একাত্তরের সেই ছেলেটি

এক

যশোর জেলার গ্রাম বিনোদপুর।পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে একটি নদী। তারও একটি উপশাখা একেবারে শহরের পাশ দিয়ে চলে গেছে বহু দূর। উপশাখাটিতে সারা বছর পানি থাকে না। কেবলমাত্র বর্ষা কালে পানিতে টইটুম্বুর। এই নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে একটি চর। টাংকির চর। বর্ষাকালে পানির গ্রাসে চরের অনেকটাই তলিয়ে যায়। নদী তখন বিশাল রুপ ধারন করে । আবার বর্ষাকাল চলে গেলে অগ্রহায়ন পৌষ মাসে চরে জমিন জেগে উঠে। পলি পড়া এ জমি উর্বর হওয়ায় ভরে উঠে নানা ফসলে। ধান, সরিষা, মটরশুঁটি, কলাই, বাঙ্গি, এসব ফসল তখন চরের কৃষকদের কাছে হয়ে উঠে সোনার চেয়ে দামি। তাদের আয়ের উৎস, বাঁচার প্রেরণা।

এক

যশোর জেলার গ্রাম বিনোদপুর।পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে একটি নদী। তারও একটি উপশাখা একেবারে শহরের পাশ দিয়ে চলে গেছে বহু দূর। উপশাখাটিতে সারা বছর পানি থাকে না। কেবলমাত্র বর্ষা কালে পানিতে টইটুম্বুর। এই নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে একটি চর। টাংকির চর। বর্ষাকালে পানির গ্রাসে চরের অনেকটাই তলিয়ে যায়। নদী তখন বিশাল রুপ ধারন করে । আবার বর্ষাকাল চলে গেলে অগ্রহায়ন পৌষ মাসে চরে জমিন জেগে উঠে। পলি পড়া এ জমি উর্বর হওয়ায় ভরে উঠে নানা ফসলে। ধান, সরিষা, মটরশুঁটি, কলাই, বাঙ্গি, এসব ফসল তখন চরের কৃষকদের কাছে হয়ে উঠে সোনার চেয়ে দামি। তাদের আয়ের উৎস, বাঁচার প্রেরণা।

সেই চরেরই অন্যসব ছেলেদের মধ্যে সজিব একজন। পাশের শহরের জেলা স্কুলে পড়ে সে। ছাত্র খুব একটা ভালো না হলেও খেলাধুলায় এককথায় চৌকস। চরের ছেলে হয়েও শহরের সেরা স্কুলের ফুটবল দলের এগারো জনের মধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছে। প্রতিদিনের মত গোসল শেষে বাসায় এসে ডাকাডাকি শুরু করল সজিব, -মা ভাত দাও ।মেলা ক্ষুধা পাইছে। – এই সময় ভাত পামু কই? বল ? দেশের যা অবস্থা । কারো বাড়িতেই ভাত নাই এখন , মিলিটারি যারে পাইতাছে তারেই……… -মা আমাগো আবার কিসের অভাব ? আমাগো তো মেলা টাকা! -হাদারাম, যুদ্ধ কি তুই বুঝস না ? দোকান পাঠ বন্ধ করে দোকানদাররা পালাইতাছে । আর তুই ভাত ভাত করস ? সকাল থেকে তিন বার খাইছস ! আর ভাত নাই আইজকা। যা আছিল সব শেষ। যা আমার সামনে থেকে যা। মায়ের কড়া কথায় সজিবের মন খারাপ হয়ে গেল খুব। মা কোনদিন তার সাথে এভাবে কথা বলেনি।

পানিতে ঢিল ছুড়তে ছুড়তে সজিব লক্ষ করল ঢিলটি খানিকের জন্য পানিতে আলোড়িত হয়ে আবার বিশাল জলধারার বুকে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে কি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও এই ঢিলের মতন ? তারা কি এ দেশে কুচক্রের আড়োলন করে আবার তলিয়ে যাবে অতল গহ্বরে ? খানিকের জন্য নয় বরং চিরতরে।

নদীর পাড়ের বড় বটগাছের নিচে বসে নদীতে ঢিল ছুড়তে ছুড়তে এসব ভাবছে সে। ১৫ বছরের পবিত্র শিশুর মন যেন আজ সক্রেটিস হয়ে উঠেছে।
– সজিব, এই সজিব” পিছন থেকে সজিবের সব চেয়ে কাছের বন্ধু শ্রীকান্ত ডাক দিল ।
– এই শ্রীকান্ত , এই দিকে আয় , বস এখানে।
– তর কি মন কি খারাপ সজিব ?
– তাইলে এত গম্ভির যে ?
– আচ্ছা শ্রীকান্ত , আমি, তুই ভিন্নধর্মী হলেও একই স্রষ্টার তৈরি নারে
? – হু । তা তো বটে। -কিন্তু দেখ পশ্চিম পাকিস্তানিরা তোর বাবা-মাকে খুন করেছে। শুধুমাত্র ধর্মের ফারাকের বিচারে। কি নিষ্ঠুর হেরা!!!
– স স
– সজিব । বলেই সজিবকে ধরে উচ্চ স্বরে কেঁদে উঠল সে।
– কাঁদিস না রে দোস্ত , কাঁদিস না। সজিব জানে এ সান্ত্বনার কোন মূল্য নেই। সত্য সবার জন্য সত্য। সে জানে আজ হোক, কাল হোক সবার মত তাদেরকেও মরতে হবে। তবুও ভালবাসার টানে সব ভুলে দুই বন্ধু দুজনকে জড়িয়ে কাঁদল অনেকক্ষণ।

দুই..

সাল ১৯৭১ -ঘোর বর্ষাকালের এক রাত। কাউকে না জানিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে আসল সজিব। জানে মাকে বললে কখনো তাকে যুদ্ধে যেতে দেবে না।বাবা মারা যাবার পর সজিব ছাড়া তার মায়ের আর কেউ নেই। কিন্তু কিছুই করার নেই তার। তাই ঘুমন্ত মাকে সালাম করেই বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। হানাদার শকুনদের হাত থেকে রক্তের পতাকা ছিনিয়ে এনে, মুক্তির মশালে তাদের সব অহংকার চূর্ণ বিচির্ণ করে স্বাধীনতা নিয়ে তবেই মায়ের কাছে ফিরবে সে।

পরিকল্পনা মতই ছোট্ট নৌকা বেয়ে নদীর শাখা পেরিয়ে যশোর জেলা শহরে গিয়ে পৌছাল সে। নিঝুম শহর। দু- চারটে নেড়ি কুকুর ডাকছে। সময় ভালো না দেখেই বুঝা যাচ্ছে। সন্ধ্যা হতে না হতেই প্রানচঞ্চল শহরটি একেবারে সুনসান হয়ে গেছে। মাঝে মাঝেই মিলিটারির গাড়ি নিস্তব্দতা ভঙ্গ করছে। নৌকাটা এক জায়গায় শক্ত করে বেঁধে সামনে পা বাড়াল সজিব । সামনে এগুতেই বুকের মাঝখানটা কেঁপে উঠলো। বুক ফেটে কান্না যেন বেরিয়ে আসছিলো। এভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসাটা তার উচিৎ হয়নি। একবার মাকে বলে আসা উচিৎ ছিল। বাড়িতে রেখে আসা ফুটবল, নাটাই , মার্বেল সবকিছুর কথা খুব মনে পড়ছে। নদীর ওপারে তাকিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তার চোখ বেয়ে দু- ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল সে দেখতেও পেল না। পরক্ষণেই নিজকে সামলে নেয়। তাকে থামলে চলবে না। জীবন বিলিয়ে দেয়ার শপথ নিয়ে বের হওয়া পথিকের জন্য তুচ্ছ নাটাইয়ের কোন মূল্য নেই।

হাঁটতে হাঁটতেই লোকনাথ মন্দিরের পাশে চলে এসেছে সজিব। পাশ ফিরেই দেখল মন্দিরের ভিতরটা একেবারে নিস্তব্ধ আর অন্ধকার। পাক আর্মির ভয়ে অনেক হিন্দুরাই গা ঢাকা দিয়েছে। বেশিরভাগ দোকান পাট বন্ধ হয়ে আছে। মন্দিরের পিছনের ঝোপওয়ালা রাস্তাটা দিয়েই যাচ্ছে সে। কারন এ রাস্তার মধ্যখানে একটা চায়ের দোকান আছে। সারারাত খোলা থাকে। সিগারেট ছাড়াও মোটামুটি চা-নাস্তার ব্যবস্থা সেখানে করা যাবে। পকেটে অবশ্য তেমন কোন টাকা নেই। দু টাকার একটা ছেড়া নোট ছাড়া সঙ্গে কিছু শুকনো মুড়ি আর খই আছে। এটা দিয়ে অবশ্য বেশিদিন টিকা যাবেনা। চায়ের দোকানটা খোলাই পাওয়া গেল। সেখান থেকে চা খেয়ে আবার হাঁটতে শুরু করল সজিব। যেতে হবে হিন্দু পাড়াতে। ওখানেই লুকিয়ে আছে শ্রীকান্ত। তার সাথেই যুদ্ধে যাবে সজিব।

মেঠো পথ । শ্রীকান্তদের বাড়িটায় যেতে হয় একটা বিশাল মাঠ পেরিয়ে। রাত গভীর হয়ে আসছে তাই সজিব হাঁটার গতি আরো বাড়ালও। মিনিট দশেক পরেই শ্রীকান্তদের বাড়ির পাশে এসে দাঁড়ালো সে। নিস্তব্ধ হয়ে আছে চারপাশ। পাশেই বাঁশঝাড়টা । ওটা পেরুলেই শ্রীকান্তদের ঘর। মাটির ঘর। শ্রীকান্তদের বাসার সামনে এসেই শ্রীকান্তকে ডাক দিলো সজিব। -শ্রীকান্ত , শ্রীকান্ত ?? পুরনো একটি টিমটিমে আলোয় ভরা হারিকেন নিয়ে ঘর থেকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে আসলো শ্রীকান্ত। গায়ে কোন জামা নেই। হারিকেনের আলো যেন তার সুঠাম দেহ দেখিয়ে বলছে বয়স আর শক্তিতে সজিবের চেয়ে সেই বড়। – কিরে, তুই চইলা আসছস তাইলে ? আমি ভাবছিলাম ভয়ে তুই আইজকাও আইবিনা।দোস্ত কাহিনী কিছু জানস ? – কেন্ কি হইছে ? – আয় আগে ভিতরে আয় তারপর সব খুইলা কমু। ভিতরে ঢুকতেই দেখলাম বাসার ভিতর টা একেবারে মলিন হয়ে আছে। ভাঙ্গাচুরা আসবাবপত্র দেখেই বুঝা গেল এখানে আর্মির আগমন ঘটেছিল। কোথাও কোথাও মাকড়সার জাল জমে গেছে। – কিরে কি দেখস ? নে ভাত খা আগে । না রে কিছু না। ভাতের প্লেট টা কাছে টেনে নিতে নিতে বলল সজিব। – কিরে বললি না তো কি সমস্যা ? – ও হ্যাঁ ভালো কথা মনে করছস। শুনছস গত কাইল আমাগো পাশের বাড়ির গনি চাচার মাইয়া দুইডারে তুইলা নিয়া গেছে। এখনো ফেরত দেয়নাই। দুইডারে কি করছে কে জানে। মাইরাও ফেলতে পারে এতক্ষণে। আশে পাশের আরো কয়েকজনরে ধইরা নিয়া গেছে। এক লগে। – কি কছ ! ঘটনা তাইলে এত দূর ! – গাধা ! আস্তে কথা ক , কেউ শুইনা ফেললে ঝামেলা হইয়া যাইব, শুন এখন এখানে দাঁড়াইয়া রাগ দেখাইয়া লাভ নাই। রাগ দেখাইত হইব মিলিটারিগো সামনে। আর কার সামনে জানস ? – কার সামনে ? – মিলিটারিগো দালাল গুলার সামনে। শুনেছি হেদেরও নাকি আলবদর বাহিনি গঠন হইয়া গেছে। আর আমাদের এলাকায় দায়িত্বে কারা আছে জানস ? – কেডা ? -আসাদ মুন্সী , আর রইস হাওলাদার। আরে হেদের থেইক্কা খবর পাইয়াই তো আর্মিরা এরকম করতাছে ! কার ঘরে কোন যুবতি মাইয়া , যুবক পোলা ,কত মানুষ আছে সব খবর হেরাই দিতাছে। শুনছি তোগো মসজিদের ইমাম সাহেব তাগরে এমন কাম করতে মানা করছিল। হেরোও নাকি মিলিটারিরা মাইরা ফেলেছে। – কছ কী ! – হ ।। ঘটনা খুবই খারাপ। ইচ্ছা করতেছে এহনই ধইরা দাও দিয়া জবা কইরা দেই শালাগুলারে। কিন্তু পারতাছিনা। হেইডার লাইগা আমাগোরে মুক্তিবাহিনীতে যাইতে হইব। – হ বুঝলাম, ঘটনা আসলেই খারাপ, তো , কখন যাবি ?

– এই তো ভাত খাইয়া ল তারপর,

পেটপুরে মাশকালাই ডাল দিয়ে ভাত খেল দুজন। গভীর রাতে পাড়ি জমালো দুই বন্ধু। নিরুদ্দেশের পথে। না ঠিক নিরুদ্দেশের পথে নয়। আগেই মুক্তিবাহিনীর একটা জিপ গাড়ির ব্যবস্থা ছিল। সেই গাড়িতে করে ওরা ১৯ জন পাড়ি দিল দীর্ঘ পথ। বর্ডার পার হয়ে ওপাড়ে মেঘালয় প্রদেশ। মুক্তিবাহিনির ক্যাম্পে। ট্রেনিং নিতে।

তিন…

সজিব ছোট তাই মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে তাকে ছোটোখাটো কাজই দেয়া হত। বিশেষ করে খাবার পরিবেশন, অস্ত্র বহন ইত্যাদি। সজিবের অনেক ইচ্ছা সে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিবে।শারীরিক যোগ্যতা আর বয়সে সবার থেকে ছোট হওয়ার কেউ তাকে নিতে সাহস করতনা। কিন্তু সজিব নাছোড়বান্দা। একসময় ট্রেনিংয়েও টিকল সে। কিন্তু সবাই তাকে নিতে নারাজ কেননা , ইতোমধ্যে পাক আর্মির সঙ্গে বেশ কিছু সম্মুখ লড়াইয়ে অনেক যোদ্ধা শহীদ হয়েছে। কিন্তু সজিব কারো কথা শুনবে না। সে যাবেই যাবে। তার মনে একটাই ইচ্ছা তখন, যে করেই হোক পাক সেনাদের হটিয়ে তাদের স্বাধীনতা পেতে হবে। পরম কাঙ্খিত স্বাধীনতা, বহু সাধনার নিজস্ব পতাকা।

হঠাৎ সন্ধার সময় সজিবের ডাক পড়ল কমান্ডার রতনের রুমে। সজিবকে দেখেই তিনি বললেন, – সজিব তোমার ইচ্ছা পুরন হবে। – সত্যিই ! রতন ভাই ! সত্যি বলতাছেন আপনে ? – হ্যাঁ সত্যি , আজ রাতে আমরা যখন পাক আর্মির কইয়াম্পে অপারেশন চালাব তুমি থাকবে আমাদের সাথে। হামিদ ভাই তোমাদের গ্রুপের দায়িত্বে আছেন। উনার কাছে যাও,উনিই তোমাকে সব পরিকল্পনা ঠিক করে বুঝিয়ে দিবে। -জে আইচ্ছা,রতন ভাই।

গভীর রাত। প্রচণ্ড শীতে দাঁত ঠক ঠক করে বাড়ি খাচ্ছে। চার দিক থেকে আক্রমনের জন্য প্রস্তুত মুক্তিবাহিনীর চল্লিশ সদসের দলটি। কিছুক্ষণ পরেই সার্চ লাইট জ্বলে উঠল। তীব্র আলোয় সব যেন ধাঁধিয়ে এল । তখনই শুরু হল ফায়ার । পাল্টা গোলাগুলি প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে । হঠাৎ দূরে কিসের যেন বিস্ফোরণ হল। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন দাউ দাউ করে আর্মি ক্যাম্প আগুন ধরে গেছে।সঙ্গে সঙ্গে কেন জানি পাক ক্যাম্প থেকে ফায়ার অফ হয়ে গেল। শ্রীকান্তরা সবাই গুলি করতে করতে ক্রলিং করে এগোতে থাকে। যুদ্ধে সবাই এতো ব্যস্ত ছিল যে লক্ষই করলনা সজিব কোথায় আছে। হঠাৎ শ্রীকান্তের মনে পড়ল সজিবের কথা।এক পলক পাশ ফিরে তাকালো শ্রীকান্ত।কোথাও দেখতে পেল না সজিবকে।কেন জানি অজানা এক আশঙ্কা মনের মধ্যে বয়ে গেল। তবে কি,তবে কি সজিব আর নেই?? পিছনে ফেলে আসা মৃত মানুষগুলোর মধ্যে কি এখন সেও একজন?না,এখন সজিবকে খোঁজার সময় না। শ্রীকান্ত রাগে,ক্রোধে আরো জোরে ফায়ার করতে করতে এগুতে থাকে। কিছুক্ষন পর কমান্ডার রতনের নির্দেশে সবাই ফায়ার অফ করল। পাক-কাম্পে নিয়ন্ত্রণে আনার পর দেখা গেল দূরে ড্রেনের পাশে সজিবের লাশ পড়ে আছে। সাথে কয়েকটা হ্যান্ড গ্রেনেড আর একটা রাইফেল পড়ে আছে। সবার বুঝতে বাকি রইলনা হঠাৎ করে পাক ক্যাম্প এর ফায়ার অফ হওয়ার ঘটনাটা। মুক্তিবাহিনীর গোটা গ্রুপ এগিয়ে আসার অনেক আগে একাই ক্যাম্পটা দখল করে ফেলেছিল। হ্যান্ড গ্রেনেডেদের বিস্ফোরণে পুড়িয়ে দিয়েছিল প্রত্যেকটি হায়েনাকে।কিন্তু ঘাতকের গুলির আঘাত এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচতে দেয়নি। কমান্ডার রতন বলে উঠল, -সজিব হল মুক্তিবাহীনির প্রথম কিশোর শহীদ । এসো যোদ্ধারা ! আমরা সবাই এই বীর যোদ্ধাকে স্যালুট করি। সবার মুখরিত জাতীয় সংগীত,আর রক্তলাল পতাকা দিয়ে সেখানেই সমাহিত করা হল সজিবকে। সুখের দুঃখে সবার চোখে কেন জানি জল টলমল করতে লাগল।প্রাণের মায়া বিলিয়ে দেওয়া সাহসী নাবিক হয়েও,ছোট্ট এই ছেলেটির জন্য যেন নিজের চোখের জলের স্রোতকে ডিঙ্গিয়ে এর এতটুকুও নৌকাও বাইতে পারছিলনা কেউ।

এভাবেই হাজারো নর, নারী, বীর যোদ্ধাদের ভালবাসা, কষ্ট, লাঞ্চনায়, জীবন ত্যাগের ফলে ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতাকে , লাল সবুজের পতাকাকে,আর আমাদের ভালবাসার, ভালো থাকার দেশ বাংলাদেশকে।

উৎসর্গ -সেই প্রিয় মানুষটিকে , যে আমাদের জানতে দিয়েছে স্বাধীনতা কি ? সেই প্রিয় মানুষগুলোকে যাদের অবদানে আমরা বুঝতে পেরেছি স্বাধীনতার স্বাদ কী ? সেই প্রিয় মুখ গুলোকে, যারা আজো এদেশকে ভালবাসে, দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে লড়ে চলছে প্রতিনিয়ত…।।
বিঃদ্রঃ পুরবে ভালবাশার দাকপিওন পেজ আ প্রকাশিত

৫ thoughts on “একাত্তরের সেই ছেলেটি

  1. লেখাটা খুবই দারুণ হয়েছে
    লেখাটা খুবই দারুণ হয়েছে ।গায়ের প্রতিটি লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো লেখাটা পড়তে গিয়ে ।আর সজিবের মতো এমন লাখো মুক্তিযোদ্ধার জন্য শ্রদ্ধা আজীবন ।

  2. লেখাটা খুবই দারুণ হয়েছে
    লেখাটা খুবই দারুণ হয়েছে ।গায়ের প্রতিটি লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো লেখাটা পড়ার সময় ।সজিবের মতো লাখো সাহসী মুক্তিযোদ্ধার জন্য শ্রদ্ধা আজীবন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *