উড়ু চিঠি উড়ে যা উড়ে যা…



প্রিয় রবার্ট,
কেজুয়াল অভিনন্দন লইয়ো, মাথায় কলপ দিলে পাকা চুল কাচা হয় ক্যানো এই লইয়া লিবারেল ছাগুরা দারুন চিন্তিত। তুমি কি ইহার কোন কিনারা করিতে পারিবে? তুমি তো ইদানিং ব্রেইন এন্ড হ্যামারেজে ডাইরেক্ট ডক্টরেট ডিগ্রী লইয়াছো।
আমার এক ত্যাদড় ছাত্র আছে। সে বাঁদরামোর ফোর্থ স্টেজে বিদ্যমান, বেতেন্দ্রনাথ দত্যের দিগম্বর কেমোথেরাপি আই মিন সপাং সপাং সংহারেও কাজ হইতেছেনা।
রবীবাবুর বৃদ্ধ বয়সের একখানা ছবি সে ফটোশপে ফেলিয়া চুল দাঁড়ি কালো করিয়া আমার কাছে লইয়া আসিয়া বলে,
“স্যার দেহুনচাইন টেগুরদারে কিরাম লাফাইস্যা জোয়ান লাগতেছে ..”
আমি তার খাটি ময়মনসিংহের উচ্চারনে উচ্চারিত ডায়লগে কম্পিত হইয়া দেখিলাম, রবীন্দ্রনাথের ঠোঁটে সে অনন্ত জলিলের মতো লিপষ্টিক মাখিয়া দিয়াছে, চোখে টানিয়াছে সেকালের শাবানার মতো টানা টানা কাজল।আর কি বলিবো, সে ছেলের মা প্রতিদিন সকালে রসগোল্লার ভেতর চিরকুট পুরিয়া দেয়, দুদিন কামড়াইয়া ছিড়িয়া ফেলায় পড়িতে পারিনাই, তৃতীয় দিনে আসিয়া দেখি সেখানে লেখা,
“আফনে সুন্দর তাই চাইয়া থাহি,হেইয়া মোর অফরাদ?…”
আমি স্বভাবদোষে তার জবাব দিতে পারিনাই।

এদিকে পূবপাড়ার জলির বাপে সালামের উত্তরে”উহ”বলিয়া জবাব দেয়।এর মর্মার্থ উদ্ধার করিতে যাইয়া জলির সাথে প্রেম হইয়া পিরিতে রুপান্তরিত হইলো, কাক্কুজান “বাসদ” ছাড়িয়া “জামাত “ধরিলেন তবুও মুখে “ওয়ালায়কুম সালাম” আসিলোনা…
সে দুঃখে জলির সাথে গতমাসেই ব্রেকাপ করিয়াছি, সে বলিয়াছে ফিরিয়ে দাও আমার প্রত্যেকদিন জোহরের সময়ে দেয়া বাহাত্তর হাজার নাইন্টি ফোর ফ্লাইং চুম্মা।আমি অবাক হইলাম তার গননা জ্ঞান দেখিয়া।সালামে বা তার জবাবে কি আসে যায়।

এদেশে রাজনীতির অবস্থা পুরাই অস্থির হইয়া আছে,যারেই জিজ্ঞেস করিবে সেই বলিবে,’চাইরডা পিস্তল লোড করা আছে,সাউন্ড করবাইন তো নিজেরে মাইরা ফালামু।’
চিন্তা করিয়া দেখো একটা জাতি কেনো এই স্বীদ্ধান্তে উপনিত হইলো!
রাজনীতির বাবুরা বলিলো, এম পি নির্বাচনে পাশ করাইয়া দাও বিদ্যুত দেবো,রাস্তা দেবো, সকাল বেলা ফ্রি ফর্দে নাস্তা দেবো, ফ্লাইওভার, ডাইওভার কতো কি বলিলো, এখনো এ দেশের ইন্টার্নেট যুবারা ইন্টার্নি ভুলিয়া ৩৫০ টাকা রেটে ১ গিগা নেট কিনিয়া খায়। এম পি ইলেকশন গেলো সিলেকশনে। ওরা বললো উপজেলা নির্বাচনে পুরা প্যানেল পাশ করাইয়া দাও, বিদ্যুত দেবো,রাস্তা দেবো।
কিছুই দিলোনা,পাড়াগাঁর এক রাখাল ছেলে মনের দুঃখে কবিতা লিখেছে,

“মাগো ওরা বলে,
নুন্যতম ৫০ টাকা রেটে নেট খাইতে দেবেনা,
ল্যাপটপে বসে বসে থ্রিজি স্পিডে জিসম-৩২ নামাইতে দেবেনা।

মডেমটা তার পকেটে ছিলো
ভাঙা আর ঘামে ভেঁজা”

শেষ চিঠিতে তুমি হরতাল লইয়া জানিতে চাইয়াছিলে, কারে কি বলিবো আমি নিজেই অপরাধী।
হেফাজতের ফান্দে পড়িয়া ইসলাম লুইটা খাইলো শেগের বেডি বলিয়া পঞ্চাশটা রিক্সার টায়ার বাস্ট মারিয়াছি। পরে বুঝিয়াছি ইহা অন্যায়। আমার কাকাতো ভাই ৫ মে ২০১৩ তে সারা গায়ে টমেটু সস মাখিয়া শাপলা চত্বরে পরিয়া ছিলো। পরে পুলিশ তারে লাঠিদা পিডায়া প্রমান করিয়াছিলো সে মরেনাই কারন সে দৌঁড়াইয়া ভাগিয়া গিয়াছিলো।
এককালের নামসর্বস্ব নাস্তিক ফরহাদ ভাই লিভ টুগেদার ভুলিয়া মতলবপুর পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম হইয়াছেন। তার সাদা লুঙ্গিতে লাল রক্তের দাগা, লোকে বলে তার পাইলস হইয়াছিলো। যদিও তিনি দুঃসংবাদ সম্মেলন করিয়া বলিয়াছেন তিনি মাইলস এর গানের ভক্ত হইলেও তার পাইলস নাই,মাইলসের নিঃস্ব করেছো আমায় গানের নকলে তিনি তিনখানা গজল গাইয়াছেন ইহাও তিনি অকপটে অস্বীকার করেছেন।বাংলার বিশিষ্টজনের গুরুমামনি সুবিখ্যাত সুশীল ড্রোনাচার্য তুষার জিভ কামড়াইয়া এর তীব্র নিন্দা জানাইয়াছেন। তিনি বলেন পোকাশ্যে আমি ড্রোন্যাকামী ম্যানিয়ার বিরুদ্ধে স্টেটাস অংকন করিয়াছি।

পরিশেষে কি বলিব রবার্ট,
তোমাদের বুর্জুয়া আহ মেরিকা মাখালেদাকে নিয়ে যে জুয়া খেলিতেছে তাহা অন্যায়। মমতাপুও চুপচাপ জামাতের পক্ষ লইয়া বলিয়াছেন, রেন্ডিয়ার এক বিন্দু মাটি ছাড়িলে তার বাপের নাম নিজামী।
এদিকে আবেগহীন সাবেক বিরোধী দলকে উ প নি মূলা দেখাইয়া আপাতত স্থির রাখিয়াছে রোলিং সরকার।
এই দেখো, পার্সোনাল আলাপ কিভাবে রাজনৈতিক দিকে গড়াইয়া যায়। মাপ করিয়ো। পরের চিঠিতে কুশলাদি ও আসল জানাইয়ো। তোমার মেয়ে গোলাপির গালে আদরের টিপা আর ভাবিরে আমার লাল সালাম দিয়ো। তোমার মেয়ের নামে যে জাতীয়তাবাদী আলোকছটা ভাস্বর হইয়াছে তাতে তারা আবেগে আপ্লুত। ভালো থাকিয়ো।

ইতি
কুসুম কোমল দাস।

৬ thoughts on “উড়ু চিঠি উড়ে যা উড়ে যা…

  1. ভীষণ মজা করে লিখেছেন,
    ভীষণ মজা করে লিখেছেন, মতিকন্ঠও হার মানতে বাধ্য ।

    এককালের নামসর্বস্ব নাস্তিক ফরহাদ ভাই লিভ টুগেদার ভুলিয়া মতলবপুর পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম হইয়াছেন। তার সাদা লুঙ্গিতে লাল রক্তের দাগা, লোকে বলে তার পাইলস হইয়াছিলো। যদিও তিনি দুঃসংবাদ সম্মেলন করিয়া বলিয়াছেন তিনি মাইলস এর গানের ভক্ত হইলেও তার পাইলস নাই,মাইলসের নিঃস্ব করেছো আমায় গানের নকলে তিনি তিনখানা গজল গাইয়াছেন ইহাও তিনি অকপটে অস্বীকার করেছেন।

    বেফুক বিনুদিত হইলাম ।

  2. “মাগো ওরা বলে,
    নুন্যতম ৫০

    “মাগো ওরা বলে,
    নুন্যতম ৫০ টাকা রেটে নেট খাইতে দেবেনা,
    ল্যাপটপে বসে বসে থ্রিজি স্পিডে জিসম-৩২ নামাইতে দেবেনা।

    মডেমটা তার পকেটে ছিলো
    ভাঙা আর ঘামে ভেঁজা।”

    :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *