তবে আত্মসমর্পনেই কি সাত খুন মাফ??

আসেন…. একটা গল্প শোনা যাক।। মধুপুর গড়ের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই!! হ্যাঁ…. গল্পটা এই গ্রামেরই এক মুক্তিযোদ্ধার।। মুক্তিযোদ্ধা শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন গল্পটার প্রেক্ষাপট ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের।। তাহলে শুরু করা যাক।।


আসেন…. একটা গল্প শোনা যাক।। মধুপুর গড়ের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই!! হ্যাঁ…. গল্পটা এই গ্রামেরই এক মুক্তিযোদ্ধার।। মুক্তিযোদ্ধা শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন গল্পটার প্রেক্ষাপট ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের।। তাহলে শুরু করা যাক।।

১৯৭১ এর ২৪ কি ২৫ নবেম্বর।। মুক্তিযুদ্ধাদের কাছে খবর এলো এখনও চারজন পাকি হায়না মধুপুর গড়ে লুকিয়ে আছে।। সে সময় মধুপুর গড়টা ছিল সতেরজন মুক্তিযোদ্ধার অধিনে যুদ্ধক্ষেত্র।। তাদের (মুক্তিযুদ্ধাদের) একজন ছিলেন এ গ্রামেরই মুস্তফা।। কমান্ড অনুযায়ী সকল মুক্তিযোদ্ধা গিয়ে লুকিয়ে পড়লেন বর্তমান বিআরডিসি’তে।। ফাঁকা গুলি ছুড়ে পাকি হায়নাদের যুদ্ধের আমন্ত্রন জানানো হলো।। শুরু হয়ে গেল গুলির বৃষ্টি, চার পাক হায়না vs সতের মুক্তিযোদ্ধা।। টানা ১৯ দিন যুদ্ধ করেও পাকিদের একজনকেও নিহত বা আহত করতে পারলো না মুক্তিযোদ্ধারা।। সৌভাগ্যতার কারনে সতেরজন যোদ্ধাই জীবিত রয়ে গেলেন।। ওদিকে সারাদেশে ভারতীয় মিত্র বাহিনী নেমে পড়েছিল মাঠে।। ১৫ ডিসেম্বর খবর এলো পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পন করেছে।। তাই যুদ্ধের ইতি টানলো মুক্তিযোদ্ধারা এবং পাকি হায়নারাও।। বিকালের মধ্যেই ভারতীয় আর্মির দুটো গাড়ি পৌছে গেল মধুপুরের বাস স্ট্যান্ডে।। অস্ত্র ফেলে দু’হাত উপরে তুলে হাটু গেড়ে ভারতীয় গাড়ির সামনে বসে পড়ল চারজন পাক হায়না।। গাড়ির অপরপাশেই অস্ত্র উঁচিয়ে সতেরজন মুক্তিযোদ্ধা দাড়িয়ে।।

গাড়ি থেকে নেমে এক ভারতীয় আর্মি মুক্তিযোদ্ধাদের বললেন, “কেউ টু শব্দটিও করবে না।। পাকিস্তানী আর্মি সারেন্ডার করেছে।। ওরা এখন আমাদের হেফাজতে।।” এই বলে পাকিস্তানীদের নির্দেশ দিলেন গাড়িতে উঠার জন্য।। হঠাৎ ছেঁড়াফাটা গেঞ্জি পড়া, লুঙ্গী কাছাড় দেয়ে মুস্তফা দৌড়ে এসে একজন পাকি হায়নার গালে কষে একটা থাপ্পর মারলেন।। সাথে সাথে গাড়ি থেকে আর একজন ভারতীয় আর্মি নেমে সেই মুস্তফাকে রাস্তায় ফেলে কুকুরের মত বুট পড়া জুতা দিয়ে এলোপাতাড়ি লাত্থি দিতে লাগলো।। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল মুস্তফার দেহ।। যার বিন্দুমাত্র আঘাত ১৯ দিনের যুদ্ধে পায়নি মুস্তফা, সেদিন শত্রুকে শত ঘৃণা আর আক্রোশ মেটাতে একটি থাপ্পড়ই তার আঘাতের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল।।

যাহোক, এলাকার এক মুরুব্বির কাছে শুনছিলাম এই গল্পটি।। এই গল্পটি এখনও যে কজন প্রবীণ মুরুব্বি বেঁচে আছেন তারাও জানেন।। সহজেই কাউকে বলতে চান না, জানিনা কেন!! আমি যে মুরব্বির কাছে শুনেছিলাম সে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দাদা।। কেন যেন গল্পটা শোনার পর নিজের উপরই ঘৃণা হচ্ছিল আমার।। বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছিল, “তবে আত্মসমর্পনেই কি সাত খুন মাফ??”

৬ thoughts on “তবে আত্মসমর্পনেই কি সাত খুন মাফ??

  1. ভারতের মিত্রদের বাড়াবাড়ি একটু
    ভারতের মিত্রদের বাড়াবাড়ি একটু বেশী হয়ে গেছিলো। আমরা এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের দেখলে মাথা নিচু করে বা যেভাবেই পারি সম্মান করি আর ও ভারতীয় শয়তানটা এ কি করলো!!! অবাক হচ্ছি….

  2. অবাক আমিও হয়েছিলাম।। পরে
    অবাক আমিও হয়েছিলাম।। পরে দেখলাম, খাকির মর্যাদা খাকিই বুঝে।। মানে হল একজন খাকি পোশাকির সামনে আরেক খাকি পোশাকি লুঙ্গি পড়া মানুষের হাতে প্যাদানি খাবে তা কি সহ্য করা যায়!! তাই দিল দু’এক ঘা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *