সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয় সম্পদ লুন্ঠন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত

….. এ কথা নির্র্দ্ধিধায় বলা যায় যে, বিদ্যুৎ খাতে এ ধরনের ব্যত্যয়গুলো ইচ্ছে করে ঘটানো হচ্ছে। কারণ নীতির বাইরে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে এ ধরনের জটিল কারিগরী খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ খাতে সংকট জিইয়ে রেখে দীর্ঘ কয়েক বছর এখাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা বুঝতে নীচের প্রতিবেদনটির দিকে নজর দিতে অনুরোধ করছি।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিরাজমান আজকের সংকট কারিগরী কারণে নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা আর দুর্নীতির প্রচন্ড ছোবলে ক্ষত-বিক্ষত। একই সাথে জ্বালানি তথা কয়লা ও গ্যাস খাতও সীমাহীন সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষন করলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, জ্বালানী নিরাপত্তা বলতে যা বুঝায় তা আজ স্পষ্টভাবে অনুপস্থিত। যে জ্বালানি সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা নেই, জ্বালানীর গুণ মানসম্মত নয়, জ্বালানী খাত আর্থিক ও কারিগরীভাবে স্বয়ম্ভর হয়ে উঠতে পারছে না- সে ধরনের জ্বালানী খাতকেই বলা হয় নিরাপত্তাহীনতায় নিমজ্জিত এক বিধ্বস্ত খাত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাত্ত যেহেতু জ্বালানি, সুতরাং নিরাপত্তাবিহীন এক বিধ্বস্ত জ্বালানী সরবরাহের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটবে বিদ্যুৎ খাতেও। তাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতও আজ নিরাপত্তাহীন, বিধ্বস্ত এবং আকণ্ঠ সংকটে নিমজ্জিত। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

সংকটের রাজনৈতিক পটভূমি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে গত প্রায় ১৫ বছরের ইতিহাস ঘাটলে এবং প্রতিটি প্রকল্প ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে যে, তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বভূক্ত দেশগুলোর যেসব দেশে সরকার প্রকৃত অর্থে স্বাধীনভাবে জনগনের কল্যানে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করতে পারে না বা চায় না, সেসব দেশে বিদুৎ, জ্বালানী, কৃষি, টেলিযোগাযোগ, নদী, বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌত অবকাঠামোগুলিতে সাম্রাজ্যবাদীরা প্রধানতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রভাবিত দেশগুলো, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ ইত্যাদির মাধ্যমে জনস্বার্থবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবি কেন এ ধরনের কাজ করে? এসব প্রতিষ্ঠান গঠনের যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ ১৯৪৫ ইং সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশ হারিয়ে ফেললো তখন ১৯৫০ ইং সালে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপন করে তাদের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বভুক্ত অনেক দেশে এক ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক ঔপনিবেশ স্থাপন করল। এর ফলে ধনী দেশগুলো তথাকথিত উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে প্রয়োজনীয় সম্পদ যেমন- তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে- তেমনি তাদের উৎপাদিত মালামাল, পরামর্শক এসব দেশে বিক্রি করার অবাধ বাজার সৃষ্টি করে রেখেছে। আর এসব হচ্ছে কখনো বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রদত্ত ঋণে, কখনো বা এসব ধনী দেশসমূহের সরাসরি অর্থ বিনিয়োগে। কাজেই আমরা দেখি, খুবই সঙ্গত কারনে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহ বিশেষত জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় সকল প্রকল্পই অধিকাংশ সময়ে আমাদের প্রয়োজনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। ধনী দেশসমূহের বাণিজ্যের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে হয় বলেই এসব খাতে সংকট লেগেই থাকে। সার্বিকভাবে এ খাতের আলোচনা অনেক দীর্ঘ হলেও আজ এ আলোচনা আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এজন্য যে, দেশপ্রেমিক জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এখনই এ সমস্ত অপকর্মকে বাধা না দেয় তাহলে দেশ ও জাতির ১৭৫৭ সালে পলাশী প্রান্তরে হারানো স্বাধীনতাকে উদ্ধার করতে যদি ১৯০ বছর লেগে থাকে, আজকের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকে উদ্ধার করতে সহস্র বছর লাগবে। কারণ আজকের উপনিবেশ পরোক্ষ, প্রত্যক্ষ নয় বিধায় দুখঃজনকভাবে তার পক্ষে অনেক ভাড়া করা বুদ্ধিজীবি, অনেক ‘তথাকথিত’ প্রগতিশীল, অনেক ‘বামপন্থী’ও রয়েছে। আবার এ ধরনের অপ্রত্যক্ষ উপনিবেশে অধিষ্ঠিত সরকারগুলো অনেক ‘প্রগতিশীল’ ও ‘জাতীয় স্বার্থের’ কথাবার্তা বলে জনগণকে নিয়তই বিভ্রান্ত করে থাকে। সোজা সাপটা কথায় এসব খাতের সংকট ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণকে আলাদা করে ভাববার কোন ফুরসৎ নেই। বিষয়গুলো বুঝতে হলে এক মন দিয়ে একাগ্র চিত্তে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট গুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। সংকটের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে, সমাধানের পথ নির্দেশ করতে হবে এবং বাংলাদেশকে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে একটি স্বয়ম্ভর দেশ গড়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন আমরা জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট ও আজকের কথিত বিদ্যুৎ সংকটের সম্ভাব্য সমাধানের দিকে নজর দেই।

বিদ্যুৎ সংকট ও সমাধান
এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বললেন অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে ও অল্প সময়ে এ সংকট সমাধানযোগ্য। কিন্তু অতীতে সরকারের ন্যয় এ সরকারও এ ধরনের তথাকথিত জটিল কারিগরী ও অর্থনির্ভর প্রকল্প নিংড়ে অর্থ কামাবার লোভ সম্বরন না করার ফলে ওপথে যায় নি। একই সিন্ডিকেটের অধীনে এরাও অবৈধ রেন্টাল/মার্চেন্ট প্লান্টসহ বিদেশনির্ভর সব ধরণের গর্হিত প্রকল্প নির্মানে গেল এবং সমস্যাকে জিইয়ে রাখলো। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সৃষ্টি অব্দি সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অপরাধমূলক, সবচেয়ে কলংকজনক, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, সবচেয়ে বেপরোয়া, সবচেয়ে অনৈতিক, সবচেয়ে অস্বচ্ছ এবং সবচেয়ে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিল অযাচিত(unsolicited) রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে। এরা এটার নাম দিয়েছে ‘কুইক রেন্টাল’।
এ কথা নির্র্দ্ধিধায় বলা যায় যে, বিদ্যুৎ খাতে এ ধরনের ব্যত্যয়গুলো ইচ্ছে করে ঘটানো হচ্ছে। কারণ নীতির বাইরে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে এ ধরনের জটিল কারিগরী খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ খাতে সংকট জিইয়ে রেখে দীর্ঘ কয়েক বছর এখাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা বুঝতে নীচের প্রতিবেদনটির দিকে নজর দিতে অনুরোধ করছি।

…………………………………………………………………..২০০৯ …………………২০১২
১।উৎপাদন ক্ষমতা (নামফলক অনুযায়ী)………………… – ৫৮০৩ মেগাওয়াট…….৮৪০৩ মেগাওয়াট
২।নিশ্চয়তা ছাড়া কদাচিৎ চালু করা যায় এমন ক্ষমতা(সর্ব্বোচ্চ) ৪২৪০ মেঃওঃ ….. ৫০০০ মেঃওঃ
৩।নির্ভরশীল উৎপাদন ক্ষমতা যার নিশ্চয়তা আছে……………… ৩৫০০মেঃ ………. ৪৮০০মেঃওঃ
৪।সবোর্চ্চ চাহিদা …………………………………………….. – ৬০০০ মেঃওঃ ………. ৭৫০০মেঃওঃ
৫।ঘাটতি (৬০০০/৭০০০-২৫০০/৩৫০০) অর্থাৎ প্রায় ৪২% ঘাটতি – ২৫০০ মেঃওঃ … ২৫০০মেঃওঃ
৬।সরকারি হিসেব অনুযায়ী উৎপাদন থেকে গ্রাহক পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় ও বিল রেট ৫.৫০ টাকা/ইউনিট
৭।বিশেষজ্ঞ হিসেব অনুযায়ী গড় উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট -১.৫০+০.৯০ ধরে এ ব্যয় সর্বোচ্চ হওয়া উচিৎ ২.৫০ টাকা/ইউনিট (বিতরণ, সঞ্চালন ও বিক্রয় ব্যয় বাবদ)
(ডিসেম্বর ২০১২ ইং পর্য্যন্ত)

এ সমস্যা সমাধানে আমরা সুষ্পষ্টভাবে নীচের পদক্ষেপসমূহ নিতে পারি
(১)দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সাশ্রয় বৃদ্ধি ও পুরোনো পাওয়ার ষ্টেশনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ২৫০০ মেঃওঃ ক্ষমতা বৃদ্ধি।
(২)নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার করে২০০০ মেঃওঃ, যা সুবৃস্তৃতভাবে নীচের সারনীতে দেয়া হলো-


সারণি-১


সারণি-২


সারণি-৩

এ প্রসঙ্গে জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচুর গ্যাস আছে। সরকারের মধ্যকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটা অংশের অপতৎপরতার ফলে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। তাই গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশামত। দেশবিরোধী এই চক্রটি এখন গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট সৃস্টি করছে। যে কোনো মূল্যে তারা গ্যাস বিদেশে পাচার করার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বলছে উৎপাদন বাড়াতে গেলে চাপ কমে গিয়ে গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অথচ শেভরন তো বিবিয়ানায় অধিক হারে উৎপাদন চালাচ্ছে, কই সেখানে তো গ্যাসের চাপ কমছে না।’ তাঁরা আরো বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হলে, চলমান কূপগুলো ওয়ার্কওভার এবং উন্নয়নের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সঙ্কট মিটিয়ে গ্যাস উদ্বৃত্ত করা সম্ভব।’ জরুরী ভিত্তিতে বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করে ভূমিতে গ্যাস উত্তোলনের দ্বায়িত্ব প্রদান সহ সাগরবক্ষে বাপেক্স-এর আওতায় প্রয়োজনে বিদেশী অভিজ্ঞ প্রকৈাশলী এনে গ্যাস উত্তোলনের দ্বায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
সুতরা এটা প্রতিফলিত যে, এগুলি একই সূত্রে গাঁথা। উদ্দেশ্য একটিই- বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া ও গনবিরোধী প্রকল্প গ্রহণ করে অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জন।

কয়লা সংকট ও সমাধান
দেশে প্রাপ্তব্য গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে বিলম্ব ঘটানো হচ্ছে। আপাতত: জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাসিফিকেশানের মাধ্যমে কয়লা ব্যবহার করে ‘কয়লা নির্ভর’ এলাকা ভিত্তিক ছড়ানো উৎপাদনের (Area Based Distributed Generation) মাধ্যমে আগামী ২০ মাস থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০০ মেঃওঃ (যা পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে ৬০০০ মেঃ ওয়াটে উত্তীর্নযোগ্য সে সুযোগ রেখে) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা। তবে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কয়লা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাসিফিকেশানের মাধ্যমে উত্তোলন করে ব্যবহার করার কথা সামনে রেখে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।
অবিলম্বে কয়লা নীতি অনুমোদনসহ বাংলাদেশে কয়লা উত্তোলনের সঠিক পন্থা যে ওপেন পিট মাইনিং কিংবা আন্ডার গ্রাউন্ড মাইনিং নয় এবং কয়লা গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতি সরকারকে সে বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

জনগণের কল্যাণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
টেকসই জ্বালানী(Sustainable Energy) ব্যবহারের স্বার্থে এবং জ্বালানী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি জ্বালানী ব্যবহার করে সম্ভাব্য কি পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, তাতে কত ব্যয় এবং সম্ভাব্য নির্মাণ সময়, জ্বালানীর মজুদ ও উক্ত জ্বালানী দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ব্যপ্তিকালের একটি ছক সবাইর অবগতির জন্য নীচে দেয়া হলো। তাতে প্রনিধানযোগ্য একটিই শর্ত আর তা হলো যে সরকারকে অবশ্যই ‘জনগণের সরকার’ হতে হবে। এ সংকটের কারণ যে রাজনৈতিক, কারিগরী কারণে নয় এ কথা এখন খুবই স্পষ্ট। এবং এটি আরো স্পষ্ট যে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থ রক্ষায় এধরনের সরকারগুলো জণগণের স্বার্থ শুধুমাত্র কমিশনের লোভে কত সহজে বিলিয়ে দেয়!! নীচে সম্ভাব্য ও প্রাপ্তব্য জ্বালানী উৎস থেকে কত অর্থ ব্যয়ে কি পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব পাঠকদের অবগতির জন্য তার একটি প্রাক্কলন দেয়া হলো।


সারণি-৪

[প্রকৌশলী বি ডি রহমতউল্লাহ। প্রাক্তন মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পাওয়ার সেলে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন সেমিনারে যোগ দিয়েছেন, প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নতি-অবনতিকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বিদ্যুৎ খাতকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকারের একশ্রেণীর কর্মকর্তাদের বিরাগভাজন হয়েছেন। তার পরও থেমে থাকেননি। নৈতিকতাবোধ তাকে ঠেলে দিয়েছে আরো কর্মময় জীবনের দিকে।]

৭ thoughts on “সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয় সম্পদ লুন্ঠন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত

  1. আপনাকে স্বাগতম। নিজ নিজ পেশার
    আপনাকে স্বাগতম। নিজ নিজ পেশার ক্ষেত্রের সমস্যা নিয়ে লিখলে, সেই লেখা হয় অসাধারণ। আপনার লেখাও তাই অসাধারণ ও তথ্যবহুল। আমাদের উচিত, নিজ নিজ ক্ষেত্রের দুর্নীতিগুলি ডিসগাইসড নাম নিয়ে ফাঁস করে দেয়া। আমি আপনি সবাই এখন সম্পাদক আর মালিকবিহীন সাংবাদিক! আমি আশা করবো আমাদের মধ্যে কেউ, ইমিগ্রেশনের নামে প্রতিবছর কত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে তা নিয়ে লিখবেন। যুক্তরাষ্ট্র/রাজ্য, কানাডাসহ অনেক দেশ এখন কোটি কোটি টাকার বিনিময় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ/আমলা/ব্যবসায়ীদের বিদেশে তাদের দেশে নাগরিকত্ব দিয়ে পালানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

  2. পেশাজীবি বিশেষজ্ঞ লেখকদের
    পেশাজীবি বিশেষজ্ঞ লেখকদের লেখা পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইস্টিশনকে ধন্যবাদ। লেখাটি পড়ে অনেক কিছু জানলাম। জাতীয় সম্পদ ও পাওয়ার সেক্টর নিয়ে এই ধরণের তথ্য সমৃদ্ধ লেখা আরো বেশী বেশী চাই। বলতে দ্বিধা নেই, ইস্টিশন থেকে প্রত্যাশার আকাঙ্খা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। আশাকরি ইস্টিশন আমাদের নিরাশ করবেনা।

  3. শেষের দিকে একটা উপসংহার টানলে
    শেষের দিকে একটা উপসংহার টানলে লেখাটা পড়ে পাঠক সহজে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারতো। এছাড়া লেখার মধ্যে তথ্যের কথা কি বলব। বিডি রহমত ভাই এই সেক্টরে বস!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *