বন্ধু…. বেশ করেছিস!!

২০১১, অক্টোবর ২৩ এর পড়ন্ত বিকেল।। বাথরুম থেকে রুমে ঢুকলো অর্ণ।। মামুন স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি প্রাইভেট আছে ওর, হাতে কয়েক মিনিট বাকি।। প্রস্তুতি সম্পন্ন করে করে রুম থেকে বের হবে এমন সময় ওর সেল ফোনটা বেজে ওঠলো।। স্ক্রিনে ইনকামিং কল, বাপন…
অর্ণঃ হ্যাঁ, বাপন বল….
বাপনঃ কোথায় তুই??
অর্ণঃ মেস থেকে বের হচ্ছি, কেমিস্ট্রি প্রাইভেট আছে।।
বাপনঃ রাখ তোর প্রাইভেট… বড় কালী বাড়ি কির্তন শুরু হয়ছে।। চারপাশে শুধু মাল আর মাল, তারাতারি চলে আয়!!
অর্ণঃ না বন্ধু…. জানিস তো, আমার মেয়ে মানুষে এলার্জি আছে।। ওটা তোরাই তুলে রাখ।।
বাপনঃ কোন কথা না, তুই না আসলে বন্ধুত্বের ইতি এখানেই……

২০১১, অক্টোবর ২৩ এর পড়ন্ত বিকেল।। বাথরুম থেকে রুমে ঢুকলো অর্ণ।। মামুন স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি প্রাইভেট আছে ওর, হাতে কয়েক মিনিট বাকি।। প্রস্তুতি সম্পন্ন করে করে রুম থেকে বের হবে এমন সময় ওর সেল ফোনটা বেজে ওঠলো।। স্ক্রিনে ইনকামিং কল, বাপন…
অর্ণঃ হ্যাঁ, বাপন বল….
বাপনঃ কোথায় তুই??
অর্ণঃ মেস থেকে বের হচ্ছি, কেমিস্ট্রি প্রাইভেট আছে।।
বাপনঃ রাখ তোর প্রাইভেট… বড় কালী বাড়ি কির্তন শুরু হয়ছে।। চারপাশে শুধু মাল আর মাল, তারাতারি চলে আয়!!
অর্ণঃ না বন্ধু…. জানিস তো, আমার মেয়ে মানুষে এলার্জি আছে।। ওটা তোরাই তুলে রাখ।।
বাপনঃ কোন কথা না, তুই না আসলে বন্ধুত্বের ইতি এখানেই……
(টুত… টুত….) ওপাশ থেকে লাইন কেটে দিল বাপন।। বন্ধু বৎসল অর্ণ, বন্ধুত্বের দোহাই রাখতে রওনা হল বড় কালী বাড়ির উদ্দেশ্যে।। সেখানে বন্ধুরা মেয়েদের পিছন পিছন ছুটবে আর স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মত দাড়িয়ে থাকবে সে।। কম সময়ে পৌঁছতে রিক্সায় উঠে বসল অর্ণ।। বড় কালী বাড়ির গেটের সামনে নেমে রিক্সার ভাড়া চুকিয়ে যথা স্থানে উপস্থিত হল সে।। সেখানে বাপন তার ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিল।। অর্ণ বাপনের বা কাধে হাত রেখে মৃদু কন্ঠে বলল, কত নম্বর মাম্মা!! বাপন অকপটে উত্তর করে দিল, মাম্মা…. রুম্পা!! অর্ণের বুঝতে অসুবিধা হল না নম্বরটা কত।। নতুন জুটেছে মেয়েটা।। সরিষা বাড়ি থাকে, ময়মনসিংহের যে বিল্ডিং এ বাপন তার মামার ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকে তার পাশের ফ্ল্যাটে মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল রুম্পা।। বেস্…. শুকুনের (বাপন) চোখে পড়ে গিয়েছিল আর শিকার ভালবাসার নখের থাবায় কাত।। এরপর মিঠুন কোথা থেকে যেন একটা জলন্ত সিগারেট হাতে হাজির।। অর্ণকে ডেকে একটা সিগারেট দিয়ে বলল, কি অবস্থা দোস্ত!! ‘হ্যাঁ, ভালো.. তোর?? আরে সুবলও দেখি, তা সাথের দু’জন কে??’ সুবল পরিচয় করিয়ে দিল অর্ণের সাথে, ‘ও ফয়সাল আর ও রাহাদ!! আমাদের সাথেই একই ডিপার্টমেন্টে পড়ে।।’ ততক্ষণে বাপনের ফোনালাপ শেষ করে পদার্পন।। বেশ জমে উঠল তাদের আড্ডা, মন্দিরের এক কোণে যে যার মত দাড়িয়ে মেয়েদের অপলক দৃষ্টিতে মনের খায়েস মিটানো।। অর্ণ কোন মেয়ে ঘটিত ব্যাপারে নেই, যথেষ্ট ভাল ছেলে সে।। নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, মা মারা যাওয়ার পর মামা ময়মনসিংহে এনে নামি একটি কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে।। বাবার সীমিত আয়ের কিছু টাকা থেকে একটা ইন্টারনেট সংযোগ মোবাইল কিনে দিয়েছে গত সপ্তাহে।। বেশ ভাল কম্পানির সেট্, সবই আছে সেটাতে।। আর ওর সেই মোবাইলটাই ছিল ওর বন্ধুদের মাঝে সেরা ও আকর্ষনীয়।। সেটাই টিপাটিপি করছিল ও!!

অনেক সময় হয়ে গেছে।। রাত ৮টা প্রায়।। দেড়ি হয়ে গেলে মেসের মিল্ আর তার অপেক্ষায় থাকবে না।। তাই এবার বাপনকে বলল, ‘দোস্ত, আমাকে যেতে হবে!!’ বাপন ধমকের স্বরে বলল, ‘রাখ বেটা, পরে যা!!’ ‘নারে.. জানিসই তো মেসে থাকি আর মেসটাও এখান থেকে অনেক দূর।।’ ‘ঠিক আছে, যা!!’ সবাইকে বিদায় জানিয়ে অর্ণ মন্দির থেকে বেরিয়ে এল।। রাস্তায় কিছু সময় রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছে সে।। শহরের রাস্তায় খালি রিক্সা পাওয়া খুব কষ্টের।। নো ওয়ে, এবার হেটেই যেতে হবে।। হাটা দিল অর্ন।। মন্দির থেকে কয়েক শ গজ এগিয়ে আসছে হঠাৎ কে যেন পিছন থেকে আবুল আবুল নাম ধরে ডাকতে শুরু করলো অর্ণকে।। প্রথমে পাত্তা না দেয়ায় দৌড়ে সেই লোকটি অর্ণ এর সামন আগলে দাড়াল।। ‘তুই আবুল না??’
‘না.. আমি অর্ণ’
‘বুঝছি, তুই লিজারে ধাক্কা মারলি কেন??’
অবাক অর্ণ, ‘লিজা…. লিজা কে??’
‘ঐ শালা, পল্টি লস্… রাজু, কবির, স্বপন এদিকে আয়।। হালার পুতে আরিফ ভাইয়ের ডার্লিংরে ধাক্কা মারছে।। চুদনারে ধর।।’
অর্ণ হযবরল….. ‘কি কন ভাই, লিজা নামে কোন মেয়েকে আমি চিনিই না, আর আসার সময় কোন মেয়েকে আমি তাকিয়েই দেখি নাই……’
কথা শেষ না হতেই কে যেন অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে দাম্ম করে অর্ণ এর গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।। চোখ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ল তার চশমাটা।। এরপর কেউ নিরব ছিলনা, এলোপতাড়ি চড়, ঘুষি আর লাত্থি পড়তে লাগল অর্ণের শরীরের দিক বেদিক।। হাউমাউ করে চিৎকার করতে লাগল অর্ণ, এদিকসেদিক দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করল কিন্তু ওরা ওকে এমনভাবে আকড়ে ধরে ছিল যে ওর ছুটে যাওয়ার চেষ্টার সময় পড়নের শার্টটাও ছিড়ে গেল।। মানুষ অন্ধ, সেদিন এতগুলো মানুষের সামনে অর্ণ মার খেল আর চিৎকার করলো অথচ কেউ ফিরেও তাকালো না।। অতঃপর ঘটা ইতি টানা হলো…. অর্ণর মোবাইল আর মানি ব্যাগ নিয়ে চলে গেল ওরা।। মারের আঘাতে চোখ মুখ ফুলা আর ছেড়া শার্ট গায়ে নিয়েই মেসে গেল অর্ণ।। রুমমেটের মোবাইল থেকে বারবার ট্রাই করলো বাপনকে, পর্যায়ক্রমে মিঠুন ও সুবলকে।। কিন্তু কেউ কোন রেসপন্স নিল না।। অর্ণ এই ঘটনা পর মানসিকভাবে একটু ভেঙ্গে পড়ে।।

সপ্তাহ দুই চলে গেল।। বাপন, মিঠুন বা সুবল কেউ কোন খোঁজ নিল না অর্ণর।। হঠাৎ তার মেসে জালাল ( যে চা স্টলে বসে প্রতিদিন আড্ডা দিত ওরা সেই চা স্টলের টি’বয়) এসে হাজির।। অর্ণ জালালকে তার বেডে বসতে দিল।। জালাল বেডে না বসেই দুটো কথা বলে চলে গেল।। জালাল যা বলেছিল তা শোনার জন্য অর্ণ মোটেও প্রস্তুত ছিল না।। জালাল বলেছিল,

‘ঘটনার দিন হঠাৎ দুপুরে বাপন, মিঠুন আর সুবল দুইটা ছেলেরে নিয়া দোকানে আসে।। তারা তখন কথা বলছিল কার যেন মোবাইল বাপনের ভাল লাগছে।। আজ রাতে ঐ মোবাইলটা ছিনতাই করবে ওরা।। যে দুজন ছেলে ওদের সাথে আসছিল, কাজটা ওদের বন্ধুরা করবে।। যাইহোক, আমি আজই জানতে পারলাম সেদিন আপনার মোবাইল ছিনতাই হয়ছে।। কৌতুহল বসতো খোজ নিয়ে দেখি সেদিনের সেই আলোচনার চরিত্রটি আপনিই।।’

এরপর অর্ণর আর কিছুই বলার ছিল না।। সে রুমমেটের ফোনটা নিয়ে বাপনকে একটা কল দিল।। ওপাশ থেকে রিসিভ করল বাপন।।

বাপনঃ হ্যালো…..
অর্ণঃ আমার কাছে চাইলেই পারতি, কখনও ফিরিয়ে দেইনি সেদিনও দিতাম না।। যা করেছিস, বন্ধু….. বেশ করেছিস!!

৪ thoughts on “বন্ধু…. বেশ করেছিস!!

  1. চমৎকার লিখেছেন তপু ভাই…
    চমৎকার লিখেছেন তপু ভাই… :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: ইষ্টিশনে স্বাগতম… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *