“সিল্কসিটি এক্সপ্রেস” একটি ট্রেনের নাম


“সিল্কসিটি এক্সপ্রেস” ট্রেন যেদিন প্রথম চালু হয় সেদিনের কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। কারণ প্রথম যেই ট্রেনটা রাজশাহী থেকে ঢাকায় যায় সেটাতে সরাসরি রাজশাহী টু ঢাকার যাত্রী ছিল ৭৭ জন। অন্য যাত্রিরা বিভিন্ন স্টেশনে নেমে যান। এই অধম শঙ্খচিল সেই ৭৭ জনের একজন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন। ট্রেনে করে প্রথমবার রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাবার সময় অনেক উত্তেজিত ছিলাম। পুরো ট্রেনটা ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। আমাদের বগিতে এনটিভির সাংবাদিকেরা যাত্রীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল উৎসব আর আনন্দের আমেজ। কিছু অতি উৎসাহী যাত্রী তো একদম পোজ দিয়ে ক্যামেরার সামনে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যে রীতিমত হাসি পাচ্ছিল। ট্রেনের টিকেটটা এখনও আমার কাছেই আছে। কি মনে করে জানি রেখে দিয়েছিলাম। হয়ত ইতিহাসের অংশ হবার একটা স্মৃতি ধরে রাখার ইচ্ছা মনের ভিতর কাজ করছিল।

সেই আমার প্রথম সিল্কসিটি ট্রেনের প্রেমে পড়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলের যেই রুমে আমি থাকতাম সেই রুমের জানালা দিয়ে রেললাইন দেখা যেত। প্রতিদিন সকাল ৭ টায় ট্রেনের হুইসেল শুনেই বুঝতাম ঐ যে সিল্কসিটি যাচ্ছে। জানালা দিয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে লেকের পানিতে ট্রেনের প্রতিবিম্বের কাঁপন প্রতিদিন না দেখলে দিনটাকে অপূর্ণ মনে হত। প্রথম দিকে ট্রেনটা খুব একটা সুন্দর ছিল না। এক সকালে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম দুধসাদা রঙের একটা ট্রেন দ্রুতগতিতে পার হয়ে যাচ্ছে। এত সুন্দর ট্রেন তাও আবার বাংলাদেশে? পরে শুনলাম ওইটাই সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। গর্বে বুকটা ফুলে উঠেছিলো। এত সুন্দর ট্রেনে ভ্রমণ আমার পরিচিত অনেকেই করে না, কারণ বেশিরভাগই রাজশাহীর বাইরে থাকে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে এই ট্রেনের গল্প অনেক গর্বের সাথেই বন্ধুদের সাথে করেছিলাম। প্রথমদিকে রাজশাহী রুটে এই ট্রেন চালু হয়। পরবর্তীতে সৈয়দপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস নামে এই ট্রেন চলা শুরু করে এবং তাঁরও পরে চট্টগ্রামে সুবর্ণ এক্সপ্রেস নামে চলা শুরু করে।

গতকাল সিল্কসিটি ট্রেনের তিনটা বগি পুড়িয়ে দিয়েছে জামাত-শিবিরের কর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়া ট্রেনটার ছবি আজ প্রথম আলোতে দেখার পর থেকে সারাটা দিন একটা চাপা কষ্ট মনের ভিতর খেলা করে যাচ্ছিল। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। দেশের সম্পদগুলো সুরক্ষা করা দেশপ্রেমেরই অংশ। যারা নির্দ্বিধায় দেশের সম্পদ ধ্বংস করার মত বেআইনি কাজ করে দেশে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, প্লীজ এই রাস্তা থেকে সরে আসুন। কারণ পবিত্র কোরআনেই আছে “নিশ্চয়ই মুনাফেকদের অবস্থান জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে।”

১০ thoughts on ““সিল্কসিটি এক্সপ্রেস” একটি ট্রেনের নাম

  1. যারা এভাবে জনগণের সম্পদ নষ্ট
    যারা এভাবে জনগণের সম্পদ নষ্ট করে তারা কিসের ধার্মিক? এরা তো মানুষই না। কুত্তার বাচ্চারা, সাধারণ মানুষ এবং জনগণের সম্পদ আর নিরীহ হিন্দুওধর্মালম্বীদের হত্যা লুটপাট না করে পারলে যেই সরকারের নেতাদের কিছু কইরা দেখা। হ্যাডম দেখতাম তোদের।

    1. আমার দেশ এখন রাক্ষসের থাবার

      আমার দেশ এখন রাক্ষসের থাবার মধ্যে।

      কথা সত্য কিন্তু এটাও ঠিক যে সবকিছুরই শেষ বলে একটা কথা আছে। জামায়াত কয়দিন এমন তান্ডব চালাবে। শেষ পর্যন্ত ধরা তো খেতেই হবে।

  2. প্রতি ঘন্টায় কয়েক বার করে
    প্রতি ঘন্টায় কয়েক বার করে বিডি নিউজ,বাংলানিউজ দেখি। আর একটা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। দেশটাকে যে এত ভালবাসি এই প্রথম টের পেলাম। বৃহস্পতিবার রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি। যদিও আমার এলাকায় কোন মিছিলও হয় নাই। আমার দেশ এখন রাক্ষসের থাবার মধ্যে।

  3. এই ট্রেন পুড়ানোর ক্ষতিপুরণ
    এই ট্রেন পুড়ানোর ক্ষতিপুরণ জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আদায় করা হোক। এইভাবে ক্ষতিপুরণ আদায় করা শুরু হলে ওরাই বাধ্য হয়ে সব কিছু পাহারা দিয়ে রাখবে।

  4. ট্রেন পুড়ানো শুধু নয় । রেল
    ট্রেন পুড়ানো শুধু নয় । রেল লাইনটাই তো তুলে নেয়া হয়েছে অনেক জায়গায় । এসব ক্ষতিপূরণ কে দিবে ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *