একজন রানী এবং আমাদের চলচিত্র শিল্প…

আমরা বাংলাদেশী।আমরা বাঙালি বড় আবেগ প্রবন জাতী।তবে আবেগ কখনোই দির্ঘস্থায়ী হয়না।আবেগে ভাটা পরে আর সেই সাথে আমরা ভুলে যাই সবকিছু।প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোন চেতনা নেই।আমরা আমাদের আবেগটাকেই চেতনা বলে মনে করি।এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে আমরা বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকি।এবং এই প্রতিক্রিয়াকেও আমরা অনেকেই ভুল করে চেতনা বলে ভেবে থাকি।


আমরা বাংলাদেশী।আমরা বাঙালি বড় আবেগ প্রবন জাতী।তবে আবেগ কখনোই দির্ঘস্থায়ী হয়না।আবেগে ভাটা পরে আর সেই সাথে আমরা ভুলে যাই সবকিছু।প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোন চেতনা নেই।আমরা আমাদের আবেগটাকেই চেতনা বলে মনে করি।এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে আমরা বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকি।এবং এই প্রতিক্রিয়াকেও আমরা অনেকেই ভুল করে চেতনা বলে ভেবে থাকি।

হ্যা আমরা আমাদের পায়ের নিচে মাটির কথা ভুলে যাই।আমরা আমাদের সম্পদের মূল্যায়ন করিনা।আমরা আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি, শিল্প সম্পর্কে বড়ই উদাসীন।তানাহলে আজকে আমাদের রানী সরকারকে শেষ বয়সে এসে এভাবে অসুস্থতায় ধুকে ধুকে কষ্ট পেতে হতো না।কারো দিকে হাত পেতে তাকিয়ে থাকতে হতো না।

আমি একজন রানীর কথা বলছি।ষাট এর দশকের এক দাপুটে নায়িকা রানী সরকার।আসল নাম মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম।আমাদের আজকের এই চলচিত্র শিল্প গড়ে উঠার পিছনে রানী সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।তার সময়ে বাংলা চলচিত্রে নারী চরিত্রের বড় অভাব ছিল।তখন মানুষ সিনেমা নিয়ে ভাবতো না।তাছাড়া একজন নারী অভিনয় করছে এবং মানুষজন সেই অভিনয় দেখছে এটা তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক ঘৃণিত একটা কাজ ছিল।এবং নারীরাও অভিনয়টাকে অসম্মানের বলে ভাবতো।

এইরকম একটা সময়ে রানীদের মত কিছু নারী অভিনয় জগতে প্রবেশ করে বাংলা চলচিত্রের ভিত্তি মজবুত করে।যদিও আমাদের দেশের চলচিত্রের বর্তমান অবস্থা কিছুদিন আগেও খুব ভালো ছিল না।তবে এখনি যে আমরা খুব উন্নতি করতে পেরেছি তাও না।এবং এর দায়ভার আমাদেরই।
আমাদের চলচিত্রের উন্নয়ন পিছিয়ে যাবার কারন আমরা নিজেরাই।কারন আমরা কোনদিন আমাদের নিজেদের সম্পদের প্রতি সচেতন ছিলাম না।আমরা আমাদের চলচিত্রকে সবসময় ঘৃণার চখেই দেখে এসেছি।আমরা নিজেদের তৈরি সিনেমা রেখে বিদেশী সিনেমার প্রতি আগ্রহী বেশি।

শুধু সিনেমা বা চলচিত্র নয়,আমরা আমাদের বিশ্বমানের বাংলা গান রেখে হিন্দি, ইংলিশ গানের সুরের সাথে গুনগুন করি।নিজেদের সংস্কৃতি শিল্প ছেড়ে পাশ্চাত্যের শিল্প সংস্কৃতির প্রতি আমাদের ঝোঁক বেশি।পিছনে বাংলা গানকে নাক সিটকাই। খ্যাত বলে অবজ্ঞা করি।আমরা নিজেরাই যদি আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদের শিল্পকে অবমূল্যায়ন করি তাহলে বাহির বিশ্বে আমরা কি করে সম্মান আশা করি?

যাইহোক,বলতেছিলাম রানীর কথা।সেই ষাটের দশকের পর্দা কাঁপানো রানী আজ বড় অসহায়।আমরা অনেকেই হয়তো শুনেছি তার কথা।পত্রিকা গুলোতে দায় সাড়তে মাঝে মাঝে কিছু লেখালেখিও হয় বটে।কিন্তু কয়জন মানুষ এদের নিয়ে ভেবেছি?আমাদের ক্ষমাতাসীন সরকার এদের নিয়ে কতটুকু ভাবে?

রানীর মত অভিনেত্রীরা শেষ বয়সে এসে না খেয়ে দিন পার করে।দাড়ে দাড়ে হাত পেতে ঔষধ কিনার টাকা যোগায়।অথচ হলিউড বলিউডের দিকে তাকিয়ে দেখুন,তারা এই বয়সে এসে বিভিন্ন দুঃস্থদের দান করে বেড়ায়।সত্যি বলতে কি জানেন,ওদেরকে আমরাই এতোটা উপরে তুলেছি।কিন্তু ওরা আমাদের উপরে তুলতে এগিয়ে আসেনি।ওরা ওদের শিল্প, ওদের সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছে, আশেপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে ওদের শিল্প।আর আমরা আমাদের শিল্পকে ঘৃণা করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওদেরটা গ্রহন করে ওদেরকে উপরে উঠতে সাহায্য করে গেছি।

ফলে আমরা হয়ে যাচ্ছি শুন্য শিল্প সংস্কৃতিবিহীন জাতি আর আমাদের রানীরা শেষ বয়সে হয়ে যাচ্ছে ভিখারী!শব্দটা খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি।সে এখন বেঁচে থাকার জন্য এর তার কাছে হাত পাতে।তার একটাই ক্ষোভ,অভিমান! তার মত একজন অভিনেত্রী কি একটি মায়ের চরিত্রের রোলও পাওয়ার অধিকার রাখে না?সে কি অভিনয় জানেনা?

না, এখন তার শারীরিক অবস্থা এমনই খারাপ যে, সে চলচিত্রে কোন অভিনয়ের সুযোগ পেলেও তার দ্বারা এখন আর অভিনয় সম্ভব না।সময় থাকতে আমরা তার যত্ন নেইনি, খোঁজ নেইনি।তাকে তার হাত ধরে বেড়ে উঠা আমাদের(!) চলচিত্র শিল্পে একটু জায়গা দিয়ে দুবেলা দু মুঠো ভাত খাবার যোগাড় করতে দেইনি।

আজকে রানী এভাবে ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিন গুনে চলেছে,এভাবে ধুকে ধুকে আমাদের আরও অনেক সোনার মানুষ হারিয়ে গেছে।ভবিষ্যতেও যাবে।এবং যুগের পর যুগ পরের ধনের প্রশংসা করেই কাটাতে হবে।একসময় আমরা আমাদের নিজসত্বা হারিয়ে ফেলবো।আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় হতে থাকবে অন্যের ধার করা শিল্পের স্বাদ নিয়ে।জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য চরম লজ্জার হবে,যদি না আমরা এখনো সময় থাকতে আমরা আমাদের নিজেদের সম্মান না দিতে শিখি।নিজেদের সংস্কৃতি, শিল্পকে ভালোবাসোতে না শিখি আমাদের ভনিষ্যৎ প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতি শিল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে না দেই, ভালোবাসোতে না শিখাই,আমরা আমাদের গুনি শিল্পীদেরকে পরবর্তি প্রজন্মের কাছে লিজেন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে না দেই।

বলতে চেছিলাম রানীর কথা।কিন্তু তার সাথে যে জড়িত আছে অনেক কিছু।তাই হয়তো অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই বলতে হয়েছে।যাইহোক, আমাদের এই প্রবীণ,একসময়ের স্বনামধন্যা অভিনেত্রী রানী সরকারের সুস্থতা কামনা করছি এবং সামর্থবানদের প্রতি রানী সরকার এর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার আহবান জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *