একটি দিবস এবং নানান গল্প

সকালবেলা ই ঘুম থেকে উঠে শুনি আজকে এই দিবস, আজকে ঐ দিবস। তারপর যখন ফেবুতে বা ব্লগে ঢু মারতে যাই, তখন দেখি ঐ দিবস নিয়ে নানান গল্প।

এই লেখাটা লেখার উদ্দেশ্য হয়েছিলো গত ভ্যালেন্টাইনস ডে তে। সময়ের অভাবে লেখা হয়ে উঠেনি, আর অনেক বিষয়ের মাঝে এসব বিষয় হারিয়ে যায় মাথা থেকে। ভ্যালেন্টাইনস ডে কে আমরা বাংলায় ভালোবাসা দিবস হিসেবে ই মানি। এই সংস্কৃতি টা পশ্চিমা হলে ও আমরা একে আমাদের মনে সাদরে গ্রহন করেছি। এই দিনে সবাই তার প্রিয় মানুষকে ভালোবাসা নিবেদন করে, যুগলেরা ভালো কিছু মুহূর্ত ব্যয় করে। নোংরামীর কথা তুলবো না, কারণ প্রতিটি বিষয়ে ই কিছু নোংরা সম্প্রদায় থাকে এই নোংরামি করার জন্য।


সকালবেলা ই ঘুম থেকে উঠে শুনি আজকে এই দিবস, আজকে ঐ দিবস। তারপর যখন ফেবুতে বা ব্লগে ঢু মারতে যাই, তখন দেখি ঐ দিবস নিয়ে নানান গল্প।

এই লেখাটা লেখার উদ্দেশ্য হয়েছিলো গত ভ্যালেন্টাইনস ডে তে। সময়ের অভাবে লেখা হয়ে উঠেনি, আর অনেক বিষয়ের মাঝে এসব বিষয় হারিয়ে যায় মাথা থেকে। ভ্যালেন্টাইনস ডে কে আমরা বাংলায় ভালোবাসা দিবস হিসেবে ই মানি। এই সংস্কৃতি টা পশ্চিমা হলে ও আমরা একে আমাদের মনে সাদরে গ্রহন করেছি। এই দিনে সবাই তার প্রিয় মানুষকে ভালোবাসা নিবেদন করে, যুগলেরা ভালো কিছু মুহূর্ত ব্যয় করে। নোংরামীর কথা তুলবো না, কারণ প্রতিটি বিষয়ে ই কিছু নোংরা সম্প্রদায় থাকে এই নোংরামি করার জন্য।

এবার আসি গল্প বা পটভূমি প্রসংগে।
ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত থাকলে ও বহুল জনপ্রিয় গল্প টি হচ্ছে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনস এর। এখানে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক ধর্মযাজক কে হত্যা করা হয়েছিলো ভালোবাসার অপরাধে। এছাড়া আরো বিস্তর গল্প আছে এই দিবসকে নিয়ে। এর মধ্যে কিছু ধর্মীয় রূপকথা ও রয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে এই দিবস বিরোধী গল্প পাতা হয়েছিলো। এইসকল গল্পের কোন রেফারেন্স অদ্যাবধি পেলাম না। যা জেনেছি, মানুষের মুখ থেকে বা কোন ব্লগ থেকে।

তারপর আরো অনেক দিবস আছে, যেমন- প্রপোজ ডে, হাগ ডে, কিস ডে, প্রমিস ডে, ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব দিবস নিয়ে কোন গল্প বা প্রেক্ষাপট কিছু ই শুনিনি কখনো। বাকী দিবস গুলো বাদ দিই। বাবা/মা দিবস নিয়ে ই দু’লাইন লিখি। এই দিবসটি বাবা/মা এর জন্য উতসর্গ করা হয়। বাবা দিবস এবং মা দিবস দুটি দিন ই রবিবার। কারণ এদিন সরকারী ছুটি। পশ্চিমা দেশগুলোতে ছেলেমেয়েরা তাদের মা-বাবা কে সবসময় কাছে পায় না। তাই তারা তাদের বাবা মা কে নিয়ে কিছু বিশেষ দিন উদযাপন করতে চায়। এই দিবসগুলোর ইতিহাস খুজতে গিয়ে যা পেলাম, তা হলোঃ একটি গোষ্ঠীর মতে মা দিবসের সূত্রপাত প্রাচীন গ্রীসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে যেখানে গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেল-এর উদ্দেশ্যে পালন করা হত একটি উৎসব। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুব -এর সময়ে এবং তারপর রোমে আইডিস অফ মার্চ (১৫ই মার্চ ) থেকে ১৮ই মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হত।

মা দিবসের কথা বলতে গেলে ই বাবা দিবসের কথা আসে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে পিতৃ দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি পিতারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব পিতাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

এবার আসি আজকের এপ্রিল ফুল প্রসঙ্গে। এই দিনটিকে নিয়ে আমাদের নানা জনের নানান মত। ইরানে পার্সি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের ১৩তম দিনে আনন্দ মজা করা হয়। এই দিন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিল ও ২রা এপ্রিল সদৃশ্য। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে’র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো।

ফ্রান্সে পয়সন দ্য আভ্রিল (poisson d’avril) পালিত হয় এবং এর সাথে সম্পর্ক আছে মাছের। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা যায়। সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে পয়সন দ্য এভ্রিল অর্থাৎ এপ্রিলের মাছ। সে দিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে তখন বলে ওঠে পয়সন দ্য আভ্রিল বলে চিৎকার করে। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস (১৩৯২) বইয়ের নানস প্রিস্টস টেইল এ এই দিনের কথা খুজে পাওয়া যায়।

আবার কেউ কেউ তো বলে যে এই দিবস উদযাপন হারাম। এপ্রিল ফুল নিয়ে যেসব কাহিনী প্রচলিত আছে, তা হলো ইহুদী আর মুসলমানদের মধ্যে প্রতারণা।
স্পেন এ ইহুদী রা কোন এক কারণে মুসলমানদের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার নামে মসজিদে প্রবেশ করিয়ে তালাবদ্ধ করে দেয় এবং পরে মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কিছু যায়গায় এখানে মসজিদের জায়গায় জাহাজ ও বলা হয়েছে।

এসকল দিবস নিয়ে যতো জল্পনা কল্পনা বা কাহিনী থাকুক না কেন, আমরা এসব দিবস পালন করি। ভ্যালেন্টাইনস ডে তে যেমন ভালোবাসা বিনিময় করি, তেমনি ১লা এপ্রিলে বন্ধুদের বোকা বানাই। সকল দিবসের উদ্ভট সব প্রেক্ষাপট আ মাদের মাথায় ই থাকে না। এসব দিবস কেন পালন করা হয় তা আমরা অনেকে ই জানি না, তবু ও পালন করি, অনেকে আবার শোনা সুত্রে এর বিরোধিতা ও করে।

প্রতিটি দিন ই আমাদের ভালোবাসার দিন, ভ্যালেন্টাইনস ডে শুধু একটি উপলক্ষ মাত্র। পশ্চিমা দেশে ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা মা কে সবসময় কাছে পায় না। তাই তারা একটি বিশেষ দিনের উপলক্ষে মা বাবার সাথে সময় কাটায়। নানান ব্যস্ততার মাঝে আমরা মজা করার ফুসরত পাই না, অন্ধকার প্রেক্ষাপট না ভেবে কিছুর মজার মুহুর্তের জন্য এপ্রিল ফুল পালন করতে দোষের কি?

পুনশ্চঃ আমার লেখার হাত মোটেও ভালো না। যা মনে আসে হাবিজাবি লিখে যাই। আর সম্পূর্ণটা ই আমার ব্যক্তিগত মতামত। এলার্জিক মনে হলে এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *