চট্টগ্রাম কলেজের অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন

বাংলাদেশকে জামাত শিবির মুক্ত না করে এই দেশে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করা শুধু কঠিনই নয় খুব কঠিন। এখন আবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী,ধর্ম নিরপেক্ষ সরকারের তৈরি করা ৫৭ ধারা। জামাত শিবিরের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে এই আইনটি। রাহীর গ্রেফতার সেটাই আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য কলেজ চট্টগ্রাম কলেজ। শিবিরের অন্যতম একটি প্রধান ঘাঁটি। এখান থেকে প্রতি বছর বহু মস্তিস্ক বিকৃত মেধাবী শিবির উৎপন্ন হয়। সেই তুলনায় খুব অল্প পরিমান চমৎকার কিছু ছেলের দেখা মিলে এই কলেজে। চট্টগ্রাম কলেজের বেশ কয়েকজন ছেলের সাথে আমার পরিচয়। এদের মধ্যে যারা একটু প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনা করে এবং ফেসবুক কিংবা ব্লগে একটু আধটু লিখে কিংবা লেখালেখি শুরু করতে চায় তাদেরকেই সরাসরি হুমকি দিয়ে তাদের সেই ইচ্ছার অপমৃত্যু ঘটায় তাদেরই সহপাঠী যারা শিবিরের সাথে যুক্ত। এই কলেজে ঢুকলেই দেখা যায় কলেজের সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শিবিরের মিথ্যাচারে ভরা পোস্টার। অন্য কোন দলের কিংবা অন্য কোন মতের কোন পোস্টারের অস্তিত্ব কেউ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও পাবে না। এখানে প্রবেশ করলে যে কেউ মনে করতে পারে এটা বুঝি শিবির তৈরির কারখানা।
আমি লিখে দিতে পারি রাহীও তার সহপাঠীর কাছ থেকে ব্লগ ফেসবুকে লেখালেখি না করার হুমকি পেয়েছিল এবং এই ছেলেটি তারপরেও লেখালেখি চালিয়ে গেছে। ফলাফল যা হবার তাই হল। এবং তার সহপাঠীরাই যে তাকে পিটিয়েছে সেটাও অনেকটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

রাহীর লেখালেখি সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনা নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে ব্লগে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা ও নাস্তিক্য প্রচার করছে। জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে লিখেছে। সে জামাত শিবিরকে আঘাত দিয়ে লেখালেখি করে কাজটা ভালো করেনি। কারণ তার মনে রাখা উচিত ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পার হয়ে গেলেও এটা এখনও বাংলাদেশ হয়ে হয়ে উঠেনি। এখানে শাসক শ্রেণী এখনও পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করতে পারে না। এখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয় রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য। এই দেশটা জামাত শিবিরের অভয়ারণ্য আগেও ছিল এখনও আছে। এবং বর্তমান এ সরকার যেভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এতে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতেও জামাত শিবির সুন্দর ভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।

ধর্ম অবমাননার কথা বলতে গেলে বলতে হয় বাংলাদেশে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অনুসারীদেরও কোন অনুভুতি নেই(যদি থেকে থাকে তবে আজকেই ত্যাগ করুণ)। ইসলাম ধর্মের অনুসারীরাই অনুভুতির বস্তা নিয়ে জন্ম নিয়েছে, চুন থেকে পান খসলেই যেখানে তাদের অনুভুতি মারাত্নক ভাবে আহত হয় সেখানে ইসলাম কিংবা মুহাম্মদকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলে তাদের অনুভুতির আহত হবার মাত্রা কোন পর্যায়ে তা আমার কল্পনার বাইরে। মুহাম্মদের পর (সঃ) ব্যবহার না করার কারণেও অনেকের অনুভুতি আহত হতে পারে। তাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখছি উনি আপনাদের কাছে মহান ব্যক্তি কিন্তু আমার কাছে সাধারণ একজন মানুষ মাত্র। তাই যাদের যাদের অনুভুতি আহত হবে তারা দয়া করে (সঃ) পড়ে নিবেন।

সব শেষে একটাই কথা
রাহীর মুক্তি চাই, মুক্তি চাই মুক্তি চাই।
রাহীকে নির্যাতন কারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার দেখতে চাই
কারণ এই দেশ আমাদের। জামাত শিবিরের নয়।

৭ thoughts on “চট্টগ্রাম কলেজের অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন

  1. ফারাবী যে রকমারি ডট কম আর তার
    ফারাবী যে রকমারি ডট কম আর তার মালিক সোহাগকে হামলার হুমকি দিল, তাকে তো কিছুই করা হলনা।

    আসলে, এই আওয়ামী সরকারের রকম-সকম কিছুই বুঝিনা…!

  2. বর্তমান এ সরকার যেভাবে

    বর্তমান এ সরকার যেভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এতে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতেও জামাত শিবির সুন্দর ভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে

    চেপে যান ভাই। এসব বলা ভয়াবহ অন্যায়। এক্ষনি আপনার উপর হামলা হবে কিন্তু! আর আওয়ামীলীগ মানেই মুক্তিযোদ্ধা, আপনি জানেন না নিশ্চই!

  3. কি বলব ঠিক বুঝছি না!
    কি বলব ঠিক বুঝছি না! সারাটাদিন আহম্মক হয়ে কাটালাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফসল ১৭ বছরের রাহী কি হজম করতে পারবে?

Leave a Reply to শেহজাদ আমান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *