জাতীয় সংগীত

এটা নতুন বা অবাক হওয়ার মত কথা নয়, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও আমাদের স্বাধীনতার প্রতিটি অক্ষর প্রশ্নবিদ্ধ।। এদেশে যেমন যুগে জন্ম নিয়েছে দেশদরদী, তেমনি জন্মও নিয়েছে দেশদ্রোহী।। বর্তমান প্রজন্ম এই দেশদ্রোহীকে একটি নাম দিয়েছে, ‘ছাগু সমাজ’!! এরা তুষের মত ভূমিতে পতিত থাকে আর একটু বাতাস পেলেই উড়তে শুরু করে এদিকসেদিক।। এদের উড়াউড়ির মাঝে একটা প্রশ্ন করতে দেখা যায় আর তা হল বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।। প্রথমত এটা একজন হিন্দু কর্তৃক লেখা।। তাছাড়া এরা এই গান গাইতে লজ্জা পায় এবং ‘পাকসারজমিন সাদ বাদ’ গাইতে চায়, যেহেতু সে পাকিপ্রেমী হলেও তার পাশের মানুষটি পাকিপ্রেমী নাও হতে পারে তাই কৌশলে যুক্তি খোজে।। তারা যখন যুক্তি খুজে না পায় তখন একট উদ্ভট যুক্তি ছুড়ে, জাতীয় সংগীতের সুর চুরি করা।। চুর রবী বুড়া এইটা চুরি করে লেখছে।। চুরি করা গান কেমনে জাতীয় সংগীত হতে পারে??

তারা আসলে ইতিহাসের কিছু জানে না, জানতে চায়ও না।। তারা জানেয় না ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে কিছু একটা করেছিল।। আবার ১৯১১ সালেই তা রদ করতে বাধ্য হয়।। কেন বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার?? তাদের বাধ্য করার পিছনে কাদের অবদান?? কিভাবে কি দিয়ে হলো সে আন্দোলন?? আসলে বঙ্গভঙ্গ’ই বা কি?? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজ দায়িত্বে জেনে নিতে হয়, জানার জন্য বহু গুণী লেখকদার লেখা আছে, উইকিপিডিয়ার মত বড় বড় আন্তর্জাতিক ওয়েব সাইটগুলো আছে।। ইচ্ছা আছে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে নেক্সট একটা পোস্ট লিখার, আপাততো জাতীয় সংগীতের কথাই বলা যাক।।

আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে।। গানটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, তাই এর সঠিক রচনাকাল জানা যায় না।। সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিল।। এই বছরই ৭ সেপ্টেম্বর (১৩১২ বঙ্গাব্দের ২২ ভাদ্র) সঞ্জীবনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের সাক্ষরে গানটি মুদ্রিত হয়।। এই বছর বঙ্গদর্শন পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যাতেও গানটি মুদ্রিত হয়েছিল।। তবে ৭ অগস্ট উক্ত সভায় এই গানটি গীত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।। বিশিষ্ট রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের মতে, আমার সোনার বাংলা ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গীত হয়েছিল।। উল্লেখ্য, আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল শিলাইদহের ডাক-পিয়ন গগন হরকরা রচিত আমি ‘কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটির সুরের অনুষঙ্গে।। সরলা দেবী চৌধুরানী ইতিপূর্বে ১৩০৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে তাঁর শতগান সংকলনে গগন হরকরা রচিত গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেছিলেন।।

আরেকটা কথা, জমিদারি কাজে কববিগুরুকে বঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে বেড়াতে হত।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার এই অপরূপ শোভা দেখেছিলেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে থাকাকালীন সময়টিতে।। শিলাইদহে কবি ‘গগন হরকরার’ দেখা পান।। গগন হরকরার কন্ঠে গীত,” আমি কোথায় পাবো তারে” এর বাউল সুরের অনুকরণে এই গানটিতে সুরারোপ করেন রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর (বিঃদ্রঃ গগণ হরকরার কন্ঠে যখন রবীন্দ্রনাথ গানটা শুনেন তখন এর সুর কবিকে আকর্ষিত করে।। তিনি গগণ হরকরার অনুমতি নিয়েই সে গানের সুর দিয়ে রচনা করেন আমার সোনার বাংলা)।।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এই গানের প্রথম দশ লাইনকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মনোনয়ন করেছিলেন।। জাতীয় সঙ্গীত কম্পোজ করেছিলেন সুরকার সমর দাস!!

সম্পূর্ণ গানটিঃ

আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস
আমার প্রাণে, ওমা আমার প্রাণে বাজায় বাঁশী।
ওমা ফাগুণে তোর আমের বোলে, ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায়রে..
ওমা অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে কি দেখেছি মধুর হাসি।
কি শোভা, কি ছায়াগো, কি স্নেহ কি মায়াগো
কি আঁচল বিছায়েছো বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মত, মরি হায়,
হায়রে..
মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি।
তোমার এই খেলাঘরে, শিশুকাল কাটিলোরে
তোমার এই ধূলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানিক।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কি দীপ জ্বালিস ঘরে
তখন খেলাধূলা সকল ফেলে
তোমার কোলে ছুটে আসি।
ধেনু চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে
সারাদিন পাখীডাকা ছায়ায় ঢাকা তোমার পল্লীবাটে।
তোমার ধানে ভরা আঙ্গিণাতে জীবনের দিন কাটে
ওমা, আমার যে ভাই তারা সবাই, তোমার রাখাল তোমার
চাষী।
ওমা তোর চরণেতে, দিলেম এই মাথা পেতে
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক
হবে।
ওমা গরীবের ধন যা আছে তাই দেবো চরণতলে
আমি পরের ঘরে কিনবো না তোর ভূষণ বলে গলার ফাঁসী।।

**** এরপরেও পাকিপ্রেমীরা কিন্তু খোজে বেড়ায়।। কারন এটা তাদের বংশগত বৈশিষ্ট্য।।

২ thoughts on “জাতীয় সংগীত

  1. ভাই ছাগলকে ইতিহাস শেখানোর
    ভাই ছাগলকে ইতিহাস শেখানোর কোনো দরকার নাই। মাঝে মাঝে ওরা একটু ভ্যা ভ্যা করবে আবার থেমে ও যাবে । সো ডোন্ট অরি !

    1. ছাগলের ম্যা ম্যা যখন অতিকায়
      ছাগলের ম্যা ম্যা যখন অতিকায় বাড়িয়া যায়, গৃহস্থ তখন তাকে পাঠার কাছে লইয়া যায়।। কুঝেনই তো, বিয়ানের টাইম…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *