বার্গারের স্বাধীনতা

আজ ৭ই মার্চ।
ঐতিহাসিক এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তিনি সেদিন বলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব। তবু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।”

আজ ৭ই মার্চ।
ঐতিহাসিক এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তিনি সেদিন বলেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব। তবু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।”
খুবই কমপ্লিকেটেড কথা। বাঙালি তাই এর মর্ম বুঝতে পারেনি। তাই বাঙালি শরণাপন্ন হোন মেজর সাবের। শেষ মুহুর্তে তিনি আরেকটি ঘোষণা দিয়া জাতিকে উদ্ধার করেন। যদিও দুষ্ট লোকেরা বলে তিনি নাকি অন বি হাফ অফ বঙ্গবন্ধু মানে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেদিনের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আমি বুঝিনা কে কার পক্ষে ঘোষণা দিসে এটা নিয়ে জটিল হিসাব নিকাশের মধ্যে যাওয়ার কী দরকার? সোজা হিসাব মেজর সাব নিজের মুখে এই ঘোষণা দিসে। সো
তিনিই ঘোষক।

যাউজ্ঞা,
বাঙালি এবার তার চুয়াল্লিশতম স্বাধীনতা দিবস পালন করবে। এই চুয়াল্লিশ বছরে বাঙালি অনেক এগিয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক বেড়েছে। ৭৩ সালে মানুষ যেখানে ভাত খেতে পেত না সেখানে মানুষ এখন বার্গার খায়, ফাস্টফুড চাইনিজ খায়। আরে ফেন্সিডিল, ইয়াবার মতো দামি জিনিস তো বাঙালির নিত্যদিনের মেনু। মহাখালিতে একটা বিলবোর্ডে দেখলাম কেএফসির নতুন স্বাধীন অফার। স্বাধীনতার এ মাসে কেএফসির দিচ্ছে স্বাধীন অফার। মাত্র একশ পঁয়ষট্টি টাকায় একখান আস্ত বার্গার! কেন ইউ বিলিভ ইট! স্বাধীনতা দিবসে বাঙালি তাই কেএফসিতে যাবে জিএফকে নিয়ে। মনের সুখে বার্গারে স্বাধীনতার আনন্দ লাভ করবে। সুতরাং বলা যায় এই ৪৪ বছরে দেশ অনেক কিছু পেয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে মুল্যবান হল বর্তমান প্রজন্ম।

এই প্রজন্ম অনেক সচেতন, অনেক প্রতিবাদী, অনেক দেশপ্রেমিক। দেশ মাতৃকার সংকটে প্রজন্ম সবসময় অগ্রগামী। প্রজন্ম গুন্ডের গুন্ডামি সহ্য করে নাই। ঢাল-তলোয়ার লইয়া আইএমডিবি রেটিং কমাই দিয়া আসছে। শাহবাগে সমাবেশ করে জানায় দিসে আমাদের সাথে গুণ্ডামি চলবেনা।যদিও প্রজন্ম ভারতের রাজনৈতিক গুণ্ডামি নিয়ে এখনো কিছু বলে নাই। তবে শীঘ্রই বলবে বলে মনে করছি। প্রজন্ম পাকিস্তানকেও ছাড়েনাই। ইভেন্ট খুলিয়া সে প্রায়ই পাকিস্তানের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে।পাকি পন্য বর্জনের আন্দোলনের কর্মসুচিও দিসিল। এখন অবশ্য একটু খিচ খেয়ে আছে। কোন অন্যায়ই সে সহ্য করতে পারেনা। অন্যায় দেখলেই ফটাফট ইভেন্ট খুলে ফেলে। যদিও প্রজন্মকে দেখা যায় ২রা মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনের দিনে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে খেলা দেখতে। অনেকে আবার এক ডিগ্রি উপরে উঠে দাঁড়িয়ে পাক সার জমিন সাদ বাদ ও গেয়েছে। প্রজন্ম পাকিস্তান প্রেমকে পাকিস্তান প্রেমের জায়গায় আর রাজনিতিকে রাজনীতির জায়গায় রেখেছে। প্রজন্ম খুবই স্মার্ট। সে সব স্মার্টলি হ্যান্ডেল করে।

সবশেষে বলা যায়, প্রজন্মের প্রতি আছে আমার সীমাহীন বিশ্বাস আর আস্থা। প্রজন্ম স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসকে একসাথে গুলিয়ে ফেললেও খেলার সাথে রাজনীতি মেশায় না। প্রজন্ম সহজে শহীদ দিবসের সাজ বের করে ফেলতে পারে। অপ্রতিরোধ্য এ প্রজন্ম দ্বারা সবই সম্ভব

( যে কোন ধরনের ব্লগে এই প্রথমবার লিখছি। মানুষ দোষ ত্রুটিতে ভরপুর। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তাই অন্যদের সহযোগিতা কামনা করছি। নিজের মতামতকে প্রকাশ করার জন্য ব্লগকে বেছে নেয়ার কারন এখানে গঠনমূলক সমালোচনা শোনার দেয়ার প্রবণতা আছে। এটাই আমার ক্ষেত্রে ব্লগে লেখা এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।)

৪ thoughts on “বার্গারের স্বাধীনতা

  1. আমি আসলে অসঙ্গতির কথা বলতে
    আমি আসলে অসঙ্গতির কথা বলতে চেয়েছি। একচোখা এসব কর্মকান্ডকে আমার ভণ্ডামি মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *