পথের কথা-২

রিয়াদ

একটু আগে পাড়ার দোকান থেকে দুধ কিনে একটু দাঁড়ালাম। আমার সামনে একটা ভাঙ্গা চুরা BIKE থামল। পিছন থেকে এক ছোট ছেলে নামলো, যে Honda টা চাল্লাছিল সে বলল, কাল এই সময় আইশা পইর। ছেলে টা আচ্ছা বলে একটু সামনে হেঁটে আবার পিছনে তাকিয়ে বলল, সালামালিকুম ওস্তাদ। আমি টা পিছু নিলাম। ছেলেটার মুখে হাটে কালি। ওর পড়নে কালি আর ময়লা লাগান একটা Check T-shirt আর Three quarter pant.
আমি ওর পাশে-পাশে হাঁটছে। ওর দিকে না তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, নাম কি? ওহ ফট করে পিছনে তাকাল। আমি একি ভাবে জিজ্ঞেস করলাম, ওস্তাদ নাম কি?
ওহ আমার দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে বলল, রিয়াদ।

রিয়াদ

একটু আগে পাড়ার দোকান থেকে দুধ কিনে একটু দাঁড়ালাম। আমার সামনে একটা ভাঙ্গা চুরা BIKE থামল। পিছন থেকে এক ছোট ছেলে নামলো, যে Honda টা চাল্লাছিল সে বলল, কাল এই সময় আইশা পইর। ছেলে টা আচ্ছা বলে একটু সামনে হেঁটে আবার পিছনে তাকিয়ে বলল, সালামালিকুম ওস্তাদ। আমি টা পিছু নিলাম। ছেলেটার মুখে হাটে কালি। ওর পড়নে কালি আর ময়লা লাগান একটা Check T-shirt আর Three quarter pant.
আমি ওর পাশে-পাশে হাঁটছে। ওর দিকে না তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, নাম কি? ওহ ফট করে পিছনে তাকাল। আমি একি ভাবে জিজ্ঞেস করলাম, ওস্তাদ নাম কি?
ওহ আমার দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে বলল, রিয়াদ।
আমি ঘারে হাত দিলাম, বললাম, আমার নাম আফতাব। কই থাকেন?
এবার আমার দিকে তাকিয়ে হাঁসি মুখে বলল, ইব্রাহিমপুর থাকি।
এতো রাতে কোথা থেকে আসলেন? হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করলাম।
কাজীপাড়া একটা গ্যারাজে কাম করি। হাঁসি মুখেই বলল।
আমি একটু অবাক ভাব নিয়ে বললাম, আপনি কাজ করেন? স্কুল যান না?
হেঁসে দিলো বলল, স্কুল গেলে কাম করবে কে?
কেন আপনার আব্বু আম্মু? আমি উল্টা প্রশ্ন করলাম।
সে মুখ কালো করে বলল, আব্বায় তো কবেই গেছে আমগো ছাইড়া।
ভাই বোন?
ছোড একটা বইন আছে। দুই তিন বছর বয়স। বোনের কথা বলতে আবার মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো।
আমিও এবার একটু হাঁসি মুখে বললাম, আপনি কি জানেন? আপনার চেহারাটা বেস সুন্দর।
এবার খিল খিল করে হেঁসে দিলো, বলল- আমার নানিও কয়। আমার লইগা নাকি মাইয়ারা মাথা ঘুরাইয়া পরবে। এইটা কোন কথা কন?
আমি ওর সাথে কথা বলতে বলতে আমার বাসা ছেড়ে অনেক দুরেই চলে আসছি। তাই দাঁড়াইল পড়লাম। বললাম, রিয়াদ আমি আমার বাসা ছেড়ে অনেক দূর চলে আসছি। যেতে হবে। শুনো জানি তোমার জন্য স্কুলে যাওয়া কঠিন। তাও বলবো যাবার চেষ্টা করবা। আর তোমার বোনকে কিন্তু অবশ্যই স্কুলে পাঠাবা।
জানি না আমার কথা গুলো বুঝতে পারছে কিনা। বা আমার কথা গুলো বলা ঠিক আছে কিনা।
রিয়াদ আমার দিকে তাকিয়ে হাঁসি মুখে বলল, হ Uncle বইনরে তো পরামুই। আমি আর মায়ে কাম কইরা বইনরে পরামু।
আমি বললাম, ইনশাআল্লাহ। পারবা তুমি। একটু দাড়াও।
আমি দুইতা চিপস, কিছু চকলেট আর একটা Cold drinks কিনে ওকে দিলাম। নিতে চাইল না। আমি জোর করলাম। আর বললাম, ভাইরে আমারে Uncle বইলো না। আমার চুল দাঁড়ি কি পাকছে? তুমি তো আমার ছোট ভাইয়ের মতো। নে ভাই।
আবার তার খিল খিল হাঁসি, আপনে চশমা পরছেন আপনে Uncle.
আমি বললাম, ওকে আমি তোমার চাচা। যাও। সাবধানে যেও।
সালামালিকুম, যাই আমি। বলে হাঁটা শুরু করলো। আমি ওর যাবার পথের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বাসার দিকে হাঁটা শুরু করলাম।
আর মাথার ভেতর ওর কিছু কথা ভাসতে লাগলো, “হ Uncle বইনরে তো পরামুই। আমি আর মায়ে কাম কইরা বইনরে পরামু।”
সপ্নবাজ মানুষ আমরা। সবাই সপ্ন দেখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *