কিছু জন্মান্ধ সুশীল কিছু দলকানা রাজনীতিবিদ এবং একজন তারেক রহমান প্রসঙ্গ।

খুব বেশিদিন হয় নাই, এই মাত্র কয়েকদিন আগে এক অনুষ্ঠানে একজন মন্ত্রি মহোদয়ের উপস্থিতিতে একজন শিক্ষক ছাত্রলীগের ছেলেদের চাকরি বিষয়ক একটি অন্যায্য প্রস্তাব করে আলোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন। তিনি অন্ধ আবেগের বশীভূত হয়ে ছাত্রলীগের ছেলেদেরকে তাদের সার্টিফিকেটের চেয়ে পিঠের দাগকে বিবেচনায় এনে চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ উত্থাপন করেছিলেন। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটি অনৈতিক এবং পক্ষপাতদোষেদুষ্ট একটি প্রস্তাব যা কারো পক্ষেই মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং আওয়ামী ঘরানার সমর্থক বটে, লাল নীল হলুদ সবুজ ইত্যাদি নানা রংবেরঙের যে প্যানেলগুলো শিক্ষকদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত করে ইনি তাদের একজন মহামান্য সভ্য। এই শিক্ষকটি দলের অনুকম্পা ও অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় ও স্থানীয় ছাত্রলীগের কথিত “অভিভাবক” হওয়ার লোভে তোষণ নীতি অবলম্বন করেছিলেন, তার বক্তব্য হতে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

যা হোক, তার এই বক্তব্যকে তাৎক্ষনিক ভাবে প্রতিবাদ করেন স্বয়ং মন্ত্রী নিজে। তিনি ঐ শিক্ষকের কথার সমালোচনা করেন এবং বলেন যে ছাত্র লীগের ছেলেদের অবশ্যই মেধার ভিত্তিতেই চাকরি জোগাড় করতে হবে, এর কোন বিকল্প সুপারিশ গ্রহন করা হবে না।

অনলাইনে এবং অফলাইনে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কিছু জন্মান্ধ সুশীল মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যকে উহ্য রেখে ঐ শিক্ষকের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিতে থাকেন এবং ঐ শিক্ষকের বানী-ই যে আওয়ামীলীগের সমস্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একমাত্র প্রমাণ তা সাব্যস্ত করতে উঠে পড়ে লাগেন। তাদেরকে বার বার মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যটুকু স্মরণ করে দেওয়া হলেও তারা চোখ কান বন্ধ রেখে জাত গেল জাত গেল রবে আকাশ পাতাল ভারি করে তোলেন।

এখন সে কথা থাক।

অধুনা আরেকটি নতুন ইতিহাস আবিস্কার করা হয়েছে। কোন বধ্যভূমিতে কতদিন যে এই ইতিহাস মাটিচাপা পড়ে ছিল তা কেউ বলতে না পারলেও তারেক রহমান সাহেব এই ইতিহাস খানা উদ্ধার করতে পেরেছেন এটাই বড় কথা। এই ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি! তিনি লন্ডনে বসে এই আবিস্কারের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এ দেশের সুশীল সমাজ তাহা গলাধকরন করে একবারে অন্দরে চালান করে দিয়েছেন। অন্তত তাদের এই নিশ্চুপ নিরবতা এই ধারনাকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে। অনলাইন এবং অফলাইনের সুশীল বুদ্ধিজীবীরা যদি এ ক্ষেত্রে একটু ঝেড়ে কাশতেন তবে নিত্যনতুন ইতিহাস উদ্ধারের খেলাটা হয়তো আরও একটু জমে উঠত।

ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকানো যাক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আগে সর্বমোট সাতজন রাষ্ট্রপতি শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন অর্থাৎ জিয়াউর রহমান সাহেব ছিলেন অষ্টম রাষ্ট্রপতি। তারেক রহমান সাহেব এক ভেল্কি দেখিয়ে সাতজনকে ডিঙ্গিয়ে জিয়াউর রহমান কে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে ঘোষণা করলেন আর অমনি কিছু দলকানা রাজনীতিবিদ ও জন্মান্ধ শুষিলরা ইতিহাসের বই বগলদাবা করে গর্তে ঢুকে পড়লেন। বক্তব্যের সাফাই গাইতে হলে তো আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চাই! আশা করা যায়, তারা গর্ত হতে গাত্রোত্থান করলে সামনের দিনগুলিতে এ রকম চমক আরও দেখা যাবে।

আসুন, একনজরে বাংলাদেশের সবগুলো রাষ্ট্রপতি ও তাদের শাসন কালের মেয়াদ দেখে নেই,

০১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১১ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২)
০২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে (১২ এপ্রিল, ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২)
০৩. আবু সাঈদ চৌধুরী ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩)
০৪. মোহাম্মদউল্লাহ (২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩- ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫)।
০৫. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫)
০৬. খন্দকার মোশতাক আহমেদ (১৫ আগস্ট ১৯৭৫-৬ নভেম্বর ১৯৭৫)
০৭. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (৬ নভেম্বর ১৯৭৫- ২১ এপ্রিল ১৯৭৭)
০৮. জিয়াউর রহমান (২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে এবং তিনি ৩১ মার্চ ১৯৮১)

এখানে একটি বিষয় অপরিষ্কার যে, তারেক রহমানের ভাষ্যমতে জিয়াউর রহমান সাহেব যদি প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়ে থাকেন তবে ইতিহাসের কোন কানাগলিতে পূর্বের সাতজন রাষ্ট্রপতিকে তিনি হাপিস করে দিলেন? নাকি ঐ সাতজন রাষ্ট্রপতি কোন কালেই ছিলেন না, নাকি মাঝের ঐ সময়টুকু ব্লাক হোলে হারিয়ে গেছে?
তারেক রহমানের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ। সাতাত্তর পূর্ববর্তী সময় বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময়কে কৌশলে অস্বীকার করার এই হীন প্রচেষ্টাকে এখনই রুখতে না পারলে ইতিহাস বিকৃতির দায়ভার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম এক্ষণ যে দ্বিধাদন্দে ভুগছে ভবিষ্যতে তার সাথে এ রকম আরও কিছু ইস্যু জুড়ে দিতে পারলেই তাদের মাথা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

আবার পিছনে ফিরে যেতে চাই।

খুব বেশিদিন হয়নি, খালেদা জিয়া তার এক বক্তব্যে বললেন আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা নয়, তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়ে দিন কাটিয়েছে আর সত্যিকারের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা হলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা, তারাই দেশে থেকে পাকিস্তানী শত্রুদের মোকাবেলা করে দেশ স্বাধীন করেছে। খুব ভাল কথা, তো ঐ সব সত্যিকারের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা আজ কোথায়? তারা কেন মুখে কুলুপ এঁটে “তামশা” দেখছেন? তাদের পক্ষ থেকে একটা বিবৃতি দিলে দেশবাসী আরও অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পারতো। নাকি, জাতীয়তাবাদী “ওম” পেয়ে তারাও অতীত ইতিহাস ভুলে গেছে? এরাই কি সেই সত্যিকারের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা? না, একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ওদের পাশেই মানায়!

ক্ষমতায় এসেই জিয়াউর রহমান সাহেব আর্মি কোর্টে হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা আর ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে অগুনতি মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। যে মুক্তিযোদ্ধারা তার কথা মেনে নেয় তারা বেঁচে যায় এবং তারাই আজ রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচিত, যারা তার কথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে আর যারা পালিয়ে বাঁচেন তাদের কেউ কেউ এখন সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মুক্তিযোদ্ধার খেতাব গলায় ঝুলে নিয়ে বেড়ান। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেই দমন নিপীড়ন শুরু করেন এবং নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য পাকিস্তান এবং আমেরিকাপন্থী শক্তিগুলোর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সরকার-ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের শর্তে তাকে সহযোগিতা করতে থাকে ফলে তৎকালীন রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যম্ভাবীভাবে পাকিস্তানপ্রেমি হয়ে ওঠেন। আজ তারা চুপ করে থাকবেন, এতে সম্ভবত আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নাই।

শুনছি খালেদা জিয়াও তারেক রহমানের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে একই বক্তব্য জানিয়েছেন। দিতেই পারেন, মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন কতকিছুই তো বলে!খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী শক্তির পুচ্ছে যে অনির্বাণ অগ্নি ধরে গেছে তা টের পেলে তো এরকম বক্তব্য আসবেই। প্রকাণ্ড জাহাজ চোখের সমুখে ডুবে গেলে যাত্রী শেষ ভরসা হিসেবে পাটাতনের ক্ষুদ্র কাঠখণ্ডকেই আশ্রয় করে বাঁচার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের কথা ভাবছি না, কিন্তু যে মুক্তিযোদ্ধারা রাজনীতির মোহে পড়ে, যে সুশীলেরা চাইরানা আটআনার লোভে পড়ে, দলকানা রাজনীতিবিদেরা ধামাধরা প্রবৃত্তি অক্ষুণ্ণ রেখে চোখে ঠুলি পরে থাকবেন তাহাদের সমুখে এক তারেক রহমান কি বলল বা কি না বলল তাতে কি যায় আসে?

জয় বাবা ভোলানাথ!

১২ thoughts on “কিছু জন্মান্ধ সুশীল কিছু দলকানা রাজনীতিবিদ এবং একজন তারেক রহমান প্রসঙ্গ।

  1. শুধু কী তারেক রহমান, বেগম
    শুধু কী তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, সাদেক হোসেন খোকা, রফিকুল হক মিঞা এখন এই মিথ্যাচারকে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে লাগছেন।
    তাদের অবস্থা দেখে মনে হয় আসলেই পাগলেরা সবাইকেই পাগল ভাবে…

    1. আর অমনি কিছু দলকানা

      আর অমনি কিছু দলকানা রাজনীতিবিদ ও জন্মান্ধ শুষিলরা ইতিহাসের বই বগলদাবা করে গর্তে ঢুকে পড়লেন। বক্তব্যের সাফাই গাইতে হলে তো আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চাই! আশা করা যায়, তারা গর্ত হতে গাত্রোত্থান করলে সামনের দিনগুলিতে এ রকম চমক আরও দেখা যাবে

      চমক শুরু হয়ে গেছে তাহলে?

  2. ইতিহাস বিকৃতি জিয়া পরিবারের
    ইতিহাস বিকৃতি জিয়া পরিবারের পারিবারিক সংস্কৃতি । এটা নতুন কিছু না । গাছ যেমন , ফলও তেমনই । যার মা জননী জাতির পিতার মৃত্যুদিবসে নিজের ২য় বারের জন্মদিন পালন করতে পারে তার কাছ আর কি বা আশা করা যায় … সুশীলদের কথা আর কি বলবো … দেশ যখন সংঘাতের আগুনে জ্বলে,সুশীল নামের সেই ভিনগ্রহের বাসিন্দারা তখন টিভিতে বসে টক শো করে ………

    1. আছে ঘুঘু সর্বস্তরে
      হাটে মাঠে

      আছে ঘুঘু সর্বস্তরে
      হাটে মাঠে রান্নাঘরে
      কখনও বা মনের কোনে সে ঘুঘুর’ই অবস্থান।
      আহা রে!

    2. ইতিহাস বিকৃতি জিয়া পরিবারের

      ইতিহাস বিকৃতি জিয়া পরিবারের পারিবারিক সংস্কৃতি । এটা নতুন কিছু না । গাছ যেমন , ফলও তেমনই । যার মা জননী জাতির পিতার মৃত্যুদিবসে নিজের ২য় বারের জন্মদিন পালন করতে পারে তার কাছ আর কি বা আশা করা যায় … সুশীলদের কথা আর কি বলবো … দেশ যখন সংঘাতের আগুনে জ্বলে,সুশীল নামের সেই ভিনগ্রহের বাসিন্দারা তখন টিভিতে বসে টক শো করে ………

      চমৎকার বলেছেন। :থাম্বসআপ:

  3. বিএনপি দলটার জন্মই হচ্ছে
    বিএনপি দলটার জন্মই হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে। এদের থেকে এরচেয়ে ভাল কিছু কেউ আশা করে নারে ভাই। তবে এটাই সুযোগ। ইতিহাস বিকৃতির দায়দন্ড বিএনপি ঘাড়ে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার এই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবেনা। মিথ্যার বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হন। না হলে এর আমাদেরকে এবং আওয়ামীলীগকেই বহন করতে হবে।

    1. তবে এটাই সুযোগ। ইতিহাস

      তবে এটাই সুযোগ। ইতিহাস বিকৃতির দায়দন্ড বিএনপি ঘাড়ে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার এই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবেনা।

      ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে!

      জনাবের কাছ থেকে ইতিহাসের পাঠ নেবার ইচ্ছাপোষণ করছি?

  4. চমৎকার বলেছেন আইজুদ্দিন ভাই
    চমৎকার বলেছেন আইজুদ্দিন ভাই ।

    আপনার কথাগুলো কিছু নেংটি সুশীলের কানে গেলেই পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলে মনে করি ।

    1. আপনার কথাগুলো কিছু নেংটি

      আপনার কথাগুলো কিছু নেংটি সুশীলের কানে গেলেই পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলে মনে করি

      আমি যতদূর জানি, সুশীলদের শুধু মুখ থাকে কিন্তু কান থাকে না।
      তাই আমার কথা তাহাদের কানে যাবার সম্ভাবনা নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *