একদা স্টেশনে এক অতিকায় হস্তী ঢুকিয়া পড়িয়াছিল।

একদা স্টেশনে এক অতিকায় হস্তি ঢুকিয়া পড়িয়াছিল।

কখন যে এক অতিকায় হস্তী আসিয়া রেল স্টেশনের ঠিক মাঝ বরাবর শুইয়া পড়িয়াছিল তাহা ঠিক কেউ হলপ করিয়া বলিতে পারে না, তবে নিশুতি রাতের কোন এক সময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়া ঢুকিয়া পড়িয়াছিল তাহা অনুমান করা যাইতেছে। ভোরের আলো ফুটিবার সাথে সাথে হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়া গেল, যে যেদিকে পারিল দৌড়াইয়া প্রাণ রক্ষা করিল, কেউ কেউ সাহসী যারা তারা নিরাপদ দুরুত্তে থাকিয়া হস্তীটিকে পর্যবেক্ষণ করিয়া পুলক মিটাইল, আর যাহারা একেবারে ডাকাত টাইপের তারা লাঠিসোটা লইয়া ছুটিয়া আসিল কিন্তু হস্তীটির নড়িবার কোন লক্ষন দেখা গেল না।


একদা স্টেশনে এক অতিকায় হস্তি ঢুকিয়া পড়িয়াছিল।

কখন যে এক অতিকায় হস্তী আসিয়া রেল স্টেশনের ঠিক মাঝ বরাবর শুইয়া পড়িয়াছিল তাহা ঠিক কেউ হলপ করিয়া বলিতে পারে না, তবে নিশুতি রাতের কোন এক সময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়া ঢুকিয়া পড়িয়াছিল তাহা অনুমান করা যাইতেছে। ভোরের আলো ফুটিবার সাথে সাথে হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়া গেল, যে যেদিকে পারিল দৌড়াইয়া প্রাণ রক্ষা করিল, কেউ কেউ সাহসী যারা তারা নিরাপদ দুরুত্তে থাকিয়া হস্তীটিকে পর্যবেক্ষণ করিয়া পুলক মিটাইল, আর যাহারা একেবারে ডাকাত টাইপের তারা লাঠিসোটা লইয়া ছুটিয়া আসিল কিন্তু হস্তীটির নড়িবার কোন লক্ষন দেখা গেল না।

স্টেশন ফাঁকা হইয়া পড়িল। যাত্রী সকল ভয়ে স্টেশনে ঢোকে না, কুলি মজুর যাহারা ছিল তাহারা কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলিয়া গেল, যারা রুজি রোজগারের আশায় দোকানপাট খুলিয়া বসিয়াছিল তাহারা খদ্দেরের অপেক্ষায় কিছুদিন বসিয়া থাকিয়া অবশেষে পাত্তাড়ি গুটিয়ে বাড়ি ফিরিয়া গেল।এভাবে অল্পদিনের মধ্যেই কোলাহলপূর্ণ স্টেশনটি একবারে স্মশানের রুপ ধারন করিল।শুধু কয়েকটি নেড়ি কুকুর হস্তীর সাথে একাত্ততা প্রকাশ করিয়া ঘেউ ঘেউ করিতে লাগিল।

একটা অতিকায় হস্তী স্টেশন দখল করিয়া বসিয়া রহিয়াছে এই খবর সারাদেশে চাউর হইয়া গেল, নানা জনে নানা প্রকারে কে কি রকমে ইহার সমাধান দিতে পারে তাহার চিন্তায় দিনাতিপাত করিতে লাগিল কিন্তু কেহই শেষ পর্যন্ত সঠিক সমাধানের উপায় বাতলিয়ে দিতে পারিবে বলিয়া মনে হইলো না। অবশেষে সবাই হাল ছাড়িয়া দিয়া গোমরা মুখে কি ঘটে তাহার অপেক্ষায় চাহিয়া রহিল। হস্তীর স্টেশন ছাড়িবার কোন লক্ষন দেখা গেল না।

অবশেষে রেলের ঊর্ধ্বতন মহলের টনক নড়িল, লোক পাঠিয়ে তারা হস্তীর সাথে নেগোশিয়েট করার চেষ্টা করিবেন বলিয়া সাব্যস্ত হইলো কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধিবে কে? কেহই হস্তীর সাথে সাক্ষাত করিতে রাজি হইলেন না, নেগোশিয়েট করা তো দূর কি বাত।

একদিন একজন অচেনা লোক আসিয়া দাঁড়াইলো হস্তীর সমুখে, অবাক হইয়া তাকিয়া দেখিল সবাই। বেশ কিছু সময় হস্তীটির কানে কানে কিছু কথা বলিয়া ফিরিয়া আসিল লোকটি। সোজা গিয়া দাঁড়াইলো স্টেশন মাস্টারের দরজায়, অনুমতির অপেক্ষা না করিয়া বসিয়া পড়িল স্টেশন মাস্টারের সমুখের চেয়ারে। কোনরূপ সম্ভাষণ না করিয়াই কথা তুলিল সে।

আলাপ করিয়া স্টেশন মাস্টার যাহা জানিতে পারিলেন তাহা হইলো এই যে, জঙ্গলে থাকাকালীন সময়ে তাহাকে কে বা কাহারা ধর্ষণ করিয়াছিল সেই কারনে প্রতিকার চাহিয়া হস্তীটি স্টেশন অবরোধ করিয়াছে। দেশের সকলকে ডাকিয়া “ধর্ষণ করিয়াছে ধর্ষণ করিয়াছে ” বলিয়া গলা ফাটাইয়া চিল্লাইয়াও শেষ পর্যন্ত কোনরূপ প্রতিকার না পাইয়া স্টেশনে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে এবং দৃঢ় সংকল্প করিয়াছে যে ধর্ষণের প্রতিকার না পাইলে কোনক্রমেই স্টেশন ত্যাগ করিবে না। পুলিশের হেড কোয়ার্টারে গিয়াছে, পশু অধিকার আন্দোলনের নামে যাহারা প্রেসক্লাব ঘিরিয়া ধরিয়া থাকে তাহাদের কাছে গিয়াছে, পরিবেশ রক্ষাকারী আন্দোলনের নামে যাহারা মুখে ফ্যানা তুলিয়া ফেলে তাহাদের কাছে গিয়াছে কিন্তু কোথাও সে প্রতিকার পাই নাই।
শেষমেশ ভাবিয়াছিল শাহবাগ দখল করিয়া অবস্থান ধর্মঘট করিবে কিন্তু কথিত Cagoler Pal অযথা ম্যা ম্যা করিয়া, ইঙ্গিতপূর্ণ অশ্লীল ইশারা করিয়া,তাহাকে তাড়াইয়া স্থান দখল করিয়া রাখিয়াছে দেখিয়া সেখানেও রণে ভঙ্গ দিয়া আসিয়াছে। তাই সে এখানেই থাকিবে, কেহ-ই তাহাকে একচুল নড়াইতে পারিবে না।

ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলেন স্টেশন মাস্টার। জলকামান নিয়া ছুটিয়া আসিলো তারা। অনেকক্ষণ চেষ্টা করিয়া হাল ছাড়িয়া দিয়া পালাল তারা। পুলিশ এলো। লাঠির ভয় বন্দুকের গুলি আর তার চাইতেও মাত্রাতিরিক্ত হম্বিতম্বি করিয়াও সরানো গেল না।জগদ্দল পাথরের মতো সেই যে বসিয়াছে, নড়াটির নাম পর্যন্ত নেই!

আইজুদ্দিন জংলী জাতের মানুষ, ছোটবেলা হইতেই তাহার জল জঙ্গলের সাথে বসবাস। শৈশব কৈশোর যৌবনের পুরোটায় তাহার কাটিয়াছে জঙ্গলে বাঘ হাতির সাথে লড়াই ও দোস্তি করিয়া। সে জানে, কোন পশুর কি ধরন কি চরিত্র। কাহাকে কি দিয়া বাঁধিয়া রাখিতে হয়, কাহাকে কিভাবে তাড়াইয়া দিতে হয় সে খুব ভাল করিয়াই শিখিয়াছে। তাহার কানে খবর যাইতেই ব্যাস্ত হইয়া পড়িল সে। একমাত্র সে-ই এই হস্তীটিকে স্টেশন হইতে সরাইতে পারিবে।

ধীর পদে স্টেশনে ঢুকিল আইজুদ্দিন, তাহাকে দেখিয়াই পিলে চমকে গেল হস্তীটির। সে চেনে আইজুদ্দিন-কে, এর আগে একবার আসিয়া কথা বলিয়া গিয়াছে তাহার সাথে । বলিয়া গিয়াছিল সে ইহার পর আসিলে এমন বন্দোবস্ত করিয়া আসিবে যাহাতে সে আর না পালাইয়া পথ পাইবে না। খুব খাটাশ, একেবারে দয়ামায়াহীন পশু প্রকৃতির লোক, নিশ্চয় সে এবার সে সেরকমই কোন বন্দোবস্ত করিয়া আসিয়াছে। মানুষ হইয়াও তাহার হিংস্রতার কারনে বনের সমস্ত প্রাণী তাহাকে একটু হলেও সমঝে চলে। এবার যাইতেই হইবে বুঝিয়া গিয়াছে হস্তীটি তাই সে উঠিয়া দাঁড়াল, লম্বা শুঁড় খানা উচ্চে তুলিয়া ধরিয়া একবার প্রণাম করিল। তারপর কোনরূপ দেরি না করিয়া উল্টোপথে স্টেশন ছাড়িয়া পালাইয়া গেল।

আইজুদ্দিন তখনও তাহার হাতের “কোঁড়া” খানা জনসন্মুখে প্রকাশ করে নাই।

৪২ thoughts on “একদা স্টেশনে এক অতিকায় হস্তী ঢুকিয়া পড়িয়াছিল।

  1. আপনারে খুব চেনা চেনা লাগিতেছে
    আপনারে খুব চেনা চেনা লাগিতেছে , বনে জঙ্গলে একদা আমিও আপনার সহিত ছিলাম বলিয়া মনে হইতেছে !

      1. অঘটনের শেষ নাই … অনুমান নয়
        অঘটনের শেষ নাই … অনুমান নয় বরং আমার হিসেব ঠিক থাকলে এই নিরবতা কোন বড় ঝরের পূর্ব সংকেত ……… তাই এন্ডিং এখনও আসে নি …… দেখা যাক …… আল্টিমেটলি কি হয় ………

  2. যে কোন ঘটনার অতিমাত্রায়
    যে কোন ঘটনার অতিমাত্রায় বিশ্লেষকদের আম্বার দলকানারা চুছিল বলে অভিহিত করে। আপনি নিশ্চয় সেই মাত্রার চুছিল না। চালিয়ে যান……! মিললেও মিলতে পারে মানিক ও রতন!

    1. মিললেও মিলতে পারে মানিক ও

      মিললেও মিলতে পারে মানিক ও রতন!

      মানিক ও রতন বৈমাত্রেয় ভাই, তাহাদের মিলিবার সম্ভাবনা নাই।

          1. আমি যতটুকু জানি, তাহারা আবার
            আমি যতটুকু জানি, তাহারা আবার বনে জঙ্গলে ফিরিয়া যাইতেছে।

          2. মানুষের নাম করিয়া যাহারা
            মানুষের নাম করিয়া যাহারা অমানুষের মতো কাজ করিতেছে তাহাদের দেখিয়া হয়তো লজ্জা পাইতেছে।

          3. ‘মানুষ’ আর ‘অমানুষ’ অথবা
            ‘মানুষ’ আর ‘অমানুষ’ অথবা ‘কৃতজ্ঞ’ এবং ‘অকৃতজ্ঞ’ এর সংঙ্গা মহাশয়ের ছোটবেলার পাঠশালাতে মনে হচ্ছে পড়া হয়নি। আপনি বরাবরই ফাঁকিবাজ ছাত্র ছিলেন নাকি?

          4. আপনি বরাবরই ফাঁকিবাজ ছাত্র

            আপনি বরাবরই ফাঁকিবাজ ছাত্র ছিলেন নাকি?

            একটু সামলে ভাই, অর্জিত সার্টিফিকেটগুলো কিন্তু সে সাক্ষ্য দ্যায় না।
            যা হোক, আলোচনা সম্ভবত অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
            এটা এখানেই শেষ হোক, কি বলেন?

        1. আইজুদ্দিন জংলী জাতের মানুষ,

          আইজুদ্দিন জংলী জাতের মানুষ, ছোটবেলা হইতেই তাহার জল জঙ্গলের সাথে বসবাস। শৈশব কৈশোর যৌবনের পুরোটায় তাহার কাটিয়াছে জঙ্গলে বাঘ হাতির সাথে লড়াই ও দোস্তি করিয়া। সে জানে, কোন পশুর কি ধরন কি চরিত্র। কাহাকে কি দিয়া বাঁধিয়া রাখিতে হয়, কাহাকে কিভাবে তাড়াইয়া দিতে হয় সে খুব ভাল করিয়াই শিখিয়াছে। তাহার কানে খবর যাইতেই ব্যাস্ত হইয়া পড়িল সে। একমাত্র সে-ই এই হস্তীটিকে স্টেশন হইতে সরাইতে পারিবে।

          লাইনগুলো বোধকরি আপনার দৃষ্টিগোচরে ভালোভাবে পড়ে নাই!!! তাড়াহুড়ো করিলে যাহা হয় আর কি!!!

  3. আইজুদ্দিন নামটাতেই একটা
    আইজুদ্দিন নামটাতেই একটা দুর্গন্ধভাব আছে। লিখতে লিখতে আপনার কষ্ট লাগব হবে আশাকরি।

      1. নাকতো আর আবেগ আর অন্ধত্ব মানে
        নাকতো আর আবেগ আর অন্ধত্ব মানে না, নাকের দোষ দিয়ে লাভ কি? অঙ্গের কাজ রিয়েলিটিকে রেসপন্স করা।

  4. আপনার লিখা পডে বরাবরই শান্তি
    আপনার লিখা পডে বরাবরই শান্তি পাই, এবার উল্টো মনের ভিতর অশান্তি লাগছে আইজুদ্দিন দা…

    1. কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি সত্যি
      কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি সত্যি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
      আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি, তবুও অজ্ঞাতে আপনাকে কষ্ট দিয়ে ফেললাম!
      এমনি কপাল আমার!

    1. এই কাহিনী দিয়ে মুভি বানালে
      এই কাহিনী দিয়ে মুভি বানালে অস্কারে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। ঠিক বলেছি না শাহীন ভাই?

  5. সবার বিশেষ অবগতির জন্য জানান
    সবার বিশেষ অবগতির জন্য জানান যাইতেছে যে, ইহা শুধুমাত্র একটি লেখকের(!) কল্পনাপ্রসুত কাল্পনিক কাহিনীমাত্র। ইহার সাথে বাস্তবের কোন মিল থাকিবার সম্ভাবনা নাই বা থাকিলেও তা কাকতালীয় ঘটনা মাত্র।

    1. আপনার গল্পের ফ্যান হয়ে গেছি
      আপনার গল্পের ফ্যান হয়ে গেছি আপনার আরো একটা লেখা পড়ে। আপনি বিপ্লব ঘটাতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে। তবে আইজুদ্দীয় টাইপ কবিতা (গালিগালাজ) আশা করি না।

      1. আপনার গল্পের ফ্যান হয়ে গেছি

        আপনার গল্পের ফ্যান হয়ে গেছি আপনার আরো একটা লেখা পড়ে

        কোন গল্পের কথা বলছেন?

    1. সবাই এতো গন্ধ গন্ধ করিতেছেন
      সবাই এতো গন্ধ গন্ধ করিতেছেন কেন বুঝিতে পারিতেছি না। মহাশয় কি একটু খোলাসা করিয়া কিছু কইবেন?

          1. আপনি সবার নাকে সমস্যা দেখলেন,
            আপনি সবার নাকে সমস্যা দেখলেন, কিন্তু আপনার গন্ধের সমস্যা কোন বিষয়ই না। যে মদ খায়, সে মদের গন্ধ পায় না। অথবা যে জঙ্গলী, সে তার গায়ের গন্ধ কখনই পাবেনা।

          2. আপনার কি “মায়োপিয়া” সমস্যা-ও
            আপনার কি “মায়োপিয়া” সমস্যা-ও আছে নাকি?

            আপনি সবার নাকে সমস্যা দেখলেন

            উপরে খেয়াল করুন, আমি কারো নাকের সমস্যা খুঁজে বেড়ায় নি।

          3. দাঁত গুলো বড় নীলচে
            দাঁত গুলো বড় নীলচে দেখাচ্ছে!
            ক্লোরাইড ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *