মোরগ লড়াই/ককফাইট

মোরগ লড়াই/ককফাইট


মোরগ লড়াই/ককফাইট

ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ব্যাডমিন্টনের মতো অতি পরিচিত একটি খেলা ককফাইট বা মোরগ লড়াই। মোরগের লড়াই /মুর্গার লড়াই / মুরগীর লড়াই (ইংরেজি: Cockfight) এক ধরনের রক্তাক্ত ক্রীড়া যাতে দুই বা ততোধিক মোরগজাতীয় প্রাণী বৃত্তাকার যায়গায় অংশগ্রহণ করে।আর চারপাশে জড়ো হয়ে হাততালি দিচ্ছে হাজারো মানুষ। তাদের তৈরি বৃত্তে প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে দুটি মোরগ। সে লক্ষ্যে এজাতীয় মুরগী লালন-পালন, পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে ক্রীড়া উপযোগী করে তোলা হয়। গ্রামবাংলার সচরাচর এই চিত্র সময়ের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। ঐতিহ্যবাহী খেলা হিসেবে মোরগ লড়াইয়ের সুখ্যাতি থাকলেও লড়াইয়ের মোরগ এবং খেলার ঐতিহ্য- দুই-ই হারিয়ে যেতে বসেছে।বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, ঢাকা ও অন্যন্য এলাকায় এখনো মোরগ লড়াইয়ের ঐতিহ্য টিকে আছে।

>>সাধারণতঃ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোরগ নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে একে-অপরের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত লড়াইয়ের ন্যায় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। শক্ত ঠোঁট ও নখের সাহায্যে এ লড়াই চলে। যে-কোন একটি মোরগের মৃত্যুবরণ কিংবা লড়াইয়ে অপারগতা প্রকাশ করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় সমাপ্তি ঘটে। এ লড়াইয়ে বাজী ধরা অন্যতম ক্রীড়া অনুসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

>>ইতিহাসঃ খুব সম্ভবত ভারতীয় লাল বনমোরগ ব্যবহারের মাধ্যমে এ খেলার ব্যুৎপত্তি ঘটে যা পরবর্তীকালে সকল ধরনের গৃহপালিত মোরগকে এ লড়াইয়ে জড়িত করা হয়। ধারনা করা হয় যে, ভারত, প্রাচীন পারস্য, চীনসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় দেশে এ খেলা ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর খ্রীষ্ট-পূর্ব ৫২৪-৪৬০ সালে গ্রীসে প্রবেশ করে। এরপর তা এশিয়া মাইনর ও সিসিলির মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। রোমেও গ্রীসে প্রচলিত মোরগের লড়াইয়ের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রোম থেকে তা উত্তরাঞ্চলের দিকে প্রচলিত হয়। খ্রীষ্টীয় ধর্মগুরুগণ এ উন্মত্ত লড়াইয়ের বিরোধিতা করলেও ইতালি, জার্মানি, স্পেন ও এদেশগুলোর উপনিবেশসমূহে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ডেও একই দৃশ্য প্রবাহিত হয়। মাঝেমধ্যেই কর্তৃপক্ষ মোরগের লড়াইকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। ইংল্যান্ডে ষোড়শ শতকের শুরু থেকে উনবিংশ শতক পর্যন্ত রাজন্যবর্গ ও উচ্চ পদবীধারী ব্যক্তিদের কাছে এ প্রতিযোগিতা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

>>বাংলাদেশে ইতিহাসঃ ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, একসময় ভারত থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইলের দেওয়ান বংশ এই আসিল মোরগ নিয়ে আসেন। আগেরকার দিনের রাজা-বাদশার এটিকে পুষতেন বলে একে রাজকীয় মোরগও বলা হয়। শোনা যায়, টিপু সুলতান, সম্রাট আকবরসহ অনেক রাজা এই মোরগগুলো শখ করে পুষতেন। এদের লড়াই দেখাটাকে বিনোদনের অংশ হিসেবে নিতেন।ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, এখন থেকে প্রায় ৪০-৪৫(১৯৬০-৭০) বছর আগে পুরান ঢাকার ইউসুফ পালোয়ান, তাহের মিস্ত্রি ও নায়ক জাবেদ ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় আসিল মোরগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি ক্লাব করে এই খেলার অস্তিত্ব ধরে রাখেন। তবে, ধীরে ধীরে এখন অনেক ক্লাব গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ শৌখিন আসিল মোরগ উন্নয়ন সংস্থা, আরসিডি মোরগ উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ রয়েল আসিল মোরগ উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মোরগ উন্নয়ন সংস্থাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ক্লাব রয়েছে। বর্তমানে ঢাকার সব ক্লাবগুলোকে এক করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ঢাকা ইউনাইটেড আসিল মোরগ উন্নয়ন সংস্থা’। ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি নাসির বিন জামাল।

>>দেশে দেশেঃ মোরগে মোরগে লড়াই বাংলাদেশসহ মেক্সিকো -স্পেনে বেশ জনপ্রিয় একটি খেলা। মেক্সিকোতে এ নিয়ে রীতিমতো জুয়া খেলা জমে যায়। বাজি ধরে খেলাটিকে করা হয় কোটি টাকার বিনিময়ের খেলা। স্পেনেও বাজি ধরা হয় মোরগ লড়াইয়ে। এ খেলায় দু’পক্ষের দুটি মোরগ মারামারিতে লিপ্ত হয়। যে পক্ষের মোরগ প্রতিপক্ষ মোরগকে ঘায়েল করতে পারে সে পক্ষই বিজয়ী ঘোষিত। মেক্সিকোও স্পেনে পশু চিকিৎসকরাও খেলার আয়োজন কমিটির সঙ্গে থাকেন। তাই পশু চিকিৎসকদের রায় মেনে নিয়ে খেলার মধ্যেও ফলাফল ঘোষণার রীতি চালু হয়েছে। তুরস্ক, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় মোরগ লড়াই প্রায় জাতীয় পর্যায়ের খেলার অন্তর্ভুক্ত।


>>মানুষের খেলাঃ বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে মোরগ লড়াই শিরোনামে শিশুদের মধ্যে হাঁটু লড়াইয়ের আয়োজন হয়ে থাকে। এ খেলায় এক পা ভাঁজ করে হাঁটু দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হয়।মোরগ লড়াই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়ে থাকে।এটি সাধারনত ছেলেদের খেলা।গ্রামাঞ্চলের ছেলেদের কাছে এটি অতন্ত্য জনপ্রিয় একটি খেলা।

>>নিয়মকানুনঃ মোরগ লড়াই খেলায় একদল ছেলে গোল হয়ে একপায়ে দাড়িয়ে থাকে। দুই হাত দিয়ে অপর পা পিছনে ভাজ করে রাখতে হয়। রেফারি যখন বাশিঁতে ফুঁ দেন তখনই খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভাজ করা পা দিয়ে মারতে থাকে। কেউ পড়ে গেলে সে বাতিল বলে গণ্য হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত তিনজন থাকে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারন করা

>>বাংলাদেশের মোরগঃ লম্বা পা, ইগলের মতো চোখ, কম পালকের দুর্লভ প্রজাতির হাসলি/’আছিল/আসিল’ মোরগ বাংলাদেশে লড়াইয়ের জন্য সেরা। এটি চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে বুনো মোরগ , যার নাম হাসলি/’আছিল/আসিল’। অসম্ভব তেজি ও যোদ্ধা-প্রকৃতির মোরগ, দারুণ উড়তে পারে এরা।এদের উচ্চতাও সাধারণ মোরগের চেয়ে বেশি। সাধারণ মোরগ থেকে আসিল মোরগের পা, গলা, মাথা, বুক ও উচ্চতাসহ শারীরিক গঠন অনেক শক্তিশালী, যা লড়াই করার জন্য উপযুক্ত। এদের পেছনের আঙুলটি এক ইঞ্চির বেশি লম্বা, দেখতে সূচালো পেরেকের মতো কাটা থাকে। তবে, খেলার নিয়ম অনুযায়ী এই কাটা আধা ইঞ্চির উপরে থাকতে পারবে না। তাই খেলার আগে এ গুলি হেসকো বেল্ড দিয়ে অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলা হয়। বক্সাররা যেমন হাতে গ্লাভস পরে তেমনি এসব মোরগের লড়াইয়ের সময় এদের পেছনের আঙুলটি (এক ইঞ্চির বেশি লম্বা, দেখতে সূচালো পেরেকের মতো কাটা থাকে) আগে তুলা দিয়ে ঢেকে দেয়া হলেও এখন গ্লাভস পরানো হয়। এসব গ্লাভস ভারত থেকে আনা হয়। আসিল মোরগ দেখতে হিংস্র হলেও এরা মারাত্মক প্রভুভক্ত। মালিকের আদর বোঝে, দেখলে ডাকতে থাকে, সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি করে। আদর করে কেও কেও এদের নামও রাখে। যেমন সুরমাইয়া, দাড়িওয়ালা লাখা, ঝাওয়া ইত্যাদি। মালিকের সম্মান রাখার জন্য খেলার মাঠে নিজের জীবন দিয়ে দেবে, কিন্তু হার মানতে নারাজ এই মোরগগুলো।

>> খাদ্যঃ একজন কুস্তিগীর তার শরীরকে ঠিক রাখার জন্য যেমন পুষ্টিকর খাবার খান, তেমনি এই প্রজাতির মোরগের খাবারেরও তালিকা আছে। সাধারণ মোরগগুলো ধান, গম খেলেও লড়াই মোরগের খাদ্য হলো বাদাম, ঘি, মাখন, গরুর মাংস, ডিম, দুধ, ভিটামিন সিরাপ, ট্যাবলেট প্রভৃতি। সেই সঙ্গে লড়াইয়ের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ব্যায়াম, প্রাকটিস ও খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে একজন খেলোয়াড়ের মতো মোরগগুলোর ফিটনেস ধরে রাখতে কাজ করতে হয় মালিককে।

>> দরদামঃ দুইমাস বয়সী এসব মোরগের একটি বাচ্চার দাম এক হাজার টাকা, মাঝারি বয়সের একটি মোরগের দাম ছয় থেকে সাত হাজার টাকা, আর লড়াইয়ে দক্ষ একটি মোরগের দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কম নয়।

>>খেলার নিয়মাবলীঃ আসিল মোরগ লড়াইয়ের জন্য রয়েছে প্রায় ৩০-৩৫টি নিয়ম। লড়াইয়ের জন্য ১২ ফুট বাই ১২ ফুট স্কয়ার জায়গা নির্ধারণ করা হয়। মাঝখানে থাকে গোল একটা বৃত্ত যেটাকে গোল পয়েন্ট বা মিডল পয়েন্ট বলা হয়। মাঠের মাঝখানে দু’জন মানুষ দু’টি মোরগ হাতে নিয়ে বসেন। খেলার আগে সাধারণত তিন সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি থাকে। এই কমিটি খেলায় রেফারির কাজ করে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আর মাঠে মালিকের পক্ষ থেকে যে মোরগগুলোকে খেলায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করে এদের ‘খলিফা’ বলা হয়। কমিটির নির্দেশ পাওয়া মাত্র শুরু হয় খেলা। খেলার ফলাফল বের করতে অনেক সময় ৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা এবং সর্বনিম্ন ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট খেলার রেকর্ড রয়েছে।
লড়াই করতে করতে অনেক সময় হাফিয়ে গেলে বা আহত হয়ে পড়লে তখন গরম পানি দিয়ে মোরগের শরীরটা মুছে দেওয়া হয়। আহত হয়ে শরীরে ক্ষত হলে ক্ষতস্থানটা ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করে সেখানে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেধে দেওয়া হয়। লড়াই শুরু হলে দু’টি মোরগ একজন আরেকজনকে কুপোকাত করার জন্য ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে পা দিয়ে সজোরে আঘাত করে।(মোরগের নিজস্ব ফ্লাইং কিকের স্টাইলগুলোকে মানুষ বিভিন্ন নামে চিত্রিত করে। যেমন- ‘নিম’, ‘কড়ি’, ‘বাড়ি’, ‘ফাক’, ‘ছুট’, ‘কর্নার’- এগুলো বিভিন্ন আঘাতের নাম। ) তখন দেখা যায় অনেক মোরগের ঘাড় ভেঙে গেছে। আবার অনেক সময় চোখ অন্ধ হয়ে যায়। কারণ মোরগটি যখন পা দিয়ে লাথি মারে তখন তার পায়ের নখ শত্রু পক্ষের চোখে লাগলে চোখটা পড়ে যায়। সাধারণত যেসব মোরগ লড়াইয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন সে দৌঁড়ে পালায়। এভাবে তিনবার দৌঁড়ে সীমানা বাইরে চলে গেলে সে মোরগ পরাজিত হয়। অনেক সময় মোরগটা খুব জেদি থাকে, সে লড়াইও করে না, আবার পালিয়েও যায় না। মাঠেই মোরগটি বসে থাকে। নিয়মানুযায়ী কোনো মোরগ হাঁটু গেড়ে বসলে এবং সেই বসার সময় ১ মিনিট অতিক্রম করলে সেই মোরগটি পরাজিত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। আবার কখনো দেখা যায়, মোরগটি দৌঁড় দিচ্ছে না, বসেও পড়ছে না, এবং লড়াইও করছে না। সেক্ষেত্রে লড়াই না করা মোরগটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগটি একের পর এক আক্রমণ করে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে। এতে এক সময় তার মাথার নলটি নুয়ে পড়ে মাটির সঙ্গে লেগে থাকে। নিয়মানুযায়ী কোনো মোরগের মাথার নল যদি ১০ সেকেন্ডের বেশি নুয়ে থাকে, তাহলে সে পরাজিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এভাবে তিনবার হলে অন্য মোরগটিকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়।

>>পুরষ্কারঃ বিজয়ী মোরগের মালিকের জন্য রয়েছে নানা ধরনের পুরস্কার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলায় চ্যাম্পিয়ন মোরগের মালিককে ৬০-৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। রানার্সআপ পায় ৩০-৪০ হাজার টাকা।

৩৭ thoughts on “মোরগ লড়াই/ককফাইট

  1. সরাসরি কখনো দেখি নাই
    সরাসরি কখনো দেখি নাই ।টেলিভিশনে অনেক দেখছি ।খেলাটা অনেক মজাদার বটে ।আর আপনার তথ্যপূর্ণ লেখাটাও ভালো লেগেছে ।

  2. সাধারণ মোরগগুলো ধান, গম খেলেও

    সাধারণ মোরগগুলো ধান, গম খেলেও লড়াই মোরগের খাদ্য হলো বাদাম, ঘি, মাখন, গরুর মাংস, ডিম, দুধ, ভিটামিন সিরাপ, ট্যাবলেট প্রভৃতি।

    বাহ দারুণ একটি তথ্য জানলাম। মোরগও গরুর গোস্ত খায়। ব্যতিক্রম ধর্মী একটি মজাদার পোস্ট। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. অভিনব পোস্ট সন্দেহ নেই তবে
    অভিনব পোস্ট সন্দেহ নেই তবে এটি চরম অসভ্য একটা খেলা, আমার কাছে মনে হয়েছে ।
    এই ধরণের লড়াই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলেই বরং আমি খুশি হবো । পশু পাখি একে অন্যের সাথে লড়াই করে আহত হবে , মারা যাবে আর আমরা তামাশা দেখবো , বাজি ধরবো, জুয়া খেলবো – পুরা ব্যাপারটাই একটা অসুস্থ ব্যাপার ।
    :মানেকি: :ভাবতেছি: :দেখুমনা:

    1. হুজুর যদি সুস্থ আর সভ্য
      হুজুর যদি সুস্থ আর সভ্য ব্যাপার স্যাপার নিয়ে একটা পোস্ট লিখতেন তাহলে জেনে খুশি হতাম। তা হুজুর কি কারো শরনং হয়েছেন নাকি নিরামিষ খাদ্য গ্রহণের শপথ নিয়েছেন? যাই হোক ভাবছি এই বেলা দেশী মোরগ পোলাও হলে খাওয়ার ভালোই জমে। :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

      1. আপনার সাথে বাহাসে যাওয়ার
        আপনার সাথে বাহাসে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই । আপনার সম্পর্কে যতটুকু জানি তাতে আপনি একজন চরম অসহনশীল মানুষ , যুক্তির চেয়ে বাজে আলাপ করতেই পছন্দ করেন । এনিওয়ে, আমাকে হুজুর ট্যাগ দেয়াটা মনে রাখলাম ।

        1. সুমিত, বিষয়টা গায়ে পড়ে ঝগড়া
          সুমিত, বিষয়টা গায়ে পড়ে ঝগড়া করার মত হয়ে গেল না? এটাও ব্যক্তি আক্রমণ। আমি এখন থেকে ব্লগিং বাদ দিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ খুঁজে বেড়াব। আর রাহাত মুস্তাফিজ ভাইকে এখানে হুজুর ডাকার মত কি কোন অবস্থা তৈরী হয়েছে? আমি মডারেশন প্যানেলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

          1. ভাই উনি বলেছেন খেলাটা অসভ্য
            ভাই উনি বলেছেন খেলাটা অসভ্য আর অসুস্থ। খেয়াল করে দেখুন এর চাইতেও অনেক অসভ্যতা আর অসুস্থতায় ভরে আছি আমরা। এইসব খেলা গ্রামাঞ্চলে নির্মল বিনোদনের খোরাক। গ্রামের মানুষগুলোর দিকে তাকান তাদের বিনোদনের কথা ভাবুন। আমার চাইতে আপনি অনেক বেশিই জানবেন, কেননা আপনি এসব ক্ষেত্রে ভালোই কাজ করে চলেছেন। এসব গ্রামীণ ঐতিহ্যকে অসভ্য আর অসুস্থ বললে বুঝি আমার অনুভুতিতে লাগতে নেই?

            আমি ওনাকে হুজুর “ট্যাগ” দেই নাই, এটা জাস্ট একটা রসিকতার ছলে বলা। এখন যদি ব্লগে রসিকতা করাও হারাম হয় তাহলে সেটিও এখন থেকে বিবেচনায় রাখবো। উল্লেখ্য রসিকতা আর তাচ্ছিল্য এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।

            আর মডারেশন প্যানেলও দেখছি খুবই দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এগিয়ে যাক :bow: :bow: :bow:

      2. বিদ্বেষ মনোভাব নিয়ে অহেতুক
        বিদ্বেষ মনোভাব নিয়ে অহেতুক ব্যক্তি আক্রমণ করায় যাত্রী সুমিত চৌধুরীকে মডারেশন প্যানেলের পক্ষ থেকে সর্তক করে দেওয়া হল। ভবিষ্যতে একই আচরণের পুনারাবৃত্তি ঘটলে মডারেশন প্যানেল কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

        1. হুজুর আপনি যে মন পড়তে পারেন
          হুজুর আপনি যে মন পড়তে পারেন সেটা জানা ছিলো না, আমি মোটেও বিদ্বেষ মনোভাব নিয়ে কোন মন্তব্য করি নাই। উনি একটা বলেছেন তার বিপরীতে আমিও বলেছি, এখন তিনি নিজ থেকে সেটা বিদ্বেষ না বললেও আপনি বলে ফেলেছেন!!!

          ইস্টিশন বিধি

          ৬. ‘ইস্টিশন’-এ যাত্রী হিসাবে একে অপরের প্রতি দলবদ্ধ আক্রমণ, অশিষ্টাচার মন্তব্য প্রভৃতি থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন যাত্রী আক্রান্তবোধ করলে তাঁর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইস্টিশন মাষ্টার বা ইস্টিশন মাষ্টারের মনোনীত মডারেটর সেই আক্রমণাত্মক পোস্ট, মন্তব্য বা উপাদান সরিয়ে দিতে পারেন। উপরন্ত প্রথম সর্তক সংকেত হিসাবে সাতদিন, দ্বিতীয়বার একমাস তৃতীয়বার অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য সংশ্লিষ্ট যাত্রীর টিকেটটি মডারেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

          যাত্রী আক্রান্তবোধ করলে তিনি শিকল টানুন-এ গিয়ে জানাতে পারতেন। যদিও জানান নাই এখনও পর্যন্ত কিন্তু তার আগেই আমি ইয়েলো কার্ড পেয়ে গেলাম।

          মাফও চাই দোয়াও চাই, এখন থেকে শুধু ত্যাল মারা বা স্বজনপ্রীতি টাইপ মন্তব্য করবো। আজকাল ধর্মানুভুতির ন্যায় ব্লগানুভুতিও দ্যাখি তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। কারো অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে ফাঁসির মঞ্চে চড়তে চাই না।

  4. ভিন্ন মাত্রার পোস্ট। এই
    ভিন্ন মাত্রার পোস্ট। এই বিষয়টা নিয়ে অজানা ছিল। তথ্যগুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। মোরগ লড়াই আমাদের বাঙালী ঐতিহ্যেরই একটা অংশ হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। রাহাত ভাইয়ের সাথে একমত, পশু-পাখি দিয়ে এই ধরনের খেলা অমানবিক। কিন্তু এর চেয়েও অনেক বড় বড় অমানবিক কাজ হয়ে যাচ্ছে আমাদের সম্মুখেই। আমরা কি রুখতে পারছি?

    1. দুলাল ভাই,
      গ্রীক সম্রাটরা

      দুলাল ভাই,
      গ্রীক সম্রাটরা যেমন কলোসিয়ামে বসে মানুষ আর বাঘের অসম লড়াই উপভোগ করতো ( গ্লাডিয়েটর ফিল্মে নিশ্চয়ই দেখেছেন ) তেমনি করে সামন্ত প্রভুরা মোরগ লড়াই উপভোগ করতো । বিষয়টা যতোই ঐতিহ্য বলে আদরণীয় করতে চাই না কেন – আমার কাছে এটাকে চরম অমানবিক লাগে ।

      পোস্টকর্তাকে ধন্যবাদ দেবো একারণে যে, তিনি এরকম একটা বিষয় আমাদের সবার সামনে তুলে ধরেছেন ।

      1. গ্রীক সম্রাটরা যেমন কলোসিয়ামে

        গ্রীক সম্রাটরা যেমন কলোসিয়ামে বসে মানুষ আর বাঘের অসম লড়াই উপভোগ করতো ( গ্লাডিয়েটর ফিল্মে নিশ্চয়ই দেখেছেন ) তেমনি করে সামন্ত প্রভুরা মোরগ লড়াই উপভোগ করতো । বিষয়টা যতোই ঐতিহ্য বলে আদরণীয় করতে চাই না কেন – আমার কাছে এটাকে চরম অমানবিক লাগে ।

        সহমত আপনার সাথে। এদেশের জমিদার ও সামন্ত প্রভুদের এই খেলা খুব জনপ্রিয় ছিল। তারা মোরগ লড়াইয়ের মাধ্যমে জুয়া খেলায় মত্ত হত। মোরগ লড়াই তখন থেকেই বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে এখনো খুব জনপ্রিয় একটি খেলা। কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস কিন্তু বিভীষিকাময়।

  5. অসাধারণ !!! অনেক দিন পর আসলাম
    অসাধারণ !!! অনেক দিন পর আসলাম আর এসেই চ… ম…ৎ … কা … র একটি লেখা পড়লাম । মোরগ লড়াই সম্পর্কে জানতাম কিন্তু এটার ইতিহাস যে এতো ব্যাপক আর আকর্ষনীয় তা জানতাম না ……… অসংখ্য ধন্যবাদ !!!!!!!!

  6. চরম মাত্রার একটি অসভ্যতর
    চরম মাত্রার একটি অসভ্যতর খেলা। এই ধরনের খেলার মধ্যে আছে ষাঁড়ের লড়াইও। মানুষ নিজেদের স্বার্থে বাজি ধরে প্রাণীদের দিয়ে লড়াই করায়- ব্যাপারটা ভাবলেই অসুস্থ একটা অনুভূতি তৈরী হয়। দু’টো মোরগ বা দু’টো ষাঁড়কে পাশাপাশি ছেড়ে দিলে কখনোই লড়াই করবে না। কিন্তু লড়াই লাগিয়ে দিয়ে বৈরীতা তৈরী করা হয়। আর তার বিনিময়ে আমরা জুয়ার টাকা পকেটে ভরি। ব্যাপারটা খুবই অমানবিক। অনেকেই বলবেন মোরগ বাজার থেকে কিনে এনে কেটে খাই কেন তাহলে? সেটা হলো আহারের জন্যই কাটা। আর নিছক মজার উদ্দেশ্যে দু’টো প্রাণীর মধ্যে সংঘাত তৈরী করে মজা লোটা- অনেক পার্থক্য আছে ভাইজান।

    এখানে একটা কথা লেখক উল্লেখ করেননি, সেটা হলো মোরগের পাখায় ব্লেড বেঁধে লড়াই করানো। মোরগের গলা কেটে যাওয়া, ঝুঁটি উপড়ে পড়া… চোখের সামনে দেখা ঘটনা এসব। চট্টগ্রামে বিহারীরা এখনো এই ঐতিহ্য (!) ধরে রেখেছে।
    আল্টিমেটলি এ ধরনের খেলাগুলো তুলে দেয়া উচিত।
    তথ্য সমৃদ্ধ লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    ** ছবিগুলো বছর খানেক আগে নিজের অ্যামেচার মোবাইল ক্যামেরায় তোলা পয়লা বৈশাখের দিনে।

    1. কোনকিছুকে যখন খারাপ বলবো তখন
      কোনকিছুকে যখন খারাপ বলবো তখন তার সাথে তার খারাপের কারণ গুলোও বলা চাই। যেমনটা আপনি বলেছেন। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ, এখন মানতে আপত্তি নেই খেলাটা আসলেই অসভ্য কেননা মুরগির পালকে ব্লেড বেঁধে দেওয়াটা খুবই জঘন্য।

      1. সুমিত, এখন তোমার রাহাত
        সুমিত, এখন তোমার রাহাত মুস্তাফিজ ভাইয়ের প্রতি যে মন্তব্য করেছ সেটার কি হবে? তোমরা যে না জেনে লাফাও এটাই তার প্রমাণ।

        1. উনিও যে কিছু না বুঝিয়ে ধুমাই
          উনিও যে কিছু না বুঝিয়ে ধুমাই অসভ্য, অসুস্থ বলে এটিকে ট্যাগ দিয়ে দিলো সেটারই বা কি হবে? পোস্টটি ভালো লেগেছিলো আর ভালো লাগার জিনিসের প্রতি দূর্বলতা তো থাকবেই। কিন্তু সেখানে যদি কেউ এসে কোন কারণ না বলেই ধুম করে তাকে “অসভ্য/অসুস্থ” ট্যাগ দিয়ে দেয় তখন তো খারাপ লাগবেই। উনার কি উচিত ছিলো না উনি কেনো এটিকে অসুস্থ/অসভ্য বলেছেন সেটি কিঞ্চিত হলেও তুলে ধরা।

          1. সুমিত,
            ভেবেছিলাম এই পোস্টে আর

            সুমিত,
            ভেবেছিলাম এই পোস্টে আর কোন কমেন্ট করবো না। কিন্তু কমেন্ট করার জন্য আপনি টেনে আনলেন । ‘ সভ্যতা ‘ আর ‘ অসভ্যতা ‘ শব্দদুটোর মানে আপনার কাছে ক্লিয়ার আছে তো জনাব ? আর এই পোস্টটি ভালো করে পড়ে থাকলে এই জায়গাটা একটু খেয়াল করেন –

            মোরগের লড়াই /মুর্গার লড়াই / মুরগীর লড়াই (ইংরেজি: Cockfight) এক ধরনের রক্তাক্ত ক্রীড়া যাতে দুই বা ততোধিক মোরগজাতীয় প্রাণী বৃত্তাকার যায়গায় অংশগ্রহণ করে।আর চারপাশে জড়ো হয়ে হাততালি দিচ্ছে হাজারো মানুষ।

            – কী মনে হয় – দুটি প্রাণী লড়াই করে রক্তাক্ত হচ্ছে, ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে আর তা দেখে হাজার হাজার মানুষ হাততালি দিচ্ছে – বিষয়টি খুব দৃষ্টিনন্দন, খুব সভ্য তাই না সুমিত ভাই ?

            আমি জানিনা আমি কেন আপনার গাত্রদাহ’র কারণ হলাম । বিষয়টি দুঃখজনক ।

          2. মোরগ লড়াই নিষিদ্ধতা
            বিশ্বের

            মোরগ লড়াই নিষিদ্ধতা

            বিশ্বের অনেক দেশেই মোরগের লড়াইসহ অন্যান্য প্রাণীদেরকে নিয়ে লড়াই আইন-বহির্ভূত বিষয় হিসেবে বিবেচিত। তারপরও জুয়া খেলা এবং প্রাণীদের রক্তাক্ততার দৃশ্য অবলোকনের জন্যে এ জাতীয় ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোয় এর বিস্তৃতি ঘটলেও কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা একটি নিষিদ্ধ ব্যাপার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৮৩৬ সালে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে আইনের মাধ্যমে প্রাণীদের নিয়ে এ নৃশংসতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণাংশে এ ক্রীড়া জনপ্রিয়তা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক অব কলম্বিয়ায় এ জাতীয় ক্রীড়া প্রদর্শন নিষিদ্ধ। সর্বশেষ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সংসদ জুন, ২০০৭ সালে ভোটের মাধ্যমে এ ক্রীড়া বন্ধের অনুমোদন দেয়।এ নিষিদ্ধতা আগস্ট, ২০০৮ থেকে কার্যকরী হয়।প্রাণীকে সম্পৃক্ত করে ক্রীড়ার এরূপ অমানবিক দৃশ্যকে উপস্থাপনাকে বে-আইনী ঘোষণা করে ১৮৪৯ সালে বৃটিশ সংসদ প্রস্তাবনা আনে। তাসত্বেও অদ্যাবধি এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহে মোরগের লড়াই অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রীড়ারূপে পরিচিত।
            মোরগের পায়ে স্টেইনলেস স্টিলের নখ ও ছোট্ট ছুরি বা ব্লেড-জাতীয় ধারালো অস্ত্র কায়দা করে বসানো হয়। কখনো বুঝে ওঠার আগেই মাথা থেকে দেহ, দেহ থেকে পা মুহূর্তের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একটি মোরগ নিহত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলে। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার ‘পশুক্লেশ নিবারণ আইন’ পাস করে মোরগ লড়াই নিষিদ্ধ করে।

    1. এর মাংশ সিদ্ধ হতে কয়মাস লাগবে
      এর মাংশ সিদ্ধ হতে কয়মাস লাগবে ভাই ? গোল্ড রাশ ফিল্মের কথা মনে পড়ে গেলো ।
      :ভেংচি:

  7. এসব খেলা নিয়ে কখনই কোন আগ্রহ
    এসব খেলা নিয়ে কখনই কোন আগ্রহ বোধ করিনি। তবুও নতুন কিছু জানার সুযোগ করে দেওয়ায় লেখককে ধন্যবাদ। আপনার পোস্ট গুলো বিষয় বৈচিত্রে বেশ ব্যতিক্রমী হয়। এটাই ভালো লাগে। চালিয়ে যান ভাই।

  8. স্বাভাবিক ভাবে মোরগ যুদ্ধ বা
    স্বাভাবিক ভাবে মোরগ যুদ্ধ বা ষাঁড়ের লড়াই ভালই লাগে। আজিমপুর সেকশন এ জাতীয় বিশাল মোরগ দেখেছি। তবে রাহাত ভাইয়ের কথা চিন্তা করে দেখার পর বিষয় টা আমার নিজের ও ভালো লাগছে না। অসভ্যতায় মনে হচ্ছে।

    1. জব্বারের বলি খেলা বা আমাদের
      জব্বারের বলি খেলা বা আমাদের গ্রামাঞ্চলে কুস্তি খেলা ( WWF না )আমার দারুণ লাগে । এতে অন্তত কাউকে আহত করে ফেলার মিশন থাকেনা । সহমত পোষণ করায় আপনাকে ধন্যবাদ !

      1. কুস্তি খেলা একে বারে উঠে গেছে
        কুস্তি খেলা একে বারে উঠে গেছে , গ্রামে কুস্তির নানা খেলা ছিল …………… যেমনএকটি হল বাঁশ কুস্তি ………… এ খেলা অনেক আগে খেলা হত । খেলা হত এমন ।একটা বাঁশের নিচে একটা শক্তিশালী মানষকে রেখে এই বাঁশ এর দু প্রান্তে দু জন মানুষ ধরে থাকত, এর নিচের লোকটা যান প্রান দিয়ে বাঁশ নিয়ে উঠে দাড়াতে হত ,শক্তিশালী অনেকে পারত অনেকে পারত্ না

  9. মোরগ লড়াই নিষিদ্ধতা
    বিশ্বের

    মোরগ লড়াই নিষিদ্ধতা

    বিশ্বের অনেক দেশেই মোরগের লড়াইসহ অন্যান্য প্রাণীদেরকে নিয়ে লড়াই আইন-বহির্ভূত বিষয় হিসেবে বিবেচিত। তারপরও জুয়া খেলা এবং প্রাণীদের রক্তাক্ততার দৃশ্য অবলোকনের জন্যে এ জাতীয় ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোয় এর বিস্তৃতি ঘটলেও কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা একটি নিষিদ্ধ ব্যাপার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৮৩৬ সালে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে আইনের মাধ্যমে প্রাণীদের নিয়ে এ নৃশংসতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণাংশে এ ক্রীড়া জনপ্রিয়তা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক অব কলম্বিয়ায় এ জাতীয় ক্রীড়া প্রদর্শন নিষিদ্ধ। সর্বশেষ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সংসদ জুন, ২০০৭ সালে ভোটের মাধ্যমে এ ক্রীড়া বন্ধের অনুমোদন দেয়।এ নিষিদ্ধতা আগস্ট, ২০০৮ থেকে কার্যকরী হয়।প্রাণীকে সম্পৃক্ত করে ক্রীড়ার এরূপ অমানবিক দৃশ্যকে উপস্থাপনাকে বে-আইনী ঘোষণা করে ১৮৪৯ সালে বৃটিশ সংসদ প্রস্তাবনা আনে। তাসত্বেও অদ্যাবধি এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহে মোরগের লড়াই অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রীড়ারূপে পরিচিত।
    মোরগের পায়ে স্টেইনলেস স্টিলের নখ ও ছোট্ট ছুরি বা ব্লেড-জাতীয় ধারালো অস্ত্র কায়দা করে বসানো হয়। কখনো বুঝে ওঠার আগেই মাথা থেকে দেহ, দেহ থেকে পা মুহূর্তের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একটি মোরগ নিহত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলে। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার ‘পশুক্লেশ নিবারণ আইন’ পাস করে মোরগ লড়াই নিষিদ্ধ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *