The subconscious mind and other problems

– এরপর আর কি? সাধারণত যা হয় আর কি?
একটা হিরো, তার
একটা শক্তিশালী অপোনেন্ট।এদের
ঘিরে কাহিনী প্রত্যাবর্তন। ভিলেন
প্রথমে কয়েকবার জিতবে এবং এরপর
হিরো Evil never wins. টাইপ
কয়েকটা ডায়ালগ বলবে। ফিল্মের সফল
সমাপ্তি।
– ব্যাপারটা ঠিক আমার. মনঃপুত হল না।
পাবলিকও খাবে বলে মনে হয় না।
প্রতিবারই তো অপোনেন্ট থাকে।
ধরো এবার সবাই নায়ক। সবাই ভাল। কোন
সমস্যা নেই, কোন অসুবিধা নেই। –
-বলতে কি চাইছ তুমি? কাহিনী বানাব
কি নিয়ে? ফিল্মের
তো একটি সমাপ্তি থাকতে হবে তাই
না?
– আমার কিন্তু মনে হয় না,
সমাপ্তি থাকাটা জরুরি।
– তোমার মনে না হলে তো হবে না।
Everything that has an start, has an end.

– এরপর আর কি? সাধারণত যা হয় আর কি?
একটা হিরো, তার
একটা শক্তিশালী অপোনেন্ট।এদের
ঘিরে কাহিনী প্রত্যাবর্তন। ভিলেন
প্রথমে কয়েকবার জিতবে এবং এরপর
হিরো Evil never wins. টাইপ
কয়েকটা ডায়ালগ বলবে। ফিল্মের সফল
সমাপ্তি।
– ব্যাপারটা ঠিক আমার. মনঃপুত হল না।
পাবলিকও খাবে বলে মনে হয় না।
প্রতিবারই তো অপোনেন্ট থাকে।
ধরো এবার সবাই নায়ক। সবাই ভাল। কোন
সমস্যা নেই, কোন অসুবিধা নেই। –
-বলতে কি চাইছ তুমি? কাহিনী বানাব
কি নিয়ে? ফিল্মের
তো একটি সমাপ্তি থাকতে হবে তাই
না?
– আমার কিন্তু মনে হয় না,
সমাপ্তি থাকাটা জরুরি।
– তোমার মনে না হলে তো হবে না।
Everything that has an start, has an end.
– ভুল। ঈশ্বরের শুরু ছিল না, শেষও নেই।
তুমি বড়ই একঘেয়ে চিন্তা করছ। ধর
সমাপ্তি না থাকাটাই সফল পরিণতি।
পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটুক
এটা কি তুমি চাও?
– না চাই না। আমার মাথা ঘুরোচ্ছে।
তুমি কি বলতে চাও ঠিক করে বলে ফেল।
– আচ্ছা ঈশ্বর তোমাকে যা বলেছে এর
সবই কি তুমি বিশ্বাস কর?
– না করার তো কারণ দেখি না।
– ধর ঈশ্বর তোমায় আজ পযর্ন্ত যাই
বলে এসেছেন তার সবই মিথ্যা। ধর
ঈশ্বরের মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য
উপাসনা পাওয়া নয়, বিনোদন পাওয়া । –
আমি বুঝতে পারছি না। কিছুই
বুঝতে পারছি না।
– ঈশ্বরের কাছে তো উপাসনা পাওয়ার
জন্য ফেরেশতারাই ছিল। তবে Why the hell
he created man? আসলে তার দরকার
বিনোদন। ঈশ্বর সর্বক্ষমতার
অধিকারী হলেও তিনি নিঃসঙ্গ। সব
predicteble বিষয়
দেখতে দেখতে তিনি বিরক্ত।
– এই ফিল্ম দেখালে আমাকে আর ফিল্ম
বানাতে হবে না। ধার্মিক
গোষ্ঠী কি করবে ভেবে দেখেছ?
– ওটা কোন সমস্যাই না। ওদের বলে দেব
এটা শুধু একটা গল্প এখানে ঈশ্বরের
পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি খুজতে যাওয়াটাই
বোকামি।
– আচ্ছা বল এরপর কাহিনী বল। ঈশ্বর বিরক্ত
হয়ে গেলেন তারপর?
– এরপর ঈশ্বর চিন্তা করলেন
যে তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, মানুষ
সৃষ্টি করবেন। এবং তাদের প্রচুর
সমস্যা দিয়ে দেবেন। এসব
সমস্যা সমাধানের উপায় ঈশ্বর
বলে দেবেন না। কিন্তু সমাধানের
পথে আসতে সাহায্য করবেন।
এভাবে ঈশ্বর মানুষকে উপাসনা করতেও
বাধ্য করলেন এবং মানুষের কাজকর্ম
উপভোগ করতে লাগলেন।এরপর
তিনি যোগ করলেন ভালবাসা, দুঃখ
এইসব মানবিক আবেগ। প্রথমদিকের
মানুষদের অনেক বেশিদিন ধরে বাচার
সুযোগ দেওয়া হল। কারণ তাদের
জ্ঞানের পরিমাণ ছিল কম। কিন্তু যতই সময়
এগিয়ে চলল, ততই মানুষের আয়ু
কমিয়ে দেওয়া হল। কারণ নতুন
মানুষেরা তাদের পূর্ব পরুষ কৃর্তক
সমাধানকৃত প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানে। ঈশ্বর
একটা কাচের বাক্সে সব প্রশ্ন
জমা করে রাখেন। একটা করে সমস্যার
সমাধান হয়। কাচের বাক্স
থেকে একটা করে সমস্যা উধাও হয়।
কাচের বাক্সের সব সমস্যার সমাধান
একদিন হয়ে যাবে। পড়ে থাকবে শুধু
একটা প্রশ্ন। শেষ প্রশ্নটার সমাধান ঈশ্বর
নিজে দেবেন। এবং এরপর তিনি এই
পৃথিবী সৌরজগৎ সহ ধংস করে দেবেন। –
শেষ প্রশ্নটা কি?
– কিভাবে ঈশ্বর হওয়া যায়?
– Oh my God. I’m sure you’ve gone completely mad.
তুমি এখানে কাহিনী পেলে কোথায়?
এটা তো একটা তত্ত্ব। পৃথিবী ধংস
হয়ে যাচ্ছে, এটা predicteble
একটা কাহিনী। পৃথিবী ধংস
হয়ে যাচ্ছে, এমন ফিল্ম আগেও
বানানো হয়েছে।
– কাহিনী পুরোটা তো শুনলে না। –
আচ্ছা বল।
– পৃথিবীতে যাতে নতুন নতুন
সমস্যা সৃষ্টি হয় এজন্য ঈশ্বর দায়িত্ব
দিলেন শয়তানকে। সে নিত্য নতুন
সমস্যা বানানো শুরু করল। সবাই
তাকে এজন্য খারাপ ভাবাও শুরু করল।
কিন্তু তারা কেউ জানতেও পারল
না যে শয়তানের জন্যই ঈশ্বর আজ পযর্ন্ত
পৃথিবীকে বাচিয়ে রেখেছেন।
– oh my God. Oh my God. তুমি এগুলো কি বলছ?
– এবার আমাদের ফিল্মের মূল কাহিনী।
ধর একদিন শয়তান আবিষ্কার করল যে প্রশ্ন
বাক্সে আর মাত্র কয়েকটা প্রশ্ন
বাকি আছে।
যেগুলো আছে সেগুলো সমাধান করতেও
বেশিদিন লাগবে না।
– Shit. তারমানে সমস্যা সমাধান এর
কয়েকদিন পর ঈশ্বর পৃথিবী ধংস
করে দেবেন?
– Exactly. শয়তান এটা দেখে আর
থাকতে পারল না। কারণ পৃথিবী ধংস
হলে সে নিজেও ধংস হবে। তখন
সে ঈশ্বরের কাছে গেল সাহায্যের জন্য।
কিন্তু ঈশ্বর নিজের অবস্থান এর কোন
পরিবর্তন করলেন না। তবে ঈশ্বর ঠিক
করলেন শেষ কয়েকটা দিন তিনি আর
পৃথিবীর উপর নজর রাখবেন না। – What is
this? তুমি একটু পরপর থেমে যাও কেন?
কাহিনী শেষ কর।
– আমি আগেই বলেছি, এই কাহিনীর
কোন শেষ নেই।
– যাই হোক তুমি বলে যাও।
– শয়তানের কাছে কিছু করার ছিল না।
সে ভাবল, অনেক ভাবল। কিন্তু নতুন
সমস্যা তার মাথা থেকে বের হল না।
তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে পৃথিবীর
মানুষদের থেকে সাহায্য নেবে।
সে পৃথিবীর মানুষদের সকল
ঘটনা ব্যখ্যা করল। পৃথিবীর মানুষ
প্রথমে বিশ্বাস করল না। কিন্তু শয়তান
তখন তার ক্ষমতা ব্যবহার
করে মানুষকে দেখায় সে প্রশ্ন বাক্স।
মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে যায় তারা ভাবতেই
পারে না তাদের প্রিয় পৃথিবী ধংস
হয়ে যাবে।
– তুমি একবার বল সমস্যা একবার বল প্রশ্ন।
কোনটা ব্যবহার করব?
– একটা করলেই চলবে। ওসব
খুটিনাটি শুধরানোর কাজ তোমার।
আমি শুধু theme টা বলে দেব। ফিল্মটার
ডিরেক্টর তুমি, আমি নই।
বিষয়টা মনে রেখ।
– ফিল্মের এই জায়গায় একটা করুন গান
ব্যাবহার করলে বোধহয় ভাল হবে তাই
না?
– হুম কয়েকটা কান্নার দৃশ্য
না থাকলে ঠিক জমবে না।
– আচ্ছা এরপর কি হল বল?
– পৃথিবীর সকল মানুষ তখন কাজকর্ম বন্ধ
করে দেবে। পরিবারের সাথে সময়
কাটাবে। ভালবাসার মানুষগুলোর
সাথে সময় কাটাবে।
– তোমার মনে কি আছে বলতো?
পৃথিবী কি ধংস হবে? আমি আর
অপেক্ষা করতে পারছি না।
– ধীরে ধীরে শেষের আগের প্রশ্নটারও
সমাধান হয়ে যায়। রয়ে যায় শেষ
প্রশ্নটা, মানুষ কিভাবে ঈশ্বর হবে? ঈশ্বর
তখন পৃথিবীর দিকে ধাবিত হলেন। তার
দুটো কাজ। শেষ প্রশ্নের সমাধান
দেওয়া এবং পৃথিবী ধংস করা।
মহাশূন্যে থেকে ঈশ্বরের পৃথিবীর
দিকে ধাবিত হওয়ার খুব সুন্দর
হওয়া প্রয়োজন। পুরোটাই গ্রাফিক্সের
কাজ এবং ঈশ্বরের ভূমিকায় ভাল একজন
অভিনেতা থাকার উপর নির্ভর করছে। –
এইসব
নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
ডিরেক্টর আমি তুমি কাহিনী শেষ কর। –
এরপর ঈশ্বর পৃথিবীতে পৌছলেন। এবং কবর
থেকে সবাইকে জীবিত করলেন। এরপর
তিনি নিজের শেষ প্রশ্নের উত্তর
দেওয়া শুরু করলেন। পৃথিবীর সব মানুষ
একসাথে ঈশ্বরের
করুণা প্রার্থনা করলেন। ঈশ্বর
আবেদনে সাড়া দিলেন না। নশ্বর
মানুষের জন্য তার সময় নেই। কিন্তু একজন
মানুষ হঠাৎ চিৎকার
করে বলে যে ঈশ্বরের প্রশ্ন
বাক্সে সে শেষ প্রশ্ন ফেলতে চায়। –
That’s it. লোকটা নিশ্চয়ই
পৃথিবীকে বাচিয়ে ফেলে।
– না। লোকটার কাছে প্রশ্ন ছিল না।
সে শুধু পৃথিবীকে বাড়তি কিছু সময়
এনে দেয়। সামান্য সময়ই তার দরকার
ছিল। তার স্ত্রী ছিল
গর্ভবতী এবং সেদিন ওই সেই সময়ে ওই
মহিলার প্রসব বেদনা উঠেছিল।
লোকটা তার সন্তানকে পৃথিবীর মুখ
দেখাতে চাইছিল।
– ইশ। বেচারা। কিন্তু এই ট্রাজেডির
দরকার ছিল। এবার
আমি কাহিনী বুঝতে পেরেছি। এইবার
পৃথিবী ধংস হবে।
– না।That’s too predicteble. দর্শক হতাশ হবে।
আমি চিন্তা করছিলাম এমন ফিল্মের
যার কাহিনী কখনো শেষ হবে না। –
You’re mad. Completely mad
-উফ আগে শোনো। ঈশ্বর ঐ লোকের
ভালবাসা দেখে অভিভূত হলেন।এরপর
হাসি মুখে বললেন। পৃথিবীর শেষ
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার
আগে আমি নিজে প্রশ্ন
বাক্সে একটা প্রশ্ন ফেলতে চাই। – What
the hell? ঈশ্বর প্রশ্ন করবে মানে? –
হ্যাঁ ঈশ্বরের সেই প্রশ্নটার কারণেই ঈশ্বর
আর পৃথিবী ধংস করতে করতে পারলেন
না। প্রশ্নটা ছিল
“কিভাবে ঈশ্বরের হাত
থেকে পৃথিবীকে বাচানো যায়?
সামান্য এক কাজের মাধ্যমে ঈশ্বর
বুঝিয়ে দিলেন কেন সব কিছু জানার পরও
মানুষ সাধারন এবং তিনি সর্বদা উপাস্য
ঈশ্বর।
– এইজন্যই তুমি বলেছিলে এই গল্পে কোন
অপোনেন্ট নেই। সবাই ভাল সবাই সুন্দর। –
Yes that’s the world I dream of.
– এই ফিল্ম দেখে মানুষের
প্রতিক্রিয়া কি হবে কি জানি।
আমি কিন্তু এর সিক্যুয়েল অবশ্যই বানাব। –
তাহলে শেষ দৃশ্যটা লিখে নাও। আজও
রাস্তায় রাস্তায় হ্যালোজেন বাতির
আলো বাচিয়ে একজনকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
দায়িত্ব থেকে নিষকৃতিপ্রাপ্ত একজন।
যাকে সৃষ্টিই করা হয়েছিল
পৃথিবী ধংসের ঘোষণা দেওয়ার জন্য।
যে কাজ তাকে কখনোই করতে হয় নি।
যার কথা বলছি সেই তোমার পরের
ফিল্মের ভিলেন।
– নাম কি তার?
– ইসরাফীল
ভোরের আলো আর
সূর্যমূখী একসাথে মাথা উচুঁর
প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আমার
অবচেতন মন এখন বিদায় নেবে।
আড়মোড়া ভাঙছে চেতন মন।অবচেতন
মনটাকে আমার বিদায় বলা উচিত।
কিন্তু সেই ক্ষমতা এখনো আমার হয় নি।
The End
.
বি : দ্র : গল্পের সব কিছুই কাল্পনিক। এর
সঙ্গে বাস্তব অবাস্তব কিছুর মিল
পাওয়া গেলে তা নিতান্তই
কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত।

২ thoughts on “The subconscious mind and other problems

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *