” তোকে, তোমাকে, আপনাকে … ”

৮৬ সালে আমার জন্মদাতা মারা যান । উনাকে পিতা হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি । মানে একটা ছেলের বা মেয়ের পিতা সম্পর্কিত যে অভিজ্ঞতা থাকে আমার তা নেই । আমার বয়স তখন ৩ কী ৪ । তাই কেউ যখন বাবা নেই জানতে পেরে ‘ সরি ’ বলে আমার ভেতরে কোন প্রতিক্রিয়া হয়না । মায়ের কাছে শুনেছি জন্মদাতা খুব বেহিসেবি ছিলেন । মনে যা চেয়েছে তাই করেছেন সাধ্যের মধ্যে যতটুকু কুলোয় । আমি পেয়েছি জন্মদাতার স্বভাব । হিসেবে কষে জীবন আমি কোনোদিন কাটাইনি । নিজের মনকে প্রাধান্য দিয়েছি সবসময় । মন যে সবসময় সঠিক পথে অগ্রসর হয়েছে তেমন নয় । এর জন্য মাশুল গুণতে হয়েছে অনেক বেশি । কিন্তু স্বভাব কী পালটে সহজে ???

৮৬ সালে আমার জন্মদাতা মারা যান । উনাকে পিতা হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি । মানে একটা ছেলের বা মেয়ের পিতা সম্পর্কিত যে অভিজ্ঞতা থাকে আমার তা নেই । আমার বয়স তখন ৩ কী ৪ । তাই কেউ যখন বাবা নেই জানতে পেরে ‘ সরি ’ বলে আমার ভেতরে কোন প্রতিক্রিয়া হয়না । মায়ের কাছে শুনেছি জন্মদাতা খুব বেহিসেবি ছিলেন । মনে যা চেয়েছে তাই করেছেন সাধ্যের মধ্যে যতটুকু কুলোয় । আমি পেয়েছি জন্মদাতার স্বভাব । হিসেবে কষে জীবন আমি কোনোদিন কাটাইনি । নিজের মনকে প্রাধান্য দিয়েছি সবসময় । মন যে সবসময় সঠিক পথে অগ্রসর হয়েছে তেমন নয় । এর জন্য মাশুল গুণতে হয়েছে অনেক বেশি । কিন্তু স্বভাব কী পালটে সহজে ???

আমার জন্মদাতা দৃঢ়চিত্তের মানুষ ছিলেন না । কিন্তু আমার মা ছিলেন কঠিন ও কোমলের মিশ্রণে গড়া একজন মানুষ । কঠিন না হয়ে উনার উপায়ও ছিলেন না । স্বামীর অকাল প্রয়াণে সংসারের জটিল ও কুটিল সায়রে তাঁকে হাবুডুবু খেতে হয়েছে ।

আমার মা যে কী পরিমাণ কঠিন ছিলেন তার একটা উদাহরণ – মেঝভাইর বয়স তখন আর কতো এই বার / তের বছর । গ্রামে থাকে আমাদের ফ্যামিলি । আমার তখন জন্ম হয়নি । তো, মেঝদা আমাদের এক জ্ঞাতি চাচাতো ভাইর সাথে ঝগড়া করে তাকে বিশ্রি একটা গালি দেয় । ঘটনাটা মা জানার পর মেঝদাকে খুঁজতে থাকেন । খুঁজে পেয়ে যখন কৈফিয়ত চান তখন মেঝদা একটু ঝাঁজের সাথে মায়ের সাথে কথা বলেন । মা’র হাতে ছিল দা – ওটাই ছুঁড়ে মারলেন দৌড়রত মেঝদার উপর । লাগলো গিয়ে বাম পায়ে । মেঝদার সরকারি চাকুরির আইডি কার্ডে সনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে লেখা থাকতো – ‘ বাম পায়ে কাটা দাগ ’।

এই ঘটনায় অনেকের কাছে আমার মাকে একজন অবিবেচক নিষ্ঠুর মনে হতে পারে । উনি মোটেই তেমন নন । আমার এই মাকে বেহিসেবি স্বামীর খামখেয়ালীপনার ফলাফল হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো । ধান ভানা , রান্নার জন্য শুকনো কাঠ সংগ্রহ করা, ধান জ্বাল দেয়া, শুকানো, সব্জির ক্ষেত করা, রান্না করা, কাথা সেলাই করা ইত্যাদি নানান কাজে ওনাকে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি সারাদিন । হাট থেকে কেরোসিন তেল আর সয়াবিন তেল ( সর্ষের তেল ফুরিয়ে গেলে ) ছাড়া অন্যকিছু ক্রয় করা ছিল বিলাসিতার পর্যায়ে । সে সময় সারাবছরই পুকুরে মাছ থাকতো । সুতরাং মাছও কিনতে হতোনা ।

এসব কাজ করতে করতে প্রায় দিন রাতের রান্না করতে উনার দেরি হয়ে যেতো । আমার মনে আছে ক্ষুধা পেটে কাঁদতে কাঁদতে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি । আমার মা ঘুমন্ত আমাকে জাগিয়ে মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিয়েছেন । প্রায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েছি । কিন্তু মার কাথা সেলাই চলতো কুপির টিমটিমে আলোতে । উনি কখন ঘুমোতেন আমার জানা নেই । আদৌ ঘুমোতেন কিনা সে ব্যাপারেও সংশয় প্রকাশ করা যেতে পারে । কারণ, সকালে উঠে মাকে পাশে দেখতাম না যে । উনি তখন গোবর দিয়ে ঘর লেপায় ব্যস্ত ।

আমার কৈশোর কেটেছে খুলনার খালিশপুর শহরে । জন্মদাতা মারা যাওয়ার ২ বছর পরেই আমরা শহরে চলে আসি । বড়ভাই তখন ব্যবসা করে কিছুটা থিতু হয়েছেন । আমার বাপ চাচা জুট মিলের চাকরীর সূত্রে খুলনা আসেন । তো খুলনায় আমাদের পাশের বাড়িটা ছিল মেঝ চাচার । আসলে বাড়িগুলোর কোনটার ভেতরে বাইরে বাউন্ডারি ছিলোনা । সীমানা নির্ধারক হিসেবে চিহ্নিত হতো পাশাপাশি একতলা বিল্ডিঙের মাঝের দেয়াল । একটাই দেয়ালের এপাশের অংশে একবাড়ির শোবার ঘর তো ওপাশের অংশে হয়তো বসার ঘর ।

এই কাঁটাতার, দেয়াল, সীমানা প্রাচীর না থাকায় আমরা যারা বাচ্চা কাচ্চা ছিলাম তাদের বেশ সুবিধা হতো । আমাদের কাছে সবগুলো বাড়িকে মনে হতো আমাদের খেলাধুলার ময়দান । দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, সাতচাড়া, কিতকিত ( এটার প্রমিত বাংলা যে কী জানা নেই ), চোখবাধা ( আমরা বলতাম পলাপলি খেলা ), লাটিম, মার্বেল এমন আরও কতো শত যে খেলা ছিল আর মনে করতে পারছি না । আর পাশের মিলের মাঠে চলতো ফুটবল খেলা । ক্রিকেট এলো তো সেদিন – ৯৭ সালে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জেতার পর ।

একগাদা চাচাত,খালাত, পাড়াতো বোন ভাই মিলে খেলায় মেতে থাকতাম । যেখানে খেলা সেখানে মারামারি, ঝগড়া ঝাটি হবেনা তা কী করে হয় ? আমাদের মারামারি মা, খালা, চাচীদের দিনভর ঝগড়ার যোগান দিতো। আমার চাচি ছিলেন একচোখা ( ক্ষমা করবেন চাচি ! ), উনার সন্তানদের প্রতি অধিক স্নেহ ছিল অন্ধত্বের পর্যায়ে । উনি কোনোদিন উনার সন্তানদের দোষ খুঁজে পাননি । কিন্তু আমার মা আমার দোষ খুঁজে পেলে শাসন করতে বিন্ধুমাত্র কসুর করতেন না । মা কোনোদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন নি । উনার আওতার মধ্যে যতটুকু সীমানা ছিল তার ভেতরে দাঁড়িয়ে উনি প্রতিবাদ করেছেন । শুধু কী মা বড়দা, সেঝদা কেউ ছাড় দিতেন না । প্রচুর মার খেয়েছি ছোট বেলায় ।

পাঠক হয়তো ভাবছেন আমি এসব কেন লিখছি ? লেখার মূল উদ্দেশ্য এখন বলবো । উপরের অংশটুকু গৌরচন্দ্রিকা । আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই মূলত প্রতিবাদ করার প্রাথমিক রসদ পেয়েছি । এরপর সেই রসদ সহস্রগুনে বাড়িয়ে নিয়েছি ভার্সিটিতে পড়াকালীন সংগঠন করে । বলতে দ্বিধা নেই ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পেয়েছি সাহস । দলবাজ, টেন্ডারবাজ, হল দখলকারী, চাঁদাবাজ, লেজুড় ছাত্র সংগঠন বলতে আপনারা যা বোঝেন আমাদের বামধারার ছাত্রসংগঠন তেমনটি নয় । ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের সাথে টোটাল ছাত্র সংগঠন কে গুলিয়ে ফেললে চরম ভ্রান্তি ছাড়া কিছুই পাবেন না । আমি ঢালাওভাবে বলছিনা বাম ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনে ভালো ছাত্রদের একেবারে অংশগ্রহণ নেই । তবে যেহেতু ওই সংগঠন গুলোর মূল এজেন্ডা থাকে মূল দলের লাঠিয়াল ( অস্ত্রবাজ ) হিসেবে কাজ করা ( অন্তত আশির দশকের পর থেকে ) সুতরাং দু একজন ভালো লোক থাকলেও তা দীঘির জলে একফোঁটা শিশির ছাড়া আর কিছুই নয় ।

এবার আসি ঘটনায় । আমি গত এক বছরে ফেসবুকিং এবং ব্লগিং করে বেশকিছু ভালো বন্ধুর সন্ধান পাই। কয়েকজনের নাম বিশেষ করে উল্লেখ করে বছরের প্রথম দিনে আমি একটা স্ট্যাটাস দেই । হ্যাঁ, আপনাদের বলছি, মনে না পড়লে আমার ফেসবুকের পুরনো পৃষ্ঠাগুলোতে একটু ঘুরে আসলেই পাবেন । তো, মতাদর্শগত ভিন্নতা সত্ত্বেও ( তারমানে জামাত – শিবির – ছাগু না ) তাদের সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয় । অনলাইনের সীমানা পেরিয়ে আড্ডা শুরু হয় শাহাবাগে, ছবিরহাটে । জীবনটাকে মনে হতে থাকে ভীষণ দামী । তাদের ক্ষুরধার লেখনী, মৌলিক চিন্তা, পরিকল্পনা সব মিলিয়ে আমার ধারণা পালটে যায় যে, কেবল বাম ঘরানার ছেলেমেয়েরাই উদার, উন্নত, অগ্রসর চিন্তা করার ক্ষমতা রাখে বিষয়টা এমন না । উৎকৃষ্ট মেধা ভিন্ন দল করে বা না করেও অর্জন করা যায় । এবং অন্যদলের সমর্থক হয়েও নিজ দলের খারাপ কাজের সমালোচনায় মুখর হওয়া যায় ।

আমি এমনটি জানতাম । আমার জানা যে মাঝে মধ্যে হোঁচট খেতো না এমনও নয় । তবু সেসব ইগনোর করে গেছি এই ভেবে যে, দলের প্রতি একটু বেশি ভালোবাসা থাকতেই পারে । কিন্তু কখনো ভাবিনি তাদের ভালবাসা আমার চাচির মতো অন্ধ । কখনো কল্পনাও করিনি তাদের ভালবাসার পরিধি এতো বেশি যে প্রাণের জাতীয় সংগীত গেয়ে রেকর্ড করার আয়োজনে ইসলামী ব্যাংকের টাকা গ্রহণ করার অনৈতিক, অবিবেচক সিদ্ধান্তকেও তারা জায়েজ করতে চাইবে ফালতু কথা বলে । যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ এধরণের কাজকে সমর্থন করে তার বা তাদের সাহচার্য কাহাতক ভালো লাগতে পারে ভাবনার বিষয় বটে । অপরদিকে তার বা তাদের উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে সেসবও বিবেচনায় চলে আসা স্বাভাবিক ।

সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় বাংলা ব্লগে এই গ্রুপটির ( দ্বিধাহীন চিত্তেই বলছি এই গ্রুপের আমিও একজন সদস্য ছিলাম ) একজন শক্তিমান ব্লগারকে কারণ দর্শানোপূর্বক অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যান করা হয় । সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি একটি খোঁচা মারেন যা মডারেশন প্যানেলের কাছে ব্যান করার মতো অপরাধ বলে বিবেচিত হয় ।

আমার প্রতি উনারা গোস্বা হন কেন আমি শক্তভাবে এর প্রতিবাদ না করে উলটো শক্তিমানের বিপক্ষে অবস্থান নিলাম । এইখানে আমার একটা প্রশ্ন রইলো বন্ধুত্বের সীমানা কতদূর আমাকে বলতে পারেন ?

এবার আসেন আরও কিছু উদাহরণের সহযোগিতা নেই । আমার রাহাত মুস্তাফিজ নিক ছাড়াও আরও দুইটা নিক আছে যা আমি সিক্রেট রাখতে চেয়েছি । নিকদুটো এই কারণে যে, জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করা । বলাবাহুল্য এই প্রায় ধর্মান্ধ দেশে বাস করে স্বনামে ওসব বিষয়ে লেখালেখি করাটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ! ঝুঁকিটা আমাদের ফারাবীদের নয় , এটাই রুঢ় বাস্তবতা ! নিকদুটো খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে যায় । ব্যাপারটা শক্তিমানের নজরে আসে । তিনি উঠে পড়ে লাগেন কে এই নিকধারী । তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর লাগানো শুরু করেন । বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দেন আইপি সনাক্ত করার জন্য । সেইসাথে পীড়াপীড়ির চরমে নিয়ে যান আমাকে । নানান উৎস থেকে স্ক্রিনশট এনে প্রমাণ করার চেষ্টা চালান যে নিকটি আমার । আমি দেখলাম একে এখনই নিবৃত্ত করতে হবে । মেজাজ খুবই খারাপ হয়েছিলো বলতে দ্বিধা নেই । তথাপি যেহেতু তাকে বন্ধুর স্থানে বসিয়েছি এবং তাকে ঘিরে আমাদের একটা চমৎকার বন্ধুত্বের বলয় সৃষ্টি হয়েছে সুতরাং এটার স্বার্থে আমি নিজে থেকে তার কাছে বিষয়টি ওপেন করি।

আমার প্রশ্ন ওই নিকটি উনার কী কী ক্ষতি করেছিলো ? উনি কেন এই রহস্য ভেদ করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন । যেহেতু ইতোমধ্যে আপনাদের গ্রুপের সবাই জেনে গেছেন, নিকটির মালিক এই অভদ্রলোক দয়া করে একটু ঘুরে আসুন ওখানে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এমন কী কী লেখা আছে ?

আপনারা আমার কাছে কী চেয়েছিলেন, যে কোন ব্যাপারে জী হুজুর , জী স্যার করবো ? আমার ভিন্নমত থাকতে পারবে না ? আমি সেটা বলতে পারবো না ? কেউ অন্ধের মতো আচরণ করলে তাকে অন্ধ বলতে পারবো না ?

দেখুন আপনাদের ক্ষুদ্রতা , সীমাবদ্ধতা এইবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবো । আপনাদের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে আমাকে আপনারা ছুঁড়ে ফেলেছেন । শুধু তাই না আমাকে বানিয়ে দিয়েছেন মডারেশন প্যানেলের একজন । অর্থাৎ আমি সেই ব্লগের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের একজন না হলে এমন অবস্থান কী করে নিতে পারি ? আপনাদের কাছে অনুরোধ এই ঘটনা প্রসঙ্গে আমার করা কমেন্টগুলো সময় পেলে আরেকবার পড়ে আসুন । আমি চেয়েছি আপনারা ব্লগটি ছেড়ে যাবেন না । শক্তিমান সহ আপনারা ব্লগে থাকুন তাই চেয়েছি । কিন্তু বুঝলেন উলটো – বানিয়ে দিলেন মডারেশন প্যানেলের একজন । আপনাদের সাথে রাহাত মুস্তাফিজের মৌলিক পার্থক্য এখানটাতেই । আপনারা যা ভাবতে পারেন না আমি তা করতে পারি । আপনার কোন কিছু পছন্দ না হলে আপনার মুখের উপর বলে দিতে পারি । পেটের মধ্যে রেখে গ্যাস সৃষ্টি করি না । সেই বাংলা ব্লগটির মডারেশন প্যানেলের কেউ আমার বন্ধু তালিকায় থাকলে একচোট হেসে নিতে পারেন । আমার আসলেই অন্ততপক্ষে একটা ‘ সতর্ক ’ খাওয়া উচিৎ ছিল ব্লগটির পক্ষ থেকে ।

আমি এই কয়েকদিন আগে শিখেছি স্ক্রিন শট কীভাবে নিতে হয় । কিন্তু আপনাদের আইটি নলেজ পাহাড়সম । আমার অনেক কিছুর স্ক্রিন শট হয়তো সংগ্রহ করে রেখেছেন । আমিও আপনাদের অনেক কিছু জানি । কিন্তু আমার কোনদিন স্ক্রিন শটের প্রয়োজন পড়বে না , অন্তত আপনাদের ক্ষেত্রে । নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনাদের কোন কিছুই, কোন উদ্দেশ্যই আমার থেকে লিক হবেনা । আর স্ক্রিন শটের কথাই যদি বলি, বিবেকের চেয়ে বড় স্ক্রিন আর কী আছে বলুন ?

প্রভা – রাজীবের ভিডিওর কথা নিশ্চয়ই আপনাদের জানা আছে ? আমি রাজীবকে ঘৃণা করেছি কেন জানেন ? তাদের ওই অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ছিল তাদের একান্ত ব্যক্তিগত । প্রভা নিশ্চই ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি একদিন তার ভালবাসার মানুষটি এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে । সময়কে সময় দিয়ে বিচার করতে হবে । মুহূর্তের ঘটনা ভবিষ্যতের খারাপ উদ্দেশে নয় ভালো উদ্দেশ্যের জন্য তুলে রাখতে হবে । এটাই মানবিকতা । আমাদের শিক্ষা হওয়া উচিৎ এমনটি ।

আপনাদের উদ্দেশে আমার বিবেক জাগ্রত হয়েছিলো তাই ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস হিসেবে লিখেছিলাম এই লেখাটি । লেখাটি হুবহু তুলে দিলাম – বিবেক তুই তুকারি করতে পছন্দ করে , তাই কিছু মনে নিয়েন না ।

বিবেক কহেন …
( স্বামী বিবেকানন্দ না মশাই ! )

স্বপ্ন দেখা সহজ স্বপ্নপূরণ করা সহজ নয়’রে পাগলা । ধরে নিলাম স্বপ্নপূরণ করলি বটে সেটা টিকিয়ে রাখা যে কী ধৈর্য এবং সাধনার কাজ তা সাধক ভালো জানেন । তবু নতুন কিছু হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত । তবে মনে রাখিস পাগলা, স্বপ্নকে বিনির্মাণ করিস আদর দিয়ে ক্রোধ দিয়ে না । ‘ দেখিয়ে দেবো ‘ মনোভাব যেন তোকে পেয়ে না বসে । আর বৈচিত্র্যের ব্যাপারটা মাথায় রাখিস । একটা বাগানে নানান বর্ণের ফুল ফোটে বলেই বাগান এতো সুন্দর হয়ে ওঠে ।

সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সহনশীল আলোচনাই পারে মননশীল চর্চার বিকাশ ঘটাতে। আমাকে তুই ভালবাসিস ভালো কথা, ভালো বাসতে বাসতে দেবতা বানিয়ে ফেলিস না । দেবতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে, কেউ বলে আকাশে থাকে । আমি অমন দেবতা হতে চাইনা কখনো যে এতো আরাধনা করা সত্ত্বেও অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির অভিশাপে জীবনকে জর্জরিত করে ফেলে । আমি এই পৃথিবীর বুকেই থাকতে চাই । মানুষের মাঝে থাকতে চাই তাদের একজন হয়ে । তোকে আমি কখনোই আমার চিন্তার দাস হতে দিতে পারিনা । তোর নিজস্ব মত থাক বিশ্লেষণ কর তোর নিজের মতো করে । নতুন চিন্তা করতে শেখ ।

গুণের একাটা বিখ্যাত কবিতার লাইন এমন – ‘ দুই কে আমি এক করিনা এককে করি দুই ‘ । আমি দুইকে এক করার পক্ষপাতী । প্রতিটি মানুষের ভেতরে ভালো কিছু না কিছু আছে । আর একজন মানুষকে তার মুহূর্তের ভুল দিয়ে সমগ্র মানুষটাকে বিচার করিস না । তার সাথে যাপিত সময়ের কথা মনে রাখিস । আমরা কেউ তথাকথিত মহাপুরুষ না, তাই ক্ষুদ্রতা, সঙ্কীর্ণতার উর্ধে না । অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে গিয়ে দেখিস বড় অন্যায় ঘটিয়ে ফেলিস না , তাহলে সারাজীবন সেই যন্ত্রণা তোকে পুড়াবে । অবশ্য যদি তুই প্রকৃত মানুষ হয়ে থাকিস ।

আমি বিশ্বাস করি আপনাদের মধ্যে বেশিরভাগ আমাকে ভীষণ মিস করছেন । আমাকে ভুল বুঝে একটা অকারণ দুঃখ পুষে রেখেছেন । সত্যি কী জানেন, আপনাদের ছেড়ে আমিও খুব ভালো নেই । কিন্তু কী করবো বলুন – সেই কবিতার লাইনটি মনে পড়ে যাচ্ছে –

‘ আপোষ করিনি আমি এই হলো ইতিহাস … ’

যেহেতু মা’র কথা দিয়ে শুরু করেছি ,মা’র কথা বলেই শেষ করবো । মা, চাচি,খালাদের মধ্যে যখন ঝগড়া ঝাটি শুরু হতো তখন আমার মা’কে দেখেছি একদম চুপ হয়ে যেতে । আর সেই দিনব্যাপী ঝগড়ার সময় আমি কী করতাম জানেন ? চুপটি করে বাসা থেকে বের হয়ে বাসার পাশের বিশাল মাঠের বেঞ্চিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম । নিজের মনের অবোধ দুঃখগুলো মাঠের ঘাসে ছড়িয়ে দিয়ে ঘরে ফিরে আসতাম ।

এখন আমার মাঠ নেই । তাই দুঃখগুলো ছড়িয়ে দিতে পারিনা সবুজ ঘাসের গালিচায় …

২৭ thoughts on “” তোকে, তোমাকে, আপনাকে … ”

  1. আপনার কথাগুলো একেবারে
    আপনার কথাগুলো একেবারে অযৌক্তিক ও অর্থহীন হয়েছে এমনটা বলবো, অতটুকু অবিবেচক অন্ততঃ আমি নই ।

    ভাল বলেছেন মুস্তাফিজ ভাই ।
    সাধুবাদ ।

  2. সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে

    সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সহনশীল আলোচনাই পারে মননশীল চর্চার বিকাশ ঘটাতে। আমাকে তুই ভালবাসিস ভালো কথা, ভালো বাসতে বাসতে দেবতা বানিয়ে ফেলিস না । দেবতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে, কেউ বলে আকাশে থাকে । আমি অমন দেবতা হতে চাইনা কখনো যে এতো আরাধনা করা সত্ত্বেও অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির অভিশাপে জীবনকে জর্জরিত করে ফেলে । আমি এই পৃথিবীর বুকেই থাকতে চাই । মানুষের মাঝে থাকতে চাই তাদের একজন হয়ে । তোকে আমি কখনোই আমার চিন্তার দাস হতে দিতে পারিনা । তোর নিজস্ব মত থাক বিশ্লেষণ কর তোর নিজের মতো করে । নতুন চিন্তা করতে শেখ ।

    খুব ভাল লিখেছেন।

  3. পুরো লেখাটা আমি দুইবার পড়লাম।
    পুরো লেখাটা আমি দুইবার পড়লাম। বিশেষ কোন মুহুর্ত ছাড়া এত আবেগ দিয়ে লেখা সহজেই লিখা যায় না।

    এখন আমার মাঠ নেই । তাই দুঃখগুলো ছড়িয়ে দিতে পারিনা সবুজ ঘাসের গালিচায় …

    এ ক্ষেত্রে আমি কল্পনায় সবুজ ঘাসের মাঠ বানিয়ে নিই। তারপর ঘাসের গালিচায় ছড়িয়ে দেই দুঃখগুলোকে এবং প্রিয় কবি নির্মেলেন্দু গুন’র মত নিজেকে নিজে বলি- ‘দুঃখ করোনা, বাঁচো!

  4. সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে

    সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সহনশীল আলোচনাই পারে মননশীল চর্চার বিকাশ ঘটাতে। আমাকে তুই ভালবাসিস ভালো কথা, ভালো বাসতে বাসতে দেবতা বানিয়ে ফেলিস না । দেবতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে, কেউ বলে আকাশে থাকে । আমি অমন দেবতা হতে চাইনা কখনো যে এতো আরাধনা করা সত্ত্বেও অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির অভিশাপে জীবনকে জর্জরিত করে ফেলে । আমি এই পৃথিবীর বুকেই থাকতে চাই । মানুষের মাঝে থাকতে চাই তাদের একজন হয়ে । তোকে আমি কখনোই আমার চিন্তার দাস হতে দিতে পারিনা । তোর নিজস্ব মত থাক বিশ্লেষণ কর তোর নিজের মতো করে । নতুন চিন্তা করতে শেখ ।

    চমৎকার। এই কথাগুলো আমাদের সবারই ভাবা উচিত। অসাধারণ একটা পোস্ট পড়লাম।

  5. একটা সম্পর্ক তৈরি হতে কতো
    একটা সম্পর্ক তৈরি হতে কতো দিন, কতো মাস, অনেক সময় বছর লেগে যায়। অথচ ভাঙতে? এক মুহুর্তই যথেষ্ট। খুব অবাক হই আমি… খুব অবাক হই…

  6. আপনার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা
    আপনার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো ।
    উনার শারিরিক সুস্থতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করি ।

  7. সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে

    সকল মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সহনশীল আলোচনাই পারে মননশীল চর্চার বিকাশ ঘটাতে। আমাকে তুই ভালবাসিস ভালো কথা, ভালো বাসতে বাসতে দেবতা বানিয়ে ফেলিস না । দেবতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে, কেউ বলে আকাশে থাকে । আমি অমন দেবতা হতে চাইনা কখনো যে এতো আরাধনা করা সত্ত্বেও অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির অভিশাপে জীবনকে জর্জরিত করে ফেলে ।

    শুরুতেই বলি পুরো লেখাটা পড়ে আপনাকে দেবতা বানিয়ে ফেলাও অসম্ভব কিছু না। কি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ব্যাপারগুলো। এই পুরো লেখাটা কতটা সময় নিয়ে, কতটা শ্রম দিয়ে লিখেছেন তা পুরোটা না বুঝলেও কিছুটা অনুমেয়। কেননা এমনটা সব সময়েই ভাবি, কিন্তু লেখা হয়ে ওঠে না। গ্যাস হয়ে যায়, বলতে চেয়েও থেমে যাই। গুলিয়ে ফেলি, এলোমেলো হয়ে যায়। অনেক অনেক বেশি জমে গেছে কথাগুলো তাই লিখতে গেলে সব একসাথে বেরিয়ে আসতে চায় বলে, উগলে ফেলি।

    এবার চলুন ভালোবাসাটা কমাই, দেবতা না বানিয়ে আপনার ইচ্ছা পূরণ করি।

    সুতরাং দু একজন ভালো লোক থাকলেও তা দীঘির জলে একফোঁটা শিশির ছাড়া আর কিছুই নয় ।

    এই লাইনগুলো মেনে নিতে কষ্ট হয়। কেন জানেন? আমি যেই সাহস পেয়েছি তা ছাত্রলীগ থেকে পেয়েছি, চাঁদাবাজি বন্ধ, রাজপথে এসে দাঁড়ানো, নির্যাতন স্বত্ত্বেও প্রতিবাদ করা এসব ঐ ছাত্রলীগ থেকে পেয়েছি। এখন সকলেই দূর্নাম করে, অথচ পেছনটা কেউই মনে করে না। বিশেষ করে যখন প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হতাম আমরা। খুব অল্প বয়সেই রাজপথে পা ফেলেছিলাম ছাত্রলীগের হাত ধরে। মনে পড়ে হাফ প্যান্ট পড়েও ডান্ডার বাড়ি খেয়েহি বহুবার আন্দরকিল্লার মোড়ে, চট্টলার বহু রাজপথে। প্রবল ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও এলাকায় কখনোই সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি, বরং সেই ক্ষমতা দিয়ে অসহায়দের পাশেই ছিলাম। কেন আমাদের এইসকল ত্যাগগুলো শিশির বিন্দু হবে? আমার সাথে যারা এলাকার রাজনীতিতে জড়িত, গর্বের সাথেই বলতে পারি আমরা কেউই ভোগের রাজনীতি করিনি। তাহলে বলুন কেন আমার রাগ হবে না?

    মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে চিৎকার করে বলি

    আপনারা আমার কাছে কী চেয়েছিলেন, যে কোন ব্যাপারে জী হুজুর , জী স্যার করবো ? আমার ভিন্নমত থাকতে পারবে না ? আমি সেটা বলতে পারবো না ? কেউ অন্ধের মতো আচরণ করলে তাকে অন্ধ বলতে পারবো না ?

    কিন্তু পারি না, কেননা

    আমি দুইকে এক করার পক্ষপাতী । প্রতিটি মানুষের ভেতরে ভালো কিছু না কিছু আছে । আর একজন মানুষকে তার মুহূর্তের ভুল দিয়ে সমগ্র মানুষটাকে বিচার করিস না । তার সাথে যাপিত সময়ের কথা মনে রাখিস । আমরা কেউ তথাকথিত মহাপুরুষ না, তাই ক্ষুদ্রতা, সঙ্কীর্ণতার উর্ধে না । অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে গিয়ে দেখিস বড় অন্যায় ঘটিয়ে ফেলিস না , তাহলে সারাজীবন সেই যন্ত্রণা তোকে পুড়াবে । অবশ্য যদি তুই প্রকৃত মানুষ হয়ে থাকিস ।

    কথাগুলো বিশ্বাস করি। মানুষকে বড় বেশি বিশ্বাস করি…..

    এখন আমার মাঠ নেই । তাই দুঃখগুলো ছড়িয়ে দিতে পারিনা সবুজ ঘাসের গালিচায় …

    1. সুমিত,
      মজার ব্যাপার কী জানেন

      সুমিত,
      মজার ব্যাপার কী জানেন , যারা বেরিয়ে গেছে তাদের মধ্যে দুএক জনকে আমি একসময় ভাবতাম যে তারা লীগার হলেও দলকানা, অন্ধ নয় । কিন্তু আপনাকে চরম দলকানা হিসেবে জানতাম । ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে প্রথম আপনার সম্পর্কে আমার ধারণা কিছুটা পালটালো ।

      আর ছাত্রলীগের ৫২ – ৭১ পর্যন্ত গৌরবময় ইতিহাস আমি কখনোই অস্বীকার করিনা । এমনকি ৮০’র দশকের ভুমিকাও কমগুরুত্বপূর্ণ মনে করিনা । কিন্তু এর পরের ইতিহাস আমার কাছে দুঃস্বপ্ন ! টোটাল ছাত্ররাজনীতি ধংস হয়ে গেছে, ধংস করে দেয়া হয়েছে । বাম সংগঠনগুলো চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে । কিন্তু ছাত্রলীগের অবস্থা আপনি ভালো জানেন । তারা নিজেরা মারামারি করে মরছে । আর চিহ্নিত শত্রুদের হাতে তো মার খাচ্ছেই । সুযোগ পেলে তারাও প্রতিশোধ নিচ্ছে । এই তো অবস্থা !!!

      সে যা হোক, একটা নৈতিক অবস্থান থেকে ইস্টিশনের পক্ষ নিয়েছি । আমি মনে করি আমার অবস্থান ঠিক আছে । তাদের ছেলেমানুষি আচরণ মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি ।

      আর আমি বিশ্বাস করি শক্তির সঠিক ব্যবহার করা উচিৎ । তারা এই ইস্টিশনের সৃষ্টি । ইস্টিশন যদি কোন ভুল স্টেপ নিয়েও থাকে তাদের উচিৎ ছিল একটু সময় নেয়া, একটু ভাবা, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা উচিৎ ছিল চিন্তা ভাবনা করে । ওদের সবাইকে দোষ দেই না । নৈকট্য কখনো কখনো সর্বনাশ ডেকে আনে,অন্ধভক্তি চলে আসে, কেউ কেউ নিজেকে দেবতার আসনে বসিয়ে ফেলেন । ওই আসনটি খুব লোভনীয় ! সবাই পারেনা সেই লোভ সংবরণ করতে । আমি লোভ সংবরণ করে হয়েছি বিতাড়িত আর কেউ কেউ ঠিকই দেবতার অর্ঘ নিয়ে সুখে আছেন । কিন্তু, দেবতার দেবত্ব টিকিয়ে রাখতে নানান ছল চাতুরির আশ্রয় নিতে হয় । চাতুরি ধরা পড়লে দেবালয় ধংস হতে মুহূর্তকালও লাগে না ।

      আমি জানিনা, চক্ষু কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন হতে কতো সময় লাগবে । ততদিন তারা অর্জিত শক্তির সঠিক ব্যবহার করুক । শত্রু – মিত্র সনাক্ত করতে শিখুক । ওদের ভালো হোক ।

      লেখাটি হৃদয় থেকে উৎসারিত, তাই হয়তো আপনার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে । মানুষের সময় খুব বেশি দিনের নয়, সবারই উচিৎ এই অল্পসময়ে প্রাপ্ত সুখটুকু প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে উপভোগ করা । আপনার চমৎকার বিশ্লেষণাত্মক কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ !

      1. ছাত্র রাজনীতির আজকের এই
        ছাত্র রাজনীতির আজকের এই অবস্থার জন্য আমরা সকলেই যার যার অবস্থান থেকে দায়ী। এই জন্যেই দায়ী আমরা তুলে ধরি না ইতিহাসগুলো। সে খারাপ করেছে এই দোষে তাকে অনবরত চাপ দিয়ে দিয়ে আরো বখে তুলি।

        যাদের উপর আমাদের আস্থা, ভরসা এসব আছে তাদের যেমন সমালোচনা করবো তেমনি প্রশংসাও করব। আমাদের উচিত সমালোচনাগুলো যেন গঠনমূলক হয়। আজকের দিনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কথা বললেই যেইসকল ট্যাগ চলে আসে তা কিন্তু এক দিনে আসে নাই। দিনে দিনে প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে এই ট্যাগসমূহ আসতে থাকে এবং এখন এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে তা অসহনীয় পর্যায়ে। এটাও সত্য যে এইসকল ট্যাগ দেওইন্যারা অতি উৎসাহী সুযোগসন্ধানী। এরা সুখ পাখি, সময় হলেই দেখবেন এরা লীগ ছেড়ে দলে যেতে দ্বিধা করবে না।

        চাতুরি ধরা পড়লে দেবালয় ধংস হতে মুহূর্তকালও লাগে না ।

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  8. খুব সুন্দর লিখেছ । আগেই পড়েছি
    খুব সুন্দর লিখেছ । আগেই পড়েছি । তখনো বলেছিলাম সঙ্গে আছি, সমর্থনে আছি… এখোনো তাই । দ্রুত মন ভালো হোক তোমার । বন্ধুরা ফিরে আসুক জীবনে , ভুল বোঝাবুঝির শেষ হোক।।এই কামনা রইল । বেশি কিছু তো ভার্চুয়ালিটিতে দেওয়া যায় না ।
    অনেক শুভ কামনা প্রিয় লেখকের জন্য । :ফুল: :ফুল: :ভালাপাইছি:

  9. আপনার ফেসবুকে করা একটি
    আপনার ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় এখানেও দিলাম-
    রাহাত ভাই, আজ যারা আপনার বিরুদ্ধে লেগেছে জানবেন একদিন ওদের অনেকেরই ভুল ভাঙবে। আমি চুপ হয়ে গেছি এই ইস্যুতে কেন জানেন? কারণ মানুষের নোংরামি দেখতে আজকাল ক্লান্ত লাগে। কেউ যখন ঈশ্বরবাদীতার বিপক্ষে সারাজীবন গলাবাজি করে নিজেই ঈশ্বর রূপে আবির্ভুত হয়, তখন তাকে/তাদের আপনি কি বুঝাবেন? তাই বলে আপনি কেন থেমে যাবেন? প্রশ্নই আসেনা। সেই শিক্ষা আমি পাইনি এবং আপনাকে যতটুকু চিনেছি আপনিও এর ব্যতিক্রম নন। তাই এই শহরে আপনার কোন বন্ধু নেই কথাটা ভুল, চরম ভুল। আমি আজীবন জীবনে একটি ফিলসফি মেনে চলার চেষ্টা করেছি, অহেতুক কাউকে শত্রু না বানানো। কারণ মানুষের ক্ষমতা আসলে অসীম। আমরা নিজেরাই নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলি সংকীর্ন সসীমে। কিন্তু তাই বলে কেউ ইশ্বর হতে চেষ্টা করলে তাকে মেনে নিতে হবে সেটাও ভাবলে ভুল। তাই প্রাণে প্রাণ মেলানোর এই যাত্রাপথ এখানেই যারা থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা আদৌ কিছু বুঝে করেছে, নাকি হুজুগে সেটা সময়ই বলে দেবে। দেখা হবে প্রাণে প্রাণ মেলানোর যাত্রাপথে…

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই ,
      ওদেরকে আর

      ধন্যবাদ আতিক ভাই ,
      ওদেরকে আর কী বোলবো , মিনিমাম রেস্পেক্ট সেন্স যাদের নাই তাদের দিয়ে হিংসা এবং অশ্বডিম্ব উৎপাদন ছাটা আর কিছুই করা নেই । তবুও বলি, ওদের ভালো হোক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *