মালয়েশিয়া আমার প্রবাস জীবন

জীবনের কিছু কথা প্রকাশ করার ইচ্ছা জাগল তাই ইষ্টিশনকে কাছে পেয়ে আর প্লাটফর্মে অপেক্ষা করতে হলনা। ব্লগ পোস্ট লিখতে শুরু করলাম, কি লিখব লেখার অনেক কিছু আছে, মনের কষ্ট প্রকাশ করা না পারাতে মণের ভীতর হাহাকার করতে লাগল। জীবনের ক্ষেতে ফসল ফলানোর জন্য কষ্টকে সাথী করে আসলাম
মালয়েশিয়া। ভেবেছিলাম কষ্টের সাথীকে দূর করে সুখের সাথীকে কিছুটা লাগব করা যাবে। শুরু হোল কষ্টকে নিয়ে জীবনে ভবিৎসব গড়ার স্বপ্ন।
খুব আদরের সাথে নিয়ে আসা হোল কোম্পানির হোস্টেলে। একি অবস্থা এক রুমে ১২ জন তাও আবার ডাবল সীট। দেখে আমার প্রথমে সস্থি হলনা। ছোট একটা

জীবনের কিছু কথা প্রকাশ করার ইচ্ছা জাগল তাই ইষ্টিশনকে কাছে পেয়ে আর প্লাটফর্মে অপেক্ষা করতে হলনা। ব্লগ পোস্ট লিখতে শুরু করলাম, কি লিখব লেখার অনেক কিছু আছে, মনের কষ্ট প্রকাশ করা না পারাতে মণের ভীতর হাহাকার করতে লাগল। জীবনের ক্ষেতে ফসল ফলানোর জন্য কষ্টকে সাথী করে আসলাম
মালয়েশিয়া। ভেবেছিলাম কষ্টের সাথীকে দূর করে সুখের সাথীকে কিছুটা লাগব করা যাবে। শুরু হোল কষ্টকে নিয়ে জীবনে ভবিৎসব গড়ার স্বপ্ন।
খুব আদরের সাথে নিয়ে আসা হোল কোম্পানির হোস্টেলে। একি অবস্থা এক রুমে ১২ জন তাও আবার ডাবল সীট। দেখে আমার প্রথমে সস্থি হলনা। ছোট একটা
রুমে ১২ জন মানুষের থাকা এবং কাজ করার কাপড়ের যে দূর গন্ধ , কিভাবে সুস্থ থাকা জায় একি রুমে বসবাস করে। কি আর করবো নিয়তির কাছে যে বাধা।
পুরানো কার্গো বক্স দিয়ে থাকার হোস্টেল বানানো হয়েছে। আমি থাকতাম উপরের তিন তলা। রান্না , গোসল সব কিছু ছিল নিচে। বৃষ্টি হলে উপরে উঠার জন্য সিঁড়ি এমন পিচ্ছিল হতো যেন শরীরের একটি অংশ কি যেন হয়।
কাজের পরিস্থিতি কি আর বলবো, আমার আগে যারা আসছে তাঁদের হাতের আঙ্গুল দেখে আমি আর কান্না থামাতে পারলাম না। গ্লভে কাজ করে আঙ্গুলের মাথা আর নখ নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হতো। তার উপরে কাজ করাতো অধিক। অসুস্থ হলে কেউ দেখার নাই, কেউ যে কিছু বলবে তাও সময় নাই, সবাই যেন যার যার কর্ম কাজে বাস্ত থাকে। তখন শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে , মনে পড়ে মায়ের হাতের রান্না করা গরুর মাংস , ভুনা খিচুড়ি , শুটকি ভরতা, পোলাও কতো দিন হোল খাই না। মায়ের মতো কেউ বলেনা বাবা খেতে আয়, বাবা ঘুম থেকে উঠ।
হোস্টেলে প্রায় প্রায় লোক মারা যায়। তাদের মর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরতাম। থাকার পরিবেশ ভাল না, রোগ জীবাণুর ছড়া ছড়ি । তাছাড়া বেতন তেমন যথেষ্ট না
হয়ায় অনেকে খাওয়া দাওয়া কষ্ট করে। ভালো ভাবে খাওয়া দাওয়া করলে দেশে টাকা পাঠানো সম্ভব না তাই একটু কষ্ট করে চলাফেরা করে।
কি আর করব মনের ভীতর কষ্টকে চাপা দিয়ে আজও মালায়েসিয়া আছি। কাজ করে যাচ্ছি আপন মনে। মা মাগো তোমার কথা শুধু মনে পড়ে, তোমার হাতের রান্না
কবে খাব। মা তোমার ছেলেটা যে কতো কষ্টে আছে তুমি জান না । মা তুমি যখন জানতে চাও বাবা তুই খাইসিছ, তখন না খেয়েও বলি হা মা খাইছি।
মা যখন জানতে চায় কি দিয়ে খাইছি তখন আর কান্না ধরে রাখতে পারিনা , খারাপ খেলেও মার কাছে বলি ভাল খাইছি। কিন্তু আমি যে না খেয়ে কাজ করেতেছি মাকে
আমি কি করে বলব। সময়ের কারনে রান্না করতে পারিনি।
আমার সাজানো বাগানের কষ্ট যেন আরও প্রখরতা হতে লাগল।
দুই
ছারপোকা আর মশার কামড়ে শরীরে সতেজতা বলতে কিছু নেই। সারাদিন কর্ম ক্লান্তির পর রাতে একটু আরাম আয়েশের সাথে ঘুমাব
সেটা আর হয় না। এমন ভাবে বিস্তার করে ছারপোকা গুলো যেন মনে হয় এখানকার রাজত্ব তাদের। আমরা কিছুই না। সকাল ছয়টার
সময় ঘুম থেকে উঠতে হয়। নিজেকে গুছিয়ে সব ঠিক ঠাক করে কাঁরখানায় প্রবেশ করতে হবে সকাল সাত টার মধ্যে, সাত টার
অতিরিক্ত হলে মালয়েশিয়া রিংগিত দশ, মূল বেতন থেকে কেটে নিবে, সাথে অ্যালাউন্স দিবে না। কাঁরখানার ভিতরে সিসিটিভি
আনাচে কানাচে। কোথাও যদি একটু বসে পা দুটোকে বিশ্রাম দেয়া যেতো তাহলে সস্থি পেতাম। বসার মত পরিস্থিতি নাই, দেখলে বেতন থেকে টাকা কাটা হবে। ভয় ভীতি নিয়ে চলে কাজের ১২ ঘণ্টার ইতিহাস।
কারখানা থেকে কাজের সমাপ্তি দিয়ে যখন হোস্টেলে আসি দেখি তখন রান্না আর গোসলের ঝড় ঝাপটা। এ বুঝি জীবনের সাথে যুদ্ধ
করা এক ময়দান। হোস্টেলে থাকা হতো বিভিন্ন দেশ থেকে আশা প্রবাসী জাতী। বাংলাদেশি, নেপাল, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান,
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, এবং কম্বোডিয়া। ভিয়েতনাম প্রবাসীর কাণ্ড জ্ঞানহীন কিছু কাজ কর্ম দেখলে মাথার ভিতর ঘূর্ণিপাক হত।
মাঝে মাঝে ভিয়েতনাম জাতীরা গুইসাপ, সাপ, বিড়াল, চোখের সামনে যখন কাটাকাটি করত তখন ওই দিন বমি করতে করতে
অস্থির হয়ে পরতাম। খাওয়া দাওয়া দূরের কথা খাবারের সামনে ভিড়তে পারতাম না।
প্রথম ছয় মাস বাংলাদেশে বাবা মা, আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলছি নিজে একটা সিম কিনে বন্ধুর মুঠো ফোনে। কি করবো মুঠো ফোন
কিনার সামর্থ্য থাকলেও পিছু টানের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আর কিনা হয়নি। এক সময় নোকিয়া নরমাল একটা মুঠো ফোন কিনলাম।
অজস্র প্রদীপের মাঝখানে এক টুকরো প্রদীপের আলো মাঝে মাঝে আলোকিত করে দিত আমার কষ্টকে। আমার ভালোবাসার মানুষটির সাথে যখন
কথা বলতাম ভুলে যেতাম সমস্ত কষ্টকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *