” গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সাম্প্রতিক কাদা ছুড়াছুড়ি – একজন আউট সাইডারের বক্তব্য ”

একজন আউটসাইডার হিসেবে বলছি , মঞ্চের কোন নেতা গোছের আমি কেউ নই । গণজাগরণ মঞ্চের লাখ লাখ স্বপ্নভুখ মানুষের মতো আমিও একজন । প্রাণের আবেগে বিবেকের তাড়নায় আপনাদের মতো আমিও ছুটে গিয়েছি শাহাবাগে । কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেছি – ‘ জয়য়য়য় … বাংলা !!!’

সেই গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গত কিছুদিন যা হয়ে গেলো এবং এখনো যা হচ্ছে তা সুখকর কিছু না । ফিসফাস শুনা যাচ্ছিলো আগে থেকেই । ফিসফাস, গুঞ্জন রণ হুঙ্কারে রুপ নেয় ৩ এপ্রিল’১৪ তারিখে । ছাত্রলীগ – যুবলীগ হামলা করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীদের উপর ।



একজন আউটসাইডার হিসেবে বলছি , মঞ্চের কোন নেতা গোছের আমি কেউ নই । গণজাগরণ মঞ্চের লাখ লাখ স্বপ্নভুখ মানুষের মতো আমিও একজন । প্রাণের আবেগে বিবেকের তাড়নায় আপনাদের মতো আমিও ছুটে গিয়েছি শাহাবাগে । কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেছি – ‘ জয়য়য়য় … বাংলা !!!’

সেই গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গত কিছুদিন যা হয়ে গেলো এবং এখনো যা হচ্ছে তা সুখকর কিছু না । ফিসফাস শুনা যাচ্ছিলো আগে থেকেই । ফিসফাস, গুঞ্জন রণ হুঙ্কারে রুপ নেয় ৩ এপ্রিল’১৪ তারিখে । ছাত্রলীগ – যুবলীগ হামলা করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীদের উপর ।


– মঞ্চের সংগঠক শাতিল আহমেদ অরণ্য’র উপর যুবলীগ – ছাত্রলীগের হামলা !


– পুলিশের একশান !


– পুলিশের একশান ।

মঞ্চের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচী সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। ‘

কথা হলো কেন এই আক্রমণ ? ছাত্রলীগ – যুবলীগ কেন আক্রমণ করলো ? যে পুলিশ দিবারাত্র গণজাগরণ মঞ্চকে পাহারা দিয়েছে সেই পুলিশ কী করে ইমরানের পাঞ্জাবীর কলার চেপে ধরে ? সেই পুলিশ কার ইশারায়, কেন জয়, বাঁধনের উপর নির্দয় আক্রমণ করে ? রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে, বুট জুতো দিয়ে লাথির বৃষ্টি ঝরায় ?

ইমরান এইচ সরকারের অভিযোগ,‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক টাকা দেওয়ায় আমরা বিরোধিতা করি। তারপর থেকেই মুলত ছাত্রলীগ-যুবলীগের একটি অংশ আমাদের পিছে লেগে আছে। ইসলামী ব্যাংকের টাকা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তারা উল্টো আমাদের কাছেই টাকা দাবি করে।’

গণজাগরণ মঞ্চ সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান ও তার পত্রিকা ‘ আমার দেশ ‘সহ জামাত – শিবির , বিএনপির সে সময়ের অপপ্রচারের মধ্যে কিছু ছিলো এমন যে, গণজাগরণ মঞ্চে সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করছে, বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছে । সরকার তথা আওয়ামীলীগ টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে শাহাবাগে নিয়ে আসছে ।

ঠিক আমার দেশের সুরে সুর মিলিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে এখন ছাত্রলীগ – যুবলীগসহ অনেকেই অভিযোগ করার চেষ্টা করছেন , অর্থাৎ গণজাগরণ মঞ্চকে বিক্রি করে ইমরান গংরা কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে । তাই যদি হয় তাহলে আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হোক । আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে কী ধরে নিতে পারিনা যে, এটি ডাহা মিথ্যে কথা, এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে ?

এবার একটা গল্প বলি, এক গরীব অসহায় বিচার প্রার্থী এসেছে এক নামজাদা উকিলের কাছে তার মেয়ের সম্ভ্রম হারানোয় বিচার চাইতে । উকিলবাবু সব শুনে বললেন, এক কাজ করেন আমাকে ফিস দিতে হবে না । আপনি শুধু মামলার ফাইলিং খরচটা যোগাড় করেন । উকিল মশাইয়ের চেম্বারে ছিল এক ধান্দাবাজ মক্কেল । সে সব শুনে মুচকি মুচকি হাসতে থাকলো । উকিল সাহেবের সাথে পরামর্শ শেষ করে যখন সেই অসহায় বিচার প্রার্থী বাইরে এলেন, অমনি সেই ধান্দাবাজ পাকড়াও করলো অসহায় লোকটি কে । ধরেই বললো, আরে মশাই আপনার মেয়ের উপর যে অন্যায় হয়েছে তার জন্য সবাই রুখে দাঁড়াবে । আপনি টাকা পয়সা নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না । আপনার এক টাকাও খরচ করতে হবে না । আপনি আসেন আমার সাথে । তখন সেই লোকটিকে নিয়ে যাওয়া হলো ধান্দাবাজের দালালি অফিসে । একটা ফান্ড করা হলো । পত্রিকায় বড় বড় শিরোনাম হলো । সারা দেশে নিন্দার ঝড় বয়ে গেলো । ওদিকে ধান্দাবাজের ফান্ড স্ফিত থেকে স্ফিততর হতে লাগলো । অন্যদিকে উকিল সাহেব মামলা রেডি করে অপেক্ষায় আছেন,কিন্তু সেই অসহায় বিচার প্রার্থীর কোন খবর নাই । শেষমেষ উকিল বাবু নিজেই খুঁজে বের করলেন লোকটিকে । জিজ্ঞেস করলেন , কী ব্যাপার আপনি চেম্বারে আর এলেন না যে , কোন সমস্যা ? উত্তরে লোকটি জানালো না তো বাবু ! তবে যে আর এলেন না ? কেন আসবো, উনি তো বললেন আর কোথাও যেতে হবে না । মামলা হয়ে গেছে । শয়তান গুলোর ফাঁসি হবে । উকিল সাহেব তখন সব বুঝতে পারলেন । ধান্দাবাজের দালালি অফিসে তালা ঝুলছে, তার কোন হদিস নাই ।

এই গল্প থেকে আপনারা কী বুঝলেন আমি জানিনা , তবে আমি যেটা বুঝি মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে,সূক্ষ্মতম অনুভূতিকে পুঁজি করে এখন ব্যবসা হয় । চারিদিকেই হচ্ছে, একটু চোখ – কান খোলা রাখলেই বুঝতে পারবেন । বুঝতে হলে যেটা প্রয়োজন তা হলো, সুসময়ে কারা আপনার পাশে ছিল এইটা বুঝতে পারার দক্ষতা।

মধুলোভী মৌমাছিগুলো মৌ আহরণ করে ঘরে ফিরে গেছে বহু আগেই , এখন একটার পর একটা সংবাদ সম্মেলন করে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা/ ইংগিত দিচ্ছে মাত্র । এদের নির্লজ্জ বেহায়াপনা নতুন কিছু না । প্রভুর পায়ের তলদেশ চেটে সাফ করার জন্য এরা সদা প্রস্তুত । ছাত্রলীগ এবং বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য জিজ্ঞেস করলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন – তালগোল পাকিয়ে ফেলবে । কারণ এদের মহা গুরুরা নিষ্ঠার সাথে চেটে যাচ্ছে শাসকের চরণ যুগল ।

এই প্রেক্ষাপটে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ছাত্র সংগঠনের অদ্যকার সংবাদ সম্মেলনের বিবৃতি প্রাসঙ্গিক । সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন,“ইমরানের অগণতান্ত্রিক ও একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণেই মঞ্চে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয় । এতে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে গতিহীনতা সৃষ্টি হয়, অনেকেই প্রাণের মঞ্চ থেকে দূরে সরে যান।”

যখন বেশি ঐক্য প্রয়োজন তখন এরা ছেড়ে যাচ্ছে । ইমরান এইচ সরকার তথা ” গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের অবস্থান অগণতান্ত্রিক এবং অনৈতিক ” – এই বোধোদয় কবে থেকে হলো আপনাদের ? ছাত্রলীগের কুকর্মের বিরুদ্ধে,মারধরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করার পর ? আহারে, ইমরান ছাত্রলীগ করে আসা ছেলে, সে কী করে ছাত্রলীগ – সরকারের বিপক্ষে কথা বলে ? ব্যাপারটা এরকম তাই না ??? চাপে আছেন বুঝি, কিন্তু একটা সংগঠনের নেতা হিসেবে মেরুদণ্ড সোজা রাখাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয় লিডার ।

আর একটা বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার , গণজাগরণ মঞ্চ রাজনৈতিক ধারায় একটি অরাজনৈতিক সংগঠন । এর দাবীগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু কেন্দ্রিক । যেহেতু এটি পাড়ার কোন কিশোরদের গড়া ক্রিকেট ক্লাব না সেহেতু শাসকের সাথে ইস্যু ভিত্তিক দ্বন্দ্ব লাগবেই । যেখানে শাসক স্বয়ং স্বার্থবাজ । এবং এটা এখন একেবারে প্রকাশ্য । আমি আগেও বলেছি যে, সরকার তথা আওয়ামীলীগ (!) যুদ্ধাপরাধীর বিচারটাকে একটা মূলো হিসেবে আমাদের মুখের উপরে ঝুলিয়ে রেখেছে । আমাদের আবেগ তাদের রাজনৈতিক ফায়দার কাছে মূল্যহীন । এ এক ধরণের জিম্মি অবস্থা । হয় তুমি আমারে ভোট দাও, আমারে ক্ষমতায় বসাও নইলে তোমার সব যাবে – মত প্রকাশের স্বাধীনতা যাবে ( যেতে বাকী আছে ? , কুখ্যাত ৫৭ ধারায় সর্বশেষ বলি রাহী – উল্লাস !) , রাজাকারের বিচার বানচাল হবে, মৌলবাদ – জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হবে সারা দেশ। জামাত – শিবির ক্ষমতায় এলে কচু কাটা করবে তোমাকে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তাও হয়তো মঞ্চ অনর্থক আশায় আশায় থাকতো । কিন্তু সরকার তথা লীগের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে । গণজাগরণ মঞ্চ এখন তার কাছে আপদ এবং বিপদ দুই – ই । বিপদ এই কারণে যে, লীগ – বিএনপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ মানুষ যদি মঞ্চকে সেই বহুল আলোচিত তৃতীয় শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে বসে তাহলে আম – ছালা কিছুই থাকবে না । শাসক জানে শাহাবাগে লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে দিন নাই রাত নাই শ্লোগানে গলা ফাটিয়েছে । এই হতাশার অতলে তলিয়ে যাওয়া মানুষ মঞ্চকে রাজনৈতিক পার্টির সমর্থন দিয়ে বসলে আপদ তখন মহা বিপদ হিসেবেই দেখা দেবে । তা কেন আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে বিবর্তিত হয়ে আসা আওয়ামীলীগ হতে দেবে ? প্রয়োজনে সে একেবারে গোড়ার মুসলিম লীগে ফেরত যাবে !

আমার শেষ কথা, গণজাগরণ মঞ্চ যদি পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় তাহলে এই পার্টির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মতাদর্শ সবার সামনে তুলে ধরুক । যার পছন্দ হবে সে এই পার্টিতে যোগ দেবে । এখন কথা হলো এক ইমরান এইচ সরকার ছাড়া লীগপন্থী একটা অংশ এবং বড় একটা অংশ বাম সংগঠন ( বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন ) থেকে – এই হলো বর্তমানে মঞ্চের দৃশ্যমান নেতৃত্ব । এই নেতৃত্ব কী আদৌ ইচ্ছুক নতুন একটা রাজনৈতিক পার্টি গড়তে ?

২০ thoughts on “” গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সাম্প্রতিক কাদা ছুড়াছুড়ি – একজন আউট সাইডারের বক্তব্য ”

  1. প্রথমেই গণজাগরণ মঞ্চের
    প্রথমেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও পুলিশি একশনের নিন্দা জানাই ।

    এবার আপনার পোষ্টের কথায় আসি ।আপনার কিছু কথায় যৌক্তিকতা আছে সেটা মানি, তবে একটা ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করলাম ।গণজাগরণ মঞ্চ পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কোন যুক্তিতে? মঞ্চ কি ইমরানের একক সিদ্ধান্তে চলে?
    ধরুন, আপনি একজন মঞ্চ সমর্থক এবং আমিও একজন মঞ্চ সমর্থক ।আপনি কোন খাতিরে মঞ্চকে সমর্থন দিয়েছেন সেটা আপনার ব্যাপার কিন্তু আমি তো অরাজনৈতিক একটি সংগঠন হিসেবেই মঞ্চকে সমর্থন করে আসছি ।প্রথম থেকেই অরাজনৈতিক ঘোষিত একটি সংগঠন আজ রাজনৈতিক পার্টিতে রূপান্তরিত হবে আর আমি এতে আপত্তি করতে পারবো না?
    তবে হ্যা, ইমরান সরকার যদি উনার ব্যাক্তিগতভাবে নতুন কোন পার্টি করেন তবে আমাদের কিছু বলার নেই ।কিন্তু মঞ্চের নামে কোন পার্টিতে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানাইলাম ।

  2. শাহবাগ নিয়ে একজনের একটা
    শাহবাগ নিয়ে একজনের একটা ফেসবুক মন্তব্য আমার মতের সাথে মিলে গেলো তাই সেটাই এখানে শেয়ার করলাম-

    আমাদের দেশে আশা করবার মত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অভাব আছে, সেই অভাববোধ আমাদের ক্রমশ বিপন্ন করে তুলেছে, দল-মত- আদর্শ নির্বিশেষে। যখনই কোন আশাবাদের ঘটনা ঘটে, আমরা তাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যবহার করতে চাই নিজের অযোগ্যতা ও অপ্রাপ্তিকে ঢাকার জন্য। যেকোনো আশাব্যঞ্জক ঘটনার একটা কমনরূপ হল তার কাছে সবকিছুর সমাধান চাওয়া, সেটা মাথায় খুসকি কেন, জবাব দাও থেকে শুরু করে, সিএনজি’র দাম বাড়ল কেন, জবাব দাও পর্যন্ত বিস্তৃত। যে কারণে শাহবাগকে মানুষের হতাশার ভারটুকু বইতে হচ্ছে এবং তা ক্ষেত্রবিশেষে এতটাই ভারি যে, তাকে মচকাতে হচ্ছে, নুয়ে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু খুব বড় দাগে একটা কিছু থেকে যাবে, সব সমালোচনার পরও, কিন্তু সেই সময়টা এখনো আসে নি। সফলকে আক্রমণ করার এই ঘটনা আমাদের সামাজিক মনে আছে, এটা হীনমন্যতায় এক ধরণের সুখের সৃষ্টি করে। এবং এটা শেষ হয়, পুরোপুরি সেই সফলতাকে ধুয়ে মুছে শেষ করে দেয়ার পরে। প্রবাহের উত্থান বা পতনে যে দাঁড়িয়ে থাকে, তার কাছে প্রবাহ হয়ত উত্থান অথবা পতন, কিন্তু যে দূর থেকে দেখে, সে দেখে প্রবাহটা এগিয়ে যাচ্ছে। কাল অতিক্রম করতে পারে সেই, যে দূরত্বের মর্যাদা দিতে পারে। সলতেটা নিভু নিভু হোক, তবু জ্বলে থাকুক।

  3. অসাধারন বিশ্লেষন!
    রাজনৈতিক দল

    অসাধারন বিশ্লেষন!

    রাজনৈতিক দল যে কেউ গড়তে পারে। আপনি পারেন , আমি পারি, যে কেউ। ইমরানও পারে। বাট মঞ্চ হ্যাজ নাথিং টু ডু উইথ ইট। সম্মলিত সিদ্ধান্ত আসলে ভিন্ন কথা। তবে সেটা সম্ভাবনা প্রায় বাতিলের পর্যায়ে। নানা মুনীর নানা মতের দেশে সেটা হবে না। হলেও অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেশী। সরকারকে মঞ্চ সব সময় ৬ দফার ব্যাপারে যথাযথ রিমাইন্ডার দিক। তাই চাই এবং তাই হওয়া উচিৎ একান্ত করনীয়।

    পোস্ট স্টিকি করার দাবী জানাইলাম।

    1. সরকার এবং তার লাঠিয়াল বাহিনী
      সরকার এবং তার লাঠিয়াল বাহিনী ‘ ৬ দফার রিমাইডার ‘ ও শুনতে ইচ্ছুক নয় । ওদিকে মধুলোভীরা পিছটান দিয়েছে । তবে যাই হোক আওামীলীগ ব্যালান্স করতে গিয়ে যা করলো এর মাশুল এই দিলটিকে দিতে হবে । নিশ্চিত থাকতে পারেন এর পরের জাগরণ স্বৈরাচারী শাসকের মসনদের বিরুদ্ধে হবে ।
      জয় বাংলা !

      1. নিশ্চিত থাকতে পারেন এর পরের

        নিশ্চিত থাকতে পারেন এর পরের জাগরণ স্বৈরাচারী শাসকের মসনদের বিরুদ্ধে হবে ।

        বোধদয়টা বড় দেরিতে হলো।

        এই বোধদয় আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল মঞ্চ সংশ্লিস্টদের।

  4. শেষের অংশটার সাথে সম্পুর্ন
    শেষের অংশটার সাথে সম্পুর্ন একমত:-
    এখন
    কথা হলো এক ইমরান এইচ সরকার
    ছাড়া লীগপন্থী একটা অংশ এবং বড়
    একটা অংশ বাম সংগঠন ( বিশেষ করে ছাত্র
    সংগঠন ) থেকে – এই হলো বর্তমানে মঞ্চের
    দৃশ্যমান নেতৃত্ব । এই নেতৃত্ব
    কী আদৌ ইচ্ছুক নতুন একটা রাজনৈতিক
    পার্টি গড়তে ?”

    ফেবুতে রাহাত ভাইয়ের স্টেটাস শেয়ার দেখে ইস্টিশনে টু মারলাম!

  5. গণজাগরণ মঞ্চের এই করুণ
    গণজাগরণ মঞ্চের এই করুণ অবস্থা প্রত্যাশিত ছিল। কারণ যে আন্দোলনে কোন সুযোগ্য নেতৃত্ব থাকে না, তখন সেটা যে কোন একসময় এসে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য।

    1. দেখুন স্বতস্ফুর্ত একটা
      দেখুন স্বতস্ফুর্ত একটা আন্দোলনকে ইমরান সরকার’রা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে
      সংগঠিত করেছে তা অস্বীকার করা উচিৎ হবে না । আজকের অবস্থা দিয়ে পুর্বের গৌরবময় কৃতিত্বকে বাতিল করে দেয়া সুযোগ সন্ধানি পলায়নপর মানুষিকতা । যারা পেছন থেকে ছুরি মারলো আসুন আগে তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই ।

  6. রাজনৈতিক দল যে কেউ গড়তে পারে।

    রাজনৈতিক দল যে কেউ গড়তে পারে। আপনি পারেন , আমি পারি, যে কেউ। ইমরানও পারে। বাট মঞ্চ হ্যাজ নাথিং টু ডু উইথ ইট। সম্মলিত সিদ্ধান্ত আসলে ভিন্ন কথা।

    মহামান্য ভাইয়ের সাথে সহমত ।
    যতই বিতর্কিত কিংবা নির্যাতিত হোক না কেন আমা চাইনা গণজাগরন মঞ্চ তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হোক ।

    1. যারা মঞ্চকে আদর্শ বিচ্যুত
      যারা মঞ্চকে আদর্শ বিচ্যুত করে পকেটে পুরতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে ও
      দুই চার কথা লিখবেন আশা করি ।

  7. । বিপদ এই কারণে যে, লীগ –

    । বিপদ এই কারণে যে, লীগ – বিএনপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ মানুষ যদি মঞ্চকে সেই বহুল আলোচিত তৃতীয় শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে বসে তাহলে আম – ছালা কিছুই থাকবে না । শাসক জানে শাহাবাগে লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে দিন নাই রাত নাই শ্লোগানে গলা ফাটিয়েছে । এই হতাশার অতলে তলিয়ে যাওয়া মানুষ মঞ্চকে রাজনৈতিক পার্টির সমর্থন দিয়ে বসলে আপদ তখন মহা বিপদ হিসেবেই দেখা দেবে । তা কেন আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে বিবর্তিত হয়ে আসা আওয়ামীলীগ হতে দেবে ? প্রয়োজনে সে একেবারে গোড়ার মুসলিম লীগে ফেরত যাবে !

    আওয়ামী লীগ বিএনপিকে যা ভয় পায়, তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পায় তৃতীয় শক্তির উত্থান কে। আমি আমার লেখায় সবসময় এই কথাই প্রকাশ করেছিলাম যে গনজাগরণ মঞ্চকে আওয়ামী লীগের দালালী ছাড়তে হবে, যদি তারা সব শ্রেণীর মানুষ বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের কাছে গ্রহনযোগ্য হতে চায়।
    গণজাগরন মঞ্চের উচিত ছিল আরো আগেই আওয়ামী লীগের সঙ্গ ছেড়ে পৃথকভাবে কাজ করা। সেটা করতে পারলে তাদের ‘আওয়ামী দালাল’ ট্যাগ খাইতে হইতোনা।
    তারা আসলে এই সহজ ব্যাপারটা বুঝতে পারেনাই যে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টী আর জামাতের মত রাজনৈতিক দলের বন্ধু হয়ে ভালো কিছু করা যায়না। কারণ শয়তানের কোন সুজন হয়না।

    গণজাগরণ মঞ্চ যদি নতুন রাজনৈতিক দল/শক্তি হিসেবে আবিরভূত হয়, তবে সেটাকে অবশ্যই স্বাগত জানাবো। তবে এজন্য ইমরান সরকার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ বর্তমানে উঠাচ্ছে তাদের বিরোধীরা, সেটা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে, আর এসবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে।

    1. যারা বিতর্ক তৈরি করে তারা যে
      যারা বিতর্ক তৈরি করে তারা যে কোন পরিস্থিতে করতে পারে । তবে একদিক দিয়ে ভালই হলো মুখোশগুলো খসে পড়ায় । এতে আগামীর পথ চলতে সুবিধে হবে । অন্তত শত্রু সম্পর্কে সাবধান হওয়া যাবে ।

  8. বিস্লেশন টা ভাল লাগল।
    আমার

    বিস্লেশন টা ভাল লাগল।

    আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
    যদি ধরে নেই, গনজাগরন মঞ্চ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে তাহলে সেখানে নেতৃত্বে থাকবে কারা কারা?
    তারা দলছুট নেতা নয় কি?
    যে নেতারা দল ত্যাগ করে এসে নতুন দল গঠন করেছেন তাদের কর্মকাণ্ড এ যাবত কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পেরেছে?
    নতুন দলগুলোর সাথে গনমানুশের সম্পৃক্ততা কতখানি, বিশেষ করে তারা বড় দুই দলের লেজুড়বৃত্তি ছাড়া আর কি করতে পেরেছে?
    গন জাগরন মঞ্চ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে দল হিসেবে তাদের অবস্থান কেমন হবে?
    তারা কি বড় দুই দলের মাথার উপর ছড়ি ঘোরাবার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন হবেন নাকি তাদেরকেও লেজুড়বৃত্তি করতে হবে?
    যদি হ্যাঁ হয় তবে গনজাগরন মঞ্চের পূর্ব ইতিহাস অনুযায়ী অবশ্যই আওয়ামীলীগের লেজুর বৃত্তি করতে হবে।
    আর না হলে অন্য কথা!

    সুখ নাই রে গোলাম হোসেন!

    1. যদি হ্যাঁ হয় তবে গনজাগরন

      যদি হ্যাঁ হয় তবে গনজাগরন মঞ্চের পূর্ব ইতিহাস অনুযায়ী অবশ্যই আওয়ামীলীগের লেজুর বৃত্তি করতে হবে।

      :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :হাসি: :হাসি:

  9. চমৎকার বিশ্লেষন রাহাত ভাই।
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার বিশ্লেষন রাহাত ভাই।

    গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি কারা করছে? এটা কারো অজানা নয়। আবার গণজাগরণের ফসলের সুফল কারা পাচ্ছে এটাও আমাদের সবার জানা। গণজাগরণের জন্মের প্রেক্ষাপট কারো জানা থাকলে সে অবশ্যই অনুধাবন করতে পারবে- যে ইস্যুতে গণজাগরণ মঞ্চের জন্ম, সেটিতে নিয়ে কথা বলতে গেলে সরকারের বিরুদ্ধে যাবেই। পারপাস সার্ভ হয়ে গেছে, ক্ষমতাসীনদের এখন দরকার নাই। চেতনার লাভ ঘরে চলে আসলে দরকার কি গলারকাঁটা পুষে রেখে। যাদের সাথে সমস্যা তাদের সাথে যখন গলায় গলায় ভাব হয়ে যায়, তখন গণজাগরণ মঞ্চের মত রাজনৈতিক আন্দোলন (রাজনৈতিক আন্দোলন মানে কিন্তু রাজনৈতিক দল নয়) লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে রাষ্ট্রের শাসকগোষ্টীর।

    গণজাগরণ মঞ্চকে নিষ্ক্রিয় করতে হলে এর মুলে আঘাত করতে হবে। ডাঃ ইমরানসহ এর কর্মীদের প্রতি সেই আঘাতটাই করছে এখন রাষ্ট্রের পালিত ছাত্রসংগঠন দিয়ে। আজকে যারা ইমরানের বিরোধীতা করছে তারাই এক সময় ইমরানের কাছে ঘেষার জন্য মরিয়া হয়ে ছিল।

    গণজাগরণ কিন্তু রাষ্ট্রীয় বা আওয়ামী চেতনার নাম নয়। এটি প্রজন্মের চেতনা। এই চেতনা জাগ্রত থাকলে চেতনার ফেরিওয়ালাদের সমস্যা হবে। এজন্য চেতনার ফেরিওয়ালারা মুল চেতনাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

    গণজাগরণ মঞ্চ ছিল, আছে এবং থাকবে। কার নেতৃত্বে থাকবে সেটা একান্তই গণজাগরণের সাথে জড়িত তাদের বিষয়। সরকারী পৃষ্টপোষকতায় থেকে গণজাগরণের মুল দাবী আদায় সম্ভব নয়।

    শাহবাগ আন্দোলনের জয় হোক।

    1. চমৎকার কমেন্ট দুলালা ভাই । এই
      চমৎকার কমেন্ট দুলালা ভাই । এই পোস্টটিকে আরো সমৃদ্ধ করলো আপনার মুল্যবান কমেন্টটি । অসংখ্য ধন্যবাদ ।

  10. বিশ্লেষণটা ভালো লাগল।
    যতদিন

    বিশ্লেষণটা ভালো লাগল।

    যতদিন আওয়ামীলীগের পছন্দ হয়েছে তাদের কোন বাঁধা দেয়া নাই। আর একটা পাবলিক অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রোটেকশন থাকবেই। আর এখন শাসকরা দেখছে এই গণজাগরণ মঞ্চ থাকলে তাদের নিজেদের কুকীর্তি প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তখনই তাদের নির্যাতন করতে লেলিয়ে দিয়েছে বন্য কুকুরদের। আর তাদের সাথে তাল মিলিয়েছে শাসক নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *