বাঙালী নিজের পোশাক নিয়ে কখনও খুব একটা ভাবেনি -মুনতাসীর মামুন

শীতকালে কোট [ইংরেজরা যাকে বলে জ্যাকেট] পরতে আরামই লাগে। কোটের আরেকটি সুবিধা আছে, অনেক পকেট, কাজে লাগে। কিন্তু সব সময় কি কোট বা স্যুট পরে ঘুরতে হবে? টাই বেঁধে ঘুরলে কি হ্যান্ডসাম লাগে? আজকাল চল্লিশোর্ধ মহিলারা যে সালোয়ার-কামিজ পরে ঘুরে বেড়ান তাতে কি তাদের ভাল লাগে? এ প্রশ্নগুলো নিয়ে অনেক ভেবেছি। আসলে মিশ্রজাতি, শংকর সংস্কৃতি, মনোজগতে ঔপনিবেশিক অবস্থান- সব মিলে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

শীতকালে কোট [ইংরেজরা যাকে বলে জ্যাকেট] পরতে আরামই লাগে। কোটের আরেকটি সুবিধা আছে, অনেক পকেট, কাজে লাগে। কিন্তু সব সময় কি কোট বা স্যুট পরে ঘুরতে হবে? টাই বেঁধে ঘুরলে কি হ্যান্ডসাম লাগে? আজকাল চল্লিশোর্ধ মহিলারা যে সালোয়ার-কামিজ পরে ঘুরে বেড়ান তাতে কি তাদের ভাল লাগে? এ প্রশ্নগুলো নিয়ে অনেক ভেবেছি। আসলে মিশ্রজাতি, শংকর সংস্কৃতি, মনোজগতে ঔপনিবেশিক অবস্থান- সব মিলে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
বাঙালী নিজের পোশাক নিয়ে খুব একটা কখনও ভাবেনি, গরিব বাঙালী তো নয়ই। একটা সময় নেংটির মতো একটুকরো কাপড়ই ছিল সম্বল। শীতকালে গায়ে আরেক টুকরো কাপড়। মেয়েদের শুধু শাড়ি। ঊনিশ শতকে ইংরেজ প্রশাসকদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কত গরিব ছিল এ দেশের মানুষ। এক জোড়ার বেশি কাপড় অধিকাংশ স্ত্রী-পুরুষের ছিল না। ফরাসীরাই প্রথম এ দেশে সাদা লুঙ্গি বা তহবন্দের প্রচলন করেন। রঙ্গীন লুঙ্গির আমদানি ঊনিশ শতকে বার্মা থেকে এ দেশে প্রথম আমদানি করা হয়। প্রথমদিকে মুসলমানরাই লুঙ্গি পরা শুরু করেছিলেন। কিন্তু অন্তিমে তা হিন্দু-মুসলমান এক কথায় পূর্ববঙ্গের বাঙালীদের সর্বজনীন পোশাকে পরিণত হয়।
গত শতকের পঞ্চাশ দশকেও দেখেছি, মুসলমান বাঙালী মধ্যবিত্ত তরুণ পাজামা আর শার্ট পরছেন। পরে, শার্টের জায়গা দখল করে নেয় পাঞ্জাবি এবং তারপর ফুলপ্যান্ট ও শার্টই আমাদের সর্বজনীন পোশাকে পরিণত হয়েছে। মেয়েরা বয়স হতেই শাড়ি পরতেন। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তবে, বলা যেতে পারে আমাদের যদি ফর্মাল জাতীয় পোশাক এখন কিছু থাকে তা হলো পায়জামা-পাঞ্জাবি ও শাড়ি। বঙ্গবন্ধুর আমলে পাঞ্জাবির ওপর প্রিন্সকোট যা মুজিবকোট নামে পরিচিতি পেয়েছিল, তা সর্বজনীন ফর্মাল ড্রেসে পরিণত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান এসে সাফারির প্রবর্তন করেন। বিএনপিপন্থী সবাই সাফারি পরা শুরু করেন। খন্দকার মোশতাক টুপির প্রচলন করেছিলেন কয়েকদিন, কিন্তু তা ধোপে টেকেনি। সুতরাং পোশাক শুধু লজ্জা নিবারণের উপায়ই নয়, পরিচয়, ব্যক্তিত্ব, আধিপত্য অনেক কিছুর প্রকাশও।
ইংরেজরা যখন আস্তে আস্তে এ দেশে নিজেদের ঘাঁটি গেড়ে বসে তখন পূর্বসূরি মুঘলদের রীতিনীতির অনেক ফর্ম তারা গ্রহণ করেছিল। মুঘল দরবারের জাঁকালো ভাব, জাঁকালো স্থাপত্য তারাও গ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন সময় দরবার? অনুষ্ঠান বা অনুষ্ঠান করে না করে বিভিন্ন উপাধি প্রদানের উদাহরণ। বৃহৎ ইমারত বা জাঁকালো স্থাপত্যের মাধ্যমে তাদের ‘রাজা’ ভাবটিই তারা তুলে ধরতে চাইত। একই কারণে নিজেদের আধিপত্য ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ‘দরবার’, দাফতরিক, আদালতের ভাষাও তারা বদলে দিয়েছিল। পোশাকের ক্ষেত্রেও তাই করেছিল।
পোশাকের কথা ধরা যাক। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে তারা যে পোশাক পরতেন তার সঙ্গে ঊনিশ শতকের শেষার্ধ ও বিশ শতকের পোষাকে তফাৎ আছে। সিভিলিয়ান বা বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা ছবি দেখলে বিষয়টি যত স্পষ্ট হবে, বিবরণেও তত স্পষ্ট করা যাবে না। ইংরেজদের আসার আগেও যারা শাসন করেছেন তারাও নিজেদের সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য পোশাক ব্যবহার করেছেন। পরে, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরার চেষ্টা করেছেন, সব ক্ষেত্রে নয়। স্বদেশীয়রা পোশাকের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন না। ইংরেজরা বিশেষ করে সিভিলিয়ানরা নিজ দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী যা পরার দরকার ছিল তাই পরতেন। এ দেশে তা অনুপযুক্ত হলেও পরতেন। স্বদেশীয়রা একই পোশাকে কয়েকদিন স্বচ্ছন্দে কাটাতে পারতেন কিন্তু সিভিলিয়ানরা/ইংরেজ সম্ভব হলে প্রতিবেলা পোশাক পাল্টাতেন।
‘It aws beneath contempt to ewar hwat the local people did, so the Europeans persisted in going about in heavy clothing.’
এ সবই ছিল নিজেদের আলাদা করে দেখানোর প্রচেষ্টা।
At home, in the office, in the field hunting or on stage representing the majesty and authority the British dressed in their own fashions.
সিভিলিয়ান ফ্রেডরিক জন শোর এর ব্যত্যয় ঘটালে তাকে সাবধান করে বলা হয়েছিল-
‘The ewaring of Indian dress in their public function by employees of the compaû aws officialy banned in 1830.
অধস্তন দেশীয় সিভিলিয়ানরাও ঊনিশ শতকের শেষার্ধে তা অনুকরণ করা শুরু করে। এক সময় আমলাদের ফর্মাল পোশাক হয়ে দাঁড়ায় স্যুট পরা এবং এখনও সেই ট্র্যাডিশন বজায় আছে। আমাদের এখানে কেউ কোন পদে গেলে বা সরকারী অনুষ্ঠানে গেলে স্যুট পরা, নিদেনপক্ষে টাই পরে যাওয়া যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটিও সেই স্বাতন্ত্র্য বজায় বা পদমর্যাদা প্রকাশের।
সুতরাং, সিভিলিয়ানরা নিজেদের পোশাকের স্ট্যান্ডার্ড নিজেরাই তৈরি করেছেন। রোদ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন রকমের টুপি পরা শুরু করেছিলেন বিশেষ করে শোলার এবং তা প্রচলন হয় ১৮৪০ সালে। দেশী সিভিলিয়ানরাও তা অনুসরণ করেন। এমনকি ১৮৭০ সালে বেঙ্গল অফিসিয়ালরা লে. গবর্নর স্যার এ্যাসলি ইডেনকে আবেদন জানিয়ে লিখেছিলেন, তারা আর পাগড়ি পরতে চান না, পরতে চান টুপি, যা শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে যখন তখন খোলা যাবে।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে সিভিলিয়ান বা ইউরোপীয়দের সব পোশাকই ছিল ভিন্নতর। প্যান্ট, শার্ট, ব্রিচেস, টুপি, টাই, পরবর্তীকালে হাফপ্যান্ট- এসব কিছুই প্রাথমিকভাবে বিস্ময়ের সৃষ্টি করত এবং দেশীয়দের থেকে তাদের আলাদা করত। এর সঙ্গে যুক্ত হতো পাইক-পেয়াদা। অন্য আরেকটি বিষয়ের অবতারণা করা যেতে পারে। অধস্তন দেশীয় বা খানসামা, দারোয়ান, পাইক-পেয়াদাদের [পিয়ন] পোশাক [ইউনিফর্ম] তৈরি করা হয় মুঘল সময়ের সমাজ বা অভিজাতদের পোশাকের অনুকরণে। ইঙ্গিতটা ছিল মুঘল [মুসলমান] যুগ শেষ, তারা এখন ইংরেজদের অধীন। ইংরেজরা কর্তা। আশ্চর্য যে, এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে [যেমন হাইকোর্ট] এই ইউনিফর্ম বজায় আছে।
আরও দু’টি বিষয় ঔপনিবেশিক প্রভুদের স্বাতন্ত্র্য ও শক্তির প্রতীক ছিল- একটি ঘোড়া, অন্যটি বন্দুক। ঘোড়া দেশীয়রাও ব্যবহার করতে পারত কিন্তু গরিব অঞ্চলে করত না হয়ত জমিদাররা ছাড়া। ঘোড়া পোষার খরচও ছিল। ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দাপটে সিভিলিয়ান দাবড়ে বেড়াতেন। সে কারণেই বোধ হয় ঘোড়ায় চড়তে জানা পরীক্ষার একটি বিষয় ছিল এবং তাতে অবশ্যই পাস করতে হতো। আর ছিল বন্দুক যা তিনি সব সময় শিকারের জন্য ব্যবহার করতেন। বন্দুক সবাই রাখতে পারত না। এগুলো ছিল শুধু তার স্বাতন্ত্র্য নয়, তার শক্তিরও প্রতীক।
বিশ শতকে প্রকাশ্যে বন্দুক বা ঘোড়া নিয়ে ঘোরাফেরা কমে গিয়ছিল, বড় শহরে তো নয়ই, কিন্তু পোশাকের বিষয়টি তখনও সিভিলিয়ান আঁকড়ে রাখতেন। টাইসন লিখেছেন (বিশ শতকের ত্রিশ দশকে) ডিনারে সব সময় সাদা ডিনারস্যুট পরে যেতেন কারণÑ ‘ধিুং ড়ভ শববঢ়রহম ঁঢ় ড়হবং ংবষভ ৎবংঢ়বপঃ রহ ঃযব সড়ভঁংরষ.’
পোশাক শুধু স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্যই নয়, ঊনিশ শতকে সিভিলিয়ানদের এই ধারণাও ছিল, এই পোশাক ভারতীয় আবহাওয়া যা তাদের জন্য ক্ষতিকর তা থেকে তাদের রক্ষা করবে।
পোশাকের অভ্যন্তরে রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা রকম ব্যবস্থাও ছিল। যেমন, কলেরা বেল্ট, স্পাইন প্যাড প্রভৃতি।
ইংরেজরা গেছে। পাকিস্তানীরা এলো। পাকিস্তানীরাও গেল। বাংলাদেশ হলো। তারও ৪৩ বছর হয়ে গেল। কিন্তু ঐ যে অধস্তনতা [বা চাকরবাকরের মন] তা মন থেকে মোছা দূরে থাকুক, যতটা সম্ভব আঁকাড়ে ধরেই সুখ। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন তারা ও তাদের পার্শ্বচররা এ ব্যাপারে আরও দড়।
আমাদেরই বন্ধুবান্ধব হঠাৎ নিয়মিত এখন কমপ্লিট স্যুট পরা শুরু করলে ধরে নিই তার পদায়ন হয়েছে অর্থাৎ সরকারী বা বেসরকারী কোন পদে গেছেন। তখন তিনি বারো মাস স্যুট পরা শুরু করেন। তিনি ডিসি হন, ভিসি হন বা ডিজি হন কোন তফাৎ নেই। তিনি যে স্বতন্ত্র এটি জাহিরের জন্যই এই চেষ্টা। এমনও দেখা গেছে চৈত্রের গরমে মন্ত্রী/আমলা, ধানক্ষেতের আইল ধরে হাঁটছেন কিন্তু গলায় টাই। এসব ভাবসাব অধস্তনতারই বহির্প্রকাশ।
জিয়াউর রহমান একবার বিদেশ যাবেন। সফরসঙ্গী নির্বাচিত হয়েছে সাংবাদিক হিসেবে কামাল লোহানী। যথাসময়ে তিনি গেছেন বিমানবন্দর, তাঁর ট্রেডমার্ক পোশাক সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে। আমলারা তাকে প্লেনে উঠতে দেয়নি। তাদের মনে হয়েছে, এ পোশাক পরে সফরসঙ্গী হওয়া যায় না, স্যুট পরে যেতে হবে, নিদেনপক্ষে সাফারি। এটি এক ধরনের হীনম্মন্যতা, চাকরবাকরের মনের বহির্প্রকাশ। ড. ইউনূসের যতই সমালোচনা করি তিনি তার মতো করে ট্রাউজার, ফতুয়া, প্রিন্সকোট দিয়ে এক ধরনের ফিউশন পোশাক তৈরি করে নিয়েছেন এবং তা পরে সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ দৃকপাতও করছে না। প্রণব মুখার্জি সাধারণ এক ধুতি-পাঞ্জাবি পরে রাষ্ট্রীয় সফরে চলে এলেন। ভারতের কোন আমলা টু শব্দটি করতে পেরেছে? আমাদের আমলাদের ভারতীয় আমলাদের থেকেও শেখার কিছু আছে। বর্মি প্রেসিডেন্ট লুঙ্গি পরে, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট আফ্রিকার চিরাচরিত পোশাক পরে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রেসিডেন্টরা আবওয়া পরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ দৃকপাত করছেন? একমাত্র আমাদের এখানেই রাষ্ট্রীয় কোন নিমন্ত্রণে বা সফরে মনে হয় স্যুট পরাটা বাধ্যতামূলক।
ঐ যে ঘোড়া ও লাঠির কথা বলেছিলাম। এখনও বোধহয় সারদায় পুলিশকে ঘোড়ায় চড়ার ট্রেনিং নিতে হয়। কী কারণে? একটু উচ্চপদ পেলেই দেখা যায়, কর্তা একটি ছোট বেত নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। কী কারণে? এসব ঔপনিবেশিক ফর্ম যে এখন হাস্যকর ব্যাপার, স্বাধীন রাষ্ট্রে চলে না, সেটির বোধও আমাদের হারিয়ে গেছে।
আমাদের আদালতে দেখুন। যে কালো জোম্বা পরে আইনজীবীদের ঘুরতে হয় তা এ দেশের আবহাওয়া উপযোগী নয়। কিন্তু আমি জানি আইনজীবীরা ঐ পোশাক ছাড়বেন না, সংস্কারও করবেন না। কারণ দেশে এখনও ঔপনিবেশিক আইন চলছে, ঔপনিবেশিক মনের বাইরে যাওয়া তাদের সম্ভব নয়। তবুও রক্ষা যে জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদে এখন শামলা বা পরচুলা পরেন না। এখনও বিচারকদের পিওনদের ব্রিটিশ আমলের খানসামার পোশাক পরিয়ে রাখা হয়। একুশ শতকে ঊনিশ শতকের নাটক চলে না বা বলা যেতে পারে এটি আধুনিক এ্যাবসার্ড ড্রামা।
বিদেশী আদলে যেসব ব্যাংক/করপোরেট হাউস হয়েছে, সেখানে দেখি, পুরুষদের টাইপরা বাধ্যতামূলক। টাই পরলে কি ব্যবসা বেশি আসে? প্রাইভেট ক্লাবগুলোতেও এক ধরনের ড্রেস কোড চালু হয়েছে। জুতো পরা বাধ্যতামূলক, প্যান্টের সঙ্গে পাঞ্জাবি পরা যাবে না, ট্রাউজারের ভেতর শার্ট গুজতে হবে। ঢাকা ক্লাবের পত্তন ঘটিয়েছিল, অধস্তন ইংরেজ কর্মচারী ও নারায়ণগঞ্জের পাট ব্যবসায়ীরা, নেটিভদের জন্য ক্লাবের দুয়ার ছিল বন্ধ। তখন ক্লাবে তাদেরও কোন ফর্মাল ড্রেস ছিল। কারণ, ক্লাব তো আয়েশ বা বিনোদনের জায়গা। ‘নেটিভ’রা যখন ক্লাব দখল করল, তখন সেই সব অধস্তন কর্মচারী ও পাট ব্যবসায়ীদের মনোভাবই বজায় রাখল। কারণ, তারা চাইল, মানুষকে দেখাতে যে, এটি আলাদা একটা ব্যবস্থা যার সঙ্গে ‘জনগণ’ যায় না।
পোশাক নিয়ে শেখ সাদীর একটি গল্প মনে পড়ছে। জীর্ণ পোশাক পরে নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। কেউ পাত্তা দেয়নি। জাঁকালো পোশাক পরে যেদিন গেলেন সবাই খাতির যতœ শুরু করল। অর্থাৎ পোশাক সব সময়ই অভিজাত সৃষ্টি করে। তবে, ব্যক্তি এক পর্যায়ে পৌঁছে গেলে পোশাক গৌণ হয়ে ওঠে। আইনস্টাইন কী পরলেন তা নিয়ে কি কেউ মাথা ঘামাত?
তা’হলে কী হবে? না, আমি কোন পোশাকের সমালোচনা করছি না। আমি দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলছি। নিশ্চয় আনুষ্ঠানিক কোন নৈশভোজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার সময় আমি ‘আই লাভ ইউ’ লেখা টি শার্ট পরে যাব না। না, আমি স্যুট টাই, এমনকি লুঙ্গি পরারও বিপক্ষে নই। যে জনগণ নিয়ে নিত্য কথা বলি সে জনগণ তো লুঙ্গিই পরে। বয়সী মহিলাদের সালোয়ার-কামিজ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানায় না। পাকিস্তান আমলের কথা মনে হয়। রুচিসম্মত, সময় ও আবহাওয়া উপযোগী, আরামদায়ক পোশাকই কাম্য। যখন যেটা মানায়। নিজের পদ বা উর্ধতন অবস্থা দেখাবার জন্য পোশাক পরা নয়। সেটি ঔপনিবেশিকোত্তর ঔপনিবেশিক মনের পরিচায়ক। একুশ শতকে এসে একটি স্বাধীন দেশে ঔপনিবেশিক প্রভুদের দৃষ্টিভঙ্গি বর্জন বাঞ্ছনীয়, কারণ তা অধস্তনতা ও হীনম্মন্যতার প্রকাশ। বলার কথা শুধু এটুকুই।

২ thoughts on “বাঙালী নিজের পোশাক নিয়ে কখনও খুব একটা ভাবেনি -মুনতাসীর মামুন

  1. পোষাক নিয়ে সব খুঁটিনাটিই দেখি
    পোষাক নিয়ে সব খুঁটিনাটিই দেখি লিখেছেন ।তবে শিরোনামে “মুনতাসির মামুন” নামটা লেখার কি কোন কারণ আছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *