বাহাই, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইরান থেকে উৎপত্তি হওয়া নতুন ধর্ম

পৃথিবীতে উৎপত্তি লাভ করেছে আরো একটি নতুন ধর্ম। অন্য ধর্মালম্বীদের এনিয়ে তেমন কোন মথা ব্যাথা না থাকলেও এটিকে অনেক মুসলিম নেতারা ধর্ম হিসেবে মানতে নারাজ। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এটি ধর্ম হোক বা না হোক সমাজবিজ্ঞানীরা একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই ধর্মের অনুসারী ৬০ লক্ষ বা তার বেশি। এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাহাউল্লাহ।


বাহাইদের পরিচালনা পরিষদ, ইসরাইল


পৃথিবীতে উৎপত্তি লাভ করেছে আরো একটি নতুন ধর্ম। অন্য ধর্মালম্বীদের এনিয়ে তেমন কোন মথা ব্যাথা না থাকলেও এটিকে অনেক মুসলিম নেতারা ধর্ম হিসেবে মানতে নারাজ। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এটি ধর্ম হোক বা না হোক সমাজবিজ্ঞানীরা একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই ধর্মের অনুসারী ৬০ লক্ষ বা তার বেশি। এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাহাউল্লাহ।


বাহাইদের পরিচালনা পরিষদ, ইসরাইল

বাহাই শিক্ষা ও মতবাদের ভিত্তি তিনটি মূল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ঈশ্বরের ঐক্য, ধর্মীয় ঐক্য, এবং মানবজাতির ঐক্য। এসকল স্বীকার্য থেকে এই বিশ্বাসটি অর্জিত হয় যে, ঈশ্বর নির্দিষ্ট সময় পর পর তাঁর ইচ্ছা স্বর্গীয় দূতদের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন। আর এসকল দূতগণের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতির চরিত্র পরিবর্তন ও উন্নয়ন। এছাড়াও যাঁরা এতে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের কল্যাণ, এবং নৈতিক ও আত্মিক গুণের বিকাশ। এর ফলে ধর্মের ধারণাটি পরিবর্তিত হয়ে একটি নিয়মতান্ত্রিক, একত্রীকৃত, ও বিকাশমান একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, যা যুগ থেকে যুগে পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ সহ এই উপমহাদেশীয় অঞ্চলে বাহাই ধর্মের বিস্তার লাভ করেছে ১৮৪৪ সালের দিকে। বাহাই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাহাউল্লাহর জীবদ্দশায়, ধর্মটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি তাঁর কিছু অনুসারীকে ভারতে যাবার জন্য উৎসাহিত করেন। সেসময় তাদের মধ্যে জামাল এফেন্দি-ই হচ্ছেন প্রথম যিনি একাধিকবার ঢাকায় এসেছিলেন।

বাহাইদের সামাজিক নীতিমালাঃ

  • ঈশ্বরের ঐক্য
  • ধর্মের ঐক্য
  • মানবতার ঐক্য
  • নারী-পুরুষ সমতা
  • সকল রীতি ও সংস্কার বর্জন
  • বৈশ্বিক শান্তি
  • ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে সাদৃশ্য
  • সত্যের স্বাধীন অনুসন্ধান
  • বৈশ্বিকভাবে বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  • বৈশ্বিকভাবে সহায়ক ভাষা
  • সরকারের প্রতি আনুগত্য ও গোঁড়া রাজনীতি থেকে দূরে থাকা
  • অতিরিক্ত সম্পদ ও দারিদ্র বর্জন


বাহাই মন্দির, সিডনি

বাহাইদের প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৮৬ সালে বিশ্বে বাহাই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ছিলো ৪০ লক্ষ ৭৪ হাজার, এবং বৃদ্ধির হার ছিলো ৪.৪%। বাহাই সূত্রমতে ১৯৯১ পর্যন্ত সারা বিশ্বে বাহাই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি। ওয়ার্ল্ড ক্রিশ্চিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়া, ২০০১ সালের এক জরিপে (পৃ. ৪) প্রকাশ করে যে, ২০০০ সালে বিশ্বে বাহাই অনুসারীর ছিলো সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ ১০ হাজার, এবং ২১৮টি দেশে এদের অনুসারী রয়েছে।

২০০৫ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রিশ্চিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ার এক জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে বাহাই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০,০০০।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

৮ thoughts on “বাহাই, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইরান থেকে উৎপত্তি হওয়া নতুন ধর্ম

  1. মত থেকে পথ আর পথের যে মর্ম
    মত থেকে পথ আর পথের যে মর্ম তাই রুপ নেয় ধর্মে।। এতে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই।। যার যেটা ভাল লাগবে সে সেটাই গ্রহন করবে।।

    1. সহমত। বিচলিত নই
      মানব

      সহমত। বিচলিত নই 🙂
      মানব কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে ধর্মের। হরেক রকমের নাম থাকলেও সব ধর্মের উদ্যেশ্য মানব কল্যান।

      মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম…

  2. ২০০৫ সালে ওয়ার্ল্ড

    ২০০৫ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রিশ্চিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ার এক জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে বাহাই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০,০০০।

    চিন্তার বিষয়!

    1. হা বাংলাদেশেও এই ধর্মের
      হা বাংলাদেশেও এই ধর্মের অনুসারী রয়েছে। ২০০৫ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রিশ্চিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ার এক জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে বাহাই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০,০০০।

  3. বাহাইদের উপর ইরান সরকারের
    বাহাইদের উপর ইরান সরকারের নির্যাতন আর তাদের ধর্মগুরুকে হত্যার কথাটা আনা উচিত ছিলো । ১৮৫২ সালে সহস্রাধিক বাহাইকে কচুকাটা করা হয়।

  4. বাহাই ধর্মের গুটিকয়েক অনুসারী
    বাহাই ধর্মের গুটিকয়েক অনুসারী বৃদ্ধিতে এত আনন্দের কিছুনেই । ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে নাস্তিকতা আর কমুনিজমকে লেলিয়ে দিয়ে কোন সাফল্য আসেনি । তাই এখন বাহাই নামক নামসর্বস্ব একটা মতবাদ আনা হয়েছে । এতেও কাজ হবেনা *****
    আপনি নিজেও কি বাহাই হয়ে গেছেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *