শূন্য ভালোবাসা

আজ সকালে ভালো ঘুম হল । বাসায় কেউ নেই এই কারণে ভালো ঘুম । আমার বাসা না, বন্ধুর বাসা । পাহারাদার হিসেবে আছি । বড়লোক বন্ধু থাকলে এই সুবিধা । যখন তখন খালি বাসা পাওয়া যায় । ঢাকা শহরে আমার জন্য খালি বাসা অনেক বড় ব্যাপার । আমি গৃহহীন মানুষ তাই ।
মুখ ধুতে গিয়ে দেখি মুখে অনেক ব্রণ । কাল রাতে ঘুমাবার আগে শেভ করে ঘুমাইছিলাম, বন্ধুর দামি ফোম দেখে ফটাফট শেভ করে ফেললাম । মুখ থেকে এখনও দামি ফোমের গন্ধ বের হচ্ছে । ব্রণ উঠার কারন অন্য জায়গায় । যে ব্লেড দিয়ে শেভ করলাম বন্ধু মনে হয় এই ব্লেড অন্য কোন লোম কাটার কাজে ব্যাবহার করেছে ।

আজ সকালে ভালো ঘুম হল । বাসায় কেউ নেই এই কারণে ভালো ঘুম । আমার বাসা না, বন্ধুর বাসা । পাহারাদার হিসেবে আছি । বড়লোক বন্ধু থাকলে এই সুবিধা । যখন তখন খালি বাসা পাওয়া যায় । ঢাকা শহরে আমার জন্য খালি বাসা অনেক বড় ব্যাপার । আমি গৃহহীন মানুষ তাই ।
মুখ ধুতে গিয়ে দেখি মুখে অনেক ব্রণ । কাল রাতে ঘুমাবার আগে শেভ করে ঘুমাইছিলাম, বন্ধুর দামি ফোম দেখে ফটাফট শেভ করে ফেললাম । মুখ থেকে এখনও দামি ফোমের গন্ধ বের হচ্ছে । ব্রণ উঠার কারন অন্য জায়গায় । যে ব্লেড দিয়ে শেভ করলাম বন্ধু মনে হয় এই ব্লেড অন্য কোন লোম কাটার কাজে ব্যাবহার করেছে ।
আজ নিরিতার সাথে দেখা করার কথা । কাল রাতে ফোন করে বলেছে দেখা করার জন্য । নীল পাঞ্জাবি পড়ে যেতে বলেছে । নীল পাঞ্জাবি পড়ে যাওয়া মানে হচ্ছে আজ নিরিতা ব্রেকাপ করবে । এই নিয়ে সে আমার সাথে সাতাত্তরবার ব্রেকাপ করেছে ।
নিরিতা বলেছে শততম ব্রেকাপের পর আমরা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করব । তার মাথায় এই বুদ্ধি কেন এল বুঝতে পারছি না । জগতের সকল অদ্ভুত আইডিয়া তার মাথায় আসবে ।
একদিন রাত দুইটা বাজে ফোন করে বলে চা খাবে । চা খাবি ভালো কথা আমাকে এত রাতে ফোন করে বলার দরকার কি । আমাকে তার বাসার সামনে যেতে হবে । তার বাসার সামনে একটা চায়ের দোকান আছে । সারারাত খোলা থাকে ।
নিরিতার মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে । এইকারনে সে গত সাতাশ দিনে নয়বার ব্রেকাপ করেছে ।
আমি চিন্তা করতেছি নিরিতা যদি বিয়ের পর এইরকম ব্রেকাপের মত ডিভোর্সের কথা বলে তাহলে তো সমস্যা হয়ে যাবে ।
পকেটে সতের টাকা আছে । এত অল্প টাকা নিয়ে নিরিতার সাথে দেখা করা যাবে না । বন্ধুদের কাছ থেকে এখন কোন টাকা পাওয়া যাবে না, তারা আমার ফোনই রিচিভ করে না কিসের টাকা দিবে । শেষ আশ্রয় পকেটমার ।
লোকাল বাসে পকেট মারতে সুবিধা , মানুষ বেশি থাকে । বাসের মাঝা মাঝিতে দাড়িয়ে আছি । পাশে অতি স্মার্ট একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে । অতি স্মার্টদের পকেট মারতে বেশি সুবিধা ।
এই যে শুনছেন ।
ভাগ্যিস এখনও কারো পকেটে হাত দিইনি। না হলে নির্ঘাত এই যে শুনছেন এর সাথে সাথে ছোটখাট হার্টএটাক হয়ে যেত । আমার চেহারার মধ্যে আজ একটা পকেটমার ভাব আছে । মুখে ব্রণ, গালের দুইপাশে কাটা দাগ । সেকেন্ড হ্যান্ড ব্লেডের বহুত ঝামেলা । এই যে শুনছেন বলে যিনি ঢাক দিয়েছেন তিনি নিশ্চয় লোকাল বাসের যাত্রী না । লোকাল বাসের যাত্রীরা এইরকম মোলায়েম কণ্ঠে ডাকে না । তিনি আমার মত, আমি যেমন পেশাদার পকেটমার না তিনি ও তেমন ।
কিছু বলবেন ?
— জি আপনি কি একটু বাম দিকে সরে দাঁড়াবেন, আমার মুখে রোদের আলো লাগছে ।
মেয়েটাকে দেখতে নিরিতার মত মনে হচ্ছে । লোকাল বাসে সে খুব প্যাড়ায় আছে । মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে স্মার্ট ছেলেটির পকেট মেরে দিলাম ।
এখন নেমে যাওয়া যায় । যত তাড়াতাড়ি নাম্ব তত মঙ্গল । নেমে যাওয়ার আগে মেয়েটাকে আরেকবার দেখে নেওয়া যায় । ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে ।
মেয়েটির হাসি দেখে আমার মাথা দশ মাসের পোয়াতি বেডির লাহান চক্কর দিয়া উঠলো । দেখে ফেলল নাকি । মেয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি টুপ করে চলন্ত বাস থেকে নেমে গেলাম ।
বাস থেকে নেমেই মনে হল মেয়েটির নাম অপলা । নিরিতার বান্ধবি । বাসে টেনশনের কারণে মেয়েটিকে চিনতে পারিনি ।
আজ আর নিরিতার সাথে দেখা করবোনা । আজ নিরিতা আমকে দেখলে সত্যি সত্যি ব্রেকাপ করে ফেলবে । নিরিতা যেদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে সেদিন আমার জন্য জাহান্নাম হয়ে যাবে । আমার পরকালের স্বর্গের দরকার নাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *