অভিশপ্ত গলিপথে ঘুরে মরছে জামাত-শিবির

(১)
আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্র ২০১২-এর একজন সভ্য ছিলাম। ক্লাস হত প্রতি শুক্রবারে, যেখানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সার উপস্থিত থাকতেন । ক্লাস শেষে আমরা অনেকেই মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্যারের সাথে আলোচনা করতাম। আমাদের এই পাঠচক্রে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা ছেলে-মেয়েরা থাকত। কয়েকজন জামাতে ইসলামির সমর্থক বা কর্মীও আমাদের এই পাঠচক্রের সভ্য হিসাবে ছিল। তাদের মধ্যে একটি ছেলে, যে কিনা শিবিরের রাজনিতির সাথে ভালভাবেই যুক্ত ছিল, সে একসময় স্যারকে প্রশ্ন করে বসলো যে, ১৯৭১-এর বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাজ ছিল কিনা ? স্যার তখন বিষয়টাকে সত্য নয় বলে মত প্রকাশ করলেন, এবং কেন সত্য নয় সেটা স্যার ছেলেটাকে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন।



(১)
আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্র ২০১২-এর একজন সভ্য ছিলাম। ক্লাস হত প্রতি শুক্রবারে, যেখানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সার উপস্থিত থাকতেন । ক্লাস শেষে আমরা অনেকেই মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্যারের সাথে আলোচনা করতাম। আমাদের এই পাঠচক্রে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা ছেলে-মেয়েরা থাকত। কয়েকজন জামাতে ইসলামির সমর্থক বা কর্মীও আমাদের এই পাঠচক্রের সভ্য হিসাবে ছিল। তাদের মধ্যে একটি ছেলে, যে কিনা শিবিরের রাজনিতির সাথে ভালভাবেই যুক্ত ছিল, সে একসময় স্যারকে প্রশ্ন করে বসলো যে, ১৯৭১-এর বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাজ ছিল কিনা ? স্যার তখন বিষয়টাকে সত্য নয় বলে মত প্রকাশ করলেন, এবং কেন সত্য নয় সেটা স্যার ছেলেটাকে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন।

এসবই যেহেতু আমার চোখের সামনে হয়েছিল, তাই আমি তখন চুপ করে থাকতে পারিনি। আমি তাই সবার সামনে কোন কথা না বললেও , ক্লাস শেষে সেই ছেলেটিকে ডেকে কথা বললাম। বিভিন্ন কথার মাঝে তাকে এটাও বুঝিয়ে দিলাম যে, ওর এইভাবে কথাটা বলা উচিত হয়নি। কারন তার দাবি আদৌ সত্য নয়, আর এরুপ দাবি করে সবার সামনে কথা বললে মানুষই তাকে মন্দ বলবে।

এই ব্যাপারটি থেকে আমি স্পষ্ট উপলব্ধি করলাম, শিবিরে অনেক ফ্রেশ ছেলেরা যোগ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাদের নেতারা ভ্রষ্ট আর বিকৃত ইতিহাস শিখিয়ে তাদের ব্রেইন ওয়াশ করিয়ে বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে তাদের মধ্যে যে চেতনা থাকা উচিত, সেটাকেই নষ্ট করে দিচ্ছে। আরও ভালভাবে উপলব্ধি করলাম যে, একাত্তর ও তদপরবর্তী সময়ে জামাত-শিবির অভিশপ্ত গলিপথেই ঘুরে মরছে, যা থেকে তারা কোনদিন বের হয়ে আসতে পারে কিনা, সেটাই সন্দেহ।

এই ছেলের মত শত শত ছেলে, যারা কিনা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছে ও দিয়েছে, তাদেরকে এভাবে ভুল আর মিথ্যা ইতিহাস শিখিয়ে জামাত-শিবির একেতো ৭১-এ তাদের নিন্দনীয় ভুমিকাকে আড়ালে রাখতে চায়। অপরদিকে তাদেরকে এটাও বোঝান হচ্ছে ইসলাম আর জাতীয়তাবাদ এক নয়, আর সেই জন্য ৭১-এ জামায়াতে ইসলামী নাকি সঠিক পথেই ছিল। আর এটাতো প্রচার করেই যে, ৭১ এ তারা কোন হত্যা ও ধংসযজ্ঞে লিপ্ত ছিলনা।

এটা আমরা অস্বীকার করছিনা যে, জামাত-শিবিরে যারা যোগ দেয়, তাদেরকে অনেক শৃংখলাপূর্ণ আর নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দলের কাজকর্মে যুক্ত হতে হয়। এটাও সত্য যারা শিবির করে তারা সবাইই যে অমানুষ, তাও বলা যাবেনা। অনেকেই নিয়মিত নামায-কালাম পড়েন। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসেন। তাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যও ভালো ।

কিন্তু, তাদেরকে ভুল ইতিহাস শিখিয়ে, ভুল আদর্শে পরিচালিত করে এবং সহিংসতার পথে ধাবিত করে যে পাপ করানো হচ্ছে, তা থেকে এই ছেলেদের কে বের করে আনবে ??? আমরা অনেকেই হয়তো সহিষ্ণুতার কথা বলে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা স্থায়ী কোন সমাধান নয় বলে মত দিয়ে থাকি। কিন্তু, প্রতি বছর তারা যেভাবে হাজার হাজার ছেলেকে ভুল ইতিহাস শিখিয়ে, দেশ ও জাতি সম্পরকে ভুল ধারনা দিয়ে পরিচালিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের যে ভয়াবহ ক্ষতি করছে, তার চেয়ে কি তাদের নিষিদ্ধ করাই ভাল নয় ???

(২)

জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ বর্তমানে অনেক দিন ধরেই দেশজুড়ে আলোচিত একটি নাম। তারা তাদের নেতিবাচক কাজকর্মের কারণে বেশিরভাগ সময়ই সমালোচিত ও বটে। অনেক ক্ষেত্রেই জামা্ত-শিবির তাদের সহিংস কাজকর্ম আর একাত্তরের ঘৃণ্য ভূমিকার ক্ষেত্রে নানান ধরণের সাফাই গেয়ে থাকে। আজ তাদের সেই অসার যুক্তি আর বাজে ওজরের কিছু প্রতিবাদ ও যুক্তিখন্ডনের চেষ্টা চালিয়ে যাব।

জামাত-শিবির সবসময় তাদের ৭১-এর ভূমিকার ব্যাপারে প্রপাগান্ডা চালিয়ে যায় যে, ৭১-এ পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার চেষ্টা করে তারা ঠিকই করেছিল।

তাদের এই বাজে ওজর মানলে বলা যায় যে, বৃটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করেও ভারত-পাকিস্তান ভুল করেছিল। সেটা তো বৃটিশ সাম্রাজ্য ভেঙ্গেই হয়েছিল।

বৃটিশ শাসকেরা ১৯৪৭ সালে মুসল্মানদের জন্য এমন একটি দেশ দিয়েছিলেন, যার দুটি অংশের মাঝখানে ছিল আরেকটি দেশ—ভারত। এটা বৃটিশ সরকার কি বুঝে করেছিল, সেটা তারাই ভাল জানে। কিন্তু, দুটি অংশের দূরত্ত ছিলও ১৪০০ কিলোমিটার । আর দুটি অংশের মানুষ মুসলমান হলেও তাদের ভাষা, সংস্কৃতি আর ভূ-তাত্তিক বিশিষ্টে ছিল রাত-দিন তফাত। একটি অখন্ড দেশ হলে তাও ভারতের মত ভিন্ন ভিন্ন জাতি-সত্তার দেশ হয়েও পাকিস্তান দেশটি হয়ত টিকে যেত। যেমন, উত্তর ভিয়েতনাম আর দক্ষিণ ভিয়েতনাম বা দক্ষিণ কোরিয়া আর উত্তর কোরিয়া পাশাপাশি ভূখন্ডে অবস্থিত ছিল। তার চেয়েও বড় কথা তাদের মধ্যে জাতিগত পার্থক্য বলতে খুব বেশি কিছু ছিলও না। কিন্তু, একটি অংশ যদি আরেকটি অংশ থেকে ১৪০০ কিলোমিটার দূরত্তে অবস্থিত হয়, তাহলে সেটাকে একীভূত করা যে অসম্ভব ব্যাপার, সেটা তদকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কখনই উপলব্ধি করে নাই!

তারপরও দুটো অংশের মাঝে যাতে সুসম্পর্ক বজায় থাকে, সেই নিমিত্তে যে উদার ও বৈষম্যহীন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তাদের নেয়ার দরকার ছিল, সেটার ধারে কাছেও তারা ছিলেন না। পূর্ব পাকিস্তানকে তারা আসলেই একটা সামান্য প্রদেশের তুলনায় বেশি কিছু ভাবতে পারে নাই। অর্থনৈতিক, সামাজিক আর রাজনৈতিক বৈষম্যে তারা পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে একরকম জেরবার করে তুলেছিল।

তাই, পাকিস্তানের এই দুই অংশের একসাথে থাকা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। এতকিছুর পরেও যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিকে আগ্রাহ্য করে পাকিস্তানের হাস্যকর অখন্ডতা রক্ষার উপর জোর দিয়েছিল এবং ১৯৭১-এ সেই জন্য মাঠে নেমেছিল, তাদের মত অন্ধ, নির্বোধ, ভাঁড়, আর সত্যকে অস্বীকারকারী কেউ হতে পারে না। ১৯৭১-এ জামাত, ইসলামী ছাত্র সংঘ, এবং আরও কিছু ইসলামী দল আসলেই এইরকম নির্বোধ, ভাঁড় আর অন্ধই ছিল।

(৩)

জামাতী ইসলামের আরেকটি প্রপাগান্ডা হল, ১৯৭১-এ তারাই দেশপ্রেমিকের ভূমিকা পালন করেছিল। আর তারা এই কথার স্বপক্ষে ‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’ এই ধরণের একটি হাদিসের উদাহরন দিয়ে থাকে। কিন্তু, তারা ভুলে যায়, সবকিছুর উপরে ন্যায় আর অন্যায় বলে কিছু কথা থাকে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চের পর বাংলাদেশের মানুষের উপর, বিশেষ করে বেসামরিক লোকজন আর অগনিত নারীদের উপরে যে অত্যাচার, নির্যাতন, বর্বরতা আর হতাযজ্ঞ চালিয়েছে, সেটা আর যাই হোক জাতিগত অখন্ডতা রক্ষার কোন চেস্টার মধ্যে পড়ে না, দেশপ্রেমের মত পবিত্র জিনিসের মধ্যে তো নয়ই। তাদের সেই নিরমম, নৃশংস বরবরতার কিছু উদাহরণ নিচে তুলে দিলামঃ

““ঢাকা পৌরসভার সুইপার সাহেব আলীর ভাষ্যে ২৯ মার্চ তার দল একমাত্র মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে কয়েক ট্রাক লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরমানীটোলার এক বাড়িতে দশ এগারো বছরের একটি মেয়ের লাশ দেখতে পান,সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত,জমাট বাঁধা ছোপ ছোপ রক্ত সারা গায়ে,এবং তার দেহের বিভিন্ন স্থানের মাংস তুলে ফেলা হয়েছিল।ধর্ষণ শেষে মেয়েটির দুই পা দু’দিক থেকে টেনে ধরে নাভি পর্যন্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছিল। ৩০ মার্চ ঢাবির রোকেয়া হলের চারতলার ছাদের উপরে আনুমানিক ১৯ বছরের একটি মেয়ের লাশ পান সাহেব আলী,যথারীতি উলঙ্গ।পাশে দাঁড়ানো একজন পাক সেনার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন মেয়েটিকে হত্যা করতে ধর্ষণ ছাড়া অন্য কিছু করার দরকার পড়েনি,পর্যায়ক্রমিক ধর্ষণের ফলেই তার মৃত্যু ঘটে। মেয়েটির চোখ ফোলা ছিল,যৌনাঙ্গ এবং তার পার্শ্ববর্তী অংশ ফুলে পেটের অনেক উপরে চলে এসেছে,যোনিপথ রক্তাক্ত,দুই গালে এবং বুকে কামড়ের স্পষ্ট ছাপ ছিল। ’৭১ এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পাকবাহিনীর একটি বিরাট ক্যাম্পে পরিণত করা হয়।এখানে বন্দী ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মঞ্জিলা এবং তার দুই বোন মেহের বানু এবং দিলরুবা।।তাদেরকে আরো ৩০ জন মেয়ের সাথে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়,সার্বক্ষণিক প্রহরায় থাকতো দুজন সশস্ত্র গার্ড।এই মেয়েগুলোকে ওই ক্যাম্পের সামরিক অফিসারদের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করা হত।প্রতি সন্ধ্যায় নিয়ে যাওয়া হত ৫/৬ জন মেয়েকে,এবং ভোরবেলা ফিরিয়ে দেয়া হত অর্ধমৃত অবস্থায়।প্রতিবাদ করলেই প্রহার করা হত পূর্বোক্ত কায়দায়।একবার একটি মেয়ে একজন সৈনিকের হাতে আঁচড়ে দিলে তখনই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়”।”

(তথ্যসুত্রঃ ১- নারী নির্যাতন ৭১, হারুনুর রশীদ সম্পাদিত , ২- .বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র,অষ্টম খন্ড,হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত)

……এরপর আমার আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমার অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, জাস্ট একটা লেখার তাগিদে আমার এই বিষয়গুলো তুলে আনতে হল।

২৫ শে মার্চের পর পাকিস্তানের এইসব নৃশংস আর বর্বরদের যারা নিজেদের পক্ষের লোক ভাবতে পারে, তাদের চাইতে নিরলজ্জ, নির্বোধ আর অসভ্য মানুষ কেউ হতে পারে না। অথচ, ৭১-এ জামাত-শিবির এই নৃশংস বরবরদের শুধু নিজেদের পক্ষের লোকই ভাবেনি, বরং তাদের হয়ে এরা কাজও করেছে, এদের অপকর্মের দোসর ছিল এই জামাত-শিবিবের লোকেরা।

৭১-এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে, জামাত যুদ্ধকালীন তাদের নিন্দনীয় ভূমিকা নিয়ে বিপদের মধ্যে পড়ে। তাই তারা চেষ্টা করে এসব কাজের সাথে তাদের সংলগ্নতা অস্বীকার করতে। তারা প্রচার করে যে, ৭১-এ তারা শুধু পাকিস্তানের অখন্ডতা চেয়ে আন্দোলন করেছিল। নৃশংসতা আর হত্যাযজ্ঞের সাথে নাকি জামাত ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের কোন যোগাযোগ ছিলনা।

বলাই বাহূল্য, এই ধরণের প্রচার তারা করে ইতিহাসের অসংখ্য প্রমাণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দখিয়ে। ঐতিহাসিক দলিল, সংবাদপত্রের কাটিং, ফটো ও কাগজপত্র এটাই প্রমাণ করে যে আল বদরের জন্মই হয়েছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ থেকে, আর তারাই যে বুদ্ধজীবি নিধণের অন্যতম হোতা ছিল সেটাও অস্বীকারের উপায় নেই।

কিন্তু, জামাত-শিবির তাদের মিথ্যাচার ছাড়তে পারে নাই। তাদের নেতারা মিথ্যাচার করেন এবং যারা সদস্য হিসেবে এই সংগঠনে ঢোকেন, তাদেরও এই কথাগুলোই শেখানো হয়। এবং দুঃখের ব্যাপার হল এই যে এইসব তরুণেরাও এই মিথ্যা আর বিকৃত ইতিহাসেই বিশ্বাস করেন।

জামায়াতের মিথ্যাচারের ব্যাপারটি নিচের লেখা থেকে অনেকটা পরিস্কার হয়ে যায়। মোহাম্মাদ আহসানুল হক আরিফ নামে এক কট্টর জামাতি সমর্থক নিচের লেখাটি লিখেছিলেন ফেসবুকে গত বছরের মার্চ মাসেঃ

““……তাছাড়া ১৯৭০ এর ইলেকশনে বাঙ্গালীরাই বিজয়ী হয়েছিল, আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারনে বাঙ্গালীরাই মুলত গনতান্ত্রিক পাকিস্তানে শাসনের ক্ষেত্রে অগ্রগ্রামী ছিল। সব বিবেচনায় জামায়াত ইসলামী পাকিস্তানকে ভাঙ্গার চিন্তায় একমত হতে পারেনি। এটী কেবল জামায়াত ইসলামী নয়, বরং অন্যসব ইসলামী রাজনৈতিক দল, অনেক বামপন্থী কমিউনিষ্ট দল সহ দেশের সাধারন মানুষদের একটী বড় অংশই এই বিভাজনের বিরোধী ছিল। কারন পাকিস্তান সৃষ্টি সময়ে ভারতীয় হিন্দুদের হাতে যে রক্ত ও জীবনক্ষয় মুসলিমদের হয়েছিল তা বাঙ্গালী মুসলিমদের স্মৃতিতে তরতাজাভাবেই ছিল। আর এই ব্যাপারে জামায়াত ইসলামীর অবস্থান ছিল রাজনৈতিক। কোন সামরিক অবস্থান ছিল না। রাজাকার, আলবদর ইত্যাদি বাহিনীগুলো ছিল পাকিস্তান সরকারের তৈরি করা বাহিনী যেগুলোতে নেতৃত্বে বেশীরভাগই ছিল আওয়ামীলীগের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মেম্বাররা, বা অন্য উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর নেতারা।
…… এখানেআরেকটী জরুরী বিষয় হল, জামায়াত ইসলামী কিন্তু কখনো অন্যান্য চরিত্রহীন রাজনৈতিক দলগুলোর মত পল্টিবাজী করে বলেনি যে, তারা অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিল না। বরং তারা তা সবসময়ই স্বীকার করে, কিন্তু এটির ব্যাপারে তাদের অবস্থান কেন ছিল তাও পরিস্কারভাবে বলে দেয়। এটি ১৯৭১ নিয়ে জামায়াত ইসলামী ন্যায়নিষ্ঠ ও সত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া যায়”।”
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/notes/mohammad-ahsanul-haque-arif/520894481304392

অনেক কিছুই এই ব্যক্তিটি তার বক্তব্যে বলেছেন। কিন্তু, এই কথাটা তিনি বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন যে, মির জাফরকে যেমন ইতিহসকে ক্ষমা করে নাই। তেমনি, বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানুষের সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ১৯৭১-এ তাদেরও কোন ক্ষমা নেই।

বাংলাদেশ সুদৃঢ় প্রাচীনকাল থেকেই একটা আলাদা ভূখণ্ড ছিল। সিরাজুদ্দউলা বা তিতুমিরেরা বাংলাদেশের এই ভুখন্ডটিকে রক্ষার ক্ষেত্রেই চেষ্টা করে গেছেন, এক পর্যায়ে শহীদও হয়েছেন। তারা করাচি বা লাহোরের স্বাধীনতার জন্য কখনোই চেষ্টা করেন নাই। ভারতের পূর্ব পাশে যে বাংলা ভূখন্ড ছিল, তাই তাদের ধ্যান-জ্ঞান ছিল।

তাইতো, ইতিহাস সবসময়, তিতুমির বা সিরাজুদ্দউলাকেই বীরের মর্যাদা দেয়। মীরজাফরদের ঠিকানা নির্ধারিত হয়ে গেছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে।

নিজের দেশ কোনটা হওয়া উচিত, সেই জিনিসটা যারা অতীতে বুঝতে পারে নাই, তাদের চেয়ে দুর্ভাগা আর কে হতে পারে? ৭১-এ বেসামরিক আর বুদ্ধিজীবি হত্যার ব্যাপারটা না হয় বাদই দিলাম!

(৪)

জামায়াত-শিবির ইসলামী রাজনীতি করার কথা বললেও তাদের সহিংস কাজকর্ম আর তাদের নেতাদের ভোগবাদী জীবনে ইসলামের মূল আদর্শ সবসময়ই অনুপস্থিত। ইসলামের ত্যাগ, সংযম আর সহিষ্ণুতার আদর্শ থেকে তারা অনেক দূরে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগে মক্কা ও মদিনায় হযরত মোহাম্মাদ যে ত্যাগ, সহিষ্ণুতা আর অহিংস সংগ্রামের মধ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই রকম আদর্শ থেকে জামাত-শিবির বহুদূরে অবস্থান করে। তাইতো, দেখা যায় রগকাটা, গলাকাটার মত সহিংস প্রতিবাদই তারা বেছে নেয়, যেটা ইসলামের মূল আদর্শের সাথে কোনদিনই যায় না।

ইসলামি দল হয়েও দেখা যায় তারা যেন অনেকটাই পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দোসর হয়েই কাজ করে। তাইতো, তেল, গ্যাস আর কয়লা যখন বিদেশীদের হাতে বলতে গেলে একরকম লুট হয়ে যায়, তখন তারা থাকে একেবারে নির্বিকার । কাজেই, বোঝা যায়, জামায়াতে ইসলামী আদতে একটি সুবিধাবাদী দল, প্রকৃতপক্ষে কোন ইসলামী দল নয়।

(৫)
তাইতো, এই দলটি ৭১ সাল থেকে পেয়ে এসেছে মানুষের অভিশাপ, তরুণ প্রজন্মের ঘৃণা। ৭১-সালে তারা যে পাপ করেছে, তার জন্য তাদের নেতাদের যে শাস্তি প্রাপ্য সেটা জামাত-শিবিরের বেশিরভাগ মানুষই মেনে নিতে চান না। শাহবাগ ২০১৩-এর আন্দোলনেই মানুষ দেখিয়েছে যে তারা এই দলটিকে কতটা ঘৃণা করে। যে পাপ তারা ৭১ আর ৭১ পরবর্তী সময়ে করেছে, তার একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত হতে পারে, পুরো দেশের মানুষের কাছে ৭১-এর ভুমিকার জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাদের নেতাদের যুদ্ধপরাধী হিসেবে যে শাস্তি হচ্ছে, তা মেনে নেয়া (যদিও মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অনেকেরই আপত্তি আছে এবং সেটা অন্য আরকে ব্যাপার)।

জামায়াতের ভিতরে একশ্রেণীর মানুষ আছেন, যারা কিনা পুরাতন ও বয়োবৃদ্ধ এবং ১৯৭১-এ ঘৃণ্য ভূমিকার জন্য অভিযুক্ত নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন করে দলীয় কাজ শুরু করতে চান। এই পরিবর্তন প্রত্যাশীদের সবাইই বলতে গেলে দলের সেইসব তরুণ নেতৃবৃন্দ, ৭১-এ যাদের কোন ভূমিকা নেই। সেটা যদি তারা করতে পারে, তবেই জাতি তাদেরকে ক্ষমা করলেও করতে পারে। ৭১-এর ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে, ৭১ সালে তাদের যেসব নেতা দোষী প্রমাণিত হয়েছে, তাদের শাস্তি মেনে নিয়ে তারা যদি নতুনভাবে রাজনীতি শুরু করতে পারে, তবেই এই দেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার তাদের থাকবে।

অন্যথায় দেশ ও জাতি, বিশেষ করে আপামর তরুণ সমাজের কাছে, তারা হয়তো ঘৃণ্য একটি নাম হিসেবেই উচ্চারিত হবে। আর ৭১ ও তদপরবর্তী সময়ে তাদের যে ভূমিকা, তার জন্য তারা সবসময়ই অভিশপ্ত পথে আবর্তিত হতে থাকবে, যা থেকে তাদের মুক্তি নেই।

২২ thoughts on “অভিশপ্ত গলিপথে ঘুরে মরছে জামাত-শিবির

  1. আপনি কি চান তাই বলুন!
    শুনুন

    আপনি কি চান তাই বলুন!

    শুনুন আপনার যে এই জামাত শিবিরের প্রতি মায়া মমতা আছে প্রেম আছে তা পূর্বে অনেক পোস্টেই প্রমান হয়েছেন।

    সুন্দর ভাবে আজ সমালোচনা করলেন সাথে সাথে কৌশলে বর্তমান তরুন জামাত শিবিরের তোষামদও করেছেন বহু স্থানে।

    1. @ দুরন্ত জয়ঃ ঠিকই বলেছো
      @ দুরন্ত জয়ঃ ঠিকই বলেছো ভাই…… কুমির একটা জলজ প্রাণী। কুমিরের লেজ খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা……………।

  2. আপনার বিষয়ে আমি পুরাই
    আপনার বিষয়ে আমি পুরাই কনফিউজড! লিখতে থাকেন, সময়ই আপনার স্থান নির্ধারণ করে দেবে।

    আরেকটি কথা, যে পরিবারে একটা জামায়াত-শিবির আছে; সেই পরিবারের অভিভাকদেরকেও আমি ঘৃণা করি। স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষেত্রে আমার কাছে প্রজন্ম-টজন্ম কোন ব্যাপার না। একটাই বুঝি সে এই দেশের বর্তমান শত্রু। তাকে দিয়ে আমাদের এই দেশটার কোন ধরনের মঙ্গল সম্ভবনা।

    1. যাক মনের কথা আপনি সুন্দর করে
      যাক মনের কথা আপনি সুন্দর করে বলে দিয়েছেন! নুনদু ভাই এইভাবে অপ্রিয় সত্য কথা বলিতে নেই!! যে মানুষ নিজেকে নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে কনফিউজড তার লিখাতো কনফিউজিং হবেই…
      সময় বিচারকর্তা হিসেবে যথার্থ! দেখি সময় কি বলে!!

      1. যে মানুষ নিজেকে নিয়ে নিজের

        যে মানুষ নিজেকে নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে কনফিউজড তার লিখাতো কনফিউজিং হবেই…

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. @ শঙ্খনীলঃ কনফিউজড নারে ভাই,
          @ শঙ্খনীলঃ কনফিউজড নারে ভাই, আমি ১০০% কনফিডেন্ট। একজন শঙ্খনীল, তারিক বা শাহিনের চেয়ে বাংলাদেশকে আমি বিন্দুমাত্র কম অনুভব করি না।

    2. @ নুর নবী দুলাল ভাইঃ যাক, ভাল
      @ নুর নবী দুলাল ভাইঃ যাক, ভাল লাগলো যে, আমার অবস্থান নিয়ে জাস্ট কনফিউজড । বলেন নাই যে , আমার এই লেখা একটা অভিনয়, অথবা আমি ‘ছাগু’ থেকে ভাল হওয়ার ভান ধরছি।

      আসলে ভাই, গনজাগরন মঞ্চের সমালোচনা করা এক জিনিস, আর জামাত শিবির সাপোর্ট করা এক জিনিস। গনজাগরন মঞ্চের সাথে আগে জড়িত ছিল, এখন জড়িত নেই এবং মঞ্চের বিভিন্ন সাইড নিয়ে সমালোচনা করেছে, এমন মানুষও কিছু আছে। তাই বলে আপনি তাদেরকে জামাত সমর্থক নিশ্চয় বলবেন না ???

      আর মানবাধিকারের কথা বললেই ‘ছাগু’ এই ধারণাও বোধহয় ঠিক না। আন্তরজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই রাজাকারদের গুরু গোলাম আযম আর আব্দুল আলিমকে মৃত্যুদন্ড দেই নাই। এখন কি আপনি ট্রাইবুনালকেই ‘ছাগু’ বা ‘জামাত সমর্থক’ বলবেন ???

      আর লিখতে থাকার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ আমি আশীর্বাদ হিসেবেই নিলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

    3. @ নুর নবী দুলাল ভাইঃ যাক,
      @ নুর নবী দুলাল ভাইঃ যাক, ভাল লাগলো যে, আমার অবস্থান নিয়ে জাস্ট কনফিউজড । বলেন নাই যে , আমার এই লেখা একটা অভিনয়, অথবা আমি ‘ছাগু’ থেকে ভাল হওয়ার ভান ধরছি।

      আসলে ভাই, গনজাগরন মঞ্চের সমালোচনা করা এক জিনিস, আর জামাত শিবির সাপোর্ট করা এক জিনিস। গনজাগরন মঞ্চের সাথে আগে জড়িত ছিল, এখন জড়িত নেই এবং মঞ্চের বিভিন্ন সাইড নিয়ে সমালোচনা করেছে, এমন মানুষও কিছু আছে। তাই বলে আপনি তাদেরকে জামাত সমর্থক নিশ্চয় বলবেন না।

      আর মানবাধিকারের কথা বললেই ‘ছাগু’ এই ধারণাও বোধহয় ঠিক না। আন্তরজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই রাজাকারদের গুরু গোলাম আযম আর আব্দুল আলিমকে মৃত্যুদন্ড দেই নাই। এখন কি আপনি ট্রাইবুনালকেই ‘ছাগু’ বা ‘জামাত সমর্থক’ বলবেন ???

      আর লিখতে থাকার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ আমি আশীর্বাদ হিসেবেই নিলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

  3. এই পোষ্টে যা লিখেছেন তা আপনার
    এই পোষ্টে যা লিখেছেন তা আপনার পূর্বের অবস্থান বিবেচনায় না আনলে মোটামুটি চমৎকার বিশ্লেষণই বলা যায় ।
    তবে এই পোষ্টটি আপনার অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধুম্রজাল সৃষ্টি করলো আর কি ।(পূর্বাবস্থান জরিপের পর পূর্বে দেয়া মন্তব্যও পরবর্তিত)

    1. যাক, ভাল লাগলো যে, আমার
      যাক, ভাল লাগলো যে, আমার অবস্থান নিয়ে জাস্ট কনফিউজড । বলেন নাই যে , আমার এই লেখা একটা অভিনয়, অথবা আমি ‘ছাগু’ থেকে ভাল হওয়ার ভান ধরছি।

      আসলে ভাই, গনজাগরন মঞ্চের সমালোচনা করা এক জিনিস, আর জামাত শিবির সাপোর্ট করা এক জিনিস। গনজাগরন মঞ্চের সাথে আগে জড়িত ছিল, এখন জড়িত নেই এবং মঞ্চের বিভিন্ন সাইড নিয়ে সমালোচনা করেছে, এমন মানুষও কিছু আছে। তাই বলে আপনি তাদেরকে জামাত সমর্থক নিশ্চয় বলবেন না।

      আর মানবাধিকারের কথা বললেই ‘ছাগু’ এই ধারণাও বোধহয় ঠিক না। আন্তরজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই রাজাকারদের গুরু গোলাম আযম আর আব্দুল আলিমকে মৃত্যুদন্ড দেই নাই। এখন কি আপনি ট্রাইবুনালকেই ‘ছাগু’ বা ‘জামাত সমর্থক’ বলবেন ???

  4. ”একাত্তরে হয়নি সাজা

    ”একাত্তরে হয়নি সাজা ,মুক্তিযুদ্ধ হয়নি শেষ ,
    গর্জে ওঠো বীর বাঙালি ,গর্জে ওঠো বাংলাদেশ ।।

    রাইট ! ক্লাইভ, মীর কাশিম, মোহাম্মাদি বেগ — কাউকেই ইতিহাস ক্ষমা করে নাই। ৭১-এর কৃতকর্মের জন্য দায়ী জামাত নেতাদেরও ক্ষমা নেই। তাদের প্রাপ্য শাস্তি থেকে তারাও বাচবেনা – এটাই ইতিহাস বলে…।

  5. বর্তমান জামাত তো একাত্তরের
    বর্তমান জামাত তো একাত্তরের থেকে খুব বেশি আলাদা কিছু নয়। তখনকার নেতারা এখনো জামাতের নেতা। তখন তারা সংখালঘু নির্যাতন করেছে, এখনো করে।

    আর নস্ট, ভন্ডামিতে পরিপূর্ণ, দুর্নীতিতে পঙ্কিলময় ও হত্যার রাজনিতি যারা করে, সে আওয়ামী লিগ হোক, বিএনপি হোক বা জামাত হোক, তাদের কারোরই আমার চোখে ক্ষমা নেই।

  6. পুরো ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পলটি
    পুরো ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পলটি মারলেন আমান সাহেব? :খাইছে: আপনি তোঁ দেখি এরশাদ ফেল… :কল্কি: :কল্কি: :ভাবতেছি:

    যাক, ব্যাল্যান্স তোঁ হল। এবার কেউ আপনার লেঞ্জা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাকে এই ব্যাল্যান্সওলা পোস্টটা দেখায়ে দিতে পারবেন। তবে আমি আশা করি, অতি দ্রুতই আপনি আপনার রাজাকারের মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে ফুলফর্মে ফিরে আসবেন। শত হলেও আপনি অন্তরে পেয়ারা পাকিস্তান ধারন করেন, আপনার জন্য এভাবে সংশয়পূর্ণ থাকাটা কষ্টকর… :ভাবতেছি:

    পরিশেষে আপনার জন্য লিংকন ভাইয়ের কথাটা আবার পুনরাবৃত্তি করছি…

    যে মানুষ নিজেকে নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে কনফিউজড তার লিখাতো কনফিউজিং হবেই.

  7. ঠিকই বলেছেন ভাই…… কুমির
    ঠিকই বলেছেন ভাই…… কুমির একটা জলজ প্রাণী। কুমিরের লেজ খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, খাঁজকাটা……………।
    :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:

    1. আমি কোন পল্টি-ফল্টি মারি নাই
      আমি কোন পল্টি-ফল্টি মারি নাই ভাই। আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমন আছি। আপনারাই আমাকে চিনতে ভুল করেছেন এবং এখনো করছেন…..।

  8. আমাদের পিচ্চি ফাতেমা জোহরা
    আমাদের পিচ্চি ফাতেমা জোহরা কই গেল???

    ওর কোন মন্তব্য তো এখনো পাইলাম না???

    :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

      1. বাচ্চা পোলা! এদেওর সাথে কথা
        বাচ্চা পোলা! এদেওর সাথে কথা বলাই দায়!
        কিসের মধ্যে কি? আমি সবখানেই ফাতেমা কে ছোট বন বলে সম্মধন করি, আর এই জয় মিয়া সেটাকে নিয়েও খারাপ কথা বলে! একটা মানুষের রুচি কতটা খারাপ হলে এটা করা সম্ভব!
        আনসিভিলাইজড কোথকার!

        1. আমার বোনেরে আমার সামনে এমনে
          আমার বোনেরে আমার সামনে এমনে ডাকলে আমি ভাল দিকে নিমু কেমনে। আমার বোনও তো দেখতে পারে না আপনারে। আমার মাধ্যমেই আমার বোনের কথা ফুটে উঠেছে। তিনি আপনাকে এভাবে ঘৃণা করে।

          বুঝলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *