‘ দেশের শাসকগন কিছু ফাঁস তৈরি করেছে ,যেমন এদেশে ১৯ (২) ধারা বা ওদেশে ৫৭ ধারা, যার কবলে কেবলমাত্র মুক্তচিন্তার কন্ঠ ‘

কয়েক দিন থেকেই একটি খবর বারবার চোখে পড়ছে ।
রাহী এবং উচ্ছাসের মুক্তচিন্তার পক্ষে কথা বলার জন্য, ব্লগ লেখার জন্য ও ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে সাইবার আইন ধারা ৫৭ অনুসারে । আমি যদিও পদ্মা পাড়ের মানুষ নই । খাঁটি পশ্চিমবংগীয় । কিন্তু গঙ্গাই হোক বা পদ্মাপাড়, পার্থক্য অনেক চোখে পড়লেও, দেশের শাসকগনের চরিত্রে ও প্রশাসনিক আইন কানুনে কোন পার্থক্য চোখে পড়ে না ।

কয়েক দিন থেকেই একটি খবর বারবার চোখে পড়ছে ।
রাহী এবং উচ্ছাসের মুক্তচিন্তার পক্ষে কথা বলার জন্য, ব্লগ লেখার জন্য ও ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে সাইবার আইন ধারা ৫৭ অনুসারে । আমি যদিও পদ্মা পাড়ের মানুষ নই । খাঁটি পশ্চিমবংগীয় । কিন্তু গঙ্গাই হোক বা পদ্মাপাড়, পার্থক্য অনেক চোখে পড়লেও, দেশের শাসকগনের চরিত্রে ও প্রশাসনিক আইন কানুনে কোন পার্থক্য চোখে পড়ে না ।
ভারতে যেমন – ১৯ (২) ধারাটি Freedom of Expression এর অধিকারটিকে সপাটে চড় কষিয়েছে, তেমনি ৫৭ ধারাটিও বাংলাদেশে একই দোষে দুষ্ট । আইন ও তার প্রায়োগিক কর্মশালার তথাকথিত রক্ষকগন মুক্তবুদ্ধির ও মুক্তচিন্তার প্রচারক দের কন্ঠরোধ করার জন্য সদা তৎপর । কারন, সমাজে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ধর্মের আফিং ও তার ধ্বজাধারীদের প্রশ্রয় দেওয়াটা অধিক জরুরি যেটা এইসব মুক্তচিন্তার মানুষেরা যুক্তি দিয়ে প্রমান দিয়ে সমূলে উৎখাত করে ।
‘অঘূর্ণায়মান ইলেক্ট্রন’ ও তার বন্ধু উচ্ছাস আজ এই আফিংখোরদের নেশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই এমন প্রতিদান পেল । রাষ্ট্র তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে টিনেজার দুই পরীক্ষাপ্রার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতে কালি মাখিয়ে দিল ।
খুব জানতে ইচ্ছে করে, এতে কি রাষ্ট্র তার মিথ্যাচারি আইন ও ধর্মান্ধতার পরাকাষ্ঠাকে অভয় দিতে পারল ? নাকি আরো কিছু সাদামাটা যুবককে এইসব অন্ধত্ব,ভীরুতা, অন্যায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা যোগালো , আরো কিছু রাহী বা উচ্ছাস তৈরীর বীজ বপন করল ?যে দেশে শাহবাগের মত শুভচেতনার মঞ্চ তৈরী হয়েছে, নতুন তরুণরা প্রান দিয়েও নিজেদের দাবী, চিন্তাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, পেরেছে জামাতের মত অন্ধ দলকে কোণঠাসা করতে, সেই দেশ ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করে দুটি তরুন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ! ছিঃ ! ছিঃ !!
মুক্ত চিন্তার মানুষদেরই কেন বারবার অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবে একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ? প্রতিটি দেশ কিছু আইন বানাবে , যার যূপকাষ্ঠে শুধু বলি হবে মুক্তচিন্তার নব নব সংযোজন — এই কি ‘গনতান্ত্রিক স্বৈরাচার ‘ , যেখানে গদিতে আছেন জনগনের দ্বারা নির্বাচিত প্রশাসক আর অঙ্গুলি হেলন হচ্ছে মিথ্যাচারীদের ?
যারা ভাবছেন, রাহী এবং উচ্ছাসের এই ঘটনা নিতান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা, তারা ভয়ংকরভাবে ভুল ভাবছেন । রাহী ও উচ্ছাস , রাজীব হায়দার বা আসিফ মহীউদ্দুনের মত মুক্তচিন্তার ধারকরা নিমিত্তমাত্র । যদি অবিলম্বে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে না তোলা যায়, পালটা মামলা না করা হয়, দিকে দিকে প্রতিবাদ না শানিয়ে ওঠে, ব্লগগুলি তাদের সদস্যদের পক্ষে দাঁড়িয়ে একজোট হয়ে এই অন্যায়ের বিরূদ্ধে সোচ্চার না হয়, Joint Petition File না করে… তবে আজ যা ওদের ক্ষেত্রে হয়েছে , কাল আমার বা আপনার ক্ষেত্রেও হবে । একটা শাহবাগ আন্দোলন দিয়ে সারাবিশ্বে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জাতি যে প্রমাণ দিতে পেরেছে, এই ক্ষেত্রেও সেরম পদক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে । নইলে গণকন্ঠরোধই শুধু নয় তাবৎ স্বাধীনতাবিলাসী জনতা গণ-ধর্ষিত হবে হরেকরকম আইনের ফাঁসে ।
একটু দেখবেন দাদা, আজকে মূক দর্শক হয়ে থাকলে বড্ড দেরি না হয়ে যায় …

৫ thoughts on “‘ দেশের শাসকগন কিছু ফাঁস তৈরি করেছে ,যেমন এদেশে ১৯ (২) ধারা বা ওদেশে ৫৭ ধারা, যার কবলে কেবলমাত্র মুক্তচিন্তার কন্ঠ ‘

  1. গনতান্ত্রিক দেশ মানে যদি হয়
    গনতান্ত্রিক দেশ মানে যদি হয় ধর্মবিরোধী উগ্রপন্থি নাস্তিকদের বিচারের আওতাভুক্ত না করা, তবে দুচলাম না আপনার গনতন্ত্র।

    এইখানে আইনের সঠিক ব্যাবহার ই ঘটেছে। ধর্ম নিয়ে কূটুক্তি কইরে বেড়াবেন আর সরকার আপনারে সেলটার দিয়ে “নাস্তিক সরকার” ট্যাগ খাইবো? সরকার কি বাধা পড়ছে আপনার কাছে ?

    1. নাস্তিক মানে বোঝেন নির্বোধ
      নাস্তিক মানে বোঝেন নির্বোধ কোথাকার !
      আপনি বলেন রাহী উল্লাসদের ক্ষেত্রে কীভাবে আইনের সঠিক ব্যবহার হয়েছে ?
      নাস্তিকদের সরকারের কাছে শেলটার চাইতে হবে কেন ?

  2. যা ঘটেছে বা ঘটচ্ছে তা অবশ্যই
    যা ঘটেছে বা ঘটচ্ছে তা অবশ্যই ন্যাক্কারজনক । গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ভাবমূর্তি আসলেই বিশ্ববাসীকে অবাক করে । বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম যখন এক বাঙ্গালী আরেক বাঙালীর কন্ঠ রোধ করার অপচেষ্টা করছে। ধর্ম ব্যাক্তি মানুষের ব্যাপার। কোন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কাম্য নয় । আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কে রাষ্ট্রকে সামনে রেখে একদল রাজনীতি কারার চেষ্টা চালাচ্ছে । কিন্তু আদৌতে এর কেমন হবে তা আমরা কেউই জানি না ।

    রাহী আর উল্লাসকে নিয়ে বাংলাদেশের ব্লগাররা কাজ করা শুরু করেছে । ইতিমধ্যে ব্লগ কমিউনিটি তাদের কার্যক্রম আর দাবী প্রকাশ করেছে । আশা করি ভালো ফল পাওয়া যাবে ।

  3. পিঠ দেয়ালে আটকে গেলে দূর্বলও
    পিঠ দেয়ালে আটকে গেলে দূর্বলও হুংকার করে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, সরকার বা তথাকথিত ধর্মগুরুরা কতদিন আমাদের বাকরুদ্ধ করতে পারে। আমরা এর শেষ দেখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *