এসো জ্ঞান শিখি

গোসল সাধারণতঃ দুই প্রকার। যথা- (১) শীতকালীন গোসল ও (২) গ্রীষ্মকালীন গোসল।
গরমকালটা এসেই গেল। তাই আজ দ্বিতীয়টা নিয়েই ভাবছি।
আমাদের ২৪ ঘন্টার অনেক কাজের মধ্যে একটি উল্ল্যেখযোগ্য কাজ হচ্ছে, রাতের ঘুম। এই গরমে ঘর্মাক্ত শরীরটাকে টেনে হেঁচড়ে যদি বিছানায় নিয়ে যাই, তাহলে সাধের শরীর কষ্ট পাবে খুব।

ভাই, এই শরীরটাইতো সব, তাই না?
যেদিন দম ফুরাবে, সেদিন সঅঅঅঅঅব শ্যাষ।

তো, একটু আরামের জন্য রাতের ঘুমের আগে হালকা গা ভিজিয়ে নিলে ভাল হয়।
আল্ফু মিয়াকে দিয়েই উদাহরণটা দিই।

গরমকাল হলে আল্ফু রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে গোসল করে নেয়।

গোসল সাধারণতঃ দুই প্রকার। যথা- (১) শীতকালীন গোসল ও (২) গ্রীষ্মকালীন গোসল।
গরমকালটা এসেই গেল। তাই আজ দ্বিতীয়টা নিয়েই ভাবছি।
আমাদের ২৪ ঘন্টার অনেক কাজের মধ্যে একটি উল্ল্যেখযোগ্য কাজ হচ্ছে, রাতের ঘুম। এই গরমে ঘর্মাক্ত শরীরটাকে টেনে হেঁচড়ে যদি বিছানায় নিয়ে যাই, তাহলে সাধের শরীর কষ্ট পাবে খুব।

ভাই, এই শরীরটাইতো সব, তাই না?
যেদিন দম ফুরাবে, সেদিন সঅঅঅঅঅব শ্যাষ।

তো, একটু আরামের জন্য রাতের ঘুমের আগে হালকা গা ভিজিয়ে নিলে ভাল হয়।
আল্ফু মিয়াকে দিয়েই উদাহরণটা দিই।

গরমকাল হলে আল্ফু রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে গোসল করে নেয়।
আল্ফু প্রথমে বাথরুমে ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করে লুঙ্গির গিঁটটা খুলে দেয় আলতো করে। মালিক কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে লুঙ্গিটি নাচতে নাচতে নীচের দিকে নেমে যায়।
তারপর আল্ফু ঝরণার নীচে গিয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অংশ উন্মুক্ত থাকে, আর কিছু কিছু আবদ্ধ। আবদ্ধ স্থানগুলো হল- বগল, জঙ্ঘা, পশ্চাতদেশের খাঁজ। এই স্থানগুলোতে আলো বাতাস না লাগার কারণে থোকা থোকা অস্বস্তি জমে থাকে। সেই অস্বস্তি দূর করতেই আল্ফু মিয়া সেই সব স্থানে সাবান ঘষে ভালভাবে ধুয়ে নেয়। অনেক্ষণ ধরে পানি ঢেলে জায়গা গুলোকে ঠাণ্ডা করে তোলে।
শেষের দিকে এসে সে যা করে, তা এবার বলব।

আল্ফু জানে, আমাদের মুখ প্রধানতঃ দু’টি; ১) যে মুখ দিয়ে আমরা খানা খাই, আর ২) যে মুখ দিয়ে খানা যায়। খানা যাওয়া মুখটিকে এখন থেকে আমরা ‘উন্মুখ’ বলে ডাকব (কেন ডাকব, সেই তর্কে যাচ্ছি না আপাতত)।
আল্ফু লক্ষ্য করেছে, মানুষের আবদ্ধ স্থান থেকে গরম ভাপ বেশী বের হয়ে থাকে। সেই স্থান গুলোর মধ্যে আরার ‘উন্মুখ’ হচ্ছে অন্যতম।

অতপরঃ ঝরণার দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ায় আল্ফু। কিঞ্চিত উপুর হয়ে পশ্চাতদেশ উন্মুক্ত করে তোলে, যাতে পানি গিয়ে উন্মুখে পড়তে পারে। আল্ফু এক হাত পিছনদিকে নিয়ে চার আঙ্গুল একত্র করে, পানিগুলো ঠাস ঠাস শব্দে উন্মুখে ভালভাবে লাগায়।
মাঝে মাঝে গরম বেশী পড়লে উন্মুখ দিয়ে ভাপ বেশী বের হয়। তখন আল্ফু আরেকটি সম্পূরক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।
রুমালের মত একটি কাপড়ে অল্প কিছু বরফ কুচি নিয়ে, ছোট্ট একটি পোটলা বানায়।
তারপর সে উয়া মেরে বসে। মানে, ত্যাগাসনে বসে।
এরপর সেই পোটলাকে উন্মুখ স্থানে লাগিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দেয়। এতে তার বড় আরাম হয়।
এত এত আরামের সংস্পর্শে শরীর যখন ঠাণ্ডা হয়, তখন ঘুমতো ভাল হবেই।

(এখানে আলোচিত গোসলের নিয়ামাবলীগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক, কারো জীবিত বা মৃত নিয়মাবলীর সাথে কোন ভাবে মিলে গেলে, তা হবে নিতান্তই কাকতালীয়)।

ওহ্, সরি সরি সরি সরি..
গোসল কেবল দুই প্রকার না, আরো এক প্রকার আছে, সেটি উল্ল্যেখ করতে ভুলে গেছি।
সেটি হল শেষ বিদায়ের গোসল।
আহা কত মমতা দিয়েই না সেই গোসল করানো হয়। এই গোসলটি আরো বেশী আরামদায়ক, যদিও বিদায়ী বন্ধুটি সেই আরাম উপভোগ করতে পারে না কিছুতেই।
এ যেন বিদায়বেলার শেষ আদর। ঠিক যেমনি ভাবে ছেলেবেলায় মা আদর করে করে গোসল দিয়ে থাকেন আমাদের।
বিদায়ের কথা বলতে গিয়ে একটি গানের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ।

“একদিন মাটির ভিতরে হবে ঘর
রে মন আমার
কেন বান্ধো দালান ঘর।
প্রাণ পাখী উড়ে যাবে পিঞ্জরে ছেড়ে
ধরাধামে সবই রবে তুমি যাবে চলে
বন্ধু বান্ধব যত, মাতা পিতা তারাসুতো
সকলই হবে তোমার পর
রে মন আমার …♫•*¨*•.¸¸♫♪…. ”

২ thoughts on “এসো জ্ঞান শিখি

  1. বাধ্যতামূলক গোসল বলে কথা।
    বাধ্যতামূলক গোসল বলে কথা। শীত-গ্রীষ্ম কোনটাতেই সেই গোসল থেমে থাকে না, তাই আর ওই প্রসঙ্গে গেলাম না বড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *