যাকাত ও উশর

যাকাত ও উশর

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুলাহ,
আমরা সকলে সৎ এবং পরহেজগার থাকতে চাই। তাই সুদ,ঘুষ, হারাম খাদ্য খাই না এবং অন্যের হক নষ্ট করি না। চেষ্টা করে থাকি হালাল রুজির ব্যবস্থা করতে। এত চেষ্টা করেও আমরা কি হালাল খাচ্ছি?
না হালাল খাচ্ছি না। খাচ্ছি হারাম।
নিজেকে সৎ এবং পরহেজগার ভাবলেও একটু ভেবে দেখুন তো আপনার খাদ্য বা সম্পদ কি হালাল থাকছে? আপনি কি সম্পদের সঠিক যাকাত ও উৎপাদিত ফসলের উশর আদায় করেন। তা হলে হালাল উপার্জন করে এবং সৎ থেকেও সঠিক পরিমাণ যাকাত ও উশর না দেবার ফলে আপনার হালাল উপার্জন , মাল- সম্পদ ,খাদ্যশস্য সব কিছুই হারাম হয়ে যাচ্ছে।

যাকাত ও উশর

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুলাহ,
আমরা সকলে সৎ এবং পরহেজগার থাকতে চাই। তাই সুদ,ঘুষ, হারাম খাদ্য খাই না এবং অন্যের হক নষ্ট করি না। চেষ্টা করে থাকি হালাল রুজির ব্যবস্থা করতে। এত চেষ্টা করেও আমরা কি হালাল খাচ্ছি?
না হালাল খাচ্ছি না। খাচ্ছি হারাম।
নিজেকে সৎ এবং পরহেজগার ভাবলেও একটু ভেবে দেখুন তো আপনার খাদ্য বা সম্পদ কি হালাল থাকছে? আপনি কি সম্পদের সঠিক যাকাত ও উৎপাদিত ফসলের উশর আদায় করেন। তা হলে হালাল উপার্জন করে এবং সৎ থেকেও সঠিক পরিমাণ যাকাত ও উশর না দেবার ফলে আপনার হালাল উপার্জন , মাল- সম্পদ ,খাদ্যশস্য সব কিছুই হারাম হয়ে যাচ্ছে।
>তোমার উপর যাকাত ফরজ হলে, যদি যাকাত না দাও তবে ঐ হারাম তোমার ওই সব হালালকে ধবংস করে ফেলবে।– বুখারি।
তাই এক গ্লাস দুধে এক ফোটা টক দিলে যেমন দুধ নষ্ট হয়ে যায় তেমনি যাকাত ও উশর না দেবার ফলে তা সমস্ত হালাল সম্পদকে হারাম করে দেয়।
> স্থল ও জল ভাগে যে ধন-সস্পদ নষ্ট হয় তা শুধু যাকাত বন্ধ করার দরুন।–বাজ্জার,
বায়হাকী,তাবরানী
সুতরাং নিজের রিজিককে হালাল রাখাতে চাইলে অবশ্যয় মাল- সম্পদের যাকাত এবং ফসলের উশর আদায় করতে হবে।

•যাকাতঃ
যাকাত ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি।যাকাত বিধান ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ।। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়। সাধারণত নির্ধারিত সীমাতিক্রমকারী সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) অংশ বছর শেষে বিতরণ করতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাতই শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয। উল্লেখ্য, নিসাব পরিমাণ হলেই যাকাত কোনো ব্যক্তির উপর ওয়াজিব হয় এবং তখন তার উপর ‘যাকাত’ নামক ফরয বর্তায়; অর্থাৎ যাকাত আদায় করা ফরয। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে “যাকাত” শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার।
• বিধানঃ এবং সালাত কায়েম করবে আর যাকাত প্রদান করবে, এই হচেছ দীনের মজবুত
বিধান –বাইয়্যেনাহঃ ৫
• আদেশঃ তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত দাও। বাকারাহঃ ৪৩ ও ১১০ (অংশ)
• রহমতঃ সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে করে
তোমরা আল্লাহ্র রহমত পেতে পার।— নূরঃ ৫৬
• অধিকারঃ (১)ধনীদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।—- আয-যারিয়াত-১৯
(২)তাদের ধন-সম্পদে সুনির্দিষ্ট অধিকার আছে ভিখারী ও বঞ্চিতদের জন্য।
—– আল-মাআরিজঃ ২৪ ও ২৫
(৩) অতএব আতœীয়কে দাও তাদের প্রাপ্য (হক) এবং অভাব গ্র¯ত ও মুসাফিরকেও যারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটা শ্রেয়।—–রোমঃ ৩৮
• প্রাপকঃ যাকাত কেবল ফকির মিসকিন ও তৎসংশ্লিষ্ঠ কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষন করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋনে জর্জরিত ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।—– তওবাঃ ৬০
• পবিত্রতাঃ তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত ) গ্রহন করুন। এর দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র , করবেন এবং পরিশোধিত করবেন ।—– তওবাঃ ১০৩
• ধন সম্পদ বৃদ্ধিঃ আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের জন্য যে যাকাত তোমরা দিয়ে থাকো তাহাই
বৃদ্ধি পায় এবং উহাই সমৃদ্ধশালী ।—- রোমঃ ৩৯ (অংশ )
• ধন সম্পদ ধ্বংস ঃ দুর্ভোগ (ধংস ) অনিবার্য ঐ সকল মুশরিকদের জন্য যারা যাকাত আদায় করে না এবং আখিরাতেও অবিশ্বাসী। ——হামিমঃ ৬ ও ৭ ( অংশ )
• হুশিয়ারঃ আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপনতা করে, তাদের জন্য তা মঙ্গল এ যেন তারা কিছুতেই মনে না করে। আল-ইমরানঃ ১৮০
>>>উশর বা ফসলের যাকাতঃ
(১) হে ঈমানদারগন। উপার্জিত সম্পদের উত্তম অংশ আল্লাহ্র পথে খরচ কর এবং তা
থেকেও খরচ কর যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি।
—-বাকারাহঃ ২৬৭ ( অংশ )

(২) বৃক্ষ যখন ফলবান হয় তখন এর ফল ভন কর এবং এর ফসল তোলার দিনে যে
বঞ্চিত তার হক আদায় কর এবং কখনো অপচয় করো না।
—–আল-আনআমঃ ১৪১ (অংশ )

>>>হাদীস শরীফ ও অন্যান্য গ্রন্থে যাকাতঃ
(১) আব্দুল্লাহ ইবন মাসুউদ (রাঃ) বলেন আল-কোরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমানিত যে,যাকাত
ব্যবস্থা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ তথা সুষ্পষ্ট ফরজ। যে ব্যক্তি ইহা অস্বীকার করবে বা
যথাযথভাবে আদায় করবে না নিশ্চিত ভাবে সে কাফির এবং ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে
যাবে।—- আল-মাজমু ইবন কুদামা-যাকাত-আবুল হাসান আল নাদভী ।
(২) যে যাকাত আদায় করে না তার কোন সালাত কবুল হয়না। —তাফসীরে তাবারী
(৩) কেউ যদি আল্লাহর পূরস্কারের আশায় যাকাত দেয় তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা
হবে।কিন্তু যে যাকাত দিতে অস্বীকার করবে তার কাছ থেকে শক্তি প্রয়োগ করে যাকাত
আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তার অর্ধেক সম্পত্তিও নিয়ে নেওয়া
হবে ।—– বুখারী- নাসাঈ, বায়হাকী
(৪) স্থল ও জল ভাগে যে ধন-সস্পদ নষ্ট হয় তা শুধু যাকাত বন্ধ করার দরুন।—-বাজ্জার,
বায়হাকী,তাবরানী
(৫) যাকাত যে মালের সাথে মিশ্রিত হয় সে মালকে যাকাত অবশ্যই ধ্বংশ করে দেয়।—–
বাজ্জার,বায়হাকী
(৬) আমি আদিষ্ট হয়েছি এ জন্য যে, আমি যুদ্ধ করব লোকদের সাথে যতন না তারা
স্যা দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কেহ ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল,নামাজ কায়েম
করবে ও যাকাত দিবে। ——- বুখারী,মুসলিম

>>> পূর্ববতী নবী-রাসূলের যুগে যাকাতঃ
দীন ইসলাম মানবজাতির জন্য আল্লাহ্ প্রদত্ত পরিপূর্ন ও ভারসাম্যমূলক জীবন ব্যবস্থা। এ ভারসাম্য রার জন্য যাকাতের গুরুত্ব ব্যাপক। ইসলামের পাঁচটি মৌলিক ইবাদতের মধ্যে যাকাতকে তৃতীয় বলে ঘোষনা করা হয়েছে। দীনের সকল মৌলিক নীতি সব যুগেই এক ও অভিন্ন। দীনের সূচনাতে হযরত আদম (আঃ) এর সময় শরীয়াহ বিধান ছিলনা। হযরত নূহ (আঃ) থেকে শরীয়াহ প্রবর্তন হয়। বিভিন্ন নবী ও রাসূলগনের যুগে শরীয়াহ বিধান ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও সালাত ও যাকাতে কোন ভিন্নতা ছিল না। এ কারনেই পবিত্র কোরআনে হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ), হযরত ইয়াকুব (আঃ), হযরত ইসমাইল (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ) এর নাম যাকাত সংক্রান্ত বিভিন্ন আয়াতে ল্য করা যায়। অর্থাৎ পূর্ববতী অনেক নবী ও রাসূলের যুগেও যাকাত বিধান ছিল।

>>>যাকাতের শর্তসমূহঃ

স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকে। যেমন:

১. সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা—

সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ সম্পদ, মালিকের অধিকারে থাকা, সম্পদের উপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসকল সম্পদের মালিকানা সুসস্পষ্ট নয়, সেসকল সম্পদের কোনো যাকাত নেই, যেমন: সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। অনুরূপভাবে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়ক্‌ফকৃত সম্পদের উপরেও যাকাত ধার্য হবে না। তবে ওয়াক্‌ফ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য হয়, তবে তার উপর যাকাত দিতে হবে।

২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া—-

যাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পাবার যোগ্যতাই যথেষ্ট। যেমন: গরু, মহিষ, ব্যবসায়ের মাল, নগদ অর্থ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রীত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল।অর্থাৎ যেসকল মালামাল নিজের প্রবৃদ্ধি সাধনে সক্ষম নয়, সেসবের উপর যাকাত ধার্য হবে না, যেমন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালামাল, চলাচলের বাহন ইত্যাদি।

৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ—

যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন ।

৪. মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থাকা—-

সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধুমাত্র তার উপরই যাকাত ফরয হবে। এপ্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে:

• লোকজন আপনার নিকট (মুহাম্মদের [স.] নিকট) জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।

• মুহাম্মদের [স.] সহচর ইবনে আব্বাস [রা.] হতে বর্ণিত “অতিরিক্ত বলতে পরিবারের ব্যয় বহনের পর যা অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট থাকে তাকে বুঝায়।”

• জনাব ইউসুফ আল কারযাভী’র মতে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন, ও পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের ভরণ-পোষণও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।

৫. ঋণমুক্ততা—-

নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলেও ব্যক্তির ঋণমুক্ততা, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শর্ত। যদি সম্পদের মালিক এত পরিমাণ ঋণগ্রস্থ হন যা, নিসাব পরিমাণ সম্পদও মিটাতে অক্ষম বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ তার চেয়ে কম হয়, তার উপর যাকাত ফরয হবে না। ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কেবল যাকাত ওয়াজিব হয়। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি হলো: যে ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় সে ঋণের ক্ষেত্রে যেবছর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়, সেবছর সে পরিমাণ ঋণ বাদ দিয়ে বাকিটুকুর উপর যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ঋণ বাবদ যাকাত অব্যাহতি নেয়ার পর অবশ্যই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সে সম্পদের উপর যাকাত দিতে হবে।

৬. সম্পদ এক বছর আয়ত্বাধীন থাকা—–

নিসাব পরিমাণ স্বীয় সম্পদ ১ বছর নিজ আয়ত্বাধীন থাকাই যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পূর্বশর্ত। তবে কৃষিজাত ফসল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির যাকাত (উশর) প্রতিবার ফসল তোলার সময়ই দিতে হবে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে বছর শেষে উদ্বর্তপত্রে (Balance Sheet) বর্ণিত সম্পদ ও দায়-দেনা অনুসারে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

>>>বিশেষ ক্ষেত্রে যাকাত—-

• অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের যাকাত: সম্পদের মালিক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাগল হলে, তার যাকাত তার আইনানুগ অভিভাবককে আদায় করতে হবে।
• যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির যাকাত: কোনো সম্পদে যৌথ মালিকানা থাকলে সম্পদের প্রত্যেক অংশীদার তাঁর স্ব স্ব অংশের উপরে যাকাত দিবেন, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় বা তার অতিরিক্ত হয়। অর্থাৎ সম্পদের স্বীয় অংশের মূল্য অন্যান্য সম্পদের সাথে যোগ করে হিসাব করে যদি দেখা যায় তা নিসাব পরিমাণ হয়েছে বা অতিক্রম করেছে, তবে যাকাত দিতে হবে।
• নির্ধারিত যাকাত: যাকাত নির্ধারিত হওয়াসত্ত্বেয় পরিশোধের আগেই সম্পদের মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারগণ অথবা তার তত্ত্বাবধায়ক তার সম্পত্তি থেকে প্রথমে যাকাত বাবদ পাওনা ও কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করবেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হবে।
• তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ন্যস্ত সম্পদের যাকাত: মালিকের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত আইনানুগ তত্ত্বাবধায়কের কাছে সম্পত্তি ন্যস্ত থাকলে মালিকের পক্ষে উক্ত তত্ত্বাবধায়ক সে যাকাত পরিশোধ করবেন।
• বিদেশস্থ সম্পদের যাকাত: যাকাত ওয়াজিব হবার জন্য সম্পত্তি নিজ দেশে থাকা শর্ত নয়। বরং সম্পত্তি অন্য দেশে থাকলেও তার উপর যাকাত দিতে হবে। তবে উক্ত দেশ ইসলামী রাষ্ট্র হলে এবং দেশের সরকার যাবতীয় সম্পদের উপর যাকাত দিলে তা আর আলাদা করে দিতে হবে না।

>>>যাকাত বণ্টনের খাতসমূহ—-

যাকাত বন্টনের কিছু নির্দিষ্ট খাত আছে। এই খাতগুলো সরাসরি ক্বোরআন দ্বারা নির্দ্দিষ্ট, এবং যেহেতু তা আল্লাহ’র নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বন্টন করলে যাকাত, ইসলামী শরিয়তসম্মত হয় না।
• মুসলমান ফকির (যার কিছুই নেই)
• মুসলমান মিসকীন (যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই)
• যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই)
• (অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য
• ক্রীতদাস (মুক্তির উদ্দেশ্যে)
• ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশী
• (স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জেহাদে রত ব্যক্তি
• মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)

হাদিসমতে, এগুলো ফরয সাদকাহের খাত, এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরো প্রশস্ত। উল্লেখিত খাতসমূহে যাকাত বন্টন করতে সঠিক পন্থায়। অনেকে যাকাতের অর্থে শাড়ি ক্রয় করে তা বন্টন করে থাকেন। এভাবেও যাকাত আদায় হয়ে গেলেও এভাবে আসলে প্রকৃতপক্ষে যাকাত গ্রহণকারীর তেমন উপকার হয় না।

>>>যাকাত গণনার নিয়মঃ

ধর্মীয়ভাবে প্রতিজন মুসলমানকে তাঁর যাবতীয় আয়-ব্যয়-সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়। হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাৎসরিক ভিত্তি একটি মৌলিক ধারণা। অর্থাৎ বছরের একটা নির্দিষ্ট দিন থেকে পরবর্তি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত যাবতীয় আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখতে হয়। এই ‘দিন’ বাছাই করার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, কোন মাসে দিন নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত কেউ কেউ হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের কোনো দিন কিংবা অধিক পূণ্যের আশায় রমজান মাসের কোনো দিন বাছাই করে থাকেন। এই হিসাব সংরক্ষণ হতে হবে যথেষ্ট সূক্ষ্মতার সাথে। সংরক্ষিত হিসাবের প্রেক্ষিতে ইসলাম ধর্মের নিয়মানুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলে তবেই উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক (ফরয) হয়, অন্যথায় যাকাত দিতে হয় না।

>>>যাকাত কিভাবে বের করবেন?

সর্বপ্রথম যাকাত ওয়াজিব হওয়ার চন্দ্র তারিখ নির্ধারণ করুন। যাকাত ওয়াজিব হওয়ার চন্দ্র তারিখ/ইসলামী তারিখ। এ তারিখে মালিকানায় যাকাতের উপযুক্ত আসবাবপত্র বাজারদর অনুযায়ী নির্ধারণ নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী করুন,আবশ্যকিয় যাকাতের সম্পত্তি তালিকায় লিপিবদ্ধ করুন।

মোট যাকাতকৃত মাল (অর্থ) ৫০০০০০/=

আলাদাকৃত অর্থ ৩০০০০০/=

যাকাতের উপযুক্ত অর্থ ২০০০০০/=

যাকাত বের করার ফর্মূলা: মোট অর্থকে ৪০ দ্বারা ভাগ করুন– ২০০০০০/ ৪০=৫০০/=

>>>যাকাত প্রদানের নিয়মঃ

যাকাতের ‘নিসাব পরিমাণ’ বিভিন্ন দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়। নিচে এসংক্রান্ত বিস্তারিত দেয়া হলো

• বিষয়————- (নিসাব/সর্বনিম্ন পরিমাণ)———-যাকাতের হার%
——————————————————————–

• নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা এবং ব্যবসায়িক পণ্য–(৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান)–সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
• স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা সোনা-রূপার অলংকার–(সোনা ৭.৫ তোলা এবং রূপা ৫২.৫ তোলা)–সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
• কৃষিজাত দ্রব্য–(আবু হানিফার মতে, যেকোনো পরিমাণ/অন্যান্যদের মতে, ৫ ওয়াসাক বা ২৬ মণ ১০ সের/ ইসলামিক ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ব্যুরো’র মতে, ১৫৬৮ কেজি)–বৃষ্টিতে উৎপাদিত দ্রব্যের ১০%
• খনিজ দ্রব্য–(যেকোনো পরিমাণ )—দ্রব্যের ২০%
• ভেড়া-ছাগল–(৪০-১২০টি/১২১-২০০টি/২০১-৪০০টি/ ৪০০-৪৯৯টি/ ৫০০ বা ততোধিক)–১টি ভেড়া বা ছাগল/ ২টি ভেড়া বা ছাগল/৩টি ভেড়া বা ছাগল/৪টি ভেড়া বা ছাগল/ ৫টি ভেড়া বা প্রতি শ’তে ১টি
• গরু-মহিষ—(৩০-৩৯টি /৪০-৪৯টি/ ৫০-৫৯টি/ ৬০-৬৯টি /৭০-৭৯টি/ ৮০-৮৯টি/ ৯০-৯৯টি/ ১০০-১১৯টি)— ১টি এক বছরের বাছুর/ ১টি দুই বছরের বাছুর/২টি দুই বছরের বাছুর/ ১টি তিন বছরের এবং ১টি দুই বছরের বাছুর/ ২টি তিন বছরের বাছুর/৩টি দুই বছরের বাছুর/১টি তিন বছরের এবং ২টি দুই বছরের বাছুর/ দুই বছরের বাছুর -এভাবে উর্ধ্বে হিসাব হবে
• উট—(৫-৯টি/ ১০-১৪টি/১৫-১৯টি/২০-২৪টি/ ২৫-৩৫টি/৩৬-৪৫টি/ ৪৬-৬০টি/ ৬১-৭৫টি/ ৭৯-৯০টি/৯১-১২০টি/১২১-১২৯টি/১৩০-১৩৪টি/১৩৫-১৩৯টি/১৪০-১৪৪টি/১৪৫-১৪৯টি/ ১৫০ এবং তদুর্ধ্ব)—-১টি তিন বছরের খাশি অথবা ১টি এক বছরের বকরি/২টি এক বছরের বকরি/৩টি এক বছরের বকরি/৪টি এক বছরের বকরি/ ৪টি এক বছরের মাদী উট/২টি তিন বছরের মাদী উট/২টি চার বছরের মাদী উট/ ১টি পাঁচ বছরের মাদী উট/ ২টি তিন বছরের মাদী উট/ ২টি চার বছরের মাদী উট/ ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি ছাগল/ ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ২টি ছাগল/২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৩টি ছাগল/ ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৪টি ছাগল/২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি দুই বছরের উট/ ৩টি ৪ বছরের মাদী উট এবং প্রতি ৫টিতে ১টি ছাগল
• ঘোড়া–(এক্ষেত্রে তিনটি মত পাওয়া যায়)– যাকাত নেই/ কিংবা সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%/ কিংবা প্রতিটি ঘোড়ার জন্য ১ দিনার পরিমাণ অর্থ
• শেয়ার, ব্যাংক নোট, স্টক—(৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান)—সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%/ তবে কোম্পানী যাকাত দিলে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিতে হবে না
• অংশীদারী কারবার ও মুদারাবা—(৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান)—- প্রথমে সম্পত্তির যাকাত দিতে হবে, মূলধনের নয়; এরপর লাভ বন্টিত হবে। যাকাত ব্যক্তিগতভাবে লাভের উপর হবে, একভাগ (২.৫%) দিবে মূলধন সরবরাহকারী এবং একভাগ (২.৫%) দিবে শ্রমদানকারী।

>>>যাকাতমুক্ত সম্পদঃ

• যাকাতমুক্ত সম্পদ সম্পর্কে নবী মুহাম্মদ [স.] বলেছেন—– বাসস্থানের জন্য নির্মিত ঘরসমূহ, ঘরে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, আরোহণের জন্য পশু, চাষাবাদ ও অন্যান্য আবশ্যকীয় কাজে ব্যবহৃত পশু ও দাস-দাসী, কাঁচা তরিতরকারিসমূহ এবং মৌসুমী ফলসমূহ যা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না, অল্পদিনে নষ্ট হয়ে যায়, এমন ফসলে যাকাত নেই।

• যদিও হানাফি মাযহাব অনুসারে নিজে নিজে উৎপন্ন দ্রব্যাদি, যথা বৃক্ষ, ঘাস এবং বাঁশব্যতীত অন্য সমস্ত শস্যাদি, তরিতরকারি ও ফলসমূহের যাকাত দিতে হয়। হাদিসের আলোকে যেসকল সম্পদসমূহকে যাকাত থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: জমি ও বাড়িঘর; মিল, ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউজ বা গুদাম ইত্যাদি; দোকান; এক বছরের কম বয়সের গবাদি পশু; ব্যবহার্য যাবতীয় পোশাক; বই, খাতা, কাগজ ও মুদ্রিত সামগ্রী; গৃহের যাবতীয় আসবাবপত্র, বাসন-কোসন ও সরঞ্জামাদি, তৈলচিত্র ও স্ট্যাম্প; অফিসের যাবতীয় আসবাব, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নথি; গৃহপালিত সকলপ্রকার মুরগী ও পাখি; কলকব্জা, যন্ত্রপাতি ও হাতিয়ার ইত্যাদি যাবতীয় মূলধনসামগ্রী; চলাচলের যন্তু ও গাড়ি; যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধ-সরঞ্জাম; ক্ষণস্থায়ী বা পঁচনশীল যাবতীয় কৃষিপণ্য; বপন করার জন্য সংরক্ষিত বীজ; যাকাতবর্ষের মধ্যে পেয়ে সেবছরই ব্যয়িত সম্পদ; দাতব্য বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, যা জনস্বার্থে নিয়োজিত; সরকারি মালিকানাধীন নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য এবং অন্যান্য সম্পদ। যে ঋণ, ফেরত পাবার আশা নেই (স্থায়ী কুঋণ), তার উপর যাকাত ধার্য হবে না।

৬ thoughts on “যাকাত ও উশর

  1. ৩. নিসাব পরিমাণ
    ৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ—

    যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন ।

    ইয়ে ব্রাদার, আজকের যুগে, ৭.৫ তোলা সোনার দাম 22 ক্যারটের সোনা ৪৮ হাজার করে ধরেন। নাইলে মন চাইলে কমিয়ে ৩০ হাজার ধরেন। সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার দাম যদি এর সমান হয়, আমি মোবাইল বিক্রি করে আপনাকে কিনে দিব।
    আজগুবি।
    ————————————–

    1. এই বছরের ১২ তারিখ হতে পরের
      এই বছরের ১২ তারিখ হতে পরের বছরের ১২ তারিখ প্রজন্তু আপনার সকল কিছু বাদ দিয়ে যদি ঐ পরিমাণ অর্থ থাকে তবে যাকাত দিবেন , না থাকলে দিবেন না। এতে সমস্যা কি দেখলেন?

  2. ইস্টিশন-এ কোন ধর্মীয় পোস্ট
    ইস্টিশন-এ কোন ধর্মীয় পোস্ট এলাউ করা হয় না ধর্ম নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে। তারপরও আপনি পোস্ট দিয়েছে, এখন আপনাকে সহ্য করে বিতর্কের মোকাবেলা করতে হবে।

    আপনি উপরে যা লিখেছেন, এসব ধুনফুন এই যুগে চলে না। সব গাঁজাখুরী কথাবার্তা। মানুষ সামনে এগিয়ে যায়। আমরা ১৪০০ বছর আগের ধুনফুন নিয়ে থাকতে চাই না। এরপর ধর্ম নিয়ে এখানে কোন ধরনের পোস্ট দিবেন, এরফলে ধর্ম আক্রান্ত হলে সেটার দায়-দায়িত্ব আপনার। ধর্মের নামে গাঁজাখুরী এসব এখন আর বিশ্বাসযোগ্য না।

  3. আমি দুলাল দার সাথে একমত
    আমি দুলাল দার সাথে একমত জ্ঞাপন করছি। সাধারনরত ইস্টিশনে এমন লেখা দেখা যায় না। কিন্তু আপনি যা লিখছেন সেটা আপনার জায়গা থেকে লিখিছেন।আপনার লেখার সময়কাল এবং এখন যে সময় প্রবাহিত হচ্ছে সেতার ভেতর যে কি বড় পার্থক্য তুলনা আপনি করেলে আপনার লেখার মান আপনি নিজেই ধরতে পারবেন। ধন্যবাদ ।

  4. মারহাবা..মারহাবা…
    (৫) যাকাত

    মারহাবা..মারহাবা…

    (৫) যাকাত যে মালের সাথে মিশ্রিত হয় সে মালকে যাকাত অবশ্যই ধ্বংশ করে দেয়।—–
    বাজ্জার,বায়হাকী

    কিন্তু হুজুর, আমি ও আমার এক বন্ধু যাকাতের ট্যাকা দিয়া তন্দুরী চিকেন কিনে বিদেশি মাল (হুইস্কি) সহ খাইসিলাম। আপনের লেখাটা যদি আরো আগে পড়তাম, তাইলে আর এই ভুল কইরতাম না। এখন আমার কি হপে !!!

    হুজুরে পাক, আমারে একটা মাসআ’লা দেন। আমি বিদেশি মাল আর যাকাতের লগে মিলায়া ধ্বংস করতাম চাই না….

  5. ম্যালা দিন হলো ধর্ম নিয়ে
    ম্যালা দিন হলো ধর্ম নিয়ে ল্যাখা জোকা পাই না, হুজুরে পাক যখন এইখানে ধর্ম প্রচারে আসলেন তখন কয়েকটা কথা জিজ্ঞাসা করি। তবে এখন আপাতত একটার উত্তর দেন

    • (অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য

    এই পলিসি কেন হুজুর? আমরা যতদূর জানি দান খয়রাত নিঃস্বার্থভাবে করা উচিত। স্বার্থ নিয়ে দান-খয়রাত করলে তার ফল ভালো হয় না, এখন এইখানে মন জয় মূলক উদ্দেশ্য নিয়া যাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্যটা খুলে বলবেন কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *