……জলপরী……

শুভ বসে আছে দীঘির ধারে। আজ মাঘী পূর্ণিমা। চাঁদটা তার সর্বস্ব দিয়ে ধার করা আলোটুকু বিলিয়ে দিচ্ছে। অপূর্ব সুন্দর- সেইসাথে ভয়ংকর!

দীঘির জলে দুটো ছায়া খেলা করছে। শুভর পাশে বসে আছে শশী নামের একজন মায়াবিনী। স্থির জলে দুজনের মধ্যে একজনের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট, আরেকজন আবছায়াময়। কিন্তু কেউ সেদিকে ভ্রূক্ষেপও করছেনা! মধ্যরাতের নৈসর্গিক মায়ায় বুঁদ হয়ে আছে দুজনেই।।

শশী অকস্মাত শুভর হাতটা ধরে। তারপর ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যায় দীঘির জলে। শুভ কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেনা। বাধ্য ছেলের মত চলে যায় শশীর হাত ধরে।।

বাগানের ভিতর থেকে চিতকার করে ওঠে একটা কুকুর; কাঁদতেই থাকে একটানা।
_____


শুভ বসে আছে দীঘির ধারে। আজ মাঘী পূর্ণিমা। চাঁদটা তার সর্বস্ব দিয়ে ধার করা আলোটুকু বিলিয়ে দিচ্ছে। অপূর্ব সুন্দর- সেইসাথে ভয়ংকর!

দীঘির জলে দুটো ছায়া খেলা করছে। শুভর পাশে বসে আছে শশী নামের একজন মায়াবিনী। স্থির জলে দুজনের মধ্যে একজনের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট, আরেকজন আবছায়াময়। কিন্তু কেউ সেদিকে ভ্রূক্ষেপও করছেনা! মধ্যরাতের নৈসর্গিক মায়ায় বুঁদ হয়ে আছে দুজনেই।।

শশী অকস্মাত শুভর হাতটা ধরে। তারপর ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যায় দীঘির জলে। শুভ কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেনা। বাধ্য ছেলের মত চলে যায় শশীর হাত ধরে।।

বাগানের ভিতর থেকে চিতকার করে ওঠে একটা কুকুর; কাঁদতেই থাকে একটানা।
_____

জমিদারবাড়ির দীঘির অভিশপ্ত ইতিহাসের এখানেই শুরু। শুভর পরে আরও বেশ কিছু তরুণের প্রাণনাশ ঘটেছে। দীঘিটা তাই এখন আতঙ্কের নিদর্শন।।

শুভ যে জায়গাটায় বসে প্রথম শশীকে দেখেছিলো আমি ঠিক সে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ পূর্ণচন্দ্রের জোছনা। জলপরী দেখার উপযুক্ত সময়! ফেয়ারী টেইলসে বিশ্বাস না করলেও ইতিহাসকে ফেলে দিতে মন চাচ্ছিলোনা। তাই চলে আসলাম জলপরীকে দেখতে!!!

শুভর বসে থাকার জায়গাটাতে একটা বড় করে বৃত্ত আঁকলাম। কথিত সাসপেক্টেড এরিয়া। সেই বৃত্তকে ঘিরে ধীরে ধীরে চক্কর দিলাম- নাইন টাইমস। অতঃপর দুধ, মাখন ইত্যাদি নিয়ে বসে পড়লাম বৃত্তের ভেতরে।।

আধবোজা চোখে দেখতে লাগলাম কি হয়। হঠাত করেই একটা দমকা হাওয়া শরীরে এসে লাগলো! আমি জেগে উঠলাম!

হাতের কনিষ্ঠা আঙুলটার দিকে চোখ পড়লো। মুক্তোর আংটিটা নেই! তার মানে জলপরী এসেছে! আংটিটা নিয়ে লুকিয়ে পড়েছে কোথাও!

অস্থির হতে লাগলাম, সেইসাথে শঙ্কিত! সরু চোখে দেখতে পেলাম- জলের মধ্যে তরঙ্গের আলোড়ন হচ্ছে! কিছু একটার উত্থান ঘটছে, অবশ্যই!

লালচুলো একটা মেয়ে। কালো চোখে কাজলের শ্লেষ্মা, গোলাপের পাপড়ীর মত ঠোঁটের কোণায় ছোট্ট একটা তিলক। পড়নে কিচ্ছু নেই, সম্পূর্ণ নগ্নবসনা! সেই নগ্নতায় পূর্ণ কামুক আহ্বান, চোখের তারায় স্পষ্ট মিলনের আবেদন! আমার সারা শরীরে আগুন ধরে গেলো!

: কে তুমি?

: আমি শশী।

: এখানে কেন এসেছো?

: তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি। তুমি আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছো।

: যদি না যেতে চাই?

: সেটা তোমার অসাধ্য!

ধীরপায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে শশী। ভরা জোছনার আলো সপ্রভ দ্যুতি ছড়াতে থাকে শশীর উদোম বসন থেকে! আমার অঙ্গে অঙ্গে বিদ্যুত খেলে যায়; চিন্তাভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে!

: তুমি আমাকে নিয়ে যেতে পারবেনা। আমি শুভ না।

অকস্মাত শশীর দৃষ্টি বদলে গেলো; তার কালো চোখের তারায় ধ্বক করে আলো জ্বলে উঠলো!

জলপরী রেগে গেছে! আমি তটস্থ হয়ে গেলাম। একঝলকে সে ছুটে এসে আমার বাহু চেপে ধরে শূন্যে তুলে ফেললো!

আমার সমস্ত চেতনা আচ্ছন্ন হয়ে গেলো! যেনো কেউ সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে আটকে রেখেছে, আমার ইচ্ছাশক্তিকে মায়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছে! মস্তিষ্ক অথবা শরীর কোনোটাই ঠিকমত কাজ করছিলোনা; তবে অবচেতন মন শুধু একটা কথাই বলছিলো- যেভাবেই হোক শশীর হাত থেকে ছাড়া পেতে হবে!

প্রথম থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। কোনোক্রমে পকেট থেকে লোহার ঘন্টাটা বের করে তারস্বরে বাজাতে লাগলাম! সাথে সাথে শশী পাগলের মত হয়ে গেলো, আমাকে ছেড়ে দিয়ে চিতকার শুরু করলো!

: থামো! থামাও ওটা! আমার শরীর জ্বলে যাচ্ছে! দ্রুত থামাও!

আমি থামলামনা। সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘন্টা বাজিয়েই গেলাম! আর অস্পষ্ট চোখে দেখতে পেলাম শশীর ছটফটানি!

হঠাত একটা দমকা হাওয়া বয়ে গেলো, বালুর ঝড় উঠলো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। চোখ খুলে দেখি, আমি আমার ঘরের বিছানায়! আংটিটা আমার মাথার পাশেই রাখা!

কিভাবে কি হয়ে গেল কিচ্ছু বুঝতে পারলামনা! তবে একটাই প্রবলেম হচ্ছিলো! বাম বাহুটা ব্যথায় বেশ চিনচিন করছিলো!!!

২ thoughts on “……জলপরী……

  1. মজা পাইলাম । তবে স্বপ্নের
    মজা পাইলাম । তবে স্বপ্নের ভিতর কী দিয়া লোহার ঘন্টা বাজাইলে সেইটা জানতে মন চায়॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *