বাংলাদেশের হ্যাকার গ্রুপ পরিচিতি

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ হ্যাকিংএর দিক থেকে অন্যান্যদেশের তুলনায় একটি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশের কিছু নতুন ও মেধাবী প্রজন্ম হাল ধরেছে বাংলাদেশের হ্যাকিং ওয়ার্ল্ডের। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার যখন নিশ্চুপ তখন এদেশের হ্যাকাররাই প্রতিবাদ জানায় প্রতিপক্ষ দেশ বা প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর প্রতি। তারা তাদের এই প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যাবহার করে হ্যাক করে প্রতিপক্ষের ওয়েবসাইট, কম্পিউটার এবং অন্যান্য নেটওয়ার্ক


বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ হ্যাকিংএর দিক থেকে অন্যান্যদেশের তুলনায় একটি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশের কিছু নতুন ও মেধাবী প্রজন্ম হাল ধরেছে বাংলাদেশের হ্যাকিং ওয়ার্ল্ডের। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার যখন নিশ্চুপ তখন এদেশের হ্যাকাররাই প্রতিবাদ জানায় প্রতিপক্ষ দেশ বা প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর প্রতি। তারা তাদের এই প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যাবহার করে হ্যাক করে প্রতিপক্ষের ওয়েবসাইট, কম্পিউটার এবং অন্যান্য নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশের হ্যাকিং জগত মুলত গ্রুপ ভিত্তিক। নামকরা অনেক গ্রুপই আছে বাংলাদেশে। দেশের সাইবার স্পেস সুরক্ষায় তারা নিবেদিত প্রাণ। এবার জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের কিছু প্রথম কাতারের কিছু হ্যাকার গ্রুপ সম্পর্কে-

• এক্সপায়ার সাইবার আর্মি
• বাংলাদেশ সাইবার আর্মি
• বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস
• হেক্সরোসিস্ট
• বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস
• সাইবার ৭১

এক্সপায়ার সাইবার আর্মিঃ বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে পরিচিত মুখ হল এক্সপায়ার সাইবার আর্মি। বাংলাদেশ-ভারত সাইবার যুদ্ধের আগমুহূর্তে ২০১১এর ডিসেম্বরে জন্মনেয়া এই গ্রুপটি বাংলাদেশ-ভারত সাইবার যুদ্ধে অন্যান্যদের মত বিপুল সংখ্যক ওয়েবসাইট হ্যাক করে। তাছাড়া তারা সাইবার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া বেশকিছু বাংলাদেশী ওয়েবসাইট পূর্বের অবস্থায় ফিরেয়ে নিতে সহযোগিতা করে। গ্রুপটিতে রয়েছে বেশকিছু তরুন এবং মেধাবী মুখ কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ওয়েবসাইট হ্যাক করার কারণে কিছুটা বিতর্কের মাঝে পড়ে যায় গ্রুপটি। এক্সপায়ার তাদের ট্যাগলাইন হিসেবে ব্যাবহার করে “We Never Give Up”.

এক্সপায়ারের রয়েছে সুগঠিত কোডার ইউনিট যারা নিত্য নতুন টুল তৈরি ও মোডিফাই করে ব্যাবহার করে নিজেদের প্রয়োজনে। তাদের তৈরি করা ম্যাস ডিফেসমেন্ট টুল AK-47 বেশ জনপ্রিয়।

এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সাজিদ নামের একজন বাংলাদেশী হ্যাকার। তিনি পূর্বে বাংলাদেশ সাইবার আর্মিতে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই এক্সপায়ার নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ জন্ম দেন। তাছাড়াও এক্সপায়ারে রয়েছে বেশ কয়েকজন একটিভ ক্রু মেম্বার।

বাংলাদেশ সাইবার আর্মিঃ বাংলাদেশের প্রথম সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান এবং হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ সাইবার আর্মি যাত্রা শুরু করে ২০১০ এর ডিসেম্বরে। প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকজন হ্যাকার মিলে ডিসেম্বরে আগে শুরু করে ওয়েবসাইট হ্যাকিং প্র্যাকটিস। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গড়ে তোলে বাংলাদেশ সাইবারআর্মি নামের হ্যাকার গ্রুপ।

তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। বাংলাদেশ-ভারত সাইবার যুদ্ধের সময় বেশিরভাগ সাইট হ্যাক করে এই গ্রুপের ক্রু মেম্বাররা। ভারতের অনেক সরকারী ও বেসরকারী ওয়েবসাইট হ্যাক করে ভারত সরকারের দৃষ্টি কাড়ে। অন্যান্য অনেক উদ্দেশ্যের পাশাপাশি মুলত বাংলাদেশ এবং ভারত সাইবার যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা বন্ধ করা। সেসময়য় ভারতের প্রায় সহস্রাধিক ওয়েবসাইট হ্যাক করে সাইটের প্রধান পেইজে ঝুলিয়ে দেয় বিএসএফ এর গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানির ছবি।

বাংলাদেশ সাইবার আর্মির আরও কয়েকটি বড় অর্জন হল, প্রতিষ্ঠাতা এডমিন সাদমান তানজিমের গুগল ল্যাব ডাটাবেস ইঞ্জেক্টিং ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং বাংলাদেশ সাইবার আর্মির আরেকজন এডমিন নীল নিরব দ্বারা নাসার ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়া। এছাড়াও বিশ্বের নামকরা কিছু হ্যাকিং কমিউনিটির ওয়েবসাইট হ্যাক করার কৃতিত্বও আছে তাদের ঝুলিতে।

বর্তমানে তাদের অবস্থান আগের মত নেই। অনেক পুরাতন মেম্বাররা গ্রুপে একটিভ না। তাদের কার্যক্রম এখন অনেকটাই স্থবির।

বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারসঃ বাংলাদেশের আরেকটি জনপ্রিয় গ্রুপ হল বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস। বিভিন্য মিডিয়াতে পাওয়া তথ্যমতে বাংলাদেশ-ভারত সাইবার যুদ্ধের সুচনা হয়েছিল এই বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস গ্রুপের হাত ধরে।
একঝাক তরুণ মেধাবী হ্যাকার আছেন এই গ্রুপটিতে। মাঝে গ্রুপটির মধ্যে কিছুটা ফাটল ধরলেও বর্তমানে পূর্বের অবস্থা কাটিয়ে উঠে ভালো অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন।

হেক্সরোসিস্টঃ অনেকটাই নতুন তৈরি হওয়া এই গ্রুপটি তাদের মেধা এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে অনেক উপরে স্থান করে নিয়েছে। তাদের গ্রুপের সূচনা লগ্ন থেকে নিত্য নতুন ওয়েবসাইটএর ত্রুটি বের করা শুরু করে এই গ্রুপটি। বাংলাদেশী হ্যাকার ফোরস এক্স এর হাত ধরে জন্ম লাভ করে এই গ্রুপটি। কম দিনেই গ্রুপের একটিভ ক্রু মেম্বারদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সম্মানজনক অবস্থানে চলে এসেছে এই গ্রুপটি। কিছুদিন আগে ভারতীও টিভি চ্যানেল জি-বাংলায় প্রচারিত কমেডি শো মিরাক্কেলে বাংলাদেশ নিয়ে কটুক্তি করা হয় এবং এর প্রতিবাদস্বরূপ জি নেটওয়ার্কের বেশ কিছু ওয়েবসাইট হ্যাক করে আলোচনায় আসে বাংলাদেশের এই হ্যাকার গ্রুপ।

বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসঃ বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস এর নাম আপনারা অনেকেই জানেন। দেশের সাইবার স্পেস রক্ষাকরাই তাদের লক্ষ। দেশের অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে ভালো অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস। ইতিমধ্যে বেশকিছু হ্যাক হওয়া বাংলাদেশী সাইট রিস্টর করে সুনাম কুড়িয়েছে। জানাগেছে বাংলাদেশ পুলিশের সাথেও তাদের কাজের কথা।

সাইবার৭১ : দেশের নতুন আরেকটি হ্যাকার গ্রুপ হল সাইবার৭১। তারা দাবি করে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস সুরক্ষা করাই তাদের দায়িত্ব। দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই জন্ম লাভ করে বাংলাদেশের এই গ্রুপটি। গ্রুপটি চালু হবার পর থেকেই গ্রুপের এডমিন এবং ক্রু মেম্বাররা নিত্য নতুন ডিফেসিং কৌশল দেখিয়ে অবাক করে দিচ্ছেন সবাইকে। দেশের জন্য ভালো কিছু দিবে এমনটাই আশাকরা যায় এই গ্রুপের কাছে।

লেখাটি প্রথম প্রকাশ করি জিরো টু ইনফিনিটি ম্যাগাজিনে। ইস্টিশনের বন্ধুদের জন্য কিছুটা সংস্কার করে পোষ্ট দিয়ে দিলাম

১৩ thoughts on “বাংলাদেশের হ্যাকার গ্রুপ পরিচিতি

    1. গ্রুপগুলো সত্যিই দেশের সার্থে
      গ্রুপগুলো সত্যিই দেশের সার্থে কাজ করে। প্রতিনিয়ত ভারতের সাইবার স্পেসে এটাক চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আকামে লিপ্ত নয় একথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। এটুকু সত্য দেশের স্বার্থের বাইরে কিছু করছে না। তারা নিয়মিত দেশের বিভিন্ন সাইটের দুর্বলতা খুজে বের করে সাইটের মালিককে জানিয়ে দিচ্ছে।

      এদের মধ্যে এক্সপায়ার সাইবার আর্মিকে মাঝে মাঝে কিছু দেশীয় সাইট হ্যাক করতে দেখা যায়, কিন্তু সেটি তারা করে যখন দেখে দুর্বলতা জানানোর পর কোন ব্যাবস্থা নেয় না, তাদের মেইলে জবাব দেয় না অথবা তাদেরকে ভুল বুঝে গালাগালি করে।

      বাংলাদেশের সরকারী ওয়েবসাইট গুলোর অবস্থা একেবারে দুর্বল। দুনিয়ার সব আবালগুলারে দিয়ে ডেভেলপ করাইছে আর সিকিউরিটিতে বসায়ে রাখছে একদল মূর্খকে। কিছু দিন আগেও কয়েকটা সরকারী ওয়েবসাইটের দুর্বলতা নিয়ে মেইল করেছি। উলটা আমাকে পুলিশে ধরেয়ে দেবার থ্রেট দিছে। কিচ্ছু করার নাই…

      তবে গ্রুপগুলো বেশ একটিভ।

      1. বাংলাদেশের হ্যাকার গ্রুপগুলো
        বাংলাদেশের হ্যাকার গ্রুপগুলো যদি দেশের জন্য পজিটিভ হয় তাহলে ঠিক আছে। পাশে থেকে সমর্থন যোগাব।

  1. আমার মনে হয় না বাংলাদেশের
    আমার মনে হয় না বাংলাদেশের হ্যাকার গ্রুপগুলো দেশের স্বার্থে কাজ করছে। হয়ত ভুলও হতে পারে। যদি এদের উদ্দেশ্য থাকে দেশের স্বার্থে কাজ করা, স্যালুট তাদের। আর যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হ্যাকিং কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদের প্রতি ঘৃণা।

    1. গ্রুপগুলো আপনার আমার
      গ্রুপগুলো আপনার আমার ভালোবাসাই পাবার যোগ্য ঘৃণা নয়। ফেলানী ইস্যুতে সরকার যখন নিরব তখন প্রথম প্রতিবাদের ঝর তোলে এই গ্রুপগুলোই।

  2. ফেলানী ইস্যুতে বাংলাদেশী এই
    ফেলানী ইস্যুতে বাংলাদেশী এই হ্যাকার গ্রুপগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ।

  3. হ্যাকিং একটা খারাপ জিনিস তবে
    হ্যাকিং একটা খারাপ জিনিস তবে দেশের স্বার্থে হলে অবশ্যই তাকে সমর্থণ দিবো। যেমনটা দিয়েছিলাম ভারত ক্রিকেট বোর্ডের অফিশিয়ার ওয়েবসাইট হ্যাক করার বেলায়!!!

  4. যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের
    যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের উদ্দেশ্য দেশের স্বার্থ থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিবর্তিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের স্যালুট।

    আপনাকে ধন্যবাদ এদের নিয়ে লিখার জন্য।
    এদের কি নির্দিষ্ট কোন ওয়েবসাইট নাই?

    1. প্রায় প্রত্যেক গ্রুপেরই
      প্রায় প্রত্যেক গ্রুপেরই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট আছে। তবে অনেক গ্রুপেরই ওয়েবসাইট বন্ধ আছে। সবচেয়ে সক্রিয় সাইটটি হল এক্সপায়ার সাইবার আর্মির ওয়েবসাইট। লিংকঃ এখানে

  5. অনেক দেরীতে পড়লাম বলে আফসোস
    অনেক দেরীতে পড়লাম বলে আফসোস হচ্ছে । পোষ্টটি যথেষ্ট মূল্যবান মনে হলো । ভালো লাগলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *