দর্পণ

ক – ১

সালমা রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। দিগ্বিদিক কোন খেয়াল নেই। দৌড়াচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে, কোন খেয়াল নেই। দৌড়াচ্ছে। ‘দৌড়াচ্ছে’ শব্দটা অবশ্য ভুল। ভেসে যাচ্ছে। স্রোতটা যেদিকে যাচ্ছে, তার সাথে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ভেসে যাচ্ছে। মানুষের স্রোত। ওড়নাটা হঠাৎ রাস্তার ধারে একটা কাঁটাগাছের সাথে আটকে গেল। ছাড়িয়ে নেয়ার সময় নেই। ওড়না ফেলেই দৌড়াচ্ছে।

সলিমের ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখ উপড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার সেদিকে খেয়াল নেই। সেও দৌড়াচ্ছে। রুদ্ধশ্বাসে!


ক – ১

সালমা রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। দিগ্বিদিক কোন খেয়াল নেই। দৌড়াচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে, কোন খেয়াল নেই। দৌড়াচ্ছে। ‘দৌড়াচ্ছে’ শব্দটা অবশ্য ভুল। ভেসে যাচ্ছে। স্রোতটা যেদিকে যাচ্ছে, তার সাথে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ভেসে যাচ্ছে। মানুষের স্রোত। ওড়নাটা হঠাৎ রাস্তার ধারে একটা কাঁটাগাছের সাথে আটকে গেল। ছাড়িয়ে নেয়ার সময় নেই। ওড়না ফেলেই দৌড়াচ্ছে।

সলিমের ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখ উপড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার সেদিকে খেয়াল নেই। সেও দৌড়াচ্ছে। রুদ্ধশ্বাসে!

আজহার খানিকটা পেছনে পড়ে গেছে। ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে সে এগোচ্ছে। সে গোসল করছিল। হঠাৎ চিৎকার শুনল “খানসেনা।” সাথে সাথে ভেজা শরীরেই দৌড় দিল। কিন্তু, পুকুরের পাড় বেয়ে উঠতে গিয়ে আছাড় খেল। হাঁটুর কাছে কেটে গেছে। পাও মচকে গেছে। কিন্তু, এখন এতসব ভাবার সময় নেই। সেও দৌঁড়াচ্ছে।

সবার পেছনে পড়ে গেছে পোয়াতি আমিনা। খানসেনার কথা শোনার পরেও দৌড় দিতে পারে নি। রঞ্জুটা এত বাদর হয়েছে। তাকেই খানিকক্ষণ খুঁজল আশেপাশে। রঞ্জু রঞ্জু বলে চিৎকার করে একাকার করল। তারপর মনে হল, পুরো গ্রামের লোকজনের সাথে রঞ্জুও নিশ্চয়ই পালিয়ে যাবে। সেই চিন্তা থেকেই সেও দৌড় দিল। কিন্তু, উঠান অবধি এসেই পড়ে গেল। পেটে আট মাসের বাচ্চা। আমিনা আর উঠে দাঁড়াতে পারল না। হঠাৎ দূরে বুটের আওয়াজ শুনতে পেল।

খ – ১

জেসি প্রচণ্ড অস্থির হয়ে আছে। তার মাথা কাজ করছে না। টিকিট নেই? পাকিস্তানের ম্যাচের টিকিট নেই? আফ্রিদির খেলা দেখা হবে না? আফ্রিদির খেলা! রাগে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ছে জেসি। তবে ফয়সালের চুল ছিঁড়তে পারলে আরও ভাল লাগত। শুয়োরের বাচ্চাটা বলেছিল, টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ফাইনাল ম্যাচের টিকিট জোগাড় করে ফেলবে নিশ্চিত। পারে নি। রাগটা গলে গিয়ে জেসির এখন কান্না পাচ্ছে। কাঁদছে না কারণ, কাঁদলে মুখে আঁকা পাকিস্তানের পতাকা নষ্ট হয়ে যাবে। বলা তো যায় না, যদি শেষ মুহূর্তেও কোন ভাবে টিকিট জোগাড় হয়ে যায়! আল্লাহ চাইলে তো সবই সম্ভব। ম্যাচের একটা টিকিট কী হবে না?

কাল সারা রাত ধরে জেসি অনেক সুন্দর করে “Marry Me Afridi” লিখে প্ল্যাকার্ড বানিয়েছে। আজকে সকালে গালে পাকিস্তানের ফ্ল্যাগ আঁকিয়েছে। সবকিছুই কি জলে যাবে?

হঠাৎ তার মোবাইলে একটা কল আসল। আতিকের কল, “হ্যালো! জেসি আমার কাছে আজকের ম্যাচের একটা এক্সট্রা টিকিট আছে। তোমার লাগবে?”
জেসি খুশিতে লাফিয়ে উঠল। চিৎকার করে বলল, “হ্যাঁ, তুমি এখুনি আমার বাসায় চলে এসো। তাড়াতাড়ি!”

খানিক বাদেই কলিং বেল বেজে উঠল।

ক – ২

আফওয়াজ খান খানিকটা থমকে গেল। এই জংলা কাদার দেশে এমন হুরপরী পেয়ে যাবে, সেটা তার সুদূরতম চিন্তাতেও ছিল না। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁটটা একবার ভিজিয়ে নিলো। আমির মোল্লার দিকে তাকিয়ে বলল, “অ্যায়সা চিজ থি ইয়াহা?”
আমির মোল্লা ডগমগ হয়ে বলল, “সেরফ আপকে লিয়ে হুজুর।”

আফওয়াজ খান বাকিদের এগিয়ে যাবার নির্দেশ দিলো। আগুন, ধোঁয়া আর হৈ হুল্লোড়ে গরমটা যেন পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলল। আফওয়াজ খান টের পেল সে নিজে আরও বেশি গরম। সেই গরম কমাতে বেল্টটা খুলল।

আমিনা চিৎকার করে উঠল, “আল্লা! আমারে বাঁচাও।”

খ – ২

জেসি দৌড়ে দরজা খুলে দিল। হাস্যোজ্জ্বল মুখে আতিককে দেখা গেল।

জেসি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “এনেছ?” ড্রয়িংরুম থেকে দরজা পর্যন্ত আসতেই যেন তার হৃদপিণ্ডটা গলার কাছে উঠে এসেছে।
আতিক পকেট থেকে দু’টো টিকিট বের করল।

“Thanks! Thanks! Thanks a lot” বলে জেসি লাফিয়ে টিকিট নিয়ে নিলো।

তারপর ঘড়ি দেখল। আর মাত্র আধ ঘণ্টা বাকি আছে। এখন সময় মত পৌঁছুতে পারলেই হয়। স্বগতোক্তি করল, “আল্লাহ! মাঠে যেন সময়মত পৌঁছুতে পারি।”

ক – ৩

আফওয়াজ খান টেনে আমিনার শাড়ি খুলে ফেলল। আগে থেকেই যন্ত্রণায় কাতর আমিনা শাড়ির টানে উঠানে গড়িয়ে সরে যাবার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারল না। তারপর ফরফর করে তার ব্লাউজ টেনে ছিঁড়ে ফেলা হল। পাঞ্জাবের যুবতীদের বাইরে এমন সুগঠিত স্তন কারও থাকতে পারে সেটা আফওয়াজ খানের চিন্তাতেও ছিল না। তার চোখ দুটো চকচক করে উঠল।

তারপর টেনে তার সায়া খুলল। আমিনা খানিকটা হাত পা ছোঁড়াছুঁড়ির চেয়ে বেশি কিছুই করতে পারল না। বরং তলপেটের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় নিজেই আরও নেতিয়ে পড়ল। চিৎকার করে বলতে থাকল, “হুজুর! আপনারে আল্লার কসম! আমারে কিছু কইরেন না। আমার গলায় ফাঁস দেওন ছাড়া কোন পথ থাকব না। হুজুর! আপনের পায়ে পড়ি। আমি আপনার বইনের মত। হুজুর…!”

আফওয়াজ খান সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করল না। বাঙালি মেয়েরা সবই এমন। শুরুতে লাফালাফি চিৎকার চেঁচামেচি ঠিকই করে। কিন্তু, খানিক পরেই নেতিয়ে পড়ে। অবশ্য এদেশে আসার আগে সে শুনেছিল, এখানে নাকি বেশিরভাগই থাকে হিন্দুদের মত। আচার ধর্মের কোন বালাই নেই। ইন্ডিয়ানদের মত বেগানা নারী-পুরুষের সাথে মেলামেশা করে। কিন্তু, এখনও তেমনটা কোথাও দেখে নি। উল্টো প্রতিটা মেয়েই কম হোক আর বেশি হোক আল্লাহ’র নাম ধরে ডেকেছেই। আল্লাহ’র কসম কেটে বাঁচতে চেয়েছেই। অবশ্য মালাউনদের আল্লাহ’র নাম মুখে নিলেই পাপ।

সেই পাপের শাস্তি হিসেবে আফওয়াজ খান আমিনাকে শক্ত করে তার ঊরুসন্ধিতে গেঁথে নিলো। আমিনা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল, “রঞ্জুর বাপ! আমারে আপনে বাঁচান…” সেই চিৎকার শুনে নদীর পাড়ে কাশবনের ভেতর সালমাও কেঁপে কেঁপে উঠল। গৃহস্থের দুধেল গাঁইটাও লাফালাফি করতে করতে দড়ি ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম করল। আমিনাদের পুড়তে থাকা বাড়ির আগুন নিভু নিভু হয়ে আবার তীব্রভাবে জ্বলে উঠল।

আফওয়াজ খান বেশ বিরক্ত হলো। এই মেয়ের তেজ বেশি। ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা করার কাজ সে বীর্যপাতের পরে একটু একটু করে করতে পছন্দ করে। সেটা এখনই করল। কামড়ে আমিনার দুই স্তনের বৃন্ত ছিঁড়ে ফেলল। আমিনা আবারও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল। এবার একটা সিপাহির থেকে বেয়নেট নিয়ে পুরো স্তনই কেটে ফেলল। আমিনা আবারও চিৎকার করে উঠে হঠাৎই থেমে গেল। তার চিৎকার করার শক্তিও শেষ হয়ে গেছে। এবার আফওয়াজ খান বেয়নেটটাকে আমিনার নিতম্বে গেঁথে দিলো। এবার আর নড়াচড়া হবে না। হতে গেলেই আমিনা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাবে।

খ – ৩

জেসি ভেতরে গিয়ে প্ল্যাকার্ডটা নিয়েই বেরোতে গেল। আতিক পেছন থেকে ওকে ধরে বলল, “বা রে! এত কষ্ট করে টিকিট নিয়ে এলাম। তার বিনিময়ে কিছু পাব না?”
জেসির চোখে দুষ্টু হাসি খেলে গেল, “কী চাও?”
উত্তর হিসেবে আতিক জেসির ঠোঁট কামড়ে ধরল। জেসিও ঠোঁট দুটো আলিঙ্গন করল পরম আবেগে। একটু পরে আতিক ঠোঁট থেকে নিচে নামতে শুরু করল। চিবুকে আলতো করে একটা চুমু খেল। তারপর গলায়। তারপর জেসির টিশার্ট টেনে ধরে স্তন বের ফেলল। সেখানে চুমু খেয়ে স্তনবৃন্ত কামড়ে দিল। নিতম্বে শক্ত করে একটা চাপড় দিল।

জেসি আবার তাড়া দিল, “হয়েছে? এতক্ষণ লাগলে ম্যাচ চুলোয় যাবে!”

ক – ৪

আমিনা অস্পষ্টভাবে ঠোঁট নাড়াচ্ছে। কথা কিছু বলছে কিনা ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না। উঠোনটা রক্তে ভেসে গেছে।

আফওয়াজ খানের মুখে খানিকটা তৃপ্তির হাসি ফুটল, “সালি চিজ থি এক!”
কী মনে করে আমিনার দিকে তাকালেন। তার মনে হল, প্রচণ্ড বীভৎস একদলা ঘৃণা জমা হয়ে আছে আমিনার দুচোখে।

হঠাৎ কোথা থেকে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেল।

খ – ৪

১৭৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৮৭ এ ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের জয়কে তখন মনে হচ্ছিল ছেলের হাতের মোয়া। সমীকরণটা তখন ছিল পাকিস্তানকে তখন জিততে হলে আট ওভার এক বলে চার উইকেটে ৯২ করতে হবে। আস্কিং রেট এগারো দশমিক দুই ছয়। জয়টাকে খুব কাছের কিছু মনে হচ্ছিল তখন। তারপরেই স্ট্রাইকে এলো শহীদ আফ্রিদি। ইনিংসের শুরুই হল ছক্কা দিয়ে।

জেসি লাফিয়ে উঠল, “আফ্রিদি…! Marry Me Afridi…!”

জেসির পাশে বসা একজন প্রৌড় ভদ্রলোক অবাক চোখে একবার জেসির দিকে তাকালেন। তারপর ঝাপসা চোখে আবার খেলার দিকে মনযোগ দিলেন।

এক পাশে উইকেট পড়তে থাকলেও আরেক পাশে ধুম ধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়ে গেল আফ্রিদি। জেসির আনন্দ যেন বাঁধা মানছে না। চিৎকার করতে করতে গলা ফাটিয়ে ফেলেছে রীতিমত।

কী মনে করে আতিক জেসির দিকে তাকাল। তার মনে হল, প্রচণ্ড মুগ্ধতা জমা হয়ে আছে জেসির দুচোখে।

ঊনিশ ওভার শেষে সমীকরণ দাঁড়াল পাকিস্তান নয় উইকেটে ১৭০ রান। স্ট্রাইকে আফ্রিদি।

বলিংয়ে মাশরাফি।

ক – ৫

হঠাৎ করেই গোলাগুলির আওয়াজটা চারদিক থেকে প্রকট হয়ে উঠল। মুক্তিবাহিনী হামলা করেছে। আফওয়াজ খান পিস্তল বের করে একটা খড়ের গাদার পেছনে গিয়ে লুকোল। আমিনা চোখ বুজল। পরম তৃপ্তি নিয়ে। বন্দুকের ভয়াবহ শব্দও যে এতটা তৃপ্তির হতে পারে, কে জানত?

একটু পরেই পেছন থেকে একটা গুলি এসে বিঁধল আফওয়াজ খানের পিঠে। পেছনে ফিরে ঘুরে পড়ে গেল আফওয়াজ খান। প্রচণ্ড অবাক হয়ে সে দেখল, থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে একটা বাচ্চা ছেলে। প্রচণ্ড ঘৃণা লেগে আছে তার চোখে মুখে। তার জানা ছিল না, থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে এই বাচ্চা ছেলেটার নাম রঞ্জু। তার চোখে ঠিক ততটাই ঘৃণা জমে আছে যতটা সে একটু আগে আমিনার চোখে দেখেছে; যতটা ঘৃণা বুকে পুশে নিয়ে রঞ্জুর বাবা সবাইকে ছেড়ে যুদ্ধে চলে গেছে; যতটা ঘৃণা বুকে ধরে রঞ্জু মুক্তিবাহিনীর ইনফর্মার হয়েছে; তার সবটা এসে ভর করেছে তার চোখে।

রঞ্জু আফওয়াজ খানের কাছে এসে মুখে একদলা থুথু ছুড়ল। তারপর চিৎকার করে বলল, “জ-য় বা-ং-লা!”

খ – ৫

প্রথম বল করল মাশরাফি। খানিকটা এগিয়ে এসে আফ্রিদি ব্যাট হাঁকাল। লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা!

পুরো গ্যালারি মুষড়ে পড়ল। পিন পতন নিস্তব্ধতা পুরো গ্যালারি জুড়ে। এমন নিস্তব্ধতার মধ্যে জেসি চিৎকার করে উঠতে গিয়েও কেমন যেন মিইয়ে গেল। গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুলো না।

বলের গতিপথের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাশরাফি হতাশ হয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলল। সমীকরণ, পাঁচ বলে প্রয়োজন তিন রান। পরের বলটার জন্য রানআপ নিলো মাশরাফি। দৌড়ে এসে বল করতে গিয়েই পড়ে গেল। আবার সেই হাঁটু। সেই লিগামেন্ট। আবার! প্লেয়াররা সব দৌড়ে এলো। পুরো গ্যালারি যেন এক সাথে ভেঙ্গে পড়ল। কোন আশা নেই। মিনিট দশেক পর মাশরাফি উঠে দাঁড়ালো। খুড়িয়ে খুড়িয়ে আবার গেল রানআপ নিতে। বুঝতে পারল, তার সমস্যা হচ্ছে। মনে হচ্ছে না আর বল করতে পারবে। নিজেকে বলল, এই ম্যাচটা সে নিজের জন্য খেলে না। খেলে দেশের জন্য। মনে করল, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা। মনে মনে নিজেকে বলল, “হাত-পায়ে গুলি লাগার পরও তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন কীভাবে? তোর তো একটা মাত্র লিগামেন্ট নেই! দৌড়া…।”

লম্বা রানআপ নিয়ে দৌড়ে এলো মাশরাফি। বল করল। কিন্তু, এটাও আগেরটাকেই অনুসরণ করল। ছয়? হবার কথা! বাউন্ডারি লাইনেরও তিন মিটার ওপর দিয়ে উড়ে গেল বলটা। দুদিক থেকে নাসির আর এনামুল দৌড়ে এসেছিল। কিন্তু, বাউন্ডারি লাইনের তিন মিটার ওপর দিয়ে যাওয়া বল আটকাবে কিভাবে?

তারপরও শেষ চেষ্টা করল নাসির। লাফ দিয়ে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে গিয়ে বলটা লুফে নিলো। কিন্তু, তাতেও শেষ রক্ষা হবে না। নিশ্চিতভাবেই বাউন্ডারির বাইরে গিয়ে পড়বে সে। তাই বাতাসে ভেসেই সেই বলটা ছুড়ে দিল এনামুলের দিকে। আর দুর্দান্ত দক্ষতায় এনামুল সেটা লুফে নিলো।

সাথে সাথে পুরো গ্যালারি গর্জন করে উঠল। সেই সাথে পুরো বাংলাদেশ। হাঁটুর ব্যথা ভুলে মাশরাফি দৌড় দিল এনামুলের দিকে। নাসির মাটিতে আছড়ে পড়ল। কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা পেল। কিন্তু, সেটা অনুভব করারও সময় পেল না। উঠে একসাথে চিৎকার করে উঠল সবার সাথে।

পুরো স্টেডিয়াম যেন সাগরের মত গর্জন করে উঠল। জেসি দুহাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ল। আফ্রিদি…! হল না। পাকিস্তান হেরে গেছে। হঠাৎ চোখ পড়ল পাশে বসা সেই প্রৌঢ়ের দিকে। মনে হল, প্রচণ্ড তীব্র এক মুঠো তৃপ্তি জমা হয়ে আছে তার দু’চোখে। সেই প্রৌঢ় তখন চোখের জল মুছে, দীপ্ত গলায় বলল, “জ-য় বা-ং-লা!”

২৭ thoughts on “দর্পণ

  1. মুগ্ধ হয়ে গেলাম…লোমগুলো
    মুগ্ধ হয়ে গেলাম…লোমগুলো দাড়িয়ে গেছে। কিছুক্ষণের জন্য মনেহয় ঘুরে এলাম মাঠ থেকে। এক কথায় অসাধারণ হইছে… :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  2. প্রচন্ড একটা গালি অতি কষ্টে
    প্রচন্ড একটা গালি অতি কষ্টে সংবরন করলাম ! রবিন তুমি আমারে কান্দাইলা এই রাতে । শুধু একটাই আওাজ দিলাম … জয় বাংলা !!!

  3. কখন যে দুচোখের কোনা বেয়ে
    কখন যে দুচোখের কোনা বেয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়েছে, টেরই পাইনি… দুফোঁটা পানিতে একই সাথে মিশে ছিল অসীম ক্রোধ, অসামান্য ঘৃণা আর অকল্পনীয় কষ্ট… আর শেষে শুধু একবুক গর্ব রইল ওঁই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  4. আপনার গল্পের প্রশংসা নতুন করে
    আপনার গল্পের প্রশংসা নতুন করে কি আর করব? যথারীতি অসাধারণ। বরং তার চেয়েও বেশী কিছু।
    কিন্তু কথা সেইটা না। আমার নামটারে একটা কুত্তির সাথে এইভাবে জড়িত করার জন্য তেব্র আপত্তি জানাইলাম। :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা:

      1. (No subject)
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান:

      1. ইয়াপ! উনি প্রেম রোগের ওপর
        ইয়াপ! উনি প্রেম রোগের ওপর পিএইচডি করছেন।

        এছাড়া যে তালি ভাইরে বিয়েতে রাজি করানো যাবে না, এটা উনি বুঝতে পেরেছেন।

        1. কেন !!! তালি ভাইয়ের কি প্রেম
          কেন !!! তালি ভাইয়ের কি প্রেম রোগ হইছে ?! :ভাবতেছি: আমি তো এতদিন জানতুম তাঁর “ বিবাহ না করার “ রোগ হইছে… :চিন্তায়আছি:

    1. কাহিনী হইল গিয়া, এই গল্পের
      কাহিনী হইল গিয়া, এই গল্পের কোন ক্যারেকটারই কাউরে মাথায় রাইখা করি নাই। আতিক বলতে মাথায় ছিল, আমার বড় শালাবাবুর কথা। ভাবছিলাম, এইটা নিয়া বউয়ের কাছে ঝাড়ি খামু। তা অবশ্য হয় নাই।

      এখন দেখি ইস্টির দুইজনের নাম চলে আসছে। আবার ফয়সাল নামে এক বড় ভাই আর রঞ্জু নামে এক আঙ্কেলও আছে (উনি আসলেই মুক্তিযোদ্ধা)।

      তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, গল্পটা লেখার পর জেসি নামে এক মেয়ের ফ্রেন্ড রিকু পাইছি… 😛 :শয়তান:

  5. চমৎকার গল্প লিখেন ভাই আপনি।
    চমৎকার গল্প লিখেন ভাই আপনি। আমেনা,রঞ্জু,জেসি,আফওয়াজ, মাশরাফিরা যেন একেকটি জীবন্ত চরিত্র হয়ে ফুটে উঠেছে গল্পে।গল্প লেখার অসাধারণ এক প্রতিভা আপনার।ভাগ্যিস আমার নামের শেষে মোল্লা নেই তা না হলে আমাকেতো পুরাই রাজাকার বানিয়ে ফেলছিলেন।আতিক ভাইয়ের প্রতি সমবেদনা জ্ঞ্যাপন করছি।

  6. স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া কি
    স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া কি বুঝেন!!!!!?????????
    আহা………। এমন গল্প দিয়ে কেন যে কোন সিনেমা বানায় না ! আর সিনেমা বানায় ওই সব কুত্তাদের দেখাতে পারতাম যারা মেরি মি আফ্রিদি লিখে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply to ক্লান্ত কালবৈশাখি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *