বাবাকথন

প্রথম দৃশ্যপটঃ

দুষ্ট ছেলেটা পড়ালেখা শুরু করার পরে মায়ের পড়ানো শেষ হলে তার বাবা তাকে ডেকে বলতো, বাবা পড়ালেখা তোর নিজের জন্য। আমি বা তোর মা কেউ জোর করবোনা, শুধু নিজে ঠিকমত পড়বি। আর তার মা যখন চিল্লাচিল্লি করতো বা প্রেশার দিতো বাবাই এসে তাকে বাঁচাতো। বলতো, ছেলের যখন ইচ্ছা করবে যতটুকু ইচ্ছা করবে সে তখন ততটুকুই পড়বে, তুমি জোরাজুরি করতে পারবানা।

দ্বিতীয় দৃশ্যপটঃ


প্রথম দৃশ্যপটঃ

দুষ্ট ছেলেটা পড়ালেখা শুরু করার পরে মায়ের পড়ানো শেষ হলে তার বাবা তাকে ডেকে বলতো, বাবা পড়ালেখা তোর নিজের জন্য। আমি বা তোর মা কেউ জোর করবোনা, শুধু নিজে ঠিকমত পড়বি। আর তার মা যখন চিল্লাচিল্লি করতো বা প্রেশার দিতো বাবাই এসে তাকে বাঁচাতো। বলতো, ছেলের যখন ইচ্ছা করবে যতটুকু ইচ্ছা করবে সে তখন ততটুকুই পড়বে, তুমি জোরাজুরি করতে পারবানা।

দ্বিতীয় দৃশ্যপটঃ

ছেলেটা বাবা মায়ের চোখ এড়িয়ে যাই করতো না কেন দিনশেষে তার বাবার কাছে ঠিকই খবর পৌঁছে যেত। যদি তার কৃতকর্ম স্বাভাবিক ভুলত্রুটির মাঝে পড়তো তাহলে তার বাবা তাকে কাছে টেনে বন্ধুর মতই হাসতে হাসতে এবং দুষ্টামী করতে করতে তাকে বুঝিয়ে দিতো, যা করেছে তার খারাপ দিক। আর যদি ভুলত্রুটির সীমা স্বাভাবিকের ঊর্ধ্বে যেত তাহলে শাসন বাধ্যতামূলক ছিলো।

তৃতীয় দৃশ্যপটঃ

ছোট ছেলেটার বড় ভাই বোন ঈদের সময় ঢাকা থেকে বাড়ি আসলে তার বাবা-মা-ভাই-বোন মিলে তাস(কলব্রিজ/২৯) খেলতো। কিন্তু ছেলেটা পারতোনা বলে মুখ কালো করে তাঁদের খেলাই দেখে যেত। একদিন তার বাবা এসে তার পিঠে চাপড় দিয়ে বলে, এদিকে আয়। তাস খেলা শিখে নে। আমি আর তুই মিলে খেলতে পারি তাহলে। শিখে নিলো ছেলেটা। প্রায় প্রতিদিনই সে তার বাবা এবং তার বাবার এক বন্ধু মিলে খেলতে লাগলো। তবে শিখানোর আগে ওয়াদা করিয়ে নিয়েছিলো, কখনও টাকা-পয়সা দিয়ে যাতে না খেলে।

চতুর্থ দৃশ্যপটঃ

এক ঈদে তার বাবা-বোন-ভাই এবং সে মিলে তাস খেলছিলো। বড় ভাই কি বলাতে তাকে বাবা বললো, বাবারে তুই সাঁতার শিখে নে। ভাই জবাব দিলো কেন বাবা? বাবা উত্তর দিলো, তুই যার সাথে প্রেম করিস তার গ্রামের বাড়ি যেতে হলে তো নদী পার হতে হয়। লঞ্চ ডুবে গেলে আমার ছেলেকে আমি কই পাবো? তখন সে হেসে উঠলে তাকে বলে, তুই হাসিস না। তোরটার বাসা তো খালের ওইপাড়ে। তোকে সাঁকো বানিয়ে দিতে হবে। তারপর বাবা ভাই আর বোনকে বললো, তোদের মা যেন ওরটার কথা না জানে। জানলে চিল্লাচিল্লি করবে। আর ছোট ছেলেকে বললো, বাবা যাই করিস না কেন, আমাকে জানিয়ে করিস।

পঞ্চম দৃশ্যপটঃ

কোন এক কুরবানী ঈদের আগের দিন ছেলেটার বাবা মারা যায়। মৃত্যুর কয়েকঘন্টা আগে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে বলে, বাবারা তোদের কার কে কে আছে তাঁদের নামটা আমাকে বলতো। তার মা বলে, আরে কি বলো? ওদের কেউ নাই। বাবা বলে, তুমি কচু জানো। ওদের সবারই একজন একজন আছে। আমি জানি সবই। বাবারা, বল তোরা। তোদের বাবা আজ সবকিছুতে রাজি। ছেলেটা জানতো না, যে তার কাছে জিজ্ঞেস করা এটাই তার বাবার শেষ প্রশ্ন। যদি জানতো তাহলে বাবার সব অজানা কথাই বাবার কাছে সেদিন বলে দিতো।

মাঝে মাঝে পৃথিবীর সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়েই, সকল কিছুর উপরে মনে হয় আমার বাবাই সবচাইতে সেরা বাবা। আমি বিশ্বাস করিনা আমার বাবা মারা গেছেন, আমি বিশ্বাস করিনা আমার বাবা অনেক দূরে আছে আমার থেকে। আমি বিশ্বাস করি এই মানুষটা আমার সাথে, আমার পাশেই আছে সবসময় ছায়া হয়ে।

You are the only one & You are the best ABBU. Still now You exist in my heart, in my soul. I love you & I always will.

৪ thoughts on “বাবাকথন

  1. গেল মাসে একটা চাকরীর
    গেল মাসে একটা চাকরীর ইন্টার্ভিউ ছিল
    বয়সটা নেহাতই কম বলে কখনও ফর্মাল ড্রেস পরা হয়না

    প্রায় দু’যুগ পেরিয়ে জীবনের এই জায়গায় এসে যখন থমকে দাঁড়ালাম টাই বাধতে পারিনা বলে তখন জীবনে প্রথম বাবা কে মিস করি

    আপনার লেখাটা পড়ে মনে পড়ে গেল সেই অনুভূতি টা
    আরেকবার

  2. আমার বাবা প্রচন্ড রাগী ।আবার
    আমার বাবা প্রচন্ড রাগী ।আবার ভালোবাসেনও প্রচন্ড ।মিল না থাকলেও লেখাটা ভালোই লাগলো ।

Leave a Reply to নুর নবী দুলাল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *