মায়ের ছোট্ট ছোট্ট দুটি স্বপ্ন, পূরণ হবে তো?

আমি বাংলাদেশে আছি বিগত প্রায় ২৭ বছর যাবৎ… ঢাকায় এসেছিলাম সেই ‘৮৭ সালে.. এসেই এই শহরটার প্রেমে পড়ে যাই, আমি ঠিক করি এই শহরেই জীবনের বেশীরভাগটা সময় কাটিয়ে দেবো… সরকারী নির্দেশে মাঝে কিছু টা সময় ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহর/মফস্বলে থেকেছি, স্কুলে পড়েছি কিন্তু মন পড়েছিল ঢাকাতেই… প্রাণের শহর ঢাকায় থেকেও কিছুদিন আগে পা মচকে বাসায় বসে ছিলাম একটানা সাতদিন, এই সময়টা ঢাকাকে দেখতে পাই নি, মন বেজায় খারাপ ছিল…খুব ইচ্ছে করছিল বাসার ছাঁদে গিয়ে তুরাগের পাড়টা একটূ উকি দিয়ে দেখতে।


আমি বাংলাদেশে আছি বিগত প্রায় ২৭ বছর যাবৎ… ঢাকায় এসেছিলাম সেই ‘৮৭ সালে.. এসেই এই শহরটার প্রেমে পড়ে যাই, আমি ঠিক করি এই শহরেই জীবনের বেশীরভাগটা সময় কাটিয়ে দেবো… সরকারী নির্দেশে মাঝে কিছু টা সময় ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহর/মফস্বলে থেকেছি, স্কুলে পড়েছি কিন্তু মন পড়েছিল ঢাকাতেই… প্রাণের শহর ঢাকায় থেকেও কিছুদিন আগে পা মচকে বাসায় বসে ছিলাম একটানা সাতদিন, এই সময়টা ঢাকাকে দেখতে পাই নি, মন বেজায় খারাপ ছিল…খুব ইচ্ছে করছিল বাসার ছাঁদে গিয়ে তুরাগের পাড়টা একটূ উকি দিয়ে দেখতে।

তবে… এই লেখা লেখার সময় ভাবছিলাম আমার মা এর কথা… সাতদিনে হাঁপিয়ে উঠেছি, আম্মুর দিনগুলা কিভাবে যায়? একটার পর একটা দিন কেটে যায়… প্রতিটা দিন একা একা, সারাটা দিন বাসায় বসে থাকে, রান্না করে, ঘরের কাজকর্ম করে… সারাদিনে কারও সাথে তার দেখা হয়না. কোনদিন দুপুরে ফোন করে খবরও নেই না কি করতেছে… কোন কোনদিন বাসায় এসে খারাপ ব্যবহারও করি… মানুষ তো বেশী কিছু চায় না, একটু ভালবাসা, মায়া, মমতা, মনযোগ? পা ভেঙ্গে হাসপাতালে গেলাম, সিরিয়াল ছাড়া রোগী ঢুকাচ্ছে দেখে প্রচন্ড মেজাজ খারাপ ছিল, কিন্তু দারোয়ান যখন জিজ্ঞেস করছিল “বাবা কি হইছে পায়ে?…আহারে, ঠিক হয়ে যাবে, সাবধানে থাইকো” মনটাই তো আমার ভাল হয়ে গেছিল, একটা শক্তি পাচ্ছিলাম, ওষুধ কতখানি লাগে? ৫০০ মি.গ্রা. ওষুধের সাথে মাত্র এক মি.গ্রা. মমতা মিশালেই রোগী এমনিতেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে.. সেই মমতা আমার মা কে কতটুকু দিতে পারি?

আম্মুর সাথে সময় কাটানো হয় অসুস্থ হলেই, সেই মমতার জন্যই আম্মুর কাছেই ছুটে যাই… কিছুদিন আগেও অ্যাক্সিডেন্ট করে পা ব্যথা নিয়ে বাসায় বসে ছিলাম। অনেকটা সময় আম্মুর সাথে থাকার পর দেখলাম কিভাবে তার দিনগুলো যায়, যতটা সম্ভব গল্প করলাম, আম্মুর কাছে রান্না শিখলাম, ব্যথা পা নিয়ে আইসক্রিমও কিনে আনলাম, দুইজনে মিলে আইসক্রিম খেলাম আর গল্প গুজব করলাম, আব্বু এসে হিংসায় জ্বলে যাচ্ছিল,এমনিতে আব্বু আইসক্রিম খায় না কিন্তু এই দৃশ্য সে সহ্য করতে পারছিল না, আম্মুর আইসক্রিমে ভাগ বসাতে চাচ্ছিল আমি দাবাড় দিয়ে তাড়িয়ে দিলাম, লাভ হয়নি, আম্মু নিজেই তাকে দিল একটু খানি.তাই নিয়ে আব্বুর আমার দিকে তাকায় রাজ্য জয়ের হাসি..

যাই হোক আম্মুর খুব শখ, স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠের উপর একটু হাটবে একদিন, টাইগারদের প্রতি তার গভীর আবেগ, ওরা যে মাঠে খেলে সেই মাঠে একটু হেটে দেখতে চায়। আর পাহাড় দেখবে… ব্যস এই…আর কোন স্বপ্ন নেই। অথচ এই দুটি জিনিস আমি এখন পর্যন্ত দিতে পারিনি..অনেক অ্যাডভেঞ্চার করি, ঘুরি ফিরি… নিজের শক্তি আছে, সামর্থ আছে তাই দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছি… তাই বুঝিনা কিসের মধ্য দিয়ে আমাদের মায়েরা যায়… এই দুটা ইচ্ছা যেনো পূরণ করাতে পারি… সব অভাগা যেনো তাদের মায়েদের ছোট ছোট ইচ্ছা গুলো পূরণ করতে পারে, যতটা সম্ভব মাকে সঙ্গ দেয়, একটু বাড়তি মনযোগ, মায়া মমতা দিয়ে কথা বলে…

১০ thoughts on “মায়ের ছোট্ট ছোট্ট দুটি স্বপ্ন, পূরণ হবে তো?

  1. সুন্দর কথা বলিছেন ভাই। আমরা
    সুন্দর কথা বলিছেন ভাই। আমরা কত কিছু করি। আমাদের মায়েরা কী করে তাঁর প্রতি খেয়াল রাখা হয় না। হয় না।

    1. মায়েদের প্রতি আমাদের অবহেলা
      মায়েদের প্রতি আমাদের অবহেলা খুবই দুঃখজনক, এখন চেষ্টা করি যতটা সম্ভব মা’র সাথে কথা বলার, সময় কাটানোর, তবে তার বারণগুলো মানতে একটূ কষ্ট হয় আর কি 😀

  2. ‘পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার

    ‘পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ শহীদের নাম মা’

    আর ‘

    সতীচ্ছদ আরব (বাঙ্গালীর সহ বেশীরভাগ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের) পুরুষদের জাতীয় পতাকা’

    উক্তিদ্বয় প্রিয় হুমায়ুন আজাদ স্যারের…

    ‘মা’-দের জন্যে অনন্ত অসিম অকৃত্রিম ভালবাসা! লিখাটি ভাল লাগল… :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আপনাকে ইস্টিশনে স্বাগতম!! আশাকরি হারিয়ে যাবেন না, নিয়মিত হবেন। :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :তালিয়া: :তালিয়া:

    আপনার প্রথম পোস্ট পুরুষতান্ত্রিকতাকে কটাক্ষ করে, এবং দ্বিতীয়টি ‘মা’য়ের প্রতি ভালবাসা থেকে। অসাধারণ… আরও চমৎকার চমৎকার সব লিখার অপেক্ষায় থাকলাম!!

  3. খুব ভালো জিনিস তুলে ধরেছেন
    খুব ভালো জিনিস তুলে ধরেছেন ।মায়ের খেয়াল আমরা আসলে কয়জন ঠিকমতো রাখতে পারি ।তবুও সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ।

  4. খুব ভালো লেখা ‘মা’ ও তার
    খুব ভালো লেখা ‘মা’ ও তার সাধারণ দুটি ইচ্ছে নিয়ে । শিগগির মায়ের ইচ্ছে দুটো পূরন হোক, কামনা করি । ছোট ছোট আবেগ ছোট ছোট মুহুর্তকে কেমন সুন্দর বানিয়ে দেয় তা আইস্ক্রিম খাওয়ার মধ্যে ফুটে উঠেছে । মা কে ভালো রাখুন, শান্তি পাবেন । আমরা সকলেই দিনে হাজার জনকে অজস্র কারণে ধন্যবাদ দিই, কত তুচ্ছ কার নেই ঠোঁটের আগায় থাঙ্কু শব্দটা চলে আসে…জনম দুঃখিনী মায়ের উপেক্ষা ঘোচে না !

  5. আপনার মন্তব্যটি ভাল লাগলো…
    আপনার মন্তব্যটি ভাল লাগলো… এই ছোট ছোট সুন্দর মূহুর্তগুলই জীবনে বেঁচে থাকার শক্তি যোগায়… আর ধন্যবাদ দেয়ার এই অভ্যাসটি আমি ভালই রপ্ত করেছি 🙂 এই যেমন একটু আগে চা বানিয়ে দিল, সঙ্গে সঙ্গে বললাম, থ্যাঙ্ক ইউ, বদলে অবশ্য একটা ছোট্ট বকা খেয়েছি 😀 বড় স্বাদ সেই বকায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *