ভোঁতা সম্মান আর ৭৫ হাজার টিকাটুকা

হুম ৭৫ হাজার টিকাটুকা দিয়া মাইনষে কয়েকটা বলিউডি ভোদাই আর এক কাইল্লা বান্দরের সার্কাস দেখতে গেসে। শেষে অবস্থা এমন দাঁড়াইসে যে, সার্কাস মানুষরে বিনুদুন দিবার পারে না, মানুষেরই উল্টা বিনুদুন দেয়া লাগসে।

আর এইদিকে তাবৎ বাঙ্গালী জাতি আইয়ুব বাচ্চু, মাইলস রে সম্মান দিয়া আরেক গ্রহে এক্সপোর্ট কইরা দিতাসে, হামিন আহমেদ ফেসবুকে বয়া বয়া বাচ্চুরে গাইল পারতাসে, এক পার্টি টেলিভিশন বন্ধ কইরা বয়া আসে, কিসু পাবলিক বয়া তামাশা করতাসে আর বাকিসব করে রব রাতি পোহাইল লইয়া মইজ্জা আসে।

যাউকগা। এইগুলান কথা না। কথা অন্যখানে। এবং কথা মেলা। শুরু কইরলাম।


হুম ৭৫ হাজার টিকাটুকা দিয়া মাইনষে কয়েকটা বলিউডি ভোদাই আর এক কাইল্লা বান্দরের সার্কাস দেখতে গেসে। শেষে অবস্থা এমন দাঁড়াইসে যে, সার্কাস মানুষরে বিনুদুন দিবার পারে না, মানুষেরই উল্টা বিনুদুন দেয়া লাগসে।

আর এইদিকে তাবৎ বাঙ্গালী জাতি আইয়ুব বাচ্চু, মাইলস রে সম্মান দিয়া আরেক গ্রহে এক্সপোর্ট কইরা দিতাসে, হামিন আহমেদ ফেসবুকে বয়া বয়া বাচ্চুরে গাইল পারতাসে, এক পার্টি টেলিভিশন বন্ধ কইরা বয়া আসে, কিসু পাবলিক বয়া তামাশা করতাসে আর বাকিসব করে রব রাতি পোহাইল লইয়া মইজ্জা আসে।

যাউকগা। এইগুলান কথা না। কথা অন্যখানে। এবং কথা মেলা। শুরু কইরলাম।

উইকিপিডিয়া যদি সঠিক হইয়া থাকে, তাইলে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০৪৪ আম্রিকান ডলার। ৭৮ বাংলাদেশী টিকাটুকা দরে হিসাব করলে, ১০৪৪ X ৭৮ = ৮১,৪৩২ বাংলাদেশী টিকাটুকা। মানে ১২ মাসের কামাই এইডা। ওকে। আজকের কনসার্টে খরচ করলা কত? ৭৫,০০০ টিকাটুকা। আরি সর্বনাশ! তার মানে দাঁড়াইলো এই যে, হয় মাথাপিছু কামাইয়ের পুরা হিসাবডাই ভুয়া, আর নাইলে বাকি বছর তুমি হুগনা হয়া ঘাস কাটবা। এখন ম্যাঙ্গো পিপল তথা আম জনতা কইতে পারেন, ভাই এইটা তো গড় হিসাব। আরে ব্যাটা, গড় হিসাব তো আমিও জানি। আমনে আমাত্তে বেশি বুইজ্জেন না। আমি অ্যাকাউন্টেন্ট না। তাও হিসাব দেখাইলাম এই কারণে যে, আমাদের জন্য এই বিলাসিতা কতখানি দরকারী আসিল সেইটা কইতে। আমাগো দেশে এহনও এমন অনেক প্রাইমারী ইস্কুল আসে যেইখানে বেঞ্চের অভাবে ক্লাস হয় না ঠিকমতন। শিক্ষকেরা বেতন পায় না, পুলাপান বই পায় না। ১০-১২ গিরামের মইধ্যে একটা মাত্তর ইস্কুল, তাও বাদলার দিনে এমন অবস্থাও আহে যে ব্রজেন দাসও মাথায় হাত দিয়া বয়া পইড়া কইব, এবার ফিরাও মোরে। তাও এরা কিলাশ করতে ইস্কুলে যায়। ৭৫ হাজার টেকা কি এদের জন্য দেয়া যাইত না? ৭৫ হাজার টিকা দিলে একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পুলা মাইয়ার এক বছরের তামা খরচ মিটা যাইব। টেকা নাই, ঘরে ভাত নাই, ভাত নাই বইলা অভিমান কইরা আমার বইন গলায় দড়ি দেয়, কই তারে তো কেউ টিকা দিয়া কয় নাই, নে বইন দুইডা ভাত খা! টিকাটুকার অভাবে মানুষ চিকিৎসা করাইতে না পাইরা মইরা যায়, আর বাবুরা টিকা থুয়োনের জায়গা না পাইয়া থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর দৌড় দেয়। ৭৫ হাজার টিকাটুকা কি সেই মানুষগুলার জন্য রাখা যাইত না? যাউকগা। এইসব কাম এহনই কইরা লাইলে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গুলের পুস্টে মাইনষে গুল দিবো ক্যামনে। হগলের লাইগা লেবেল পেলেয়িং ফিল্ড তো থাওন চাই !

এইবার আহি ছঙ্গীতের কতায়। তা বাংলার ছঙ্গীতপ্রেমীগণ, চলেন দেখি আজকের ফেসবুকে আপনাগো কিছু ইস্ট্যাটাস। জ্বালাময়ী ইস্ট্যাটাস রে ভাই! পুরাই বারুদ। পুরা পলাশীর যুদ্ধের বাদলে ভিজ্জা ভোতা হওয়া বারুদের লাহান। খালি ফুতফুত করে। আর ফুডে না। আহেন দেহি।

===========================================================

১/ এক গায়ক নিউ ইয়র্কে বিশাল মিউজিক মলে ঘুরছেন
পছন্দের গীটারের জন্য। খুজতে খুজতে একটা গীটার
পেয়েও গেলেন। গীটার কেনার
আগে দোকানদারকে অনুরোধ করলেন একটু
বাজিয়ে দেখা যাবে কিনা। বিশাল দোকান
গুলিতে সাধারণত মালিকরা থাকেন না, কিন্তু ঐ
শো রুমে সেদিন তার মালিক ছিলেন।
মালিক ছিলেন আবার মিউজিকের ভক্ত। তিনি দিলেন
গীটার বাজিয়ে দেখার সুযোগ। গীটার একটু
বাজিয়ে দেখার পর দেখলেন সব ঠিক আছে।
কিন্তু গীটার এর দাম শুনে গায়ক দমে গেলেন।
তিনি গরীব দেশের গরীব গায়ক। প্রায় কয়েক লাখ
টাকা এই মুহূর্তে তার কাছে নাই। তাই মন খারাপ
করে চলে আসছিলেন।
কিন্তু গীটারের শো রুমের মালিক তার গীটার
বাজানো শুনে অনুরোধ করলেন আরেকবার
বাজানোর জন্য। তাই গায়ক খুশীই হলেন। তার
দেশে এই ধরণের গীটার পাওয়া যায়না। তাই মনের
মাধুরি মিশিয়ে বাজালেন আবার গীটার।
তার গীটার বাজানো শুনে পুরো শপিং মলের
লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। সবাই তন্ময়
হয়ে শুনছে গীটার বাজানো।
গীটার বাজানো শুনে সবাই বলছে এমন গীটার
বাজানো তারা অনেকদিন শুনেন নাই। আর
শপিং মলের মালিকও ভূয়সী প্রশংসা করলেন গীটার
বাজানোর। কিন্তু চলে আসার সময় গায়কের মন
খারাপ এমন একটি গীটার তার কেনা হলনা।
মন খারাপ করে চলে আসছিলেন গায়ক, এমন সময়
শপিং মলের মালিক খুশী হয়ে গিটারটা প্যাক
করে গিফট করে দিলেন গায়ককে।
এই গায়ক আর কেউ নন, তিনি আমাদের আইয়ুব বাচ্চু।
এমন অভাগা দেশে জন্মানো এক আইয়ুব
বাচ্চুকে আমরা সম্মান দিতে জানিনা, কিন্তু
বিদেশীরা ঠিকই সম্মান দেয়।

২/ ইশ এরা বাচ্চু ভাইয়ের মতন লিজেন্ডকে অপমান করেছে, এদের মাইর দেয়া হয় না কেন?

৩/ এখন থেইকা যারা মাইলসের গান হুনবি তারা ছাগু!

৪/ বাচ্চু মীরজাফর! মাইলসরে গান গাইতে দেয় নাই।

========================================================

আর দিলাম না। আপনেরা বহুত পাইসেন আশা করি। তো মাননীয় ছঙ্গীতপ্রেমীরা, এত যে সম্মান দিতাসেন বাচ্চু ভাইরে, মাইলস ব্যান্ডরে, আপনাগোরে জিগাইতে মুঞ্চায়, শেষ কবে একটা বাংলা অ্যালবাম কিনসিলেন? ব্যান্ড/ গায়কেরা কি মাগনা অ্যালবাম ছাড়ে নাকি? একডা সাউন্ড ইস্টুডিওর প্রতি ঘন্টার খরচ জানেন? তা জাইনা কি করবেন? আপনেরা সব অ্যালবাম বাইর হইলে ইতি উতি কইরা ডাউনলোড লাগাইবেন। তহন সম্মান কই থাহে? আলমারির চিপায়? খাটের তলে? কই? তহন তো সম্মান দেহাইবার পারেন না, তয় ফেসবুকে ইস্ট্যাটাস তো মাগনা দেওন যায়, তহন সম্মান দিয়া উড়ায়া দিলেও কিসু যায় আহে না। অই যে কইলাম, খালি ফুতফুত করে। আর ফুডে না, হেইরাম অবস্থা।

একডা সময় আসিলো দেখতাম মানুষ লাইনে দাঁড়াইয়া, মারামারি কইরা গানের অ্যালবাম কিনতো। তহন মাইনষের টিকাটুকা আসিলো, আর এহন কি সব ফইন্নির পুতআইত ? ৩৫০ টিকা দিয়া বাকেট চিকেন খাইবার পারো, মাগার ৬০ টিকা দিয়া একটা অ্যালবাম কিনবার পারো না। খালি ফুচ্চুর ফুচ্চুর ডাউনলোড মারো। তুমি আবার দেহাও সম্মান। হেহ!

এহন, তুমি নিজে যদি নিজের বাপ মারে সম্মান দিবার না পারো, তাইলে কি বাইরের মাইনষে দিবো? তুমি নিজেই নিজের শিল্পীগো সম্মান দিবার জানো না। তাইলে কত্তগুলা টেকাখোড় অর্গানাইজার সম্মান দিবো কে? হেগো কি এমন ঠ্যাহা পড়সে সম্মান দেওনের?

মাইলস আর এলআরবির মইধ্যে কিসু গেঞ্জাম হইসে, তয় সেইডা আয়োজকেগো লাইগা। এইটা ঠিক হইয়া যাইব আশা করি।

এহন আহি বিদেশীগো কতায়। তোমার ঘরে মেহমান আইসে, সম্মান দিবা। তাই বইলা তুমি ফইন্নির বেশে বইয়া থাকবা না। তুমি মেজবান। তোমারও জাত আসে। তুমি গাঙ দিয়া বানের পানিত ভাইসা আহো নাই। কিন্তু এই কথা কারে কইতাসি? ধুর মিয়া! তোমাগো রুচি নাইক্কা।

বিদেশীরা আইয়া কতগুলা বালমার্কা গান না কি গাইলো, তালি দিয়া হাত ফুডায়া লাইলা, তো আমাগো দেশের শিল্পীরা কি গান গায় না? তালি কই? পাওয়ার সেভার মোডে আসিলা নাকি তহন? যে একন ম্যা ম্যা করতে আইলেই ফুডায়া লাইবাম? যত্তসব!

এ আর রহমান আইসে? তো? এই ব্যাডার প্রতি আমার সম্মান হেইদিনই শেষ যেদিন হেতে কইসিলো আমি ছঙ্গীতের ঈশ্বর। আমার কাছে এইসব কুনু ব্যাপারই নহে। তা না হইল, কিন্তু একজন গুণী মানুষের মইধ্যে আস্ফালন থাহে না। বিনয় থাহে। এই ব্যাটার মইধ্যে তার কুচ্ছু নাই। তার ছঙ্গীত হোনার লাইগা তোমার টেকা দেও, আর আমার দেশের পোলাপান কষ্ট করে। দাউডা হারায়া লাইসি। কই জানি থুইসিলাম?

এরপর, অনুষ্টান কার দেশের? ফোকাস থাকবো কার বেশি? আর হইতাসে ডা কি? খুউব তো ফিলাশ মব দেহাইলা। দেইহা ল্যাট্রিনে গিয়া হাগা ছাড়া আর কুনু কামের কথা মনে আহে নাই। বমি করলেও লস। বমি করা বিষম কষ্টের কাম। এর চাইতে হাগা সহজ।

টেলিভিশন বন্ধ কইরা থুইলেই সব শেষ হইয়া যায় না। আমি দেহিনা তার মানে এই না দুনিয়াও দেখবো না। দুনিয়াতে চোখ খালি দুইডা না আর টেলিভিশন ও একডা না। আর আমি যে এই লেহা লেখতাসি, এইডাও কইলাম ফাও। কয়দিন বাদে এইডা হয় আর্কাইভে, নাইলে ট্র্যাশ বিনে গিয়া হাজির হইব। যাউকগা তাতে আমার কিসসু যায় আসে না।

একনরে বান্দর কওয়াতে যদি তোমরা আমারে রেসিস্ট কইয়া গাইল পারো, কুনু অসুবিদা নাই। খালি স্টার ওয়ার্স সিনেমা থেইকা একটা ডায়ালগ কপি মাইরা কমু, ভায়া, ইফ ইউ আর নট উইথ মি ইউ আর মাই এনামি। বিষয়ডা যহন আমার দেশের সম্মানের, আমি বান্দর, বিলাই কুত্তা কাউরেই ছাড়ুম না। এমনি যারা তাগো লগে সুর মিলাইবো তাগোরেও না।

৪ thoughts on “ভোঁতা সম্মান আর ৭৫ হাজার টিকাটুকা

  1. আমি তো গতকালের প্রোগ্রামে
    আমি তো গতকালের প্রোগ্রামে দর্শকদের দৈন্যতা ছাড়া আর কোন প্রবলেম দেখলাম না। যারা নিজ দেশের শিল্পীদের সম্মান দিতে জানেনা, তারা নিজেরা সম্মান আশাও করতে পারে না। এ আর রহমান শুধু বাংলাদেশে না সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই গান গাইয়া আইছে। কোন দেশের জাত গেলো না , শুধু এই বাঙালির জাত উচ্ছন্নে চইলা গেছেগা। অদ্ভুত।

    এ আর রহমানের গান শোনা বাদ দিছি অনেকদিন হয়। এক অস্কারই তারে নষ্ট কইরা দিছে। আগে যেরকম সুর আর মিউজিকের যাদু সৃষ্টি করতে পারত, এক জয় হো তার সব খায়া ফালাইছে।

  2. ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা
    ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে…’ পুরো লাইন গাইতে হয় না। তার আগেই দর্শক-শ্রোতা সুর শুনে শুরু করেন গলা মেলানো। চির পরিচিত এই দৃশ্য নেই। আছে সামনে বসে থাকা হাজার পাঁচেক নীরব দর্শক। নীরব হয়ে থাকা দর্শকদের কেউ মোবাইল চাপছেন, কেউ পাশের জনের সাথে কথা বলছেন। মনে হল নিতান্তই দায়ে পড়ে বসে আছেন তারা।

    এভাবেই একে একে পাঁচটি গান গেয়েও দর্শকদের থেকে কোন সাড়া পেলেন না আইয়ুব বাচ্চু। অভিমানী গলায় বলে উঠলেন,“আপনারা যারা কষ্ট করে বাংলা গান শুনছেন তাদের অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের হাত না চলুক, চোখ আর কান তো খোলা আছে। এতেই চলবে, হাততালি এখন খরচ করে লাভ নেই,এটা পরের জন্য রেখে দিন, চোখ কান খোলা আছে এটাই যথেষ্ট, আপনারা ধৈর্য ধরে বাংলা গান শুনছেন, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ।”

    এমন পরিস্থিতিই দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকালে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে এখানে সেলিব্রেশন কনসার্ট’র আয়োজন করেছে বিসিবি। এলআরবির আগে জনপ্রিয় ব্যন্ড সোলস আর অর্ণব এন্ড ফ্রেন্ডস মিলে আরো ছয়টি গান গাইলেও একদমই নিরব এবং অমনোযোগী দেখা গেছে স্টেডিয়ামের দর্শকদের। কষ্ট করে গান শোনায় ধন্যবাদ জানানোর আগে মাঝে একবার দর্শকদের মোবাইল বন্ধ করতে আহবান জানিয়েছেলেন আইয়ুব বাচ্চু। -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *