মুক্তমনা

১৯৭২ সালে দেশের প্রথম সংবিধার রচিত হয় যা করতে মাত্র ৯ মাস সময় লেগেছিলো। গত বার ক্ষমতায় থাকা কালে (২০০৮-২০১৩) আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ বারের মত সংবিধার সংশোধন করে। এই পঞ্চদল সংশোধনীতে রাখা হয়েছিলো ‘৭২ এর সংবিধারের নীতি-নিয়ম গুলি। যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মুলনীতি আছে। এগুলো হলো জাতীয়তাবাদ , গনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। আপনি কি জানেন ধর্মনিরপেক্ষতা কি?


১৯৭২ সালে দেশের প্রথম সংবিধার রচিত হয় যা করতে মাত্র ৯ মাস সময় লেগেছিলো। গত বার ক্ষমতায় থাকা কালে (২০০৮-২০১৩) আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ বারের মত সংবিধার সংশোধন করে। এই পঞ্চদল সংশোধনীতে রাখা হয়েছিলো ‘৭২ এর সংবিধারের নীতি-নিয়ম গুলি। যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মুলনীতি আছে। এগুলো হলো জাতীয়তাবাদ , গনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। আপনি কি জানেন ধর্মনিরপেক্ষতা কি?

ধর্মনিরপেক্ষতা হলো- দেশের প্রত্যেকটা মানুষ তার ধর্মকে পালন করবে। এতে কারো বাধা দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তাছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতায় আরো বলা হয়েছে ইসলাম ই রাষ্ট্রের একমাত্র রাষ্ট্রধর্ম এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বিরা তাদের নিজ নিজ ধর্ম কে পালণ করবে। এই ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আমরা অনেকে অসাম্প্রদায়িকতা ও বলে থাকি। কিন্তু বর্তমানে একদল লোক ‘মুক্তমনা’ নামে নিজেদের পরিচয় নিয়ে থাকে। মুক্তমনার অবিধানিক অর্থ্য যে ব্যাক্তি নিজের খেয়াল খুঁশি মত কাজ করে। কিন্তু আমরা এখন মুক্তমনা বলতে সেটা বুঝি তা হলো নাস্তিকতা। আবার আমরা এই মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষতা কে এক ই জিনিস মনে করি। আদৌ কিন্তু তা নয়!

তারা এই ধর্মনিরপেক্ষতা (মুক্তমনার) নাম করে ধর্ম নিয়ে কূটুক্তি করে থাকে। এসকল অপরাধ দমনের জন্য সরকার একটি আইন প্রনোয়ন করেছে যা সাম্প্রতিক কালে “ধারা-৫৭” নাম বেশী পরিচিত।

অনলাইনে সকল প্রকার অপরাধ রুখতে ‘তথ্য ও
যোগাযোগ
প্রযুক্তি আইন
২০০৬’ (সংশোধনী ২০১৩)
প্রণীত হয়। এই
আইনের ৫৭ ধারা,
ওয়েব সাইট বা অন্য
কোন ইলেক্ট্রনিক
মিডিয়ার
কার্যকলাপের উপর
কঠোর নিয়ন্ত্রন
আরোপ করেছে।
আমরা অনেক সময়
ফেসবুকে ও ব্লগে খামখেয়ালীর
বসে কোন মন্তব্য
প্রদান
করি বা অন্যের এমন
কোন ছবি আপলোড
করি যা তার জন্য
বিব্রতকর
অথবা বেফাস কোন
উক্তি অথবা প্রপাগান্ডা ছড়াই
যা নিছক মজা করার
জন্য। কিন্তু এইরুপ
কৃতকার্য অন্যের
জন্য অপমানজনক
হতে পারে বা কারো ধর্মীয়
অনুভুতিতে আঘাত
হানতে পারে যা আইনের
দৃষ্টিতে অন্যায়। আর
এই অন্যায় আপনার
জীবনের জন্য কাল
হয়ে উঠতে পারে।
আইনে বলা হয়েছে ধারা-
(৫৭/১) কোন
ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব
সাইটে বা অন্য কোন
ইলেক্ট্রনিক
বিন্যাসে এমন কিছু
প্রকাশ বা সম্প্রচার
করেন, যা মিথ্যা ও
অশ্লীল
বা সংশ্লিষ্ট
অবস্থা বিবেচনায়
কেউ পড়লে,
দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট
বা অসত্য
হতে উদ্বুদ্ধ
হতে পারেন অথবা যার
দ্বারা মানহানি ঘটে,
আইন শৃঙ্খলার
অবনতি ঘটে বা ঘটার
সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়,
রাষ্ট্র ও ব্যক্তির
ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়
বা ধর্মীয়
অনুভূতিতে আঘাত
করে বা করতে পারে বা এ
ধরনের তথ্যাদির
মাধ্যমে কোন
ব্যক্তি বা সংগঠনের
বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান
করা হয়, তাহলে তার
এই কার্য
হবে একটি অপরাধ৷
আর এই অপরাধের
সাজা সংশোধনীর
মাধ্যমে নিম্নে ৭
বৎসর থেকে সর্বোচ্চ
১৪ বৎসর পর্যন্ত
করা হয়েছে।
সাথে অর্থদণ্ডের
বিধান ও রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক কালে ইষ্টিশন থেকে রাহী ও উচ্ছাস নামে দুজন ব্লগার কে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তমনা নাম ধারণ করে ধর্মনিয়ে কূটুক্তি করার কারণে। এখানে আইনের ব্যাবহার করেছে সরকার , তাই এখানে রাহী ও উচ্ছাসের বিষয়ে সরকারের সমালোচণা না করার আহবান জানাচ্ছি। মনে রাখবেন- তাদেরকে আইন ভঙ্গ করার অপরাধেই গ্রেফতার করা হয়েছে…..!!!

১৬ thoughts on “মুক্তমনা

  1. রাহী আর উল্লাসের কৃতকর্ম এমন
    রাহী আর উল্লাসের কৃতকর্ম এমন কিছু নয় যে তাদের ৫৭ ধারায় ফেলতে হবে, বুঝেছেন।

    কিছুদিন পর দেখা যাবে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেও হয়তো এই আইন প্রয়োগ করা হবে!

    অহ সর্বশক্তিমান, বাঁচাও আমাদের!

  2. তাহলে যখন বাঁশেরকেল্লা
    তাহলে যখন বাঁশেরকেল্লা এ্যাডমিন রাসেলকে গ্রেফতার করা হলো তখন আপনি কই ছিলেন ? সে ও তো মাত্র জাওয়াহিরির ভিডিও টা প্রকাশ করেছিলো। তাকে গ্রেফতার করায় তো আপনাদের এতো আন্দোলন দেখেছিলাম না। আর নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কথা বললে আপনাদের এতো ঝাল লাগে কেন ?

    1. তাহলে যখন বাঁশেরকেল্লা

      তাহলে যখন বাঁশেরকেল্লা এ্যাডমিন রাসেলকে গ্রেফতার করা হলো তখন আপনি কই ছিলেন

      আমার মতে কেবল জাওয়াহিরির ভিডিও প্রকাশের কারণে গ্রেফতারটা যুক্তিযুক্ত হয় নাই।

  3. আপনার কথা শুইনা আমার কাম অইয়া
    :হাহাপগে: :টাইমশ্যাষ: :আমারকুনোদোষনাই: আপনার কথা শুইনা আমার কাম অইয়া গ্যাছে। রাহীর ফেসবুকে যায়া দেহেন তার রিলিজিয়াস স্ট্যাট্যাস কি দেয়া। আর তাদের গ্রেফতার করছে আইন। এর বিরধীতা করা মানে বাংলাদেশের আইনকে বুড়া আঙুল দেখানো!!!! আশা করি বিস্তারিত বোঝানো লাগবেনা।

  4. আরেকটা কথা। আমি এখানে
    আরেকটা কথা। আমি এখানে নাস্তিকতার বিরধীতা করছিনা। তবে আইনের প্রতি সম্মান দেখানো কি আমাদের উচিত নয়?

  5. আমি কি ভুল বলছি। এখানে তাদের
    আমি কি ভুল বলছি। এখানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সাথে আওয়ামী লীগের কি শত্রুতে যে তাকে শেখ হাসিনা গ্রেফতার করাবে ? তাকে নিশ্চয় আইন না মানার কারণে গ্রেফতার করেছে। তাহলে আমরা তাদের মুক্তি চাওয়া মানে কি আইন কে ভঙ্গ করা নয়?

  6. ধর্মনিরপেক্ষতায়
    আরো বলা হয়েছে

    ধর্মনিরপেক্ষতায়
    আরো বলা হয়েছে ইসলাম ই রাষ্ট্রের
    একমাত্র রাষ্ট্রধর্ম এবং অন্যান্য
    ধর্মাবলম্বিরা তাদের নিজ নিজ ধর্ম
    কে পালণ করবে।

    হাহাহাহা, মজা পেলুম। একটি নির্দিষ্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতার আহ্বান। বাদ দেন, ফারাবিরমত বেজন্মা যখন পরের ধর্মকে নগ্ন করে তখন মুমিন বা সরকারের টনক নড়ে না কেন? যখন প্রকাশ্যে ওয়াজ মাহফিলের নামে পরধর্মকে চটি করে পাঠ হয় তখন ধর্মনিরপেক্ষতা কই থাকে। যখন আঙ্গুল দিয়ে ভন্ডামি দেখিয়ে দেয়া হয় তখনই অনুভুতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে? আজব…..

  7. সাম্প্রতিক কালে ইষ্টিশন থেকে

    সাম্প্রতিক কালে ইষ্টিশন থেকে রাহী ও উচ্ছাস নামে দুজন ব্লগার কে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তমনা নাম ধারণ করে ধর্মনিয়ে কূটুক্তি করার কারণে।

    আপনি ওদের সম্পর্কে কতটুকু জানেন? যদিও আমি উল্লাস সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না। তবে রাহীকে মারধর এবং গ্রেফতার করানো হয়েছে শুধুমাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। আর আপনি শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা বোঝাচ্ছেন।

    রাহী ও উচ্ছাসের বিষয়ে সরকারের সমালোচণা না করার আহবান জানাচ্ছি

    আপনি আহ্বান জানাতেই পারেন। সেটা আপনার ব্যাক্তিগত এবং রাজনৈতিক আদর্শের ব্যাপার। আপনার আহবানে কতজন সাড়া দেবে সে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

    তাদেরকে আইন ভঙ্গ করার অপরাধেই গ্রেফতার করা হয়েছে…..!!!

    শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বললে যদি আইন ভঙ্গ হয় তবে আমি এই আইন বার বার ভঙ্গ করতে রাজি আছি। আমার মনে হয় শুধু আমি না স্বাধীনতার চেতনা যারা লালন করছে তারা সবাই শিবিরের বিরুদ্ধে।

    আপনার মন্তব্যে দেখলাম আপনি বলেছেন,

    বাঁশেরকেল্লা এ্যাডমিন রাসেল

    রাসেল আদৌ বাঁশের কেল্লার এডমিন কিনা সে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

    আইনের সঠিক ব্যাবহার হোক, এটাই চাই। কিন্তু আইনের অপব্যাবহার করে বেজন্মা জামায়াত শিবির যদি সুবিধা ভোগ করে আর তা যদি হয় সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের সাহায্যে তবে আপনার আহ্বানের নিকুচি করি।

    1. ” শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বললে
      ” শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বললে যদি আইন
      ভঙ্গ হয় তবে আমি এই আইন বার বার ভঙ্গ
      করতে রাজি আছি।”

      সহমত।

  8. আমি একটা জিনিস বুঝিনা। একটু
    আমি একটা জিনিস বুঝিনা। একটু বুঝায়ে দিবেন কি??

    রাহীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনারা বলছেন সে শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে বলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারমানে কি দাড়ায়??? সরকার শিবিরের দালালি করছে। তাই নয় কি ? তাহলে শিবির কি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন এ রুপান্তরিত হলো?

    আর যদি তা ও না হয় তবে রাহীর সংগে আওয়ামী লীগের বিরধীতা আছে। সেজন্য তাকে গ্রেফতার করেছে এই সরকার। এখন কোনটা সঠিক একটু বুঝিয়ে বলবেন ।
    উত্তর দিয়ে যাবেন প্লীজ। আর যদি তা না পারেন তবে রাহীকে গ্রেফতার করার সঠিক কারণটা দেখিয়ে যাবেন।

    1. উত্তর অবশ্যই দেব, আমার
      উত্তর অবশ্যই দেব, আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হ্যাঁ, সরকার কিছু কিছু জায়গায় শিবিরের জামায়াত-শিবিরের দালালী অবশ্যই করছে।

      সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধে থেকে বলতে গেলে, একটা জিনিস প্রথমে খেয়াল করতে হবে রাহীকে কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আর কোথায় রাহীকে পেটানো হয়েছে, জায়গাটা চট্টগ্রাম। সেখানে শিবিরের আধিপত্য আছে এটা সবাই জানে আর প্রশাসনের উপর শিবিরের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আছে। শিবির প্রশাসনকে ম্যানুপুলেট করে রাহীকে গ্রেফতার করিয়েছে।

      উত্তর দিয়ে দিলাম। আশাকরি আপনার মাথায় জিনিসটা ঢুকেছে। আর রাহীকে গ্রেফতার করানোর সঠিক কোন কারণ নাই। অন্যায়ভাবে রাহীকে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

      আপনি রাহী সম্পর্কে না জেনে অথবা কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অপশক্তির কুপ্রবচনায় প্রভাবিত হয়ে এমন আহ্বান করেছেন। এজন্য আপনাকে অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। যদিও উচিৎ, অনউচিৎ আপনার বোধগম্য হবে কিনা সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

  9. এইটা জানা ছিলো না যে ওকে
    এইটা জানা ছিলো না যে ওকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাহলে তো প্রসাশন অবশ্যই শিবিরের পক্ষে, ঠিক পক্ষে নয়-পক্ষে যেতে বাধ্য। তাহলে এবার তো সরকার কে আরো কঠিন হতে হবে !!! যাতে করে এমন করে আর কারো জীবণ নষ্ট না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *