একটি নিছক গল্প

শেষ দিকে, পানির ট্যাপ ছেড়ে প্রত্যেক টা দিনই কান্না চুরি করত।কারনটা আমার জানা ছিল না। শুধু স্নানঘর থেকে বেরুলেই , তার লাল ফোলা চোখ দেখে বুঝতাম… কখনো জিজ্ঞেস করি নি। সে যদি আমার কাছ থেকে ব্যাপারটা লুকাতেই চায়, আমি বাধা দেব কেন? বড় অদ্ভুদ স্বভাব ছিল তার। একটু একটু করে দু:খ জমাতো। অবসরে সেগুলোর নালিশ আমাকে মুখ ফুলিয়ে জানাতো। আমি তার অভিমান
ভাঙাতাম কান ধরে উঠবস করে…..


শেষ দিকে, পানির ট্যাপ ছেড়ে প্রত্যেক টা দিনই কান্না চুরি করত।কারনটা আমার জানা ছিল না। শুধু স্নানঘর থেকে বেরুলেই , তার লাল ফোলা চোখ দেখে বুঝতাম… কখনো জিজ্ঞেস করি নি। সে যদি আমার কাছ থেকে ব্যাপারটা লুকাতেই চায়, আমি বাধা দেব কেন? বড় অদ্ভুদ স্বভাব ছিল তার। একটু একটু করে দু:খ জমাতো। অবসরে সেগুলোর নালিশ আমাকে মুখ ফুলিয়ে জানাতো। আমি তার অভিমান
ভাঙাতাম কান ধরে উঠবস করে…..

আগে দুজনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম ইচ্ছেরা তারা হয়ে নেমে আসত অনেক কাছে। একদিন হট্যাত আবদার করল, “আমাকে সিগারেট খাওয়াও, এক্ষুনি। ” অদ্ভুদ জেদী ধরণের মেয়ে। সে খাবেই, বড়লোকি চালে একটানে অনেকটা ধোয়া ভেতরে নিয়ে সেই কি কাশি শুরু করল আর থামতেই চায় না!! শান্ত হলে হাসি মুখে বলল” আমার মাথায় হাত রাখো।
-কেন….
-বললাম না রাখো।
-আচ্ছা, রাখলাম। এবার বল-
-আমার ওয়াদা কর, “আর কোন দিন সিগারেট খাবে না। না হলে আমি ছাদ থেকে লাফ দেব…
-অনেক কঠিন ওয়াদা। একটু শিথিল করা যায় কি?
-অন্তত আমি যত দিন বেচে আছি। তত দিন।
-তার পাগলামীর কাছে হার মানলাম। অসম্ভব জেদি মেয়ে ছিল যে…..

আমি তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে আইন বিভাগের ৩বর্ষের ছাত্র। সে ছিল প্রথম বর্ষের ছাত্রি, একই বিভাগের। আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ডিবেট দলে সে ছিল অত্যন্ত তুখোড় ডিবেটার। হট্যাত সে হোট্ট কাগজের টুকরো আমার হাতে দিয়ে বলল-এখনি পড়েন। জবাব টা আমি এখনি নিয়ে যাব। “চিরকুটে লেখা ছিল,”ভালোবাসি….তোমাকে। একটু হাত টা ধরবে? যদি তোমার উত্তর হ্যা হয়ে থাকে?”
সে মায়াবী চোখকে উপেক্ষা করার শক্তি বিধাতা আমাকে দেন নি।

পাশ করে বের হয়ে বিসিএস এ টিকলাম। সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিয়ে পোষ্টিং হল নেত্রকোনা জেলায়… কিছু দিন পর আমাদের বিয়ে হল। সংসারে এল আমার প্রথম মেয়ে কন্যা স্বাতী। তার কিছু দিন আমার স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পরল। একে বারে লাস্ট স্টেজে এখন সে…..
এখন আইসিইউ তে…..

বলেই দম নিলেন আশফাক সাহেব। কিছুক্ষন পরেই ফোন এলো তার। আমাকে ধরে বললেন-
ভাই আপনার কাছে সিগারেট আছে?
-সিগারেট টা জ্বালানোর পর ছোট ছোট পা ফেলে সামনে এগিয়ে চললেন……
আমি দেখলাম সিগারেটের আগুনটা ক্রমশ জ্বলছে-আলোটা আবার কমে যাচ্ছে….খুক খুক করে কাশছেন। নিকোটিন তার দেহে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ছে… ভালোবাসায় সিক্ত সে দেহ নিকোটিন নামক বিষ নিতে তীব্র অস্বীকার জানাচ্ছে….

এর একবছর পরে জাদবপুর ইউনিভার্সিটির সিএসসি এর পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে আসি….
নেত্রকোনা জেলায় যাই এক বন্ধুর বিয়েতে। আকাশ ভরা জোছনা….
এরকম এক জোছনা রাতে ই মানুষ বেচে থাকার আশা পায়, জীবন পারি দেওয়ার শক্তি পায়….

৩ thoughts on “একটি নিছক গল্প

  1. আকাশ ভরা জোছনা….
    এরকম এক

    আকাশ ভরা জোছনা….
    এরকম এক জোছনা রাতে ই মানুষ বেচে থাকার আশা পায়, জীবন পারি দেওয়ার শক্তি পায়….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *