আবোল তাবোল বকবক

অবশেষে ডাকাতের কবল থেকে মুক্তি, জমা দিতে পারলাম ১১টা প্রোজেক্ট খাতা :

গত শনিবারের ঘটনা … বাড়ি (আসানসোল) যাচ্ছিলাম রবিবার বি.এড ক্লাশ করতে আর খাতা জমা দিতে । ‘আপ হাওড়া-অমৃতসর এক্সপ্রেস’ বেশ লেট করছিল বর্ধমান ঢোকার আগে থেকেই । আমরা খুব বিরক্ত । আসানসোল ঢোকার কথা 6.20pm . সেই গাড়ি রানিগঞ্জে 6.45pm টায় দাঁড়িয়ে আর নড়ল না , কী জ্বালা … সিগ্ন্যাল প্রোব্লেম ! বেশ লেট করেই ছাড়ল । আর মাত্র দুটো স্টেশন , তাহলেই আসানসোল । ওমা ! নিমচা হল্ট আর কালীপাহাড়ি স্টেশনের মাঝখানে শুনশান অন্ধকার মাঠের মাঝখানে হঠাত ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড়াল আবার । যাত্রীরা ক্ষেপে আগুন । ড্রাইভার আর সিগন্যাল এর গুষ্টি তুলে গাল দেওয়া শুরু হচ্ছে এমন সময় জানলার অদুরেই ২০-২৫ জনের দলকে টর্চ ও হাতে বেশ কিছু লাঠি বা ওই জাতীয় কিছু নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখলাম ।



অবশেষে ডাকাতের কবল থেকে মুক্তি, জমা দিতে পারলাম ১১টা প্রোজেক্ট খাতা :

গত শনিবারের ঘটনা … বাড়ি (আসানসোল) যাচ্ছিলাম রবিবার বি.এড ক্লাশ করতে আর খাতা জমা দিতে । ‘আপ হাওড়া-অমৃতসর এক্সপ্রেস’ বেশ লেট করছিল বর্ধমান ঢোকার আগে থেকেই । আমরা খুব বিরক্ত । আসানসোল ঢোকার কথা 6.20pm . সেই গাড়ি রানিগঞ্জে 6.45pm টায় দাঁড়িয়ে আর নড়ল না , কী জ্বালা … সিগ্ন্যাল প্রোব্লেম ! বেশ লেট করেই ছাড়ল । আর মাত্র দুটো স্টেশন , তাহলেই আসানসোল । ওমা ! নিমচা হল্ট আর কালীপাহাড়ি স্টেশনের মাঝখানে শুনশান অন্ধকার মাঠের মাঝখানে হঠাত ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড়াল আবার । যাত্রীরা ক্ষেপে আগুন । ড্রাইভার আর সিগন্যাল এর গুষ্টি তুলে গাল দেওয়া শুরু হচ্ছে এমন সময় জানলার অদুরেই ২০-২৫ জনের দলকে টর্চ ও হাতে বেশ কিছু লাঠি বা ওই জাতীয় কিছু নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখলাম । আমার সামনের দেহাতি লোকটি জানলা খুলে দেখার চেষ্টা করছে । এদিকে জায়গাটা ভালো না , সেটা জানি । প্রায় সময় কয়লা মাফিয়া গ্যাং ও অন্যান্যদের ঝামেলা লাগেই । ভাবলাম সেরম কিছু । কিন্তু জানলা দিয়ে ওদের গামছা/মাফলার ঢাকা চেহারা ও তুমুল আওয়াজ এ বুঝলাম অন্য বিপদ । লোকটিকে জানলা বন্ধ করতে বললাম । সে ব্যাটা কোন কথাই বোঝে না । শেষে নিজেই ঊঠে জানলা বন্ধ করলাম । শুনতে পেলাম পাশের বগিতে ব্যপক চিৎকার, বুঝলাম ডাকাত পড়েছে । কিছু জন আমাদের কামরার আশেপাশে লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছে । দুটো দরজার একটা আবার ভেজানো, একজনকে বলতে সে উঠে গিয়ে লক করে এল । তার পরমুহুর্তেই পরপর লাঠির আঘাত পড়ল আমাদের বগির দরজায় । পাশের বগির লোকজনের কাছ থেকে তখন লুঠপাঠ চালাচ্ছে ডাকাত দল। ভাগ্যিস জেনারেল বগির ভেতর দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা নেই । নইলে পরশুই আমার ভবলীলা সাংগ হত । পরে খবরে জানলাম পাশের বগির ২০ জন পশু ব্যাবসায়ীর কাছ থেকেই লুঠপাঠ চালিয়েছিল ওরা । পানাগড় থেকে ওনারা ঊঠেছিলেন ।

আমার অবশ্য অত কিছু মনে হচ্ছিল না। শুধু ভাবছিলাম ডাকাত পড়ুক বা ট্রেন ঊল্টাক ভালোয় ভালোয় পরের দিন যেন ‘ব্যাগ ভর্তি আপদ’ (১১ টা খাতা) কলেজে ফেলে দিয়ে আসতে পারি । এসব বিপদ নিয়ে কে ভাবছে !!

Moral of The Story : ”বড়ে বড়ে দেশ মে অ্যাঁয়সি ছোটি ছোটি ঘটনায়ে ঘটতি রহতি হ্যায় সেনোরিটা … ডরনে কা নেহি !”
ডাকাত দেখাও হল নিজের চোখে , আবার
পরদিন খাতাগুলো ফেলে এলাম কলেজে… আহহহ কি শান্তি !!!

৩ thoughts on “আবোল তাবোল বকবক

    1. অনুভুতি তো শেষে বলাই আছে ।
      অনুভুতি তো শেষে বলাই আছে । আসলে সেদিন এতটাই টেন্সড ছিলাম প্রজেক্ট খাতা গুলো জমা দেওয়া নিয়ে যে এসব নিয়ে ভাবিই নি। হাঁ ভয় হয়েছিল, পরে ভাবলাম মারলে একা আমকেই তো মারবে না, গোটা কম্পার্টমেন্টের সকলেই মার খাবে । আর ঠিকই একটা কিছু সলিউশন বেরোবে । এই আর কি ! :এখানেআয়: :এখানেআয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *