ছেলেটির এই একটি কবিতাই পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো

একটুও মিথ্যে নয় সত্যি বলছি আমি পারতাম
সূর্যটা উত্তাপ ছড়াবার আগেই শিশিরের ঘুম ভাঙাতে আমি পারতাম
কিন্তু আমি পারিনি একটি মেয়ের চোখে লেপ্টে থাকা শিশিরের ঘুম ভাঙাতে ।

মেয়েটা আমাকে ডেকেছিলো দাদাভাই আর তাকে বলতো বৌদিমনি
টেলিফোনে দুদিনেই করে নিয়েছিলো কী চমৎকার আপন
যেন কতকালের চেনা কতো প্রিয়জন !

মেয়েটির মা বলেছিল, একদিন এসো বৌমাকে সাথে নিয়ে
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোমাকে বৌমাকে
লাজুক হেসে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম,
নিশ্চই আসবো খালামা ।

শরীরে ও মনে, কামে ঘামে , প্রেমে – প্রীতিতে মিশেছিলাম হৃদয়ে হৃদয়ে
শহর জানতো জানতো চবির পাহাড় ঝরনা সর্পিণী শাটল ট্রেন

একটুও মিথ্যে নয় সত্যি বলছি আমি পারতাম
সূর্যটা উত্তাপ ছড়াবার আগেই শিশিরের ঘুম ভাঙাতে আমি পারতাম
কিন্তু আমি পারিনি একটি মেয়ের চোখে লেপ্টে থাকা শিশিরের ঘুম ভাঙাতে ।

মেয়েটা আমাকে ডেকেছিলো দাদাভাই আর তাকে বলতো বৌদিমনি
টেলিফোনে দুদিনেই করে নিয়েছিলো কী চমৎকার আপন
যেন কতকালের চেনা কতো প্রিয়জন !

মেয়েটির মা বলেছিল, একদিন এসো বৌমাকে সাথে নিয়ে
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোমাকে বৌমাকে
লাজুক হেসে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম,
নিশ্চই আসবো খালামা ।

শরীরে ও মনে, কামে ঘামে , প্রেমে – প্রীতিতে মিশেছিলাম হৃদয়ে হৃদয়ে
শহর জানতো জানতো চবির পাহাড় ঝরনা সর্পিণী শাটল ট্রেন
সোনালি কাবিন ছিলোনা আমাদের ছিলো তারচে দামী অমূল্য প্রেম ।

তোমাকে বলতেই মেয়েটির কথা,
জ্বলে উঠলে গরম তেলের ভেতরে ছেড়ে দেওয়া বেগুনের মতো !

দুদিনের ফোনালাপে এতো দূর ?!? ছিঃ রাহাত ছিঃ !!!
চেনা নাই জানা নাই কোথাকার কে ! ফোনে ফোনে এতো গভীরতা !!!

দ্যাখো তুমি যা ভাবছো, ব্যাপারটা তেমন না, শান্ত হও …

তোমার ফোন নাম্বার পেল কী করে ?

ম্যাগাজিনে, আমার কবিতার সাথে ওরা নাম ফোন নাম্বারটাও দিয়ে দিয়েছিল

আর তাতেই তোমাকে ফোন করতে হবে কেন ? ফোন করেছে বেশ । দাদাভাই, বৌদিমনি পর্যন্ত গড়ালো কেন ? নিশ্চয়ই তোমার প্রশ্রয়ে ?

সে কথাই তো তোমাকে বলতে চাচ্ছি , প্লিজ রাগ ভুলে একটু শোনো

ওর প্রিয় বন্ধুর নামও ছিল – রাহাত, পত্রমিতালীর মাধ্যমে ওদের যোগাযোগ হয়
আমার মতোই কবিতা লিখতো ছেলেটা
প্রতিদিন কমপক্ষে একটি কবিতা লিখত মেয়েটিকে নিয়ে
কিন্তু ছেলেটি একটি কবিতাও কোথাও ছাপতে দেয়নি কখনো
ও শুধু কবিতা লিখতো মেয়েটির জন্য, ওই মেয়েটির কাছে জমা
হতো ছেলেটির শত শত কবিতা ।
মেয়েটি উৎকর্ণ হয়ে থাকতো ডাকপিয়নের কড়া নাড়ার শব্দ শোনার জন্য
অপেক্ষায় থাকতো ছেলেটির চিঠির ভাজে লুকনো কবিতার আশায় ।

সেদিন ছিলো পহেলা ফাল্গুন ওদের পত্র মিতালীর এক বছর
ছেলেটি আসবে খুলনা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
দেখা হবে তাদের কথাও হবে প্রথম…
মেয়েটি সেজেছিল হলুদ শাড়িতে , অনেক সময় নিয়ে বেঁধেছিল খোঁপা
কয়েকটি তাজা গোলাপ গুজে দিয়েছিলো খোঁপার মাঝখানে
আর রক্তজবার মতো লাল গোল টিপটা কিছুতেই কপালের মাঝখানে বসানো যাচ্ছিলোনা ।
হাত কেঁপে কেঁপে যাচ্ছিলো ।
রক্তিম আভায় মেয়েটির সারা মুখজুড়ে জমেছিলো লাজরাঙা বসন্ত …

তারপর … কী হলো চুপ করে আছো কেন ? তারপর কী হলো ?

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো , দুপুর গড়িয়ে বিকেল
তেজস্রী সূর্য অভিমানে পশ্চিম আকাশের প্রান্তে মুখ লুকলো
এতো দীর্ঘ রাত মেয়েটির জীবনে আর আসেনি কখনো ।

সকালে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে মেয়েটির হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে উঠলো ।
আশা নিরাশা উৎকণ্ঠার দোলাচলে দুলদুলতে কম্পিত হাতে দরজা খুলে
দেখতে পেলো পত্রিকার হকার । প্রচণ্ড হতাশায় পত্রিকাটি বিছানায় ছুড়ে ফেলে
একটা সংবাদে চোখ আটকে গেলো মেয়েটির …

‘ খুলনা – চট্টগ্রাম রুটের অধরা এক্সপ্রেস বাস খাঁদে পড়ে একজনের মৃত্যু ‘
মৃত ব্যাক্তির পরিচয় জানা যায়নি , তবে তার বুক পকেটে একটি কবিতা পাওয়া গেছে।

‘ প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি গল্প থাকে
প্রতিটি গল্পের শেষে থাকে নতুন আরেকটি গল্পের সূচনা
আমাদের না দেখা , আমাদের কথাহীনতা সত্য, এরচে বড় সত্য
আমাদের আকাঙ্ক্ষার বীজ রোপিত হয়েছে কালো অক্ষরে
ওই সুফলা অক্ষরগুলোতে থাকি আমি, আমার স্বপ্ন জুড়ে থাকে
একটি সবুজ কিম্বা সোনালী মাঠ । আমি ফসল ফলাতে পারিনা ঠিকই
কিন্তু আমি ঠকবাজ মুৎসুদ্দির টুঁটি চেপে ধরতে পারি প্রতিবাদী অক্ষরে
আমি তোমাকে চাই । তোমার হাত ধরে বাড়াতে চাই দৃষ্টির সীমানা
প্রেমিক কবি নই আমি , জানিনা কীভাবে লিখতে হয় প্রেমের কবিতা
আমার সকল প্রেম মিশে যায় শ্রমিকের মিছিলে, কৃষকের ডিজেলের দাবীতে
কিন্তু আজ এই পহেলা ফাল্গুনে আমি তোমাকে বলতে চাই –
আমার শ্রমনিষ্ঠ হাত ধরে যাবে আমার সাথে চিমনির ধোঁয়ায় ভেজা কালো মানুষের কাছে ,
পদ্মা নদীর মাঝী কুবেরের সংসার দেখতে যাবে ,
যাবে তুমি সারেং বউ’র নিঃসঙ্গ সময়ের সারথি হতে ? ‘

ছেলেটির এই একটি কবিতাই পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়েছিলো ।

২২ মার্চ’১৪, ঢাকা ।

১৭ thoughts on “ছেলেটির এই একটি কবিতাই পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো

  1. অসাধারণ। রবীন্দ্রনাথের কিছু
    অসাধারণ। রবীন্দ্রনাথের কিছু দীর্ঘ কাহিনী কবিতা আছে, আমার খুব প্রিয়। অনেকটা সেরকম স্বাদ পেলাম রাহাত ভাই। দারুণ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    শুধু এই তিনটা লাইন কেন যেন আরোপিত মনে হচ্ছে-

    আমার শ্রমনিষ্ঠ হাত ধরে যাবে আমার সাথে চিমনির ধোঁয়ায় ভেজা কালো মানুষের কাছে ,
    পদ্মা নদীর মাঝী কুবেরের সংসার দেখতে যাবে ,
    যাবে তুমি সারেং বউ’র নিঃসঙ্গ সময়ের সারথি হতে ?

    1. আতিক ভাই,
      আপনার ভালো লাগায়

      আতিক ভাই,
      আপনার ভালো লাগায় আমি ধন্য !
      ওই তিনটি লাইন নিয়ে ভাববো কথা দিলাম ।
      আপনার চমৎকার সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ !
      :ফুল:

  2. অসাধারন…
    অসাধারন… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :bow: :bow: :bow: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :ফুল: :ফুল: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ডন,
      তোমাকে ধন্যবাদ !
      তুমি

      ডন,
      তোমাকে ধন্যবাদ !
      তুমি কিন্তু অনেকটা এই স্টাইলে কবিতা লিখো । মানে গদ্যধর্মী । তোমাকে ফলো করলাম ।
      শুভেচ্ছা ! :ফুল:

    1. অসমাপ্ত মিশন,
      ভাই আপনাকে

      অসমাপ্ত মিশন,
      ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ !
      আপনার মুগ্ধতায় আমার কবিতাও মুগ্ধ হলো !
      :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :খুশি:

    1. দুলাল ভাই,
      গদ্যধর্মী কবিতা

      দুলাল ভাই,
      গদ্যধর্মী কবিতা আমি একটু কম লিখি ।
      আপনার কাছে কেমন লাগলো বুঝলাম না !
      কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ !
      :কনফিউজড:

  3. এখানে শেয়ার করার সুযোগ নেই ।
    এখানে শেয়ার করার সুযোগ নেই । ফেসবুকে করেছিলাম । তখনো ভালো লেগেছিল । এখনো তাই… :গোলাপ: :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *