল কী আসবে সে বিষয়ে একটা সন্দেহ কাজ করছে জনমনে।

হ্যাঁ, মামলার রায় সরকার লিখে না। সরকারের সেটা লিখার কথাও না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ প্রেক্ষাপট তৈরির দায়িত্ব সরকারের। মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে এখনও সরকার স্থায়ি রূপ দেয়নি ফলে এই আদালতের সবকিছু এখনও একটা রাষ্ট্রীয় ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। সরকার যদি এই আদালতকে স্থায়ি রূপ দিতো তাহলে ঠুনকো কোন ঘোষণা দিয়ে এই আদালতকে কোনভাবে বিতর্কিত করা সম্ভব হতো না কারো পক্ষে। সরকার কী তা করবে? আমি নিঃসন্দেহ নই!

বর্তমানে যে সব রাজাকারের বিচার সম্পাদিত হচ্ছে তারা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজাকার নয়। ত্রিশ লক্ষ লোককে হত্যা এবং দুই লক্ষ নারীকে অসম্মান জানানো মাত্র ১০/১৫টা রাজাকার দিয়ে সম্পাদিত হয়নি। বিচারের বাইরে যে সব রাজাকার রয়ে গেছে তাদের কী অবস্থা- কেউ জানে না! সরকার এবং ট্রাইব্যুনাল নতুন করে কোন রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এমন কোন খবরও আসেনি। শুধু কয়েক দিন আগে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে। এর অর্থ জামায়াতে ইসলামীকে দলীয়ভাবে বিচার করা হবে। এই ঘোষণার পর আওয়ামীলীগ সরকারের জাতীয় পার্টি দলীয় মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন- জামায়াতে ইসলামী যদি দলীয়ভাবে ক্ষমা চায় তাহলে তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা। কি সাঙ্ঘাতিক উক্তি! একজন মন্ত্রী বিচার শুরুর আগেই ক্ষমা করে আগাম ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছেন! এটা মানুষকে আতঙ্কিত করেছে সন্দেহ নেই। মন্ত্রীর সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত কীসের ভিত্তিতে? এটা কী সরকারি কোন সিদ্ধান্ত? যা স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী যেমন নিজে ঠিক একইভাবে সরকারও।

এই যখন সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার আংশিক পরিস্থিতি তখন আটঘাট নিয়ে নেমেছে তারা গণজাগরণ মঞ্চকে দূর্বল, ধ্বংস ও বিতর্কিত করতে। সরকারের লেজুড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ অনেক দিন ধরেই গণজাগরণ মঞ্চের সাথে নাই। গত বছরের ২৬ মার্চ তারা ঘোষণা দিয়ে মঞ্চ ছেড়েছে। তাদের দলীয় অংশগ্রহণ ছাড়াই গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন চালিয়ে গেছে, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় উদযাপন করেছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর দলীয় সিদ্ধান্ত এই দুইয়ের মধ্যে চেতনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে ছিলেন। আন্দোলন এগিয়ে নিতে তারাও ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু গত ৩ এপ্রিল শাহবাগে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী দ্বারা আক্রান্ত হয় গণজাগরণ মঞ্চের বেশ কয়েকজন কর্মী। ছাত্রলীগ একই দিন দ্বিতীয় বার হামলা করে থানা অভ্যন্তরে। পরের দিন প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা করে সরকারের পুলিশ বাহিনী। হামলায় আক্রান্তরা নিজেরা সাক্ষ্য দিয়েছে হামলা করেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতি আক্রান্তদের বক্তব্যকে আমলে না নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগের হামলার কথা অস্বীকার করেন এবং প্রমাণ করতে পারলে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে বলেও ঘোষণা দেন। ছাত্রলীগ এই ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করার পাশাপাশি হামলাকারি সন্ত্রাসীদের উসকে দেয়। যা বাংলাদেশের প্রাচীন একটা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনভবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। ছাত্রলীগের যেখানে উচিত ছিল তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সেখানে তাদের মেঠো বক্তৃতা পুরো বিষয়টিকে একপাক্ষিক করে দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তিগণ নিজে মিডিয়ার সামনে যখন বারবার আক্রমণকারিদের সনাক্ত করছিল তখন ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারি নির্লজ্জভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে চলছিলেন।

তারপর সরকারের অংশীদার ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা ওয়ার্কার্স পার্টির সহযোগী বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু (রাশেদ খান মেনন) জাসদের সহযোগী ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন (হাসানুল হক ইনু) সাম্যবাদী দলের সহযোগী বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন সভাপতি মঞ্জুর রহমান মিঠু (দিলীপ বড়ুয়া) বড়দের চেয়ার বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেন। ৮ এপ্রিল তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনে এক সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। মজার বিষয় এই অস্বীকারকারীরা নিজেরা সে সময় শাহবাগে উপস্থিত ছিল না বলেও জানিয়েছেন। তবু তারা ছাত্রলীগকে বিশ্বাস করেছেন যেখানে বিশ্বাস করার কথা ছিল আক্রান্তদের বক্তব্যগুলো। এটা যে পরিস্কারভাবে সরকারের পরিকল্পনা তা প্রমাণ হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনকারী ছাত্রনেতারা ইমরান এইচ সরকারের রাজনীতিতে আসাকে ভালভাবে দেখছেন না বলেও জানান। এটা যে বাংলাদেশের সংবিধানে রাজনৈতিক দল করার অধিকারকে অস্বীকার করার নামান্তর সেটা তাদেরকে কে বুঝাবে? সংবাদ সম্মেলনকারী ছাত্রনেতারা এক দল এক নেতায় বিশ্বাসী সেটা তাদের দীর্ঘ ছাত্রজীবন এবং ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস দেখেই প্রমাণিত। এবং তাদের অনেককেই গণজাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভীড় ঠেলে সামনে এসে ইমরান এইচ সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ দেখাবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল তা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত।

আওয়ামীলীগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে অনেক আগেই। আওয়ামীলীগের বি-টিমগুলো তবুও ছিল কিন্তু যখন দ্বন্দ প্রকট হয়ে উঠলো তখন তাদের পালিয়ে যাওয়াটা অনূমিতই ছিল। তারা পিছুটান দিয়েছে। ছাত্রনেতাদের এই পিছুটানের বাইরেও ভেতরে ভেতরে অন্য খেলা চলেছে যার প্রমাণ ১২ এপ্রিল ‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠকবৃন্দ’ ব্যানারে অন্য একটি সংবাদ সম্মেলন করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে ‘অব্যাহতি’ ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে। এই সংবাদ সম্মেলনকারীরা নিজেদের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী-সংগঠক দাবি করেছে ঠিকই কিন্তু সেখানে গণজাগরণ মঞ্চের কোন ব্যানার ধারণ করতে পারেনি। এ থেকে প্রমাণ হয় তারা কতখানি দূর্বল ছিল নৈতিক ক্ষেত্রে।

‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠকবৃন্দ’ দাবিদারদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন কামাল পাশা চৌধুরী। যিনি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িত। জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবং সুযোগ ছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ারও। কিন্তু দল তাকে মূল্যায়ন করেনি সিকি শতাব্দীর বেশি সময় দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পরও। দল তারচেয়ে কম বয়েসি এবং তার রাজনীতির বয়েসি অভিজ্ঞতার কমদেরও মনোনয়ন দিয়েছে কিন্তু তাকে দেয়নি কেন? উত্তর একটাই- নেতা হওয়ার মতো যোগ্যতা তিনি হয়তো ধারণ করেন না। যোগ্যতা নিয়ে মানুষ জন্মায় না, অর্জন করে নিতে হয়। কামাল পাশাও অন্যদের মতো জন্মেছিলেন কিন্তু রাজনীতির মাঠের নেতা হওয়ার মতো যোগ্যতা তিনি অর্জন-ধারণ করতে হয়তো পারেননি।

গণজাগরণ আন্দোলন নেতাভিত্তিক নয়, এটা চেতনা আর দাবিভিত্তিক আন্দোলন। এখানে মূখপাত্র মূখ্য না। তিনি গণমানুষের অনুভূতি সবার হয়ে প্রকাশ করেন। লক্ষ লোকের মধ্যে কিছু লোক নেতা হতে গিয়েছিল, নেতা হতে না পেরে তারা সরে গিয়েছিল। যারা ঘোষণা দিয়ে সরে গিয়েছিল তারা ইদানিং আবার সমালোচনা-আক্রমনের মাধ্যমে ফিরতে শুরু করেছে। তাই দীর্ঘদিন পর হুট করে নেতৃত্ব বদলাবার হাহাকার-আহাজারি লক্ষ্যণীয়। কামাল পাশা, বাপ্পাদিত্যদের অবস্থা হয়েছে এমন যারা ঘোষণা দিয়ে সরেনি ঠিক কিন্তু ভেতরে থেকে সরে যাওয়াদের লক্ষ্য পুরণে হাতিয়ার হয়ে যাচ্ছে।

তারুণ্যের অগ্নিস্ফুলঙ্গ গণজাগরণ আন্দোলনে তরুণেরা নেতৃত্ব দিয়েছে, দেবে; এই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের বিভক্তি কর্মসূচিতে বয়সে পঞ্চাশের কাছাকাছি রাজনৈতিক জীবনে ব্যর্থ একজন লোককে সামনে নিয়ে এসে সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ করাটা বালখিল্য আচরণ হয়েছে সন্দেহ নেই। সরকার ইদানিং সবকিছুতে দলীয় মোড়ক দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কামাল পাশা নামীয় প্রায় বৃদ্ধ লোকেরা যখন এসে তারুণ্যের স্পন্দন গণজাগরণ মঞ্চকে দখল করে নিতে চায় তখন অন্ধকারের আততায়ীদের অপরিপক্ক কৌশলের বিষয়টি বারবার চোখে পড়ে।

এককভাবে নির্বাচন করে ফেলার পর আওয়ামীলীগ সরকারের মধ্যে সবকিছুতে নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। তারা সরকার গঠন করেছে, জাতীয় সংসদে যে বিরোধীদল আছে সেখানেও আছে তাদের কর্তৃত্ব কিন্তু যে জায়গা নিয়ে তারা ছিল সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত সেটা ছিল তারুণ্যের স্পন্দন এবং প্রতিবাদি অবস্থান। গত এক বছরে গণজাগরণ মঞ্চ মাঠে ছিল এবং ইমরান এইচ সরকার যখনই রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিলেন তখনই তাদের আতংকের মাত্রা বেড়ে যায়। তারা আশঙ্কা করছে যদি তারুণ্যের পুরো জোয়ার সব সময় জাগরূক থাকে তাহলে অনেক কিছুই বাঁধার সম্মুখিন হবে।

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে এটা নিশ্চয়ই কোন পাঁড় আওয়ামীলীগারও অস্বীকার করবে না। ভোট কারচুপির এই মহাযজ্ঞে সরকারি দলের সাথে পাল্লা দিয়ে লাভবান হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারা সারাদেশে ৩৬ উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ১৭৭ ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৩৪ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে নিয়েছে। এর আগের নির্বাচনে তাদের এমন রমরমা ভাব ছিল না। যেখানে ব্যাপক ভোট কারচুপি সম্পাদিত হয় সেখানে একটা অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির তুলনায় কীভাবে ভাল ফলাফল করে জামায়াতে ইসলামী? এটা যে গোপন আঁতাত তা বলে দিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে হয়না। আমরা যদিও বিশ্বাস করতে চাই, সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে এই আঁতাত করেনি কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে যে হয়েছে সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ থাকা যায়।

আসছে সাঈদির মামলার চূড়ান্ত রায় এরপর আসছে আরো কয়েকটি রায় যেখানে রাজাকারদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকার কথা গণজাগরণ মঞ্চকে সেখানে খুব কৌশলে সরকার এই মঞ্চের মাঝে টেনে দিয়েছে বিভক্তি রেখা। প্রথমে ছাত্রলীগ হামলা করলো, পুলিশ তা অব্যাহত রাখলো, সরকারী জোটের অংশীদার ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দিয়ে বিভক্তি রেখা টানলো এবং সর্বশেষ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকে দিয়ে একটা পরিষ্কার বিভাজন রেখা টেনে দিলো তারা। এটা গণজাগরণ মঞ্চকে ধ্বংস করে দেওয়ার সর্বশেষ হাতিয়ার হিসেবে অনেকেই দেখছেন। কিন্তু আদৌ কী তা হবে?

আমাদের মনে রাখা উচিত, শাহবাগের গণজাগরণ যখন শুরু হয় তখন সরকারবিরোধীই ছিল। পরবর্তীতে সরকার বিভিন্নভাবে একে নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে। গত এক বছরে তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলেও পরিষ্কার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। ফলে সরকারি ছাত্র সংগঠনকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়েছিল। এর অর্থ তারুণ্যের শক্তি যেখানে স্রোত তার বিপরিতেই তার পথচলা-অবস্থান!

সরকারি কৌশল, অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং ষড়যন্ত্রের পরও কী জেগে থাকবে তারুণ্যের আন্দোলন? উত্তর হবে নিশ্চয়ই- হ্যাঁ! সর্বশেষ আঘাতের কারণে ঘরে ফেরা মানুষেরা আবারও জাগবে। হয়তো শাহবাগ দখল করে বসে থাকবে না স্লোগানে-স্লোগানে কিন্তু সরকারি এই আঘাত তারা মর্মে অনুধাবণ করবে। সরকার জানে, দেশবাসি জানে, তারুণ্য জানে- ক্ষমতা চিরস্থায়ি বন্দোবস্ত দেওয়ার মতো কিছু নয়!

রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে জেগে থাকবে শাহবাগ; জেগে থাকবে দেশ! রাজাকারদের ফাঁসি না দিয়ে নিশ্চয়ই ঘরে ফিরবে না তারুণ্য! সর্বশেষ সরকারি ষড়যন্ত্র, হস্তক্ষেপ তারুণ্যকে চ্যালেঞ্জ করছে। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ!

লেখার ফেসবুক লিংক

১ thought on “জেগে থাকবে শাহবাগ; জেগে থাকবে দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *