শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু

যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই !
তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা
আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ, পৃথিবীতে আগমন ঘটে এক মহা মনিষীর। ঐ দিন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার (বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা) পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গি পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে যে শিশু, পরবর্তীতে সেই হয়ে উঠে পৃথিবীর সেরাদের একজন এবং বাঙালিদের আলোর দিশারী, স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালিদের প্রাণপ্রিয়, অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির জনক।


যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই !
তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা
আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ, পৃথিবীতে আগমন ঘটে এক মহা মনিষীর। ঐ দিন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার (বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা) পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গি পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে যে শিশু, পরবর্তীতে সেই হয়ে উঠে পৃথিবীর সেরাদের একজন এবং বাঙালিদের আলোর দিশারী, স্বাধীনতার পথ প্রদর্শক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালিদের প্রাণপ্রিয়, অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির জনক।

ছোট বেলায় মা বাবা আদর করে ডাকতেন, খোকা। ভালো নাম শেখ মুজিবর রহমান। বাবার নাম শেখ লুত্ফুর রহমান। মাতা মোসাম্মত সায়েরা বেগম। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন তিনি। ছিমছাম, শারীরিক গঠন। পথ ঘাট হীন শান্ত ছায়া ঢাকা নিভৃত পল্লীতেই তার বেড়ে ওঠা। সুশ্রী চেহারার অধিকারী এই বালকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় ৭ বছর বয়সে ১৯২৭ সালে গমা ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে।

তারপর তাকে বদলাতে হয়েছে একাধিক পাঠশালা। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়,মিশন স্কুলে ছাত্রদের সভাকে সামনে রেখে এসডিও ১৪৪ ধারা জারি করে সেই সভা বন্ধ করে দেন। অগত্যা ছাত্ররা সমবেত হয়ে মসজিদে গিয়ে সভা করে এবং শেখ মুজিব দাঁড়িয়ে দই একটি কথা বলতেই তাঁকে গ্রেফতার করে সেকেন্ড কোর্টে হাজির করে দুই ঘন্টা আটক রাখা হয়। ছাত্রদের বিক্ষোভ ও চাপে শেষ পর্যন্ত কোর্ট থেকেই তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। তাঁর জীবনে এটাই ছিল প্রথম গ্রেপ্তার।

১৯৩৮ সালে (মাত্র ১৮ বছর বয়সে) বেগম ফজিলাতুন্নেসা ওরফে রেনুর সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে তিন পুত্র ও দুই কন্যার পিতা হন তিনি।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৪০ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ স্কুল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে বাংলোতে ফেরার পথে তাদের পথ আগলে দাড়িয়ে এক ছাত্র অকপটে বলে যায়, ছাত্রাবাসের ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়ে ছাত্রদের বইপত্র নষ্ট হবার কথা। তৎক্ষনাত প্রধানমন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে ১২০০ টাকা মঞ্জুর করেন এবং ছাঁদ মেরামতের নির্দেশ দেন। সোহরাওয়ার্দী এই ছাত্রের সৎসাহস ও নির্ভীকতায় অভিভূত হয়ে পিয়ন মারফত বাংলোয় খবর দিয়ে এনে নানা রকম আলোচনা করেন এবং প্রীত হন। সোহরাওয়ার্দী রাজনীতির গুরু মানতেন তিনি।

১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হন শেখ মুজিব। পরে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান মাওলানা আজাদ কলেজ) আইএ ক্লাসে ভর্তি হন। তখন থেকেই মুসলীম লীগ রাজনীতিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে অনার্সসহ ব্যাচেলার ডিগ্রি লাভ করেন। তখন থেকেই তিনি ছিলেন প্রাদেশিক বেঙ্গল মুসলিম লীগের কর্মী এবং ১৯৪৩ সাল থেকেই ছিলেন সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর। বঙ্গীয় মুসলিম লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী-হাসিম গ্রুপের সাথে তিনি ছিলেন সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ তাঁকে ফরিদপুর জেলার দায়িত্বে নিয়োজিত করে৷

১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৪৮ সালে শেখ মুজিব ঢাকায় আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ১৯৪৯ সালের প্রথমদিকে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার পর তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। তাই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবন আর সমাপ্ত হয়নি। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি মুক্তি লাভ করেন শেখ মুজিব। এ বছরের ২৩ জুন, ঢাকার রোজ গার্ডেনে এক গোপন বৈঠকে “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী-মুসলিম লীগ” গঠিত হলো। একজন রাজবন্দী হিসেবে তখন তিনি ফরিদপুর জেলে অন্তরীণ ছিলেন। কারাবন্দী থেকেই শেখ মুজিব নির্বাচিত হলেন অন্যতম যুগ্ম-সম্পাদক পদে। ১৯৪৯ সালের জুলাই মাসে জেল থেকে বেড়িয়েই শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অক্টোবরে আর্মানীটোলা থেকে এক বিশাল ভুখা মিছিল থেকেই গ্রেফতার হলেন মাওলানা ভাসানী, শামসুল হক ও শেখ মুজিব।

১৯৫২ সালে (শেখ মুজিব তখনও জেলে) ভাষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের পরিস্থিতি টালমাটাল ৷ ২১শে ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিনটিকে ঘোষণা করা হলো ‘ভাষা দিবস’ হিসেবে।মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীন আকস্মিকভাবে ১৪৪ ধারা জারি করলে গভীর রাতে কিছু ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিলে শেখ মুজিব কারাগার থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান এবং মহিউদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে অনশন অব্যাহত রাখেন। ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর শহীদ হন। কারাগারে স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হওয়ায় ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। মাওলানা ভাসানী স্বীয় ক্ষমতাবলে শেখ মুজিবকে আওয়ামী মুসলীম লীগের অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করেন। ১৯৫২ সালে মহাচীনের রাজধানী বেইজিং নগরীতে আয়োজিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন শেখ মুজিব। ১৯৫৩ সালের ৯ জুলাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে দলের সভাপতি হবার আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন।

ষাটের দশকের মধ্যবর্তী সময়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সোহরাওয়াদী তখনও রাজনৈতিক দলসমূহ পুনরুজ্জীবনের পক্ষে ছিলেন না এবং এনডিএফ বা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টভুক্ত হয়ে একযোগে সকলের কাজ করার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ১৯৬৩ সালে শেখ মুজিব এনডিএফ ত্যাগের ঘোষণা দেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। সেই সভায় মওলানা তর্কবাগীশ সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এবছর প্রথম তিন মাসে শেখ মুজিব ৮ বার গ্রেপ্তার হয়।

এই সময় রাজনৈতিক অঙ্গন অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ৬ দফা প্রকাশ হওয়ায় বাঙালিদের হৃদয়ে আশার নতুন আলো দেখা দেয়। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রেসনোটে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১নং বিবাদী হিসেবে শেখ মুজিবকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট থেকে গ্রেফতারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি সমাপ্ত হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ মামলার অন্যতম প্রধান আইনজীবী এবং একই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

পাকিস্তানিদের নির্যাতন নিপীড়নের মাত্রা যত বেশি বাড়তে থাকে বাঙালিরা ততো বেশি ফুঁসে ওঠে। একদিকে মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন, ধর্মঘট, মিছিল। অন্যদিকে পাকিস্তানি শোষক বাহিনীর কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, ১৪৪ ধারা, কারফিউ, গুলি । কিন্তু কোনো কিছুই বাঙালিদেরকে দাবিয়ে রাখতে না পারায় অবশেষে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাধ্য হয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অর্ডিন্যান্স বাতিল করে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামীদের মুক্তি দেয়। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এবং সেই সভায় ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সভার সভাপতি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

স্বাধীনতা অর্জন ও বঙ্গবন্ধুর অবদান
১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। পাকিস্তানের দুই প্রদেশের জন্য দুই প্রধানমন্ত্রীর যে দাবি ভূট্টো করেছিল বঙ্গবন্ধু তার তীব্র সমালোচনা করে তা প্রত্যাখান করেন। ১৪ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ভবিষ্যত্‍ প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও ১লা মার্চ তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা দিলে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৩রা মার্চ সারাদেশে হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন।

অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৭ই মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার ঢল নামে ঐদিন। সবাই অধীর আগ্রহে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার অপেক্ষায়। আকাশে সেনাদের হেলিকপ্টার আর জমিনে স্বসস্ত্র বাহিনীর রক্তচক্ষুকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু ঐদিন এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাতে নির্দেশনা আর সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতির কথা প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ ছিল। তর্জনী তুলে বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি-ই প্রথম স্বাধীনতা শব্দটি উচ্চারণ করেন। আকাশ বাতাস মাটি সর্বত্র উচ্চারিত হল তার সেই বজ্রধ্বনি, এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।

১৫ মার্চ আলোচনার জন্য ঢাকায় আসে সেনাশাসক ইয়াহিয়া। ২৫ মার্চ সকাল পর্যন্ত চলে সেই আলোচনা। এক পর্যায়ে আলোচনা অসমাপ্ত রেখে হঠাৎ ইয়াহিয়া গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা নিরীহ ঢাকার জনগণের উপর বর্বরোচিত হামলা করে গণহত্যা চালায়। ২৫ মার্চ সকালে পূর্ব পাকিস্তান ডিএফআই চিফ মারফত শেখ মুজিব ঢাকায় হতে যাওয়া ক্র্যাকডাউনের খবর পেয়েই দলীয় হাই কমান্ডের নেতাদের আত্মগোপনে যাবার নির্দেশ দিয়ে নিজে রয়ে যান ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে ৷ ২৫ মার্চ রাতের শুরুতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে এবং পরে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তারপর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের হাইকমান্ড গোপনে ভারতে চলে যায়। সেখানে অন্যান্য নেতা ও ভারত সরকারের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাকেই রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদকে মন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। ১৯৭১-র ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বদ্যিনাথ তলার আম্রকাননে সরকার শপথ গ্রহণ করে। প্রবাসী এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা এবং বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগও সমর্থনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রাম, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর ৩০ লাখ বাঙালির প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূ্র্ব বাংলার আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার রক্তরঞ্জিত লাল সূর্য।

রাষ্ট্র নায়ক বঙ্গবন্ধু ও দেশ গঠনে তার অবদান
দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মন্ত্রী পরিষদ শাসিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং নিজে প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফের সরকার গঠন করে। বর্ণনাতীত প্রতিকূলতার মধ্যে বঙ্গবন্ধু প্রায় সাড়ে তিন বছর বিধ্বস্ত বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাড়ে ৭ কোটি জনমানুষ অধ্যুষিত দেশের সমস্যা সমাধানের কাজ শুরু করেন শূন্য হাতে। আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাদ্য উত্পাদন বাড়ানো, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, তাদের দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন, অনাহারি ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন যোগান এবং আরো নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে এই সময়ে। বিপুল পরিমান অস্ত্র সস্ত্র তখনও দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকের হাতে ছিল। বঙ্গবন্ধু আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশ জুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রক্ষী বাহিনী গঠন করেন। একদিকে এই পদক্ষেপটি আলোর মুখ না দেখা, অন্যদিকে তাঁর সরকারের মাঝে অবস্থানকারী কতিপয় ক্ষমতালোভী, চাটুকার, স্বার্থ লোভীর নির্লজ্জ কর্ম তত্পরতায়, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি কারণ দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে দুঃসময়ের অনেক প্রকৃত সাথীর সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়ে যায়।

এ হেন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য বঙ্গবন্ধু এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু সন্তোষজনক উন্নতির আগেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বাধীনতা বিরোধীদের তাবেদার এক শ্রেণীর উচ্চাভিলাসী ও কতিপয় বিপদগামী সেনাসদস্য। শুরু হয় দেশী বিদেশী চক্রান্ত।

অবশেষে সেই কালো রাত, ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট ! বিপদগামী সেনারা রাতের আধারে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বঙ্গবন্ধুর বাস ভবনে ঢুকে স্ব-পরিবারে তাকে হত্যা করে ! বর্বর সেই রাতে ঐ বাড়িতেই শেখ মুজিবের স্ত্রী পুত্র পুত্রবধূ সহ মোট ১৭ জনকে হত্যা করে ঘাতকরা ! (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনার সাথে তার ছোট বোন শেখ রেহানা জার্মানীতে থাকায়, প্রাণে বেঁচে যায় ) কেড়ে নেওয়া হলো বাঙালিদের প্রাণপ্রিয় নেতা ও জাতির জনকের তাজা প্রাণ ! পুরো জাতিকে শোকে বিহ্বল করে, সুখের মাতম শুরু করল দেশী বিদেশী কু-কুচক্রীরা ! একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু হল! থেমে গেল একটি ইতিহাস ! বাঁধাগ্রস্থ করা হল বাঙালিদের অগ্রযাত্রা !!

৪ thoughts on “শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু

  1. যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো
    যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
    যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই !
    তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা
    আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  2. যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো

    যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
    যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই !
    তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা
    আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।।

    হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  3. যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো
    যদি রাত পোহালেই শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
    যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই !
    তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা
    আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *