ভারতীয় সিরিয়ালের প্রয়োজনীয়তা !

ভারতীয় সিরিয়ালের অনেক প্রয়োজনীয়তা আছে! মহিলারা মনোরঞ্জনের জন্য সিরিয়াল দেখেন ।ভারতীয় এবং ভারতবাংলা সিরিয়ালের ক্রিপ্টগুলো সাধারনত একটা পরিবারকে নিয়ে করা হয় । দীর্ঘদিন ধরে এর এক-একটা পর্ব তথা কাহিনী অমাদের মনে অনেক প্রভাব ফেলে আসুন দেখি সেগুলো কী? ১সম্ভ্রান্ত ও অসম্ভ্রান্ত পরিবার বড় কথা নয় যে কোন পরিবারের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা চরম বেপড়োয়া হয় সুযোগ পেলেই সীমা লঙ্ঘন করা ,তারা সবসময় আবেগ ট্র্যাকেল দিতে ব্যর্থ হয় ।বিবেক তাদের থাকবেনা এবং এটা খুবই স্বাভাবিক ! অশিক্ষিত মেয়েরা জন্মগত ভাবে সবার আদর্শ হয় । তাদের বিবেক থাকে ।


ভারতীয় সিরিয়ালের অনেক প্রয়োজনীয়তা আছে! মহিলারা মনোরঞ্জনের জন্য সিরিয়াল দেখেন ।ভারতীয় এবং ভারতবাংলা সিরিয়ালের ক্রিপ্টগুলো সাধারনত একটা পরিবারকে নিয়ে করা হয় । দীর্ঘদিন ধরে এর এক-একটা পর্ব তথা কাহিনী অমাদের মনে অনেক প্রভাব ফেলে আসুন দেখি সেগুলো কী? ১সম্ভ্রান্ত ও অসম্ভ্রান্ত পরিবার বড় কথা নয় যে কোন পরিবারের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা চরম বেপড়োয়া হয় সুযোগ পেলেই সীমা লঙ্ঘন করা ,তারা সবসময় আবেগ ট্র্যাকেল দিতে ব্যর্থ হয় ।বিবেক তাদের থাকবেনা এবং এটা খুবই স্বাভাবিক ! অশিক্ষিত মেয়েরা জন্মগত ভাবে সবার আদর্শ হয় । তাদের বিবেক থাকে ।

২. একটা সভ্যপরিবার পরিচালনা একটা অজপাড়া গাঁয়ের অশিক্ষিত মহিলা সবচেয়ে ভাল পারে, বুঝে ও সম্পাদন করতে পারে সুধুমাত্র তার শারিরিক শ্রম দিয়ে।সুষ্টুভাবে চালনার জন্য শিক্ষিত সভ্য ব্যক্তির কোন প্রয়োজন নেই ।

৩. মধ্যযুগীয় ধারায় চলতে হবে । যারা একটু সভ্য ও আধুনিক জীবন যাপন করতে চায় ,তারা ওয়েস্টার্ন কালচার্ড হয় । ব্যাপারটা এইভাবে বললে পরিষ্কার হয় যে সভ্যতা ও আধুনিকতার অপর নাম ড্রিংকিং,ফ্লার্টিং,উগ্রতা…ইত্যাদি ।

৪. একই নাটক সাধারণত অনেক গুলো পরিবার আর একাধিক নায়ক নায়িকা তথা প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে হয় ।এক-এক জন নায়ক-নায়িকার সাথে নাটকের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন জনের সাথে প্রেম,পরকীয়া ও বিবাহ পর্যন্ত সম্পর্ক গড়াবে ।দেবর-ভাবী,দুলা ভাই-শ্যলিকা ও গ্রহনীয় ।

৫. ছেলেদেরকে মেয়েদের কাছে একটা ব্যাংক হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ।ভারতীয় ধারাবাহিকের নিয়মে নাটকের আকর্ষনীয় পুরুষ বা নায়কের ক্রিপ্ট অনুযায়ী প্রচুর আর্থিকযোগ্যতাবান হতে হয়(মূল্যবোধীয় যোগ্যতা থেকে আর্থিক যোগ্যতার গুরুত্ব বেশী)। শত ব্যস্ততার মধ্যেও মা,বোন ও স্ত্রীর বা প্রেমিকার আবদার পূরনে এবং তাদের
সাথে অফুরন্ত সময় ব্যায়ে বাধ্য থাকবে।একই সাথে তার আর্থিক যোগ্যতা থাকবে উচ্চ শিখরে ।এটাই ধারাবাহিকের বাস্তবতা ।এজন্য অবশ্যই তাকে চরম ধনী হতে হবে না হলে সে সিরিয়ালের নায়িকার যোগ্য হবেনা ।দুঃখের ব্যাপার যে অভিনেতার নাটকের ক্রিপ্ট অনুযায়ী এইসব গুণ থাকেনা তাদের খলনায়ক অথবা ব্যক্তিত্তহীনের ভুমিকায় সুটিং করতে হয় ।এজন্যই বাস্তবে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গী…

৬. একজন মহিলা ও পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় ধর্মীয় নিয়ম পালন ও সামাজিক সুবিধা ভোগের জন্য । কিন্তু উপমহাদেশীয় মহিলাদের প্রাণপ্রিয় এই ধারাবাহিকের নিয়ম অনুসারে বিয়ের পর একটা আদর্শ মহিলা নিজ সত্তা ও ক্যারিয়ারের চিন্তা হারিয়ে সম্পূর্ণভাবে হাসব্যন্ডের এসিস্টেন্টে পরিণত হবে ।শুধুমাত্র কন্যা জন্ম দেওয়ার অপরাধে বিয়ের পর কন্যার মা-বাবা সন্তানের ওপর থেকে অধিকার হারিয়ে ফেলবেন । কন্যার চিন্তা ও সেবা যত্নের প্রথম ও প্রধান অধিকারী হবে তার হাসব্যান্ড ও হাসব্যান্ডের পরিবার ।যদিও কন্যার যাবতিয় দায়িত্ব তার পিতামাতার ছিল ও থাকবে ।থাকবেনা শুধু অধিকার ।অধিকার প্রতিস্থাপিত হবে শশুরবাড়ীর লোকদের হাতে । ইচ্ছা করলে তারা যোগাযোগ বন্ধ ও করে দিতে পারে অথচ স্ত্রীর ভুলত্রুটির দ্বায়িত্ব তাদের নেই । কী ভাগ্যবান তারা!খুবই দুঃখের বিষয় এইযে যেসব অভিনেত্রীকে ক্রিপ্ট অনুযায়ী এসব নিয়মের বিরুদ্ধে বা প্রতিবাদে অভিনয় করতে হয় তাদেরকে খলনায়িকার চরিত্র দেওয়া হয় । তাহলে ছেলেসন্তান কেন চাইবেনা এদেশের সিরিয়াল আসক্ত ব্যাক্তিরা?

৭. খুব আশ্চর্যের বিষয় হল এই ভাগ্যবান অভিভাবকরা অভাগায় পরিণত হবে যখন স্বামী উপার্জনক্ষম হয়ে স্ত্রীর প্রতি নির্ভরশীল হয়।তখন ছেলে ও তার পরিবারকে স্ত্রী কর্তৃক অনবরত লাঞ্ছিত হওয়া একটা কর্তব্য হয়ে যায়। যে নাটকের নিয়মে শশুরবাড়ির কথা মত স্ত্রী ন্যায়-অন্যায় সব কাজে বাধ্য থাকত সেই নাটকের নিয়মেই তখন স্ত্রীর কথামত তার নিজপরিবারের লোকজন ন্যায়-অন্যায় সব কাজে বাধ্য থাকে ।তখন স্ত্রী অন্যায় করলে ও তাকে কার ও শাসন করার অধিকার থাকেনা । বোঝাই যাচ্ছে অর্থই এখানে সব কিছুর ভিত্তি ।মূল্যবোধ বা বিবেক নয়।

৮. সহোদর ভাইবোনের মধ্যে হিংসা,বর্তমান হাসব্যন্ড/ ওয়াইফের সাথে এক্সহাসব্যন্ড/ওয়াইফ অথবা প্রেমিকপ্রমিকার হিংসা ও কুটিলতা,জা এর সাথে জাএর/ননদের এবং শাশুড়ি-বউমা তো আছেই । তাছাড়া স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে দন্ড ফুটিয়ে তোলা হয় ।সবার সম্পর্ক একটি পরিবারের মত হলেও এই নাটক গুলো মানুষের মনে সহিংসতার ফ্লাসব্যাক করে সবার মনে তাদের ভবিষ্যত সম্পর্ক নিয়ে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দেয় ।

৯. ছোট্টখাট্ট কুটনৈতিক সমস্যা নিয়ে সবার মাথা ব্যাথা থেকে তুলকালাম কাহিনীর সৃষ্টি হয় ।আর অনেক বড়বড় সমস্যার সমাধান খুব সহযেই সলভ হয়ে যায় ।দীর্ঘদিন পর্বগুলো ফলো করার ফলে মনের অজান্তেই মানুষের বিবেক বুদ্ধি লোপ পাবে,লোপ পাবে চিন্তা শক্তি ,বাড়বে সহিংসতা। একটা নাটকের মধ্যে উপরের প্রত্যেকটা একই সময়ে ফুটে ওঠেনা। কর্মব্যস্ত ও শিক্ষিতের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য রাতের প্রোগ্রাম একটু ভিন্ন ।বিভিন্ন সিরিয়ালের কাহিনী উপভোগ ও শিক্ষা এক না হলেও পর্বগুলো মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির মহিলাদের মস্তিস্ক থেকে অন্তস্থলে পৌঁছে দেয়।

১০. মূল্যবান সময় নষ্টকারী অবাস্তব ও কুরুচিপূর্ণ বিনোদন মাধ্যম স্টারপ্লাস,জলসা,জিবাংলা আর বাদবাকি সিরিয়ালের চ্যানেলগুলো? এগুলোর বাংলা সাইট আছে,আছে এদেশীয় সংস্কৃতি ও । এখানেই তো শেষ না । অনেকে বলে সিরিয়ালের ঘটনাগুলো তো বাস্তব জীবনে ও ঘটে । বাস্তব নিয়ে এই টিভি প্রোগ্রাম হলেও,ভালমন্দ দিকের বিভেদগুলো শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভাবে মানুষের ইতিবাচক মনকে কলুষিত করে নেতিবাচক করে বেলার ও কুশিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা থাকে তবে তা গ্রহনীয়র থেকে বর্জনীয়ই বেশী । শিশুরা ডোরেমন দেখে হিনদী শিখছিল বলে তা বাংলায় অনুবাদ করার পরিবর্তে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সবাই কত এপ্লিকেশন করল আর ও কত কিছু ? তারা কি ভারতীয় নাটকের বিভত্সতা দেখতে পাচ্ছেনা,এই চ্যানেলগুলো ও বন্ধ করা হোক?

… এখন তো আবার কেবল টিভি চ্যানেল সিস্টেম চালু হচ্ছে । ফলাফল ?এই ধারাবাহিক নাটকের চ্যানেল গুলোই প্রাধান্য পাবে সব গৃহিনীর বাড়িতে ।এমন যেন না হয় যে অন্যান্য চ্যানেল পারফরমাররা বিসনেস একটিভ রাখার জন্য নিজেদের প্রোগ্রামে ধারাবাহিক নাটক চালু করে দিচ্ছে !

১৬ thoughts on “ভারতীয় সিরিয়ালের প্রয়োজনীয়তা !

  1. যেহেতু ওগুলো দেখিনা বা দেখার
    যেহেতু ওগুলো দেখিনা বা দেখার প্রয়োজনবোধ করি না তাই এই লেখা বুঝার ক্ষমতাও নেই আমার।

      1. খারাপ বলেন নাই, ২০০৯-১১ইং
        খারাপ বলেন নাই, ২০০৯-১১ইং সময়টা আমাকে বাধ্য হয়েই দেখতে হয়েছে বস্তা পচা সিরিয়ালগুলো। মামার বাড়িতে থেকে ইন্টার পড়েছি তো তাই।

    1. ধন্যবাদ ।কোন মাদকাসক্তকে মাদক
      ধন্যবাদ ।কোন মাদকাসক্তকে মাদক বেছে নেওয়ার জন্য দোষারোপ করি তাহলে তো আর সব শুদ্ধ হয়ে যাবেনা ।আমি নিজে অনেকের সাথে বিতর্ক করে বুঝেছি যুক্তি দিয়ে তাদের বোঝানো সম্ভব না ।আর শিশুরা নিজে থেকে নিশ্চই ডোরেমন দেখা বন্ধ করেছিল না ।চ্যানেল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ।এই ব্যাপারে ও আমাদের তাই ই করা উচিত্‍ ।

  2. অস্বীকার করার জো নেই যে এই
    অস্বীকার করার জো নেই যে এই সিরিয়ালগুলো চরম কুটকাচালিতে ভরপুর থাকলেও এর একটা আকর্ষন আছে, বিশেষ করে আমাদের সমাজে মেয়েদের যেই মানস আমরা তৈরি করে রেখেছি সেই মানসিক গঠন এই ধরণের সিরিয়ালাসক্তি তৈরি করে খুব সহজেই। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি? আমরা সবাই শুধু শোর তুলছি- বন্ধ করো, বন্ধ করো। কিন্তু এই যে বিশাল একটা দর্শকশ্রেনী এইসব সিরিয়ালে আসক্ত তাদের এর থেকে বের করে আনতে হলে এর বিকল্প কোন বিনোদনের উপাদান তৈরি করে দিতে হবে। তা না হলে লাভ নেই।

    আপনার লেখার শেষের প্যারাটা বুঝলাম না।

    1. আপনার সাথে আমিও একমত ।তবে এই
      আপনার সাথে আমিও একমত ।তবে এই ধারাবাহিকের চ্যানেল গুলোর সমালোচনা আমরা সবাই করি । কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নিইনা !

  3. সিরিয়ালগুলো যতক্ষণ শুধুমাত্র
    সিরিয়ালগুলো যতক্ষণ শুধুমাত্র মজা পাবার জন্য দেখে ততক্ষন পর্যন্ত ঠিক আছে আমার মতে। কিন্তু সেটি যদি বাস্তব জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে তখনই ঘটে বিপত্তি। আর সিরিয়ালগুলো মানুষকে উচ্চ বিলাসিতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।

    আর সিরিয়ালগুলো দেখে মানুষ সামান্য সময়ের জন্য হলেও কল্পনার জগতে বিভোর হয়ে যায়। আর মানুষ স্বভাবতই কল্পনাপ্রবণ।

    কল্পনাগুলোকে বাস্তবে নিয়ে আসতে গেলেই ঘটে যত সমস্যা। আর কিছু কিছু কল্পনা বাস্তবে না আনাই উচিৎ।

  4. ভারতীয় হিন্দি বা বাংলা
    ভারতীয় হিন্দি বা বাংলা সিরিয়ালগুলো আমাদের পারিবারিক বন্ধনকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। নিজেরাই পারিবারিকভাবে এসব সিরিয়াল দেখা পরিত্যাগ করার সময় হয়েছে। না হলে সংস্কৃতিক অধঃপতন ঠেকানো কোনভাবেই সম্ভব না।

  5. কথাটা ঠিক হলে ও নিয়মিত
    কথাটা ঠিক হলে ও নিয়মিত সিরিয়াল দেখলে পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য তারা মুখিয়ে থাকে ।তাই এটা পরিত্যাগ করা তাদের পক্ষে মুশকিল ।আমাদের ই উচিত্‍ এই চ্যানেল গুলো এদেশে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা করা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *