গ্রামে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারনে ঝরে পড়ছে হিন্দু ছাত্ররা।

মিলন মণ্ডল নামে এক কিশোর। বয়স ১৩ কিংবা ১৪ হবে।ধর্মে সে হিন্দু। ভর দুপুরে বাবার সাথে পানের বরজে কাজ করছে।জিজ্ঞাস করলাম স্কুলে যাও না। একটু বিমর্ষ হয়ে উত্তর দিল না। কেন যাও না? ভালো লাগে না। কি বল এই বয়সে স্কুল ভালো লাগে না? আমাকে নিরাশ করে উত্তর দিল স্কুলে গেলে নিজেকে আলাদা আলাদা লাগে সবাই হিন্দু ভাবে বন্ধু না। উত্তর শুনে আর কিছু বলতে পারলাম না।


মিলন মণ্ডল নামে এক কিশোর। বয়স ১৩ কিংবা ১৪ হবে।ধর্মে সে হিন্দু। ভর দুপুরে বাবার সাথে পানের বরজে কাজ করছে।জিজ্ঞাস করলাম স্কুলে যাও না। একটু বিমর্ষ হয়ে উত্তর দিল না। কেন যাও না? ভালো লাগে না। কি বল এই বয়সে স্কুল ভালো লাগে না? আমাকে নিরাশ করে উত্তর দিল স্কুলে গেলে নিজেকে আলাদা আলাদা লাগে সবাই হিন্দু ভাবে বন্ধু না। উত্তর শুনে আর কিছু বলতে পারলাম না।

এটা কাল্পনিক একটা কাহিনী মাত্র। বর্তমানে শহরে কিছুটা সাম্প্রদায়িক মনোভাব কমে গেলেও গ্রামে তা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানকালে সাম্প্রদায়িক নোংরা মনোভাবের কারনে অনেক হিন্দু ছাত্র অকালে ঝরে পরছে। স্কুল হল কিছু নিষ্পাপ প্রানের কোলাহল। কিন্তু একটা হিন্দু ছাত্র স্কুলে গিয়ে যদি তাদের সহপাঠিদের কাছে ক্রমাগত শুনতে হয় মালাউন , চাঁড়াল তাহলে তার পক্ষে নিজেকে সবার মত ভাবা কখনই সম্ভব না। নিজেকে তখন আলাদা মনে হবে। কোন কাজ করার আগে তার মাথায় প্রথম যে চিন্তা টা আসবে তা হল আমি হিন্দু। একপর্যায়ে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং এটাই স্বাভাবিক।

এখন ভাবনার বিষয় দুইটা। এক, নোংরা সাম্প্রদায়িক মনোভাবের জন্য একজন হিন্দু ছাত্র অকালে ঝরে যাচ্ছে আর যারা সাম্প্রদায়িকতার স্বীকার তারাও শিশু ও কিশোর আবার যারা এই সাম্প্রদায়িক আক্রমন করছে তারাও শিশু বা কিশোর।

অভিভাবকদের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা আর মানুষের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামির কারনে শিশু বয়স থেকে তারা সাম্প্রদায়িক আক্রমনের স্বীকার হচ্ছে এবং অপরপক্ষ করছে। মাঝে মাঝে দেখা যায় কতিপয় শিক্ষক থেকেও তারা উৎসাহিত হয়।

আমাদের চিন্তা ভাবনা অতি শহরমুখি হওয়াতে কিছু অসাধু , ভণ্ড মানুষের মনের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢুকাচ্ছে গ্রামের সহজ সরল ও দরিদ্র মানুষগুলোর মধ্যে। তাই সচেতন হিসেবে আমাদের কর্তব্য শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এই সব কুসংস্কার , ভণ্ডামি , নোংরা মনোভাব উপড়ে ফেলার।

৬ thoughts on “গ্রামে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারনে ঝরে পড়ছে হিন্দু ছাত্ররা।

  1. সচেতন হিসেবে আমাদের কর্তব্য

    সচেতন হিসেবে আমাদের কর্তব্য শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এই সব কুসংস্কার , ভণ্ডামি , নোংরা মনোভাব উপড়ে ফেলার।

    সহমত ।

  2. সচেতন হিসেবে আমাদের কর্তব্য
    সচেতন হিসেবে আমাদের কর্তব্য শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এই সব কুসংস্কার , ভণ্ডামি , নোংরা মনোভাব উপড়ে ফেলার।
    সহমত।

  3. এই ব্যাপারে আমাদের কিছু কাজ
    এই ব্যাপারে আমাদের কিছু কাজ করা দরকার বলে মনে করি। নইলে গ্রামের অধিকার নষ্টদের হাতে চলে যাবে।

  4. পৃথিবীকে মন্দির রুপ গ্রহণ করও
    পৃথিবীকে মন্দির রুপ গ্রহণ করও না, পাশের মানুষটিই শত্রু হয়ে পথ আগলে দাড়াবে। বরং পৃথিবীকে বিদ্যালয় রুপ গ্রহণ করো; জাত-ধর্ম, উচু-নিচু বিন্দুমাত্র স্থান পাবে না।।

  5. সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করার জন্য
    সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করার জন্য আমাদের জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত,অতি দ্রুত ।

  6. আমি যখন প্রার্থণা করি,
    সমগ্র

    আমি যখন প্রার্থণা করি,
    সমগ্র পৃথিবীর
    সমস্ত প্রাণীকুলের জন্য
    প্রার্থণা করি ।শুধুমাত্র
    নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের জন্য
    প্রার্থণা করে আজন্ম
    সাম্প্রদায়িকতা লালন
    করি না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *