ব্যবসার মৌসুম শুরু হচ্ছে !!!

নবী আদম থেকে শুরু করে নবী নূহ সহ ইব্রহিম নবী’র ৰ্পূবৰ্বতী সব নবী-রাসূল কাবাঘর জিয়ারত ও তাওয়াফ(কালো চারকোণা ঘরটি বায়তুল্লাহ বা ক্বাবা। এটি ঘিরে সাত চক্কর হাঁটাকে বলে তাওয়াফ) ক‌রতেন। ইব্রহিম নবীর এর সময় থেকে হজ্জ ফরয বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা আদি পয়গম্বর ইব্রাহিম নবী’র সঙ্গে সম্পর্কিত।

মক্কা বিজয়-এর দ্বিতীয় বছরে নবী মুহম্মদ তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্জ পালন করেন। এটি বিদায় হজ্জ নামে অভিহিত। বিদায় হজ্জ-এর মাধ্যমে তিনি আদর্শরূপে হজ্জ পালনের নিয়মাবলী উল্লেখ এবং প্রদর্শন করেন।
কোরায়েশ বংশে কাবার মালিকানার ইতিহাস :

নবী আদম থেকে শুরু করে নবী নূহ সহ ইব্রহিম নবী’র ৰ্পূবৰ্বতী সব নবী-রাসূল কাবাঘর জিয়ারত ও তাওয়াফ(কালো চারকোণা ঘরটি বায়তুল্লাহ বা ক্বাবা। এটি ঘিরে সাত চক্কর হাঁটাকে বলে তাওয়াফ) ক‌রতেন। ইব্রহিম নবীর এর সময় থেকে হজ্জ ফরয বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা আদি পয়গম্বর ইব্রাহিম নবী’র সঙ্গে সম্পর্কিত।

মক্কা বিজয়-এর দ্বিতীয় বছরে নবী মুহম্মদ তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্জ পালন করেন। এটি বিদায় হজ্জ নামে অভিহিত। বিদায় হজ্জ-এর মাধ্যমে তিনি আদর্শরূপে হজ্জ পালনের নিয়মাবলী উল্লেখ এবং প্রদর্শন করেন।
কোরায়েশ বংশে কাবার মালিকানার ইতিহাস :
কোরায়েশ বংশধর আবদে মনাফ। তাঁর দুই পুত্র ছিলেন : আবদে শামস ও আবদে হাশিম। আবদে শামসের পুত্র উমাইয়া। উমাইয়া তার পিতার মৃত্যুর পর সে গোত্রের নেতৃত্বের দাবি করে। যার ফলে তার চাচা আবদে হাশিমের সাথে তার বিবাদ বাধে। এই বিবাদে কোরায়েশ বংশ দুই দলে বা গোত্রে বিভক্ত হয়ে যায়; হাশিমি গোত্র ও উমাইয়া গোত্র। বিবাদের মূল কারণ সম্পদ। শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব ভাগাভাগি করা হয় এইভাবে—কাবা গৃহের স্বত্তাধিকার ও তত্ত্বাবধান এবং হজ (দেব-দেবী দর্শন) মৌসুমে আয়কৃত অর্থের মালিকানা থাকবে হাশিমি গোত্রের হাতে। আর দেশ প্রতিরক্ষা-প্রশাসন ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মালিকানা উমাইয়া দলের হাতে। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে হাশিমি গোত্রের আব্দুল্লাহর গৃহে নবী মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ (দঃ) তাঁর নতুন ধর্ম ‘ইসলাম’ ঘোষণা দেন। হাশিমি বংশোদ্ভূত মুহাম্মদের (দঃ) এই নতুন ধর্ম ঘোষণায় অপমানবোধ করলো উমাইয়া দল, আর মুহাম্মদের (দঃ) স্বীয় গোত্রের লোকজন পৌত্তলিকতার অবসানের দুশ্চিন্তায়, দেব-দেবীর কল্যাণে কাবা গৃহ থেকে বিপুল আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় হলো উৎকণ্ঠিত। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ (দঃ) কোরায়েশ কর্তৃক তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারে আবুবকর (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে মদিনাভিমুখে পালিয়ে যান। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাকে ‘হিজরত’ বলা হয়। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের ১১ জানুয়ারি বিনা যুদ্ধে “হোদাইবিয়া সন্ধি” মাধ্যমে মক্কা নগরী দখল করে নেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে আরাফাতের ময়দানে তিনি তাঁর শেষ ঐতিহাসিক(বিদায় হজ্জ-এর) ভাষণ এবং আরবীয়দের কাবা গৃহ থেকে বিপুল আয়ের পথ সুগম করে দেন।

ৰ্বতমান অবস্থা :
ৰ্বতমানে কাবা গৃহের স্বত্তাধিকার ও তত্ত্বাবধান এবং হজ মৌসুমে আয়কৃত অর্থের মালিকানা সৰ্ম্পূন সৌদী আরবের । এই ব্যবসাকে ঘিরে বিলিয়ন ডলারের ৰ্পযটন শিল্প গড়ে উঠছে সৌদীতে। গত তিন বছরে হ্বজ পালনকারীর সংখ্যা নিন্মরূপ :
সাল—— আরবীয়——-বহিরাগত
২০১০—-৯৮৯,৭৯৮ —– ১,৭৯৯,৬০১
২০১১—- ১,০৯৯,৫২২—– ১,৮২৮,১৯৫
২০১২—– ১,৪০৮,৬৪১—- ১,৭৫২,৯৩২
গত বছর বহিরাগত সাড়ে ১৭ লক্ষ হ্বজ পালনকারীরা তাদের সৌদী ভ্রমনে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার (টাকায় কনৰ্ভাট করেনতো !!!) খরচ করে, যা ২০১১ এর তুলনায় ১০% বেশী । তথ্যসূত্র: এখানে
২০১৩-এ সৌদী ভ্রমনকারীর সংখ্যা মোট কত জন হবে তা জানা নাই, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ১,২৭,১৯৮ জন এই ভ্রমন করবে। ১০,০০০ জন ভ্রমনকারী সরকারিভাবে আর ১,১৭,১৯৮ জন ভ্রমনকারী নিজ উদ্যোগে যাবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে এই ভ্রমন সম্পন্ন করতে প্রত্যেকের ৩.৪৭ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। হিসাব করি (১২৭১৯৮)*(৩৪৭০০০)= কত হয় ? এই টাকার প্রায় পুরোটাই সৌদী ব্যাংকে যাবে। আমাদের দেশের মত দরিদ্র দেশের মানুষের এই ধরনের বিলাসিতা উচিত না। তথ্যসূত্র: এখানে
সামগ্রিকভাবে ২০১৩ মৌসুমে, ২০১২ মৌসুমের তুলনায় ব্যাবসা ভালো হবে আশা করা হচ্ছে। সৌদীর তেল ফুরাইলেও সমস্যা নাই এই বিশাল ব্যবসা আছে না।

অফটপিক: গত কয়েকদিন ধরে এই ভ্রমনের ব্যাপারে কিছু মানুষের লম্ফ-জম্ফ দেখছি তাই এই লিখা, কারো বিশেষ অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শুধুমাত্র ইস্টিশন ব্লগের জন্য লিখা অন্য কোথাও প্রকাশ করলে নিজ দায়িত্বে করবেন ।

৬ thoughts on “ব্যবসার মৌসুম শুরু হচ্ছে !!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *