প্রথম রাষ্ট্রপতি বিতর্ক: অদ্ভুত আঁধারে নিপতিত সব

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আছে এবং এটা পার্টিজান রাজনীতির কারণে থাকবে হয়তো অনাদিকাল। দল নিরপেক্ষ বলতে আদতে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আমরা আশা করে থাকি তারা নিজ নিজ দলের প্রয়োজনে এ বিতর্ক টিকিয়ে রাখবে, সন্দেহ নেই। তবে শাদা চোখে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তবে মেজর জিয়াউর রহমান অবিসংবাদিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারেননা। এটা ইতিহাসের সাক্ষ্য, অস্বীকারের উপায় নাই।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আছে এবং এটা পার্টিজান রাজনীতির কারণে থাকবে হয়তো অনাদিকাল। দল নিরপেক্ষ বলতে আদতে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আমরা আশা করে থাকি তারা নিজ নিজ দলের প্রয়োজনে এ বিতর্ক টিকিয়ে রাখবে, সন্দেহ নেই। তবে শাদা চোখে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তবে মেজর জিয়াউর রহমান অবিসংবাদিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারেননা। এটা ইতিহাসের সাক্ষ্য, অস্বীকারের উপায় নাই।

মেজর জিয়া ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এর আগের দিন চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র অনুসন্ধানে জানা যায় ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগ মুহুর্তে ওয়ারলেসযোগে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এই ইতিহাস ইতিহাসবেত্তাদের, আরোপিত কোন কিছুর অবকাশ এখানে নাই। তার আগে ৭ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের মহাসমুদ্রে ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি… এমন ঘোষণাগুলো।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে জীবদ্দশায় মেজর জিয়াউর রহমান কখনই নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের শেষের দিকে যখন বাকশাল প্রতিষ্টিত হয় তখনই মেজর জিয়াও এই বাকশালকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তখন তার মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক অভীপ্সা ছিল না বলে নিজেকে তিনি সেভাবে উল্লেখের দাবিযোগ্য কেউ ভাবেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে তার জড়িয়ে যাবার কাহিনী আছে ইতিহাসবেত্তাদের লিখনিতে। কিন্তু প্রকাশ্য স্বাধীনতার ঘোষক এমন দাবি করার মতো নৈতিক শক্তি তার ছিল না।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রথম পাঠ যোগ করেন জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার অধিকার লাভ করে। তার শাসনামলে ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে তিনি অগুনতি মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। আদতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সমান্তরালে পাকিস্তানি ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার অগ্রপথিক ছিলেন মেজর জিয়া। শাসক জিয়া যখন মুক্তিযোদ্ধা হন্তারকের ভূমিকায় তখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি রাজনীতিবিদদের আত্মপ্রকাশের পালা শুরু হয়। যার মূলভাগে ছিল একাত্তরের ঘাতক রাজাকারদের মন্ত্রীত্ব এবং সরকারি সুবিধাদি। এই সুবিধাবাদী চরিত্রগুলোর হাত ধরে এক সময়ে জিয়াউর রহমান হয়ে যান স্বাধীনতার ঘোষক। তবে মজার বিষয় হচ্ছে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া যেদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন সেই ২৭ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের উল্লেখযোগ্য কোন দিন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না। স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ যেখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নেমে পড়ে সম্মুখ সমর আর প্রতিরোধে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে। এই দাবি পুরোপুরি রাজনৈতিক তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জিয়াউর রহমান ছিলেন জেড ফোর্সের প্রধান। এই ফোর্স গঠন করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্তর্বতীকালীন সরকার। তিন মাস তিনি এই ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবং একাত্তরের ২৭ মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে অন্য অনেকের মতো জিয়াও স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন- এটা মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান। তার আগেকার দীর্ঘ ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামে জিয়াউর রহমানের কোন অবদান ছিল এমন কোন ইতিহাস কোথাও লেখা নেই। কেউ কখনও দাবি করেনি, সে রকম কোন কিছুর সন্ধানও পাওয়া যায়নি। যদি মাত্র নয় মাসকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আখ্যান বলে কেউ দাবি করে তখন তা হয়ে যায় ইতিহাসের খণ্ডিত পাঠ। খণ্ডিত পাঠ ইতিহাস হতে পারেনা; হতে পারে ভুলে ভরা এক আখ্যান!

জিয়াউর রহমান বিএনপির স্বাধীনতার ঘোষক এমন দাবি বিএনপির বহু পুরনো রাজনৈতিক কৌশল। যখন বিএনপি লৌকিকতা হলেও দলগতভাবে মুক্তিযুদ্ধকে অনুশীলন করার চেষ্টা করতো তখন তারা এই কৌশলকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োগের চেষ্টা চালাতো। কিন্তু অতি সাম্প্রতিককালে অতি জামায়াতিকরণের ফলে দলটি এখন ইচ্ছেকৃতভাবে মুক্তিযুদ্ধকে বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করছে। সর্বশেষ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশের অনেক জায়গার মত সিলেটে তারা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে কোন কর্মসূচি গ্রহণ করেনি বলে মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। এটা তাদের বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্বাস আর দেউলিয়াত্বের প্রকাশ কীনা তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে প্রমাণ হবে তবে সোজা কথায় বলা যায় এটা নিন্দাজনক এবং একই সাথে হতাশাজনকও বটে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ:দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি এবং জিয়াউর রহমানের দুটি ঘোষণা ছাপা হয়েছে। প্রথম ঘোষণায় শেখ মুজিব বলেছেন, ….‘এটি আমার শেষ বার্তা হতে পারে, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আপনারা যেখানে এবং যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তানের শেষ সেনাটি বিদায় না হওয়া এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত যুদ্ধ করে যেতে হবে।’

২৭ মার্চ প্রচারিত ঘোষণায় জিয়া বলেছেন, ‘আমি জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর অস্থায়ী কমান্ডার ইন চিফ, শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরও ঘোষণা করছি যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন ও আইনানুগ সরকার গঠন করেছি, যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিএনপির কৌশল কিংবা মিথ্যাচারের সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করার মতো ধৃষ্টতা ও মিথ্যাচার। এই মিথ্যাচারের শুরুটা করেছেন তারেক রহমান যিনি আবার জিয়াউর রহমানের পুত্র। লণ্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমান স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলেও দাবি করেন। তারেক রহমানের এই দাবি উপস্থিত বিএনপি কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাপক করতালির মাধ্যমে গৃহিত হলেও আদতে মিথ্যাচারের নগ্ন প্রকাশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যত নেতৃত্ব কতখানি নির্লজ্জ হলে এমন ঢাহা মিথ্যা কথা বলতে পারেন তা আমাদের বোধের অতীত। তারেক রহমানের এই দাবি বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের সাথে সাথে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড়ও ওঠেছে। অনেকে এটাকে বেফাঁস মন্তব্য বলে ওড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও দলীয় অবস্থান বিবেচনা করলে তার আরও বেশি সতর্ক হবার প্রয়োজন ছিল বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তবে মনে রাখা দরকার, ইনডোর অনুষ্ঠানগুলোতে খুব বেশি বেফাঁস মন্তব্যের সুযোগ থাকেনা যতটা থাকে মাঠে-ময়দানের মেঠো বক্তৃতায়। তারেক রহমানের এই প্রথম রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত দাবি কী তবে ধৃষ্টতা, না অজ্ঞতা সেটা বিশ্লেষণ প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের ধারাবাহিক কার্যভার গ্রহণ এবং কার্যকালের দিকে তাকালে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে সেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম বৈধ রাষ্ট্রপতি।

যেহেতু ২৬ মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিনক্ষণ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আমাদের সংবিধান সেহেতু মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারই সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের বৈধ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১১ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এপ্রিল ১২ ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাঈদ চৌধুরী। এরপর মোহাম্মদউল্লাহ (২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩- ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ (১৫ আগস্ট ১৯৭৫-৬ নভেম্বর ১৯৭৫), আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (৬ নভেম্বর ১৯৭৫- ২১ এপ্রিল ১৯৭৭)। তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর নিজেকে রাষ্ট্রপতি বলে ঘোষণা করেন ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে এবং তিনি ৩১ মার্চ ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের কার্যকালের দিকে খেয়াল রাখলে দেখা যায় জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি। তিনি কোনক্রমেই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন না।

জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে তারেক রহমানের দাবি জানাবার একদিন পর ২৭ মার্চ ২০১৪ বেগম খালেদা জিয়াও একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনিও জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করলেন। এটা দুঃখজনক যে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তারেক রহমানের মতো সম্ভাব্য বিএনপি দলীয় সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে নীতিজ্ঞান, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে অদ্ভুত দাবি করলেন। বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের এই মিথ্যাচারের বিপরিতে অনেকেই তাদের রাজনৈতিক খেলা বলে মনে করলেও আদতে তা নয়। এটা একান্তই বিশ্বাস এবং চেতনা সম্পর্কিত। দেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতিকে প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা তাদের আগের সাতজনকে পরিষ্কার অস্বীকার। যা সংবিধান অস্বীকারের পর্যায়েও পড়ে।

যারা বিশ্বাস করতে চায় বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের মতো জিয়াউর হমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি তারা বাংলাদেশের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামকে অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্তর্বতীকালীন সরকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারগুলোকে অস্বীকার করে। এটা ইতিহাসবিকৃতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারের নামান্তর।

তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া দুইজনই জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করে কী ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মক্ষণ হিসাব করছেন? তাদের এই হিসাব বাংলাদেশ জন্মের ধারাবাহিক সংগ্রাম আর প্রক্রিয়াকে অস্বীকারের মতো ধৃষ্টতা। আমি নিশ্চিত না,রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই ধৃষ্টতা, মিথ্যাচার আর ইতিহাস বিকৃতির জবাব চাইবে কীনা?

মানসিকভাবে ভারসাম্যহীনদের অনেককেই দেখেছি নিজেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক কিছুই দাবি করে। আমাদের যদ্দূর ধারণা বিএনপির সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দুই নেতাদের কেউই মানসিকভাবে অসুস্থ নন। যদি আমি ভুল না হয়ে থাকি তবে তাদের এসব ঘোষণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাতে সন্দেহ নেই। তাই প্রশ্ন জাগে- তারা কী জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের দিনকেই বাংলাদেশের বিজয়ের দিন অথবা দেশের ইতিহাসের প্রথম দিন গণনা করছে?

দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্বাসের দিক থেকে বাংলাদেশের জন্মের দিনগুলোকে সরাসরি অস্বীকারকারীরা কেউ কোনদিনও জবাবদিহি করবে না!

তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যাচারভিত্তিক দাবির বিপরিতে জীবনানন্দের ভাষায় একটা কথাই কেবল বলা যায়- ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ’! হ্যাঁ, আমার চারপাশে অদ্ভুত আঁধার ধেয়ে আসছে, আমরা ক্রমে সে আঁধারে নিপতিত হচ্ছি। সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিবিদগণ যখন এমন মিথ্যাচারের ধারক-বাহক-প্রচারক তখন কেউ কী জানে সত্যিকার অর্থে আমাদের গন্তব্যটা কোথায়?

৩৮ thoughts on “প্রথম রাষ্ট্রপতি বিতর্ক: অদ্ভুত আঁধারে নিপতিত সব

  1. মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের
    মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী। তারা মুজিবকে নিজেদের দলের গণ্ডীর মধ্যে বেঁধে রাখতে চায়। বিএনপির মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। যতদিন তারা থাকবে মিথ্যাচার করেই যাবে। যদি মুজিবকে আওয়ামীলীগ নিজের দলের মধ্যে বেঁধে না রাখত তবে বিএনপি এধরণের মিথ্যাচার করার সুযোগ কম পেত।

    1. মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের

      মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী।

      কিভাবে? আর একটু ব্যাখ্যা দরকার না এতো বড় অভিযোগ দেয়ার আগে? আওয়ামী লীগ যা ইচ্ছা তা-ই করুক, তাতে বিএনপি-র কি? নিজেরা ঠিক থাকলে “জিয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট” এই সব ফালতু কথা বলা লাগতো না।

      1. মুজিবকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করতে
        মুজিবকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করতে করতে পাবলিক জিয়া আর মুজিবকে সমান পর্যায়ের নেতা মনে করে।

        মন্তব্যের শেষঅংশে লিখে দিয়েছি,

        যদি মুজিবকে আওয়ামীলীগ নিজের দলের মধ্যে বেঁধে না রাখত তবে বিএনপি এধরণের মিথ্যাচার করার সুযোগ কম পেত।

    2. মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের

      মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী।

      এটা অতি সরলীকরণ। ঠিক না। জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টা-ইচ্ছাটা অনুচিত। আওয়ামীলীগ কী করলো তার সাথে জিয়ার সম্পর্ক কী থাকতে পারে? সম্পর্ক থাকতে পারে তখন যখন কেউ সমপর্যায়ের কেউ হয়।

    3. মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের

      মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী।

      শুধু এটুকুই নয়, যে যাহাই করুক যদি তা খারাপ কিছু হয় তবে তাহার জন্য একমাত্র ও অবশ্যম্ভাবীভাবে আওয়ামীলীগ দায়ী।

      1. শুধু এটুকুই নয়, যে যাহাই করুক

        শুধু এটুকুই নয়, যে যাহাই করুক যদি তা খারাপ কিছু হয় তবে তাহার জন্য একমাত্র ও অবশ্যম্ভাবীভাবে আওয়ামীলীগ দায়ী

        :bow: :bow: :bow: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    4. মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের

      মেজর জিয়াকে নিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির জন্য আওয়ামীলীগই দায়ী। তারা মুজিবকে নিজেদের দলের গণ্ডীর মধ্যে বেঁধে রাখতে চায়।

      কি উদ্ভট ও ফালতু যুক্তি ।

      যত দোষ তবে কি সব ঐ নন্দ ঘোষের?

    5. এইখানে আপনি অযথাই লীগ টেনে
      এইখানে আপনি অযথাই লীগ টেনে আনলেন মুত্তাকী ভাই, আপাত দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক মনে হওা অস্বাভাবিক নয় ।

  2. মিথ্যার ভেলার উপর তৈরী করা
    মিথ্যার ভেলার উপর তৈরী করা রাজনৈতিক দলের নাম হচ্ছে বিএনপি। পঁচাত্তরের আগ মহুর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়ার নাম কেউ শুনেছে বা ইতিহাসের কোথাও লেখা আছে বলে প্রমাণ কেউ দিতে পারবেনা।

    গোয়েবলীয় থিয়োরীর প্রয়োগ ঘটিয়ে তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। এর ভিত নড়ে গেছে। এখন শুধু ভেঙে ধুলোয় মিশিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।

    আপনার লেখাটি চমৎকার লেগেছে।

    1. তারেক রহমানের বক্তব্যের পর
      তারেক রহমানের বক্তব্যের পর বেগম খালেদা জিয়ার একই দাবি, সাদেক হোসেন খোকার একই মত এবং সর্বশেষ ব্যারিস্টার রফিকুলের একই বিষয়ে মিথ্যাচারভিত্তিক সাফাই গাওয়ার পর মনে হলো তাদের রাজনীতি আদতে মিথ্যাচারকে ভিত্তি করেই।

  3. বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল নাকি?
    বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল নাকি? এটা এখন ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসকে প্রজন্মের কাছে মিথ্যার সাথে উপস্থাপন করার জন্য বিএনপি’কে একদিন ক্ষমা চাইতে হবে।

        1. তারা সংখ্যাগুরু বলে আমার মনে
          তারা সংখ্যাগুরু বলে আমার মনে হয়না। মিথ্যাচার যারা করে তারা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়েই করে এবং বাকি সবাই সুশীল সেজে বসে থাকে বলে তাদের আওয়াজগুলো কানে এসে বিঁধে।
          প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেলে দেখবেন মিথ্যুকেরা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না, সাফাই গাওয়াতো অনেক দূরের পথ…

  4. নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয়
    নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় বানী।

    মিথ্যাচার যারা করে তারা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়েই করে এবং বাকি সবাই সুশীল সেজে বসে থাকে বলে তাদের আওয়াজগুলো কানে এসে বিঁধে।

    কবির য়াহমদ ভাই, আপনাকে স্যালুট।

  5. চমৎকার লিখেছেন।
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার লিখেছেন।

  6. জিয়াউর রহমান যদি বাংলাদেশের
    জিয়াউর রহমান যদি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়ে থাকেন তাহলে আমিও বাংলাদেশের প্রথম ফার্মাসিস্ট।

  7. হতাশাগ্রস্থদের মালই সম্বল এবং
    হতাশাগ্রস্থদের মালই সম্বল এবং মালখোরদের দ্বারা এইসকল তথ্যই বেরিয়ে আসা সম্ভব। মাল খেয়ে সবাই রাজা হয় :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  8. Magor জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক
    Magor জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন নাকি তোষক ছিলেন এই চিঠিটিই তার প্রমাণে যতেষ্ট…

    Major Zia Ur Rahman, Pak Army, Dacca
    We all happy with your job. We must say good job! You will get new job soon.
    Don’t worrie about your family. Your wife and kids are fine.You have to be more carefull about major Jalil.
    Col. Baig Pak Army
    May 29. 1971

  9. ““This is Swadhin Bangla
    ““This is Swadhin Bangla Betar Kendra. I, Major Ziaur Rahman, at the direction of our great leader Bangobondhu Shekh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People’s Republic of Bangladesh has been established. At his direction, I have taken command as the temporary head of the republic. In the name of Sheikh Mujibur Rahman, I call upon all Bengalis to rise against the attack by the west Pakistani Army. WE shall fight to the last to free our motherland. By the grace of Allah, victory is ours.
    – Joy Bangla.”

    1. জিয়াউর রহমানকে প্রথম
      জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলার পিছনে আরো কারণ থাকতে পারে বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে। তারমধ্যে একটি হতে পারে, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া। ১৯৭১ সালে দুদফা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। প্রথম দফায় তিনি নিজ নামেই ঘোষণা করেন। প্রথম ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘আই মেজর জিয়াউর রহমান ডিক্লেয়ার ইনডিপেনডেন্স অফ বাংলাদেশ’। কিন্তু এই ঘোষণায় তেমন সাড়া পাওয়া না গেলে আবারও স্বাধীনতা ঘোষণা দেন তিনি। দ্বিতীয় দফার তিনি বলেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’ প্রথম দফার স্বাধীনতা ঘোষণায় জিয়াউর রহমান নিজেকে দেশের সর্বময় ক্ষমতায়র অধিকারী ভেবেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই যুক্তিতে তাকে স্বাধীনতার ঘোষকের পাশাপাশি প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দাবি করতে পারে বিএনপি। যার প্রমাণ মেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া তাঁর আইনি ব্যাখ্যায়। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে প্রবাসী সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত কার সরকার ছিল? দিশেহারা জাতিকে পথ প্রদর্শন করেছেন জিয়াউর রহমান, তা প্রমাণ করে সে সময় তিনি দেশের মূল ভূমিকা পালন করে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া বা করা বা চালাতে হয়েছে, সে ব্যবস্থায় তিনি তা করেছেন।’ বিএনপির এই নেতার মতে, মুজিবনগর সরকার গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

  10. ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মেজর
    ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান প্রথম পাকিস্তানী সেনা অফিসারকে হত্যা করে সেনা বিদ্রোহের সূচনা করেন এবং স্বপ্রনোদিত হয়ে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
    আমরা সবাই জানি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়।আর সেই অস্থায়ী সরকারের সূচনা করা হয়েছিল ১০ এপ্রিল থেকে।তাহলে ২৬ শে মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন???

    ফেসবুকে একজনের স্ট্যাটাস

    1. ৭ই মার্চের ভাষণটিকে সংবিধানে
      ৭ই মার্চের ভাষণটিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কটিকে সাংবিধানিকভাবে প্রতিহত করা। তবে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে মমতাময়ী মাসি হিসাবে কাজ করেছেন ইন্দিরা গান্ধী। একজন শতভাগ খাটি মাসির মমতায় আমাদের সকল খোজ খবর নিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৬ই নভেম্বর তিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে একটা লেকচার দেন। দেখুন, সেই বক্তৃতায় তিনি আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে কী বলেছিলেন? সেই বক্তৃতার কিছু অংশ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

      ” Negotiations were begun.We were not in touch with either Sheikh Mujib or his party of East bengal. We did not know what was happening. We read in the papers that there were negotiations.Later, much later, in fact only about a week before I started on this trip, I happened to meet somebody who said he was present at the negotiations. And,on the 24th of march, they thought that they were coming to a settlement, may be not a satisfactory settlement but still something that could be worked out. But this period was in fact used to bring troops from west Pakistan.

      অর্থাৎ, আলোচনা শুরু হলো। শেখ মুজিব কিংবা তার দলের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ ছিল না। কাজেই আমরা জানতাম না সেখানে আসলে কী হচ্ছে। তবে খবরের কাগজ পড়ে জানতে পারি যে একটা আলোচনা চলছে। পরে, আরো অনেক পরে, সত্যি বলতে কি এখানে আসার এক সপ্তাহ আগে একজন লোকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় যিনি ঐ আলোচনায় শরীক ছিলেন। এই লোকটি জানালেন যে ২৪শে মার্চ তারা ধারনা করেছিলেন যে একটা সমাধানে পৌছতে যাচ্ছেন। সেই সমাধান (পূর্ব বাংলার জন্যে) খুব সন্তোষজনক না হলেও আপাতত কাজ চালানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই সময়টিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আনা হয়।….

      বক্তৃতার এক জায়গায় এসে বিষয়টিকে আরো খোলাসা করে ফেলেন, So,just when we come to a stage where we think we can go ahead much more easily, much faster,we suddenly have problems of another country. They are not our problems.This other country has pushed across the border people who did not vote for their Government, but voted for the regime, they wanted.There is no other crime which these people have committed because the cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested, and not before. He himself,so far as I know, has not asked for independence,even now. But after he was arrested,after there was this tremendous massacre, it was understandable that the rest of the people should say:” After this,how can we live together ? We have to be separate”.

      অর্থাৎ ‘ যখন সবেমাত্র নিজেদের সমস্যা সমাধান করে একটু সোজা হলাম, ভাবলাম এখন খুব দ্রুত সামনে এগিয়ে যাব। তখনই অন্যের সমস্যা এসে ঘাড়ে চাপল। সেগুলি আমাদের সমস্যা নয়। এই দেশটি(পাকিস্তান) নিজেদের লোকজনকে বর্ডারের দিকে ঠেলে দিয়েছে যারা তাদের সরকারকে ভোট দেয় নি। তারা নিজেদের পছন্দমত লোকদের ভোট দিয়েছে। এছাড়া এই লোকগুলির অন্য কোন অপরাধ নেই। তারা স্বাধীনতার আওয়াজ তুলেছে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করার পর, এর আগে নয়। এমনকি শেখ মুজিব নিজেও স্বাধীনতা চান নি, এখনও চাচ্ছেন না। কিন্তু তার গ্রেফতারের পর ম্যাসাকার শুরু হলে সঙ্গত কারনেই লোকজন বলছে, এই লোকগুলির সঙ্গে এখন আর একসাথে থাকা সম্ভব নয় । আমাদেরকে

      পৃথক হতেই হবে। ”

      এক জনের ব্লগ হতে

  11. বাংলাদেশের ইতিহাস অনুসারে
    বাংলাদেশের ইতিহাস অনুসারে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের সদস্যরা শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করে অস্থায়ী সরকার। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের দুই দিনের মাথায় ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার গঠন করেন তিনি। শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এই বিবেচনায় শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপরি হলেও তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন। এর বিপরীতে ১৯৭৮ সালের ৩০ মে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। গণভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা ওই বারই প্রথম ঘটেছিল। এই বিবেচনায় জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।

  12. খাইছে রে! এই কয়দিনে নেটের যা
    খাইছে রে! এই কয়দিনে নেটের যা আবর্জনা ছিল তা সব ঝুলি ভরে জনাব ইতিহাসবিদ এখানে এনে ঢেলে দিছেন দেখছি!

  13. বুঝলাম না এর পিছে এতো যুক্তি
    বুঝলাম না এর পিছে এতো যুক্তি দেখাবার কী আছে ! ছাগলে কাঠাল পাতা খেয়েছে, কিছুকাল যাবর কাটবে তারপর যা ছিলো তাই॥ ইতিহাস নিয়ে এতো মাতামাতি কী ঠিক হচ্ছে ??

  14. ভাই জনৈক ফাকিস্তানি ইতিহাসবিদ
    ভাই জনৈক ফাকিস্তানি ইতিহাসবিদ ছাগলে তো ল্যাদায় শেষ করে ফেলল! :/

    আর মন দিয়া শোনেন……

    মেগর গিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক।

    বেগুন খাল্যাদা গিয়া বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা।

    খাম্বা তারেক গিয়া বাংলাদেশের প্রথম জারজ সন্তান।

    ফাকিস্তান একটা ইসলামিক দ্যাশ।

    জামাতে পিছলামি একটা ইসলামিক দল।

    হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

    ইভা রহমান বাংলাদেশের প্রথম গায়িকা।

    ডিপজল বাংলাদেশের প্রথম নায়ক।

    এবং

    তেলাপোকা একটা পাখি এন্ড ছাগলেরও বুদ্ধি আছে।

  15. ২৭ মার্চ প্রচারিত ঘোষণায় জিয়া
    ২৭ মার্চ প্রচারিত ঘোষণায় জিয়া বলেছেন,
    ‘আমি জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর
    অস্থায়ী কমান্ডার ইন চিফ, শেখ মুজিবুর
    রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের
    স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরও
    ঘোষণা করছি যে শেখ মুজিবুর রহমানের
    নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন ও আইনানুগ
    সরকার গঠন করেছি, যা আইন ও সংবিধান
    অনুযায়ী কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ – এখানে ছোট একটা ভুল আছে । এটা হবে “আমি,মেজর জিয়া, আমাদের জাতির মহান নেতা , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষনা করছি …………”

    “তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া দুইজনই
    জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম
    রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করে কী ২১ এপ্রিল ১৯৭৭
    থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মক্ষণ হিসাব
    করছেন? ” – আপনার এই প্রশ্নটা আমারও । তাহলে কি ১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত পাকিস্তান আমল , ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বাকশালী শাসন মতান্তরে ভারতীয় প্রতিনিধি কর্তৃক শাসন , এবং ১৯৭৭ থেকে …… পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশ ” এভাবে ইতিহাস সাজানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে । যদি তাই হয় তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই অন্ধকার ।

    বিএনপি , তারেক সাহেব বা ম্যাডাম জিয়া নিয়ে নতুন কোন কথা নাই । বিকৃত ইতিহাস থেকে এই দলের সৃষ্টি , এনাদের কাছ থেকে জাতি বিকৃত শিক্ষাই পাবে । তবে জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে তাকে একটা প্রশ্ন করা যেতো , “যে ভাবেই হোক ,যে করেই হোক আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা । আমরা ইতিহাস বদলাতে পারবো না । আমাদের একটা প্রশ্নের জবাব দিন আজ গোলাম আজম , নিজামী বা এই ধরনের যেসব রাজাকার আছে , যুদ্ধচলাকালীন সময়ে আপনি যদি তাদের হাতে ধরা পড়তেন তাহলে তারা আপনার সাথে কি করত ? আপনি বা আপনার উত্তরাধিকারীরা আজ তাদের জন্য যা করেছে , এই রাজাকারেরা কি তখন আপনার সাথে তাই করতো ?

  16. “I major Zia ur Rehman, do
    “I major Zia ur Rehman, do here by
    declare the independence of
    Bangladesh on bhalf of our great
    national leader Bangabondhu
    Sheikh Mujibur Rehman”….. so if
    you have a mimimum common
    sense, you’ll not make any
    argument on this topic further that
    Zia made the declaration of BD
    independence on bhalf of
    Bangabondhu……
    ঘোষক আর পাঠক এর মাঝে তফাৎ আছে।
    কিন্তু,মূর্খদের মাথায় তা প্রবেশ করে নাহ্‍!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *