দেশপ্রেমোমাইটিস

সমস্যাটা কি আসলেই বুঝিনা, দেশ কে অপমান হতে দেখলেই গা জ্বলে কেন? দেশ নিয়ে কেউ কটু কথা কইলে আমার মাথায় আগুন ধরে কেন? দেশ স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিকার, সার্বভৌমতা নিয়ে কেউ উল্টা পালটা কথা কইলে কেন মনে হয় দেই গলা চিপে। আরো পাগল পাগল লাগে যখন দেখি এদেশে জন্মে, এই দেশের আলো হাওয়াতে বড় হয়ে, এই দেশের সকল সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, এই দেশের রাজনীতির দুর্নীতির সুবিধা নিয়ে ক্ষ্মমতাবান হয়েও দেশে প্রতি সম্মান নিয়ে কথা বলতে পারে না। যেসব দেশ আমাদের দেশ কে ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে তাদের পক্ষে কথা বলে তখন ।

আমি দুর‍্যারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমার রোগের নাম দেশপ্রেমোমাইটিস।

সমস্যাটা কি আসলেই বুঝিনা, দেশ কে অপমান হতে দেখলেই গা জ্বলে কেন? দেশ নিয়ে কেউ কটু কথা কইলে আমার মাথায় আগুন ধরে কেন? দেশ স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিকার, সার্বভৌমতা নিয়ে কেউ উল্টা পালটা কথা কইলে কেন মনে হয় দেই গলা চিপে। আরো পাগল পাগল লাগে যখন দেখি এদেশে জন্মে, এই দেশের আলো হাওয়াতে বড় হয়ে, এই দেশের সকল সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, এই দেশের রাজনীতির দুর্নীতির সুবিধা নিয়ে ক্ষ্মমতাবান হয়েও দেশে প্রতি সম্মান নিয়ে কথা বলতে পারে না। যেসব দেশ আমাদের দেশ কে ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে তাদের পক্ষে কথা বলে তখন ।

আমি দুর‍্যারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমার রোগের নাম দেশপ্রেমোমাইটিস।
একদল সুশীল, নব্য দেশ প্রেমিক, ফেসবুক আউলিয়ারা যখন কই আমি খেলা আর রাজনীতি মেশাই না বা মেশাইতে চায় তখন ডাক ছাইড়া চিক্কুর দিয়ে কইতে ইচ্ছে করে মাইরালা ওরে তোরা ধইরা কেউ বেটা বেটিরে মাইরালা। কেউ কেউ আবার মনে করে দেশের মানুষ খেলা না দেখলে বিসিবি দেউলিয়া হয় যাবে। আরে গান্ডু, কেউ তো কই না খেলা দেখো না, কই খেলা দেখ কিন্তু নিজের মা রে বেইচ্চা দেখিস না। ভারত বা পাকিস্তান হার জিতে দেখি দুঃখে কেউ ইংলিশ মদ খায় কেউ পাকিস্তানের জয়ে গরু জবাই দেয়া উৎসব করে। তাইলে আর খেলা কই খেলা থাকল, জিম্বাবুয়ে কানাডা, ইউ এস, আয়ারল্যান্ড বা কেনিয়া খেলতে আইলে এমন উন্মাদনা কেন হবে না। যদি আমরা খেলা পাগল জাতি হয়, ক্রিকেট যদি আমাদের এক নাম্বার প্রিয় খেলা হয় তাইলে যে কোন দেশের দল খেলতে আসলেই হবার কথা। শুধু মাত্র ভারত পাকিস্তান আসলে কেন হইবেক!

বাংলাদেশ কে ভারত খেলতে ডাকে না কারন জানে কেউ ওই খেলা দেখার নাই। নিয়ম থাকলেও ডাকে না। কেন এইটা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের রাজনীতি। পাকিস্তান বা ভারতে বাংলাদেশ খেলতে গিয়ে হারলে কি ভারতীয় বা পাকিস্তানীরা কাইন্দা বুক ভাসায়। নাকি ভালবাসার হাত বাড়ায় কই এসো এসো আমার বুকে আসো, আমার বুকে। এতো ভলবাসা দেখাইলে তো খেলাই লাগে না। ভারত পাকিস্তান খেলা রে খেলায় কই। শুধু আমাগে দেশে অধিকাংশ জনতা দেখি ভারত পাকিস্তানের হারজিতে, বাংলাদেশের হারজিতের থেকে বেশি কষ্ট ও আনন্দ লাভ করে। আর এই খানে হইল সমস্যা, নিজের মায়ের থেকে পরের মা কেমনে বেশি আপন হয়?
পাকিস্তানে কেউ খেলতে যায় না, কিন্তু আমাগো ক্রিকেট বোর্ড ঠিকই নাচে যাবার জন্য কারন টাকা টুকার রাজনীতি। আরে কেউ বা কিছুই রাজনীতির বাইরে না। ভারতের পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে, পাকিস্তানী আঁতর মাখে নামাজ ঈদের আর শুক্রুর বারের নামাজ পরেন মিয়া ভাইরা। ভাবীজানেরা, হিন্দি সিরিয়াল আর সিনেমার নাম মিলায়ে শাড়ি জামা কেনেন। ভারতীতে যেয়ে গহনা কেনেন। পাকিস্তানী সালোয়ার কামিজ ও বোরখা ছাড়া পরেন না। পুত্র কন্যারা ভারতের স্কুলে কলেজে পরে। সর্বপরি, এই সুশিলরা প্রায় ভারতের রাস্টীয় অতিথি হন, যখনি ভারত এদের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোন প্রজেক্ট হাতে নেয়, সুশীল আর মোস্ট সিনিয়ার সাংবাদিকরা ভারতীয় রাস্টীয় খানা খেয়ে ফিরে এসে তাদের সুরে বাত করেন। ইনিয়ে বিনিয়ে ভারতের মহানুভবতা তুলে ধরেন। অনেকে আবার বলেন ভারত আমাদের সাহায্য না করলে আমরা নাকি স্বাধীনই হইতাম না। আরে মাখলুকাত, ভারত চাইলে তো প্রথম থেকেই সাহায্য করতে পারতো করেনি কেন? কারন তারাও ভাবেনি আমরা জিতুম, যেই দেখলো আমরা স্বাধীনতার দিকে ধীরে হইলেও আগাইতেছি তখন তারা সাহায্যের হাত বাড়াইল, আর এই সাহায্যের কারনে তিনবিঘা কড়িডোর সহ কত সুবিধা নিছে তাঁর ইয়াত্তা আছে। সাম্প্রতি রামপাল ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উত্তোলনের চুক্তি। কোন তো জ্ঞানপাপী পীর সাহেবরা কোন কোন চুক্তি যা ভারতের সাথে এই পর্যন্ত হইছে তা আমাদের দেশের লাভ হইছে। কইতে পারলে কিছু আর কমু না। সেই হরিয়ানা থেকে আমাগো দেশের রাজধানিতে মুরগীর ডিম আসে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কোন |ডিম ব্যবসায়ী ডিম আনতে গেলে তাঁর খবর হয়ে যায়। ভারতীয় গরু যত সহজে ঢাকা পৌছে, নিজের দেশের গ্রাম অঞ্চলের গরু আনতে চাঁদা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যায়। দেশীয় সামগ্রীর আকাশ ছোয়া দাম, ভারতীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক কম কেন? রাজনীতি। দেশে পশ্চাদ্দেশ মেরে টাকা কামিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাইয়া আনন্দ ফুর্তি করেন। আর বড় বড় বাণী দেন। ভালোই লাগে আপনাগো চরিত্র ভালোই প্রস্ফুটিত হয়। ভাই খেলা রে আমরাই খেলা কইতে চাই কিন্তু আপনাগো প্রেম ভালবাসার ভারে খেলা তো খেলা থাকে না।

আরেক জন কইলেন ঘৃনা নয় ভালবাসার হাত বাড়াও, যে লোকটি আপনারে নিঃস্ব করে দিচ্ছে দিন দিন তাঁর প্রতি আপনি ভালবাসা কেমনে দেখাবেন? যে লোকটির লালসার কারণে আপনার মা খালা বোন মেয়ে কেউ মুক্তি পায়নি হেরে আপনি কেমনে ভালবাসবেন? যে লোকটির জন্য আপনার বাবা-ভাই নৃশংস ভাবে খুন হইল তারে কেমনে ভালবেসে বুকে টেনে নেবেন? যে লোকটি আপনার নবপরিণীতা সামনে উলংগ করে বেঁধে রাখল আর আপনার চোখের সামনে তাঁর সম্ভ্রমহানি করে নির্মম ভাবে হত্যা করল তাকে কেমনে কইবেন যা হইছে হইছে, যা করার করছো, আমি তোমারে মাফি দিলাম এবার আস বুকে আসো কুলাকুলি করি? নাকি কুলাকুলি করেও ফেলছেন! তাই আমাগো কই্তে পারছেন এগুলি না করা, বেয়াদবি, ফাজলামি, ছোটলোকি, অসিক্ষা-কুশিক্ষা।

আপনারা ও সুশীলরা নিজেদের উলংগ পশ্চাদ্দেশ ঊর্ধ্ব মুখী করে উপুর করে আছেন যাতে অন টিমে দাদা ও পাকিস্তানী বেরাদাররা এসে … যেতে পারে, আর … খেয়ে বলবেন দাদা-বেরাদার যখনি মন চাইবে এসে …যাবেন আমরা ভালো পাই, কষ্ট করে আর আপনাদের আর আমাদের বস্ত্র উন্মোচন করা লাগবে না, … মেরে খুশি হয়ে যা দেবেন তাতেই আমাদের সাত পুরুষের ভবিষ্যৎ উজ্জল। আপনারা আমাদের যে ভাবে মারবেন আমরাও আপনাদের খুশি রাখতে দেশের পশ্চাদ্দেশ মেরে যাব।

কি করতাম কোন, আমাগো কাছে তো অপরাধী তো অপরাধী, এই কারনে আমরা ৪২ পরেও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি চাই। আপনাগো থিওরি মানলে তো এদের বিচার চাইতে হবে না, ভালবেসে মাফ করতে হবে।

পাকিস্তান দলের সাপোর্ট না দিলে অনেকে দেখি নাস্তিক কইতাছে, কারন মুসলিম হয়ে একটা মুসলিম দেশের বিপক্ষে কথা কই কেমনে? আবার ভারতের দলের পক্ষে কইলে চেতনার বিনাশ হয়। কি করতাম কই যায়তাম শালা, আমার চেতনা তো পুরাই বাংলাদেশী অন্য কোন চেতনা আসে না। ভাই আমার দেশ প্রেম আমারি থাক। আপনারা আপনাদের মা-বোন-মেয়ের ধর্ষণ কারী, বাবা-চাচা-ভাইয়ের হত্যাকারী লগে দার্জিলিং টি খান সাথে পেশোয়ারী কাবাব মারকে। আমি এই দেশের ডাল ভাত খায়। তাই ফেলানির ঝুলন্ত লাশ দেখে বেদনায় চিৎকার করি, ভারতীয় ছবিতে আমাগো দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নোংরামি করলে প্রতিবাদ করি, প্রতিবাদ করি রামপাল চুক্তির, চিৎকার করি গ্যাস উত্তোলন চুক্তির, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, ইমরানের খানের কাদের মোল্লার প্রতি সহানুভূতিতে থু থু দি, ইমরান খান কে সিটিএন, এসি রুমে বসে শুধু ফেসবুকে নসিহত দেই না। যারা দিতাছেন আয়নায় সামনে খাড়ান দেখেন তো চরিত্রটা দেখা যায় কিনা। ডরাইবেন নিশ্চয়। যদি না ডরান তাইলে আর কি … অফ যান।

আমি আমার রোগ নিয়ে ভালো আছি জয় দেশপ্রেমোমাইটিস।

৪ thoughts on “দেশপ্রেমোমাইটিস

  1. দেশপ্রেমটা থাকাটা আমাদের খুব
    দেশপ্রেমটা থাকাটা আমাদের খুব জরুরি ।কারো যখন অন্য দেশের জন্য দরদ বেড়ে উঠে তখন সেটা আমার কাছেও বিরক্তিকর লাগে অসম্ভব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *