চিনি পরা নাকি ভালোবাসা

মইনের নানি গ্রাম থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। উঠেছে উত্তরাতে, ছোট মেয়ের বাসায়। গত সপ্তাহে একবার গিয়ে দেখে এসেছে মইন। এই সপ্তাহে আবার যাবে। নানির আগমন আর নিজের Promotion আর increment এর খুশীতে সে নানির জন্য একটা শাড়ি আর সবার জন্য মিষ্টি কিনে ছোট খালার বাসায় গিয়ে উঠে দুপুরবেলা। তার খালাতো ভাই দুটো তাকে দেখে যথারীতি লাফা লাফি শুরু করে।


মইনের নানি গ্রাম থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। উঠেছে উত্তরাতে, ছোট মেয়ের বাসায়। গত সপ্তাহে একবার গিয়ে দেখে এসেছে মইন। এই সপ্তাহে আবার যাবে। নানির আগমন আর নিজের Promotion আর increment এর খুশীতে সে নানির জন্য একটা শাড়ি আর সবার জন্য মিষ্টি কিনে ছোট খালার বাসায় গিয়ে উঠে দুপুরবেলা। তার খালাতো ভাই দুটো তাকে দেখে যথারীতি লাফা লাফি শুরু করে।

মইন শাড়িটা নানিকে দিয়ে বলে, নানি আমিতো বড়লোক হয়ে যাচ্ছি। নানি গম্ভীর মুখে বলেন, নানো এদিক বস। কাছে টেনে বসায়। তা দেখে খালাতো ভাই দুটা এসে পাশে বসে। নানি তার মুখের ভাব পরিবর্তন না করে বলেন, তোমার লগে জরুরী কথা আছে। এর মাঝে তার মেয়ে এসে যোগ দেয়। তার ছেলেদের বলে, তোমরা একটু ওই ঘরে যাও। নানু মইন ভাইয়ার সঙ্গে Important কথা বলবে। মইন একটু হকচকিয়ে যায়। কি এমন কথা?

নানি বলা শুরু করলেন, গত সপ্তাহে তোমাকে দেইখা মনে হইছে। তোমার বিয়া করা দরকার। দেখো নানো এই বয়স টা ভালো না। তা ছাড়া তুমি দেখতেও তো মাশ-আল্লাহ্‌। আর আজকালকার যুগের মেয়েরা খুবই মতলব বাজ। তাগো পাল্লায় পরলে তুমিত শেষ।

মইন অবাক হয়ে হা করে কথা শুনছিল। যেন সে হঠাৎ মঙ্গল গ্রহে চলে আসছে। অসহায় ভাবে খালার দিকে তাকায়। তার খালা সব গুলো দাঁত বের করে দিয়ে বলে, বাপ রাজি হয়ে যা। আমরা কতদিন মজা করি না। কতদিন আমাদের পরিবারে বিয়ে থা হচ্ছে না। আমরা বোনেরা মিলে তোর জন্য রাজকন্যা খুজে আনবো। তুই সবার বড়। অনেক ফুর্তি করবো। টাকা কোন বিষয় না। লাগলে আমি তোকে Loan দিবো।

মইন হা হা হা হা করে হেঁসে ওঠে বলে, Aunty এই যুগে রাজকন্যা কই পাবেন? তাছাড়া আপানর ভাগনাও বা কোন দেশের রাজপুত্তুর। আর আপনি নুসরাতএর কথা জানেন না?
নানি তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে ফিস ফিস করে বলে উঠেন, কইছিলাম না। ওই মেয়ের কথাই কইবো। নানো শুনো ওই মেয়ের থেকে সুন্দরি মেয়ে লইয়া আসবো। ওই মেয়ের তো নাক বুছা। তার উপর নোয়াখাইল্লা। আমরা বরিশাইল্লা। মিলবে না তো নানো। আমি তোমার জন্য পিরোজপুর বা কাউখালি থেকে মেয়ে দেখবো। ওদিকের মেয়েরা অনেক সুন্দরি হয়। সিলাই যানে, ভালো রান্না করতে পারে। আরে আমাগো রাশেদের বউ আছে না, ওই মেয়ে তো পাঞ্জাবিও সিলাইতে পারে। অমন একটা নাত বউ আনবো।

মইন আবারো হাঁসে। তার নানি বলতে থাকে, আচ্ছা তুমি কি ওই মেয়ের কাছ থেকে শরবত, পিঠা এগুলা খাইছ নাকি?

না তো নানি। কেন?, মইন প্রশ্ন করে।

নানি চোখ বড় বড় করে বলেন, আরে যদি চিনি পরা খাওয়াই দেয় তোমাকে আর ফিরান যাবে না। সাথে তার মেয়েও তাল দায়, হুম, জানিশ না তো। চিনি পরার অনেক জোর। শুন তুই প্রতিদিন নামাজ এর আগে পরে সূরা ফালাক আর নাস পড়বি। তাইলে এগুলা কাজে লাগবে না।

মইন এবার হাঁসতে হাঁসতে বিছানায় গড়া গড়ি শুরু করে। তার নানি আর খালা হা করে তাকিয়ে থাকে। সে হাঁসতে হাঁসতে বলে, Aunty আপনি এই যুগের মেয়ে হয়ে চিনি পরার সাথে কেন তাল দিচ্ছেন? উফফ আমি আর নিতে পারতেছি না। নানিজান শুনেন, নুসরাত খুবই লক্ষি কিছিমেয়ের একটা মেয়ে। ছবি দেখছেন, যখন সামনে আসবে, আপনিও ওর প্রেমে পরবেন। চিনি পরা না, ওহ আমাকে ভালোবাসা পরা দিছে। আর আমি এখন তো কোন ভাবেই বিয়ে করবো না। নুসরাত চাইলেও না। নানি আপনি আরও দুই তিন বছর কষ্ট করে বাইচা থাকেন। আমার আব্বার বিয়ে খাইছেন, আমার টা খাবেন, আমার পোলার টাও খাবেন ইনশাআল্লাহ। আমার বুকের বাম পাশের হাড় দিয়ে যদি ওকে আল্লাহ্‌ বানিয়ে থাকে তাহলে ওর সাথেই বিয়ে হবে। আর যদি না থাকে, তাইলে আর কি করা? আপনার পাঞ্জাবিওয়ালা মেয়েকেই আমি বিয়ে করবো। এই নিয়ে আর কোন কথা না। Aunty খাইতে দেন।

নানি গোমড়া মুখে বলেন, তাইলে আর কি? আমরা অপেক্ষা করি।

এরপর নানি আর খালা আদর করে মইন কে খাওয়ালেন। খেয়ে দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে, সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সন্ধ্যার একটু আগে খালার বাসা থেকে বের হল মইন। ওমনি তার মোবাইল এর message tone বেজে উঠলো। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে নুসরাতের message।

Call back করলো, ওপাশ থেকে তার প্রিয় কণ্ঠ টা ভেসে আসলো। কই তুমি সোনা?

মইন বলল, এইত বাবু। Aunty এর বাসা থেকে বের হলাম।

নুসরাতঃ কই ছিলা? একটা Message ও দাও নাই এতক্ষন।

মইনঃ ছিলাম ফাঁপরে। রাতে বলবো। তুমি হাঁসতে হাঁসতে জ্ঞান হারাবা।

নুসরাতঃ ok বইলো। Miss u 

মইনঃ Miss u too বাবু। ওকে রাখি। বাসায় এসে call দিবো।

নুসরাতঃ ওকে bye. Love u.

মইনঃ love u too.

মইন রিকশায় উঠলো। কানে head phone দিলো। বাজতে থাকল তার প্রিয় গান।

ম্যায় দুনিয়া ভুলা দুঙ্কগা তেরি চাহাত ম্যায়,
ম্যায় দুনিয়া ভুলা দুঙ্কগা তেরি চাহাত ম্যায়,
ওহ দুস্মান জামানা, মুঝে না ভুলানা
ম্যায় খুদকো মিটা দুঙ্কগা
তেরি চাহাত ম্যায়,,…………আর গুন গুন করে গাইতে থাকে। মনে ভেসে উঠে তার প্রিয়ার ছবি। আর ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাঁসি। 🙂

**END**

৩ thoughts on “চিনি পরা নাকি ভালোবাসা

  1. ম্যায় দুনিয়া ভুলা দুঙ্কগা

    ম্যায় দুনিয়া ভুলা দুঙ্কগা তেরি চাহাত ম্যায়,
    ম্যায় দুনিয়া ভুলা দুঙ্কগা তেরি চাহাত ম্যায়,
    ওহ দুস্মান জামানা, মুঝে না ভুলানা
    ম্যায় খুদকো মিটা দুঙ্কগা
    তেরি চাহাত ম্যায়,,…………আর গুন গুন করে গাইতে থাকে। মনে ভেসে উঠে তার প্রিয়ার ছবি। আর ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাঁসি। খুশি
    **END**

    উপভোগ করলাম। ধন্যবাদ

  2. আশা করি নুস্রাত ও মইন ভালো
    আশা করি নুস্রাত ও মইন ভালো থাকবে।
    আমার কথাটি ফুরালো, নটে কাঁটাটি মুড়াল। :গোলাপ: :গোলাপ: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি:
    ——————————————————–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *