অপেক্ষায় ১৪ তারিখের

আমার এক জুনিয়র বন্ধু একসময় আমাদের বন্ধু মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেছিল। অদ্ভুদ এক নেশা ছড়িয়ে দিয়েছিল সকলের মাঝে। সন্ধ্যা হলেই সকলে তাকে খোঁজার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়ত। কারন, নেশার সেই মহামূল্যবান বস্তুটি তাঁর কাছে পাওয়া যেত। চাইলেই দিত। বিনিময়ে টাকা-পয়সা কিছু চাইতনা। সেই মহামূল্যবান নেশার বস্তুটি হল ঘুমের ট্যাবলেট। তার চাচা কিংবা বাবা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে ঔষধ কোম্পানীর ফ্রি স্যাম্পল তাদের বাসায় থাকত। সেই ফ্রি ঔষধ সে বন্ধুদের কাছে বিনামূল্যে সরবরাহ করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।


আমার এক জুনিয়র বন্ধু একসময় আমাদের বন্ধু মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেছিল। অদ্ভুদ এক নেশা ছড়িয়ে দিয়েছিল সকলের মাঝে। সন্ধ্যা হলেই সকলে তাকে খোঁজার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়ত। কারন, নেশার সেই মহামূল্যবান বস্তুটি তাঁর কাছে পাওয়া যেত। চাইলেই দিত। বিনিময়ে টাকা-পয়সা কিছু চাইতনা। সেই মহামূল্যবান নেশার বস্তুটি হল ঘুমের ট্যাবলেট। তার চাচা কিংবা বাবা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে ঔষধ কোম্পানীর ফ্রি স্যাম্পল তাদের বাসায় থাকত। সেই ফ্রি ঔষধ সে বন্ধুদের কাছে বিনামূল্যে সরবরাহ করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

সে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরন করেই ক্ষান্ত হয়নি, কিভাবে ঔষধ ব্যাবহার করতে হবে সেই পরামর্শও দিত কোন ভিজিট ছাড়াই। যেমন প্রথম দিনের ঔষধের কোর্স হল এভাবে- “এক গ্লাস পানি দিয়ে একটা ট্যাবলেট খেতে হবে। আধা ঘন্টার মধ্যে শরিরে হালকা ঝিমনি শুরু হবে। ঝিমনি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আরেকটা ট্যাবলেট খেতে হবে। দ্বিতীয় ট্যাবলেট খাওয়ার বিশ মিনিটের মধ্যে মাথা ভারি হয়ে উঠবে। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে চোখ লাল হয়ে যাবে। তারপর খেতে হবে আরো একটা। প্রথম বার তিনটার বেশি খাওয়া যাবেনা।” ঔষধ খাওয়ার পর আস্তে আস্তে দশ মিনিট হাঁটতে হবে। শরিরে তখন প্রচণ্ড দুলনি শুরু হবে। হাঁটাতে ছন্দ-পতন হবে। অদ্ভুদ আনন্দময় একটা অনুভূতি হবে দেহে, মনে, ব্রেনে। তখন গিয়ে শুয়ে পড়তে হবে। সাথে সাথেই শান্তির ঘুম। (ভাগ্য প্রতিকুলে থাকলে এই ঘুম আর নাও ভাঙতে পারে!)

কয়েকদিন পর পর ঔষধের পরিমান বাড়াতে হবে। প্রথমে তিনটা,তারপর পাঁচটা, সাতটা! আমার সেই বন্ধুটা দশটা পর্যন্ত ট্যাবলেট খেতে পারত। যে জিনিষে মৃত্যু লেখা থাকে সেই জিনিষ হাতে নিয়ে খেলা করে তা থেকে আমোদ সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা! আমোদের জন্য আরো অনেক কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পৃথিবীতে।

তাই ঘুমের ঔষধের মৃত্যুই সবচেয়ে শান্তির আমিও আছি সেই অপেক্ষায়। ১৪তারিখের অপেক্ষায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *